০৬:৫০ পি.এম
সরকার খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন আনতে এবং সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। শিশু-কিশোরদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে এবং তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ তৈরি করার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এ বিষয়ে জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর আয়োজন করা হচ্ছে।
রোববার দুপুরে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এবারের আসরে অনলাইনে নিবন্ধন করেছেন ১৬ লাখ ২৩ হাজার প্রতিযোগী। তাদের মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আমিনুল হক আরও জানান, প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৬৮ হাজার, যা এবার বেড়ে ১৬ লাখ ২৩ হাজারে পৌঁছেছে। দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠনের মাধ্যমে প্রতিযোগিতা শুরু হবে। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় অতিক্রম করে প্রতিযোগীরা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করবেন। আগামী বছরের মে বা জুন মাসে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কেপটাউনে অস্ট্রেলিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, দক্ষিণ আফ্রিকা ৩২৯ রানে গুটিয়ে
প্রথম আসরে উঠে আসা প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তাদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে বাছাই করা খেলোয়াড়দের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার যাবতীয় দায়িত্ব নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব হবে।
খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রসঙ্গে আমিনুল হক জানান, স্টেডিয়ামটির গ্যালারির অর্ধেকের বেশি অংশ নেই। এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপ দিতে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিগগিরই গ্যালারি নির্মাণের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে। এছাড়া খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম ও মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্স পরিদর্শন করা হয়েছে। মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সটি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এসব ক্রীড়া স্থাপনার উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খুলনা বিকেএসপির সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের বিকেএসপিগুলোকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ পাবেন। আগামী জানুয়ারি থেকে এ কার্যক্রম শুরু করার আশা প্রকাশ করেন তারা।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আমিনুল হক বলেন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ (এসএসএফ) সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে মাঠ প্রস্তুত করা, আয়োজন ব্যবস্থাপনা এবং প্রচার কার্যক্রম নিয়েও কাজ চলছে।
আরও পড়ুন: ঢাকা টেস্ট বাংলাদেশের জন্য নিজেদের প্রমাণের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা
এ সময় জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, খুলনা সিটি করপোরেশনের (কেসিসি) প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার প্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও ক্রীড়া সংগঠকেরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন