মোঃ হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
শনিবার, ১৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১৭ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন (২৬৮ কোটি) ডলারের একটি সম্ভাব্য অস্ত্র বিক্রি প্যাকেজ অনুমোদন করেছে। কিয়েভের নিরাপত্তা জোরদার করতে রাশিয়ার অব্যাহত বিমান ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই প্যাকেজে যা থাকছে
এই নতুন প্যাকেজের মূল লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের এয়ার-ডিফেন্স (আকাশ প্রতিরক্ষা) ব্যবস্থার উন্নয়ন, আনুষঙ্গিক সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ এবং সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান, বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতর।
অনুমোদিত বাজেট: প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
মূল মনোযোগ: বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট: চার বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে মার্কিন মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া আলোচনা কিছুটা থমকে যাওয়ার পর এই প্যাকেজের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পূর্ব ইউক্রেনের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সমঝোতা অধরা থেকে গেছে।
তীব্র রুশ হামলা ও ইউরোপীয় সহায়তা
মার্কিন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদনের এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইউক্রেনজুড়ে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা নতুন করে গতি পেয়েছে।
জিটোমির ও খারকিভে হামলা: জিটোমির অঞ্চলে সাম্প্রতিক হামলায় দুইজন নিহত হয়েছেন এবং গুদামজাত প্রতিষ্ঠানে আগুন ধরে যায়। খারকিভ অঞ্চলে একটি ট্রেন স্টেশনে ড্রোন হামলায় একজন নিহত ও ৬ জন আহত হন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়ন: একই সময়ে ইউক্রেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) কাছ থেকে ৩.৩ বিলিয়ন ইউরো (প্রায় ৩.৮ বিলিয়ন ডলার) আর্থিক সহায়তা পেয়েছে, যা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয়ে ব্যবহৃত হবে বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
রাশিয়াও দাবি করেছে যে তারা ইউক্রেনের বন্দর ও সামরিক লজিস্টিক সেন্টারে পাল্টা আঘাত হেনেছে এবং মস্ক অভিমুখে আসা শতশত ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। সংঘাত বন্ধে নানা কূটনৈতিক উদ্যোগ চললেও উভয় পক্ষই নিজেদের সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাকিস্তান লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা করেছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের (ইউএনএসসি) এক জরুরি বৈঠকে এই উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে। সতর্ক করা হয়েছে যে, এ ধরনের হামলা আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।
জাতিসংঘে পাকিস্তানের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত অসীম ইফতিখার আহমেদ বাহরাইন আয়োজিত নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তব্য প্রদানকালে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। "নিরাপদ সাগর, ভাগাভাগি নিরাপত্তা: পরিবর্তনশীল নিরাপত্তা পরিবেশে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষা" শীর্ষক এই বিশেষ আলোচনায় বহুজাতিক জলসীমার নিরাপত্তায় যৌথ পদক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও পাকিস্তান প্রতিনিধি বৈঠকের কয়েকটি মূল বার্তা তুলে ধরেন:
হুথি হামলার নিন্দা ও যুদ্ধবিরতির দাবি: বাব আল-মান্দেব প্রণালী এবং ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলে হুথিদের সাম্প্রতিক সামরিক উপস্থিতি ও জাহাজ দখলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান অবিলম্বে এসব কর্মকাণ্ড বন্ধের দাবি জানিয়েছে।
সউদী আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন: হুথিদের উসকানিমূলক আক্রমণের মুখে সউদী আরবের সার্বভৌমত্ব, আঞ্চলিক অখণ্ডতা ও নিরাপত্তার সুরক্ষায় পাকিস্তান তার পূর্ণ সংহতি ও অটল সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও সরবরাহে হুমকি: লোহিত সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে বিঘ্ন ঘটায় আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিশেষ করে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং খাদ্য নিরাপত্তার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার তাগিদ: সামুদ্রিক বাণিজ্য পথগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সংঘাত নিরসনে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। পাকিস্তান এ অঞ্চলে উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দিয়েছে।
বাহরাইন ও সউদী আরবের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে হুথিদের এহেন পদক্ষেপের ফলে ইয়েমেনের মানবিক সংকট তীব্র হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং নৌ চলাচলের স্বাধীনতা রক্ষায় বিশ্ব সম্প্রদায়কে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদিনার মসজিদে নববীর ইমামরা হুতিদের হামলার প্রচেষ্টাকে নিন্দা জানিয়েছেন, যা পবিত্র মক্কাকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হয়েছে। শুক্রবারের খুতবায় তারা এই হামলার প্রচেষ্টাকে ‘গুরুতর অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ধর্মীয় ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবমাননা বলেও অভিহিত করেন।
মসজিদুল হারামের ইমাম ও খতিব শেখ বান্দার বালিলাহ মন্তব্য করেন, পবিত্র স্থানগুলোর নিরাপত্তা এবং নিরপরাধ মানুষের জীবন ‘রেড লাইন’। তিনি বলেন, মুসলমানদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা এবং পবিত্র স্থানগুলোকে হুমকির মুখে ফেলা যেকোনো প্রচেষ্টা এসব স্থানের মর্যাদা লঙ্ঘন করে এবং মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলে।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহর পবিত্র ঘর ও মহানবীর মসজিদকে লক্ষ্য করার মতো কর্মকাণ্ড ইসলামের শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি অভিযোগ করেন যে, হুতিদের ধর্মীয় স্লোগানকে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের আড়াল হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মসজিদে নববীর ইমাম শেখ আবদুলমোহসেন আল-কাসিম বলেন, মক্কা ও মদিনাকে হুমকির মুখে ফেলা হুতি হামলা এক ধরনের সন্ত্রাসী প্রবণতা, যা মুসলমানদের রক্তপাতকে বৈধ মনে করে এবং নিরাপদে বসবাসকারী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে চায়।
এই বক্তব্য ১৫ সেপ্টেম্বরের একটি ড্রোন ঘটনার কয়েক দিন পর এসেছে। সউদী নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের বৈধ সরকারকে সমর্থনকারী জোটের দাবি, ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে মক্কার দক্ষিণে একটি হুতি ড্রোন শনাক্ত করে সউদী বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী। ড্রোনটি মক্কার নিষিদ্ধ আকাশসীমায় প্রবেশের আগেই ভূপাতিত করা হয়।
জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ঘটনাটিকে মক্কাকে লক্ষ্য করে হুতিদের দ্বিতীয় প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি দাবি করেন, এর আগে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে মক্কাকে লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল।
তবে হুতিরা মক্কা বা অন্য কোনো পবিত্র স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের একটি সামরিক সূত্র সউদী দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, তাদের পক্ষ থেকে মক্কা বা অন্য পবিত্র স্থানের জন্য কোনো হুমকি ছিল না।
মক্কা ইসলামের পবিত্রতম শহর এবং প্রতিবছর হজ পালনের প্রধান কেন্দ্র। সাম্প্রতিক সময়ে সউদী ভূখণ্ডে হুতিদের হামলা এবং ইয়েমেনে সউদী নেতৃত্বাধীন বাহিনীর পাল্টা হামলার মধ্যে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বেড়েছে। তথ্যসূত্র: সউদী গেজেট, রয়টার্স
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদ থেকে জঙ্গি সম্পৃক্ততার সন্দেহে ২৩ জনকে আটক করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১১ জনকে পরিবারের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। অন্য ১২ জনকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)।
তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের বিষয়ে যাচাই-বাছাই শেষে ১১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। বাকি ১২ জনকে সিটিটিসির হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি।
এর আগে, শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর তেজগাঁও কলেজের মসজিদে গোপন বৈঠক করার সময় পুলিশ ২৩ জনকে আটক করে। নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার সন্দেহে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, নিষিদ্ধ একটি জঙ্গি সংগঠনের সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে এসে তেজগাঁও কলেজের মসজিদে একত্রিত হতে পারেন। ওই তথ্যের ভিত্তিতেই মসজিদটিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় ২৩ জনকে আটক করা হয়।
তিনি বলেন, আটক ব্যক্তিরা একই সংগঠনের সদস্য কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের পরিচয়, কর্মকাণ্ড এবং সম্ভাব্য সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই মূলত তাদের আটক করা হয়েছে। আটকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