ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যেন মৃত্যুফাঁদ


ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ৪০ কিলোমিটারজুড়ে যেন মৃত্যুফাঁদ

ফরিদপুর-রাজবাড়ী - দৌলতদিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কটি মৃত্যু ফাঁদ হিসেবে পরিচিত। ফরিদপুর শহর থেকে গোয়ালন্দ মোড় হয়ে রাজবাড়ী-দৌলতদিয়া ঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক খণ্ডটি বর্তমানে দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য এক চরম আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একজন ট্রাক ড্রাইভার মোহন মিয়া মন্তব্য করেন, মহাসড়কের কিছু অংশে রাস্তা ধেবে গিয়ে পুকুরের মতো হয়ে গেছে, কোথাও ৫-১০ ফিট সড়কের বিটুমিন এবং সুড়কি খোয়া বালুর কারণে অতিরিক্ত মাল বোঝাই ট্রাক চলাচলে সড়কের বুক উপচে উঠছে।

কিছু স্থানে সড়কের অর্ধেকাংশ এক পাশে সরে গিয়ে সড়কের মাঝে খালের আকৃতি দেখা যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: সকাল হলে ভাগ্য নির্ধানের পালা

সরু ও জরাজীর্ণ রাস্তা, একের পর এক ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক, ফিটনেসবিহীন গাড়ি এবং লাইসেন্স ছাড়া অদক্ষ চালকদের কারণে প্রতিনিয়ত ঘটছে রক্তক্ষয়ী দুর্ঘটনা।

"নিরাপদ সড়ক চাই" ফরিদপুর অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, আমাদের হিসেব অনুযায়ী, গত দেড় বছরে এই ৪০ কিলোমিটার সড়কে প্রায় ৭৪৫টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি হয়েছে ৫০ জনের। এই তথ্য বিভিন্ন মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে।

রাজবাড়ী ও ফরিদপুর হাইওয়ে পুলিশের বিভিন্ন সূত্র এবং ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ (নিসচা)-এর স্থানীয় তথ্য অনুযায়ী, বিগত ৫ বছরে এই রুটে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনা এবং সার্বিক নিরাপত্তার চিত্র নিয়ে একটি বিশেষ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে।

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া ঘাটের দুরত্ব (৪০ কিমি) মহাসড়ক।

আরও পড়ুন: বালিয়াডাঙ্গীতে পতিলাভাষা যুব সমাজের উদ্যোগে তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত

বিগত ৫ বছরের পরিসংখ্যান ও বাস্তব চিত্র

মোট আনুমানিক দুর্ঘটনা ৪৫০ টিরও বেশি

মোট প্রাণহানি (নিহত) সংখ্যা ১৮০ জন।

পঙ্গুত্ব বরণকারী (আহত/পঙ্গু) ৬৫০ জনেরও বেশি (যার মধ্যে চিরতরে পঙ্গু অন্তত দেড় শতাধিক)।

আরও পড়ুন: কাউনিয়া থানা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, টার্গেটে মাদক ব্যবসায়ী ও কিশোর গ্যাং

মোট বিপজ্জনক বাঁক (Black Spots) ১৮ থেকে ২০টি (গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক: ১৫টি)।

সড়কের প্রশস্ততা ও অবস্থাদ্বি-লেনের অত্যন্ত সরু সড়ক, দুপাশে খানাখন্দ ও বিপজ্জনক ঢাল। গুরুত্বপূর্ণ বাঁকগুলোর মধ্যে গোয়ালন্দ মোড়, জমিদার ব্রিজ এলাকা, খানখানাপুর বাজার, ব্রিজ, গোয়ালন্দ বাজার, উজানচর মোড়, দরবার শরীফ এলাকা, পাঁচুরিয়া লিংক সড়ক মোড়গুলো উল্লেখযোগ্য ও বিপদজনক।

এই বিষয়ে কথা হয় রাজাবড়ী ধনছি এলাকার মিনু মিয়ার সাথে। তিনি বলেন, ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়ক: বেহাল দশা, লক্কড় ঝক্কর গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং মৃত্যুফাঁদে পরিণত হওয়া এক জনপদ।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান ও ব্যস্ততম রুট হলো ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়ক। তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার ছোট-বড় যানবাহন, ভারী পণ্যবাহী ট্রাক, বাস এবং অ্যাম্বুলেন্স এই পথ দিয়ে যাতায়াত করে।

আরও পড়ুন: বরিশালে হাফেজ শিক্ষার্থীদের স্পোকেন ইংলিশ কোর্স সম্পন্ন, সনদ ও বই বিতরণ

কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কটি বর্তমানে বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা, খানাখন্দ, ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কর গাড়ির কালো ধোঁয়া এবং অনিয়ন্ত্রিত থ্রি-হুইলার, নছিমন, করিমন, ভটভটি বা ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবাধ চলাচলের কারণে এক প্রকার ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।

সরেজমিন বিশেষ প্রতিবেদন তৈরির সময় দেখা গেছে,

৪০ কিলোমিটার মহাসড়কের বর্তমান বেহাল দশা ও মূল সমস্যাসমূহ

সরেজমিন ঘুরে ও স্থানীয় চালক-যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে মহাসড়কটির বেশ কিছু গুরুতর সমস্যার চিত্র উঠে এসেছে। কারণগুলো উল্লেখ করা হলো,

আরও পড়ুন: বিয়ের মাত্র ১৫ দিন পরই সড়ক দুর্ঘটনায় ঝরল প্রাণ

খনাখন্দ ও জরাজীর্ণ রাস্তা। বড় বড় বাঁক, মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে দীর্ঘদিনের সংস্কারের অভাব এবং অতিরিক্ত ওজনের যানবাহন চলাচলের কারণে পিচ উঠে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত।

সামান্য বৃষ্টিতেই সেসব গর্তে পানি জমে যায়, যার ফলে চালকরা রাস্তার সঠিক অবস্থা বুঝতে না পেরে প্রায়ই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলছেন।

অনিয়ন্ত্রিত ভটভটি, করিমন, নছিমন, ইজিবাইক ও নছিমন-করিমঞ্জির দৌরাত্ম্য বহুগুণে বেড়ে গেছে।

মহাসড়কে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও দুলকি চালে চলাচল করছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, এবং থ্রি-হুইলার। দ্রুতগতির ভারী বাস বা ট্রাকের সঙ্গে এই কমগতির যানবাহনগুলোর সংঘর্ষই অধিকাংশ ছোট-বড় দুর্ঘটনার প্রধান কারণ।

আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১

এই বিষয়ে, ফরিদপুরের ট্রাফিক সার্জেন্ট প্রশান্ত কুমার বলেন,

ট্রাফিক আইনের শিথিলতা আইনের প্রতি অশ্রদ্ধা ও ওভারটেকিং প্রবণতা দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। নির্দিষ্ট লেন ব্যবস্থার অভাব এবং চালকদের বেপরোয়া গতিতে ওভারটেক করার মানসিকতা মহাসড়কটিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সবারই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত।

লক্কড় ঝক্কর গাড়ি ও কালো ধোঁয়া: পরিবেশ ও স্বাস্থ্যের ওপর নীরব হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে শান্ত পরিবেশের জন্য।

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়কের পরিবেশগত সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। রাস্তায় চলাচলকারী ফিটনেসবিহীন লক্কড় ঝক্কর বাস, ট্রাক এবং লরি থেকে অবাধে নির্গত হচ্ছে ঘন কালো ধোঁয়া। কিন্তু দেখার কেউ নেই।

বায়ু দূষণের মাত্রাও বৃদ্ধি পেয়েছে চরমভাবে। এই সমস্ত পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহনের ইঞ্জিন থেকে বের হওয়া কার্বন মনোক্সাইড, নাইট্রোজেন অক্সাইড এবং ক্ষতিকর কণা (Particulate Matter) স্থানীয় বাতাসকে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে তুলছে।

