ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবলের ২০২৬ সালের সূচি প্রকাশ


এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ফুটবলের ২০২৬ সালের সূচি প্রকাশ

অবশেষে অপেক্ষার প্রহর শেষ হতে চলেছে। দেশের বৃহত্তম শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) পৃষ্ঠপোষকতায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া উৎসব ‘এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ২০২৬’। আয়োজক কমিটি ইতিমধ্যে ফুটবল টুর্নামেন্টের পূর্ণাঙ্গ সময়সূচি ও গ্রুপ বিন্যাস প্রকাশ করেছে।

ফুটবল ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে ঢাকার বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক মানের ‘এবিজি স্পোর্টস সিটি’র মাঠে। আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ও নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে ফুটবল টুর্নামেন্ট। উদ্বোধনী দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে মুখোমুখি হবে ইউল্যাব ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

এবিজি স্পোর্টস সিটি আগামী কয়েক সপ্তাহ ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে। ফুটবল টুর্নামেন্টের ‘এ’ গ্রুপে অংশগ্রহণ করবে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি এবং ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। ‘বি’ গ্রুপে খেলবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, ইউনিভার্সিটি অব স্কলারস, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি ও সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটি।

আরও পড়ুন: ল্যাঙ্কাশায়ারের সঙ্গে জেমস অ্যান্ডারসনের ২৫ বছরের সম্পর্ক শেষ

গ্রুপ পর্বের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি করে দল সেমিফাইনালের টিকিট পাবে। আগামী ২ নভেম্বর টুর্নামেন্টের দুটি সেমিফাইনাল এবং ৩ নভেম্বর ফাইনাল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

জানা গেছে, টুর্নামেন্টের ফুটবল ও ক্রিকেট উভয় ডিসিপ্লিনের চ্যাম্পিয়ন দল ১০ লাখ টাকা এবং রানার্স-আপ দল ৫ লাখ টাকা প্রাইজমানি লাভ করবে। দেশের একমাত্র স্পোর্টস চ্যানেল টি স্পোর্টসে খেলাগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চাকসুর মেয়াদ পূর্ণ হলেও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নজরে আসেনি সম্পাদকের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৭ পি.এম


চাকসুর মেয়াদ পূর্ণ হলেও মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিস্তম্ভ নজরে আসেনি সম্পাদকের

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (চাকসু) এক বছর পূর্ণ হওয়ার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাঙা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ ও নামফলক সংস্কার করা হয়নি। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলো দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে। কোথাও ভেঙে পড়ে রয়েছে স্মৃতিফলক, কোথাও জমেছে শ্যাওলা, লতাপাতা ও ময়লা-আবর্জনা। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার, আলোকসজ্জা অকেজো হয়ে পড়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে সাত শহীদের স্মরণে নির্মিত স্মরণ চত্বর বারবার ঢেকে যাচ্ছে চাকসুর ব্যানার ও ফেস্টুনে। এক বছরেও এসব স্থাপনার সংস্কার ও সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাগুলোর মধ্যে অন্যতম ‘বিজয় ৭১ চত্বর’, যা পূর্বে ‘জয় বাংলা চত্বর’ নামে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর চত্বরটি ‘বিজয় ৭১’ নামে পরিচিতি পেলেও পুরোনো নামফলক ভেঙে ফেলার পর সেখানে নতুন কোনো নামফলক স্থাপন করা হয়নি। বর্তমানে দেয়ালে রং দিয়ে ‘বিজয় ৭১’ লেখা থাকলেও ভাঙা ফলকটি পুনঃস্থাপন কিংবা নতুন নামফলক নির্মাণের কোনো উদ্যোগ দৃশ্যমান হয়নি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় ৭১ চত্বরের স্মৃতিস্তম্ভজুড়ে জমে রয়েছে শ্যাওলা। দীর্ঘদিন রং না করায় স্থাপনাটির বিভিন্ন অংশ বিবর্ণ হয়ে পড়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে জন্মেছে লতাপাতা, জমেছে ময়লা-আবর্জনা। স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে পেঁচিয়ে রয়েছে বৈদ্যুতিক তার। এমনকি সেখানে স্থাপিত লাইটগুলোও দীর্ঘদিন ধরে জ্বলছে না। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কারের অভাবে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটির সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছে।

এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পোস্ট অফিসসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ভাঙা অংশও দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলো যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অযত্ন-অবহেলার শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এসব স্থাপনার সংস্কার, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কিংবা যথাযথভাবে সংরক্ষণে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও কেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভগুলোর সংস্কার ও সংরক্ষণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি। জবাবে তিনি বলেন, "আমার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, তুমি তো বলছো।" পোস্ট অফিসসংলগ্ন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের ভাঙা অংশের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, "ও ভাঙা পড়ে আছে না? এটা ঠিক করা দরকার ছিল।"

তবে স্মৃতিস্তম্ভ সংস্কারের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে জানিয়ে মোনায়েম শরীফ বলেন, "বুদ্ধিজীবী চত্বর সংস্কার ও শহীদ মিনারের আশপাশের এলাকা সংস্কারের জন্য আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম। বিষয়গুলো সিরিয়ালে রয়েছে। ধাপে ধাপে এগুলো করা হবে বলে জানানো হয়েছিল। প্রায় দেড় মাস আগে এ বিষয়ে উপাচার্যের সঙ্গে বসেছিলাম। এরপর আর বসা হয়নি।"

চাকসুর মেয়াদ শেষ হলেও নিজের অবস্থান থেকে এসব স্থাপনা সংস্কারের জন্য আবারও চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রবেশমুখ জিরো পয়েন্টে অবস্থিত ‘স্মরণ চত্বর’ নির্মাণ করা হয়েছে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাতজন বীর সন্তানের স্মরণে। এখানে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নাম ও প্রতিকৃতি স্থান পেয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গৌরবোজ্জ্বল অবদান তুলে ধরার ক্ষেত্রে চত্বরটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

তবে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী এসব বীর সন্তানের স্মরণে নির্মিত চত্বরটি প্রায়ই ঢেকে যায় খোদ চাকসুর ব্যানার ও ফেস্টুনে। বিশেষ করে ছাত্রসংগঠন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের প্রচারণামূলক ব্যানারের কারণে শহীদদের নাম ও প্রতিকৃতি আড়াল হয়ে যায়। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলেও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি।

স্মরণ চত্বর চাকসুর ব্যানারে ঢেকে থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক মোনায়েম শরীফ বলেন, "স্মরণ চত্বর তো গোল। এক সাইডে ঢেকে থাকলে আরেক সাইডে দেখা যায়। সমস্যা নাই তো।" এরপর তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, "তাহলে মুক্তিযুদ্ধ সম্পাদক হিসেবে এটা আমার ব্যর্থতা নাকি?"

তিনি আরও বলেন, "চাকসুর বিভিন্ন প্রোগ্রামের জন্য জিরো পয়েন্টে ব্যানারগুলো দেওয়া হয়। সবাই আসে, দেখে, এ জন্য আরকি। এর আগে একটা খেলাধুলার প্রোগ্রামের কারণে সেখানে ব্যানার দেওয়া হয়েছে। এখন বিতর্ক উৎসবের জন্য ব্যানার দেওয়া হয়েছে।"

তবে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে ব্যানারগুলো সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সংগঠন ভয়েস অব স্টুডেন্টসের সভাপতি আশিকুর রহমান আশিক বলেন, "কিছুদিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে অবস্থিত স্মরণ চত্বর ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের ব্যানারে ঢেকে যায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম এবং ব্যানার অপসারণের দাবিতে মানববন্ধন করেছিলাম। এর পরপরই ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের ব্যানার সরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও চাকসুর ব্যানারও দেখা যায়। বর্তমানে চাকসুর ব্যানারগুলো এখনো ঝুলে আছে, অথচ সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম শেষ হয়ে গেছে এবং চাকসুর মেয়াদও উত্তীর্ণ হয়েছে।"

তিনি আরও বলেন, "স্মরণ চত্বরটি দ্রুত ব্যানারমুক্ত করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যাতে দূর থেকেই চত্বরটি স্পষ্টভাবে দেখা যায় এবং শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থাপনাটির পরিবেশ ও সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ থাকে।"

বিজয় ৭১ চত্বরের ভাঙা নামফলক নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে আশিকুর রহমান আশিক বলেন, "জয় বাংলা চত্বরকে অনেকেই বিজয় ৭১ চত্বর হিসেবে নামকরণ করেছেন। কিন্তু সেখানে এখনো আগের ভাঙা ফলকটি পড়ে আছে। বিজয় ৭১ নামটি শুধু দেয়ালে রং দিয়ে লেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। অথচ সেখানে নতুনভাবে একটি ফলক স্থাপন করা প্রয়োজন ছিল।"

চাকসুর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করলেও এসব স্মৃতিফলক সংস্কার ও পুনঃস্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেননি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে যেভাবে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে, ঠিক একইভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা সেই উদ্যোগের প্রতিফলন দেখতে পাইনি। পরবর্তী সময়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক কিছু গ্রাফিতি আঁকা হলেও তা করা হয়েছে একেবারে শেষ মুহূর্তে। আমাদের মনে হয়েছে, স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগের পরিবর্তে সমালোচনার কারণেই এসব গ্রাফিতি করা হয়েছে।"

তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনারের পাশে অবস্থিত মুক্তিযোদ্ধা স্তম্ভটির বর্তমান অবস্থাও অত্যন্ত দুঃখজনক। স্তম্ভটির চারপাশ ঝোপঝাড়ে ঘেরা, বিভিন্ন অংশ ভাঙাচোরা অবস্থায় রয়েছে। অথচ এটি সংস্কার ও যথাযথভাবে সংরক্ষণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ে না। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত এমন একটি স্থাপনার প্রতি অবহেলা সত্যিই হতাশাজনক।"

তিনি আরও বলেন, "একজন দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে তার উচিত ছিল আমাদের জাতীয় ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়কে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া। কিন্তু তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে অগ্রাধিকার দিলেও মহান মুক্তিযুদ্ধ ও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরার ক্ষেত্রে প্রত্যাশিত ভূমিকা পালন করতে পারেননি বলে আমরা মনে করি। যে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, সেই মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও চেতনাকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার বিষয়টি আমাদের কাছে অত্যন্ত দুঃখজনক। এটি মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবমূল্যায়নেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানালেন স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানালেন স্পিকার

ঢাকায় নিযুক্ত সুইডেনের রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

স্পিকার বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে আমন্ত্রণ জানান।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে স্পিকারের কার্যালয়ে এই বৈঠক ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক জোরদার, সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠন, বাণিজ্য-বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং ক্রীড়া ও সংস্কৃতিসহ দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংলগ্ন বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সুইডেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অন্যতম বিশ্বস্ত উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে কাজ করে আসছে।

সুইডেনের পার্লামেন্ট ব্যবস্থার প্রশংসা করে তিনি উল্লেখ করেন, সুইডেনের এক-কক্ষবিশিষ্ট সংসদীয় প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদীয় কাঠামোর অনেক ক্ষেত্রে চমৎকার সাদৃশ্য বিদ্যমান।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও সুইডেনের মধ্যে ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন করা সম্ভব হলে তা উভয় দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের বিকাশ ও বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

গণতন্ত্রের প্রতি দেশের মানুষের অঙ্গীকার তুলে ধরে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের জনগণ সবসময়ই গণতন্ত্রপ্রেমী। এদেশের মানুষ গণতন্ত্র ও অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে কখনো কুণ্ঠাবোধ করেনি।

তিনি উল্লেখ করেন, গত ১৭ বছরের স্বৈরাচারী শাসনের মাধ্যমে এদেশের মানুষের মৌলিক ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমাদের ছাত্রসমাজ এবং আপামর জনসাধারণ সেই স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটিয়েছে।

ভবিষ্যৎ সংসদীয় গণতন্ত্র প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, জনগণ যাতে নিজেদের পছন্দসই দল ও প্রার্থীর পক্ষে স্বাধীনভাবে ভোটদান করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে। ভোটাররা তাদের গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সংসদীয় গণতন্ত্রের মূল প্রভাবক হিসেবে কাজ করেন।

সুইডেনের শাসনব্যবস্থা ও পার্লামেন্টের চিত্র তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত নিকোলাস উইকস জানান, সুইডেনের পার্লামেন্টে মোট ৩৪৯টি আসন রয়েছে এবং সদস্যরা জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।

তিনি বলেন, সুইডেন আনুষ্ঠানিকভাবে একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হলেও রাষ্ট্র পরিচালনার যাবতীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতা পার্লামেন্ট এবং নির্বাচিত সরকারের হাতেই ন্যস্ত থাকে।

বৈঠকে তারা উভয়েই দুই দেশের সংসদের মধ্যে সম্পর্ক নিবিড় করতে সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ ও ককাস গঠনের ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে ক্রীড়া, সংস্কৃতি এবং বাংলাদেশে সুইডিশ বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

বৈঠকে স্পিকার চলমান সংবিধান সংস্কার কমিটির বিভিন্ন কার্যক্রম ও অগ্রগতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন। এছাড়া, বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগরের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মজুদকৃত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ-তেল ও গ্যাস উত্তোলনে সুইডেনের অভিজ্ঞ ও শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলোকে এগিয়ে আসার ও বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান স্পিকার।

সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন, সুইডিশ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ অবকাশ শেষে খুলল সুপ্রিম কোর্ট: ইনার গার্ডেনে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মিলনমেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ রব্বানী, স্টাফ রিপোর্টার

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:১৯ পি.এম


দীর্ঘ অবকাশ শেষে খুলল সুপ্রিম কোর্ট: ইনার গার্ডেনে বিচারপতি ও আইনজীবীদের মিলনমেলা

দীর্ঘ ৩৯ দিনের অবকাশকালীন ছুটি শেষে আজ রবিবার থেকে পুনরায় খুলেছে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট। আদালত খোলার প্রথম দিনেই সুপ্রিম কোর্টের ইনার গার্ডেনে (অভ্যন্তরীণ প্রাঙ্গণ) আয়োজন করা হয় এক ঐতিহ্যবাহী গেটটুগেদার ও সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের।

সকাল ৯:৩০টা থেকে শুরু হওয়া এই মিলনমেলায় প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের উভয় বিভাগের (আপিল ও হাইকোর্ট বিভাগ) বিচারপতিগণ উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির (বার অ্যাসোসিয়েশন) সভাপতি ও সম্পাদক, অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সাধারণ আইনজীবীরা বিচারপতিদের সঙ্গে কুশল ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দীর্ঘ ছুটির পর আদালত প্রাঙ্গণের এই আয়োজন আইনজীবী ও বিচারসংশ্লিষ্টদের মাঝে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে।

আজকের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানের কারণে আপিল বিভাগের ১ নম্বর কোর্টের নিয়মিত বিচারিক কার্যক্রম আজ স্থগিত রাখা হয়েছিল। তবে সুপ্রিম কোর্টের অন্যান্য নিয়মিত বেঞ্চ ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারিক কাজ যথানিয়মে চলেছে। দীর্ঘ ছুটি শেষে আদালত খোলায় আজ সকাল থেকেই সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের পদচারণায় চিরচেনা কর্মমুখর রূপ ফিরে এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রিদা পিন্টো: ‘ইমপারফেক্ট’ নারী চরিত্রই বেশি আকর্ষণীয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৪:২০ পি.এম


ফ্রিদা পিন্টো: ‘ইমপারফেক্ট’ নারী চরিত্রই বেশি আকর্ষণীয়

ভারতীয় সিনেমা ও টেলিভিশনে নারীদের উপস্থাপনায় পরিবর্তনের প্রশংসা করেছেন অভিনেত্রী ফ্রিদা পিন্টো। তিনি মনে করেন, নিখুঁত এবং নীতিবান নারী চরিত্রের পাশাপাশি ভুলত্রুটিসহ বাস্তব জীবনের মানুষের মতো চরিত্রগুলোই দর্শকের কাছে অধিক আকর্ষণীয় এবং বিশ্বাসযোগ্য।

বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফ্রিদা উল্লেখ করেন যে, ত্রুটিপূর্ণ চরিত্রগুলো তার কাছে অধিক আকর্ষণীয় মনে হয়। কারণ, এসব চরিত্রের সঙ্গে দর্শক সহজেই নিজেদের মিল খুঁজে পান। তিনি বলেন, “যেসব কিছু নিখুঁত, সেগুলো একঘেয়ে এবং সেগুলোর সঙ্গে নিজেদের মেলানো যায় না।”

ফ্রিদা আশা প্রকাশ করেন যে, ভারতীয় বিনোদনজগতে সৃজনশীলতার আরো বিস্তার ঘটবে। বিশেষ করে তরুণদের নতুন চিন্তা ও ভাবনাগুলো যেন বাধাগ্রস্ত, প্রত্যাখ্যাত বা দমিয়ে দেওয়া না হয়, সে বিষয়ে তিনি গুরুত্ব দেন।

২০০৮ সালে অস্কারজয়ী চলচ্চিত্র স্লামডগ মিলিয়নিয়ার-এ লাতিকার চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিচিতি পান ফ্রিদা পিন্টো। এরপর তিনি রাইজ অব দ্য প্ল্যানেট অব দ্য এপস, ইমর্টালস, ত্রিশনা ও লাভ সোনিয়াসহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

২০১৮ সালে এমিলি ভেরেলেন স্ট্রমের সঙ্গে ‘ফ্রিবার্ড ফিল্মস’ নামে একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানও চালু করেন ফ্রিদা। সর্বশেষ তাকে দেখা গেছে অ্যাপল টিভির থ্রিলার সিরিজ সারফেস-এ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%