বায়ু দূষন ও পরিবেশ নিয়ে কথা বলছেন, ডাঃ মোঃ আবজাল হোসেন। তিনি বলেন, দিন দিন সড়কে যানবাহনে চলাচলের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে প্রতিনিয়ত। মহাসড়কের দুই পাশের বাসিন্দা, পথচারী এবং যাত্রীরা এই বিষাক্ত ধোঁয়া গ্রহণ করছেন। এর ফলে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, এবং ফুসফুসের জটিল রোগ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে।

দৃশ্যমানতার অভাব ও কম নয়। এ অভাব এখন দৃশ্যমান।

ফরিদপুর বিআরটিএ সহকারী পরিচালক এই বিষয়ে বলেন, অনেক সময় লক্কড় ঝক্কর গাড়িগুলোর পেছনের লাল বাতি নষ্ট থাকে এবং অতিরিক্ত ধোঁয়ার কারণে পেছনের গাড়ির চালকরা সামনের রাস্তা দেখতে না পেয়ে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হন।

​ ক্রমবর্ধমান দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি

মহাসড়কে অনিয়ন্ত্রিত গতি, ভাঙা রাস্তা আর ফিটনেসবিহীন গাড়ির ত্রিমুখী প্রভাবে প্রায়শই ঝরে যাচ্ছে তাজা প্রাণ।

সামান্য বৃষ্টি বা কুয়াশায় এই সড়কে দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের ঘটনায় রূপ নিয়েছে। স্থানীয় হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে প্রায়ই মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, যেখানে মা-শিশুসহ পুরো পরিবার নিভে যাওয়ার মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটছে।

আহতরা সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাওয়ার আগেই ভাঙা রাস্তার জ্যামে পড়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন।

​

এই বিষয়ে সচেতন সমাজের মুরব্বিরা বলছেন, দুর্ঘটনা এড়াতে ও পরিবেশ রক্ষায় জরুরি প্রতিকার ও করণীয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অবিলম্বে কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও কালো ধোঁয়া রোধে কড়া অভিযান। বিআরটিএ এবং হাইওয়ে পুলিশের যৌথ উদ্যোগে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে যেসব গাড়ি থেকে কালো ধোঁয়া বের হয় এবং ফিটনেস নেই, সেগুলোকে অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত বা মহাসড়ক থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।

সার্ভিস লেন নির্মাণ: মূল মহাসড়কের পাশে ধীরগতির যানবাহন (অটোরিকশা, নছিমন, করিমন) চলাচলের জন্য অবিলম্বে পৃথক ‘সার্ভিস লেন’ বা আলাদা রাস্তা তৈরি করা বাধ্যতামূলক করতে হবে।

নিয়মিত সড়ক সংস্কার: খানাখন্দ দ্রুত মেরামত করে মসৃণ যোগাযোগ ব্যবস্থা বজায় রাখতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে আরও বেশি তৎপর ও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

সচেতনতা বৃদ্ধি: চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মেনে চলা এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি না চালানোর মানসিকতা তৈরি করতে নিয়মিত কাউন্সেলিং ও প্রচারণা চালাতে হবে।

​

ফরিদপুর-দৌলতদিয়া মহাসড়কের এই রুগ্ন দশা ও পরিবেশদূষণ কেবল একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়, এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও বড় এক অন্তরায়।

সাধারণ মানুষের নিরাপদ যাতায়াত এবং নির্মল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের দ্রুত, দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।

ফরিদপুর - মাদারীপুর জেলার হাইওয়ের পুলিশ সুপার জনাব আহম্মেদ হমায়ুন বলেন,

এই বিষয়ে, ভবিষ্যতে বহু পদক্ষেপ হাতে নিয়ে সকল সমস্যা সমাধানে আন্তরিক বলে, ইনকিলাবকে জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে পরাজিত বাংলাদেশ, এক মাসে ২৩ গোল হজম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১১ পি.এম


ভারতের কাছে ১৩-০ গোলে পরাজিত বাংলাদেশ, এক মাসে ২৩ গোল হজম

ভারতের কাছে হার নতুন কিছু নয়। এক মাসের মধ্যে দুইটি ম্যাচে ২৩ গোল হজম করেছে বাংলাদেশ। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের হকির প্রস্তুতি, কৌশল এবং লড়াইয়ের মানসিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। জলন্ধরে অনুষ্ঠিত চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে বাংলাদেশ ১৩-০ গোলে স্বাগতিক ভারতের কাছে বিধ্বস্ত হয়েছে।

গত মাসে জাপানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের দল ভারতের কাছে ১০-০ গোলে পরাজিত হয়েছিল।

প্রথম কোয়ার্টারে বাংলাদেশ চার গোল হজম করে। দ্বিতীয় কোয়ার্টারে ভারত আরও দু’টি গোল করে বিরতিতে ৬-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। তৃতীয় কোয়ার্টারে তারা তিন গোল এবং শেষ কোয়ার্টারে আরও চার গোল করে ব্যবধান বাড়ায়।

সাবেক হকি খেলোয়াড় এবং ফেডারেশনের প্রাক্তন সদস্য তারেক আদেল দলের পারফরম্যান্সে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, "আমরা কবে বলতে শিখব যে, আমরাও বাংলাদেশ, ছেড়ে কথা বলব না।" তার অভিযোগ, পরিস্থিতি পরিবর্তনের জন্য ফেডারেশনের উদ্যোগ স্পষ্ট নয়।

চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এশিয়ার ছ’টি দেশ অংশগ্রহণ করছে। পাকিস্তান ভারতে খেলতে না যাওয়ার কারণে বাংলাদেশকে সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এশিয়ান গেমসে সপ্তম স্থান অর্জন করা দলটির লক্ষ্য ছিল ষষ্ঠ স্থান। সেই লক্ষ্যে ব্যর্থ জার্মান কোচ গেরহার্ড পিটারের উপরেই চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে আস্থা রেখেছে ফেডারেশন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু না হলে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত না হলে সারাদেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং ১১-দলীয় জোট। জোটের পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে, এই উপনির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে তাদের আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় জোটের সমন্বয়ক এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ।

হামিদুর রহমান আযাদ জানান, বর্তমানে ১১টি দল একযোগে দুটি প্রধান ইস্যু নিয়ে কাজ করছে, যার একটি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন এবং অন্যটি আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন। আগামীকাল এই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে, জোটের প্রতিনিধি দল নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নির্বাচন কমিশনে সুনির্দিষ্ট কিছু লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছিল।

তবে কমিশনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কমিশন কিছু বিষয়ে পদক্ষেপ নিলেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগের ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে জামায়াত নেতা বলেন, জোটের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ইউএনওকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে নেওয়ার এবং পদ থেকে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়েছিল। কিন্তু কমিশন তাকে না সরিয়ে কেবল নির্বাচন প্রক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছে। কমিশনের এই পদক্ষেপকে ‘আইওয়াশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, ইউএনওর বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে কেবল দায়িত্ব থেকে বিরত রাখাই কি সমাধান হতে পারে? জোটের মূল দাবি ছিল তাকে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করা।

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামীকালের উপনির্বাচন যদি নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য না হয়, তবে প্রমাণিত হবে যে কমিশন কেবল প্রদর্শনী বা আইওয়াশ করেছে। কালকের নির্বাচনী পরিবেশ ও নিরপেক্ষতাই নির্ধারণ করবে জোট ভবিষ্যতে কোনো স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেবে কি না। নির্বাচন সুষ্ঠু না হলে উদ্ভূত পরিস্থিতির দায় কমিশনকে নিতে হবে এবং রাজপথে সারাদেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১২ পি.এম


রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে স্ট্রেচারে মাঠ ছাড়লেন হৃদয়

মিরপুর টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ব্যাটিং করার সময় পেশির টান নিয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ত্যাগ করেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটার তাওহীদ হৃদয়। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে সিরিজের প্রথম টেস্টের প্রথম দিনের তৃতীয় সেশনে।

ইনিংসের ৬৬ ওভারে স্কয়ার কাট করে ১ রান নেওয়ার সময় বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন তিনি এবং নন-স্ট্রাইকিং প্রান্তে মাঠে শুয়ে পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে ফিজিও এসে মাঠে প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করেন। অবস্থার পরিবর্তন না হলে দ্রুত স্ট্রেচার এনে তাকে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে ৬৩তম ওভারে তিনি একবার মাঠে শুয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছিলেন। কিছুটা স্বস্তি অনুভব করায় খেলা শুরু করার পর তিন ওভারের মধ্যে পেশির টান মারাত্মক আকার ধারণ করায় তাকে মাঠ ছাড়তে বাধ্য করা হয়।

মাঠ ছাড়ার আগে হৃদয় দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে ৮৪ বলে ৪২ রান সংগ্রহ করেন। তার বিদায়ের ফলে সাদমান ইসলামের সঙ্গে গড়া ৮৮ রানের জুটির ছেদ ঘটে। হৃদয়ের চোটের পর নতুন ব্যাটসম্যান হিসেবে মাঠে নেমেছেন লিটন কুমার দাস এবং অন্য প্রান্তে সাদমান ইসলাম ৯৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন।

হৃদয়ের মাঠ ছাড়ার সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, ক্যাম্প হয়েছে তার।

মুশফিকুর রহিমের চোটের কারণে একাদশে সুযোগ পাওয়া তাওহীদ হৃদয়ের আকস্মিক চোট বাংলাদেশ দলের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৮ জুন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হারারেতে তার টেস্ট অভিষেক ঘটে। সে ম্যাচের দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে মাত্র ১২ রান। এবার দ্বিতীয় টেস্টে নেমেই ফিফটির খুব কাছে ছিলেন। কিন্তু চোটের কারণে অপেক্ষা দীর্ঘ হলো হৃদয়ের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
জঙ্গি নাটকে ৯ হত্যা

হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৭ নভেম্বর পেছাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৩ পি.এম


হাসিনা-কামালসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি ১৭ নভেম্বর পেছাল

রাজধানীর কল্যাণপুরে ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে জঙ্গি নাটক সাজিয়ে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি আবারও পিছিয়ে আগামী ১৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন ধার্য করেন।

ট্রাইব্যুনালে আসামিপক্ষে সময় চান আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ। প্রসিকিউশনের আপত্তি না থাকায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ঠিক করেন আদালত।

ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন, অলি মিয়া, মামুনুর রশিদ, মঈনুল করিমসহ অন্যান্য প্রসিকিউটর উপস্থিত ছিলেন।

মামলায় বর্তমানে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে রয়েছেন সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক ও ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া।

এ মামলায় শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য আসামিরা হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির তৎকালীন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, তৎকালীন সিটিটিসি প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় ও তৎকালীন যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন।

প্রথমে মামলাটি ট্রাইব্যুনাল-১-এর অধীনে ছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২১ জুলাই অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানিতে মামলার ঘটনাস্থলসহ বিস্তারিত বিবরণ তুলে ধরেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণদের ধরে এনে জঙ্গি তকমা দিয়ে কল্যাণপুরের জাহাজবাড়িতে নিয়ে হত্যা করা হতো। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অনেকেই তদন্ত কর্মকর্তার কাছে জবানবন্দি দিয়েছেন। সাক্ষ্যগ্রহণ পর্বে তাদের সাক্ষী হিসেবে উপস্থাপন করা হবে। একইসঙ্গে প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানান তিনি। তবে আসামিপক্ষের শুনানি চলাকালে এটি ট্রাইব্যুনাল-২-এ হস্তান্তর করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুনরায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি করবে প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষ।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশনের দেওয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে গত ৮ মার্চ পলাতক ছয় আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে রাজধানীর কল্যাণপুরে জাহাজবাড়ি নামে পরিচিত একটি ভবনে কথিত জঙ্গি আস্তানায় অভিযান চালায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামের ওই অভিযানে ৯ তরুণকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ঘটনাটি পরিকল্পিত মানবতাবিরোধী অপরাধ ছিল বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%