০৯:৫৪ পি.এম
ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সমুদ্রপথে চোরাচালানের মাধ্যমে নিয়ে আসা অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক ভর্তি একটি লরি জব্দ করেছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী। রবিবার গভর্নরের কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে যে, হুথি গোষ্ঠীর সাথে সম্পৃক্ত একটি সেলের ১৩ জন সদস্যকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
শাবওয়ার গভর্নর ও প্রাদেশিক নিরাপত্তা কমিটির প্রধান আওয়াদ আল-ওয়াজির জানিয়েছেন, ইরান-সমর্থিত হুথি ও ইয়েমেন সরকারের মধ্যে চলমান লড়াইয়ের প্রেক্ষাপটে ধারাবাহিক নজরদারি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে এই সফল অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে।
গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অস্ত্রগুলো প্রথমে নৌকায় করে ইয়েমেনের দক্ষিণ উপকূলীয় অঞ্চলে আনা হয় এবং সেখানকার চোরাচালানকারী সেলটির সদস্যদের হাতে তা তুলে দেওয়া হয়। এই চালানের মূল উদ্দেশ্য ছিল অস্ত্রগুলো ইরান-ঘনিষ্ঠ হুথিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া।
আরও পড়ুন: ইসরাইলের নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ৭৭.৭ শতাংশ, ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ
উদ্ধারকৃত চালানের মধ্যে স্নাইপার রাইফেল, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ, অতি-ধ্বংসাত্মক মেকশিফট বিস্ফোরক (আইইডি) এবং বিভিন্ন ধরনের প্রজেক্টাইল (ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলা) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, এই পাচার অভিযানের সম্পূর্ণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এর পেছনের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক শনাক্তকরণ ও জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করার জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এই অস্ত্র জব্দের ঘটনার ঠিক কয়েক দিন আগে শাবওয়াতে 'র্যাপিড ইন্টারভেনশন ফোর্সেস'-এর ওপর একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় হুথিরা। গভর্নরের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সেই হামলায় ৭৭ জন নিহত এবং ১৯৫ জন আহত হন।
হুথিরা এই হামলার দায় স্বীকার করে দাবি করেছে যে, সেখানে সৌদি সামরিক কর্মকর্তাদের পরিচালনায় "সৌদি শত্রু বাহিনী" অবস্থান করছিল। এই গোষ্ঠীটির দাবি অনুযায়ী, হতাহতদের মধ্যে সৌদি সদস্যরাও ছিলেন। তবে এ বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
গভর্নর আল-ওয়াজির সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি পরবর্তী পাচার ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিরোধে স্থল ও জলপথে নজরদারি ও তল্লাশি জোরদার এবং গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির নির্দেশ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?
সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলগুলোতে হামলা জোরদার করেছে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেন বিমানবন্দর এবং প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে তারা আক্রমণ চালায়। প্রাসাদে চালানো একটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ৫ জন নিরাপত্তা কর্মী প্রাণ হারান।
চলতি মাসে ইয়েমেনি সরকারি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেপ প্রণালীর কাছাকাছি বেশ সাফল্য পেয়েছে। অন্যদিকে, দক্ষিণাঞ্চলীয় পার্বত্য অঞ্চলের অন্যতম প্রধান ঘাঁটি তায়েজ শহরকে এখনও অবরুদ্ধ করে রেখেছে হুথিরা। জ্বালানি সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ শাবওয়াতেই রয়েছে ইয়েমেনের সর্ববৃহৎ শিল্প বিনিয়োগ 'বালহাফ এলএনজি' কেন্দ্র।
২০১৪ সালে হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে নিলে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে ইয়েমেন সরকারের অনুরোধে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট সামরিক হস্তক্ষেপ করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি হলেও চলতি বছর থেকে লড়াই আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে এই সংঘাতটি ইরান এবং মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের অন্যতম একটি ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে। বিশ্বজুড়ে অপরিশোধিত তেল রফতানিতে শীর্ষস্থানে থাকা সৌদি আরবের ওপর হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে হুথিরা। ইতোমধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাওয়া ইয়েমেনে এই নতুন করে শুরু হওয়া লড়াই বেসামরিক মানুষদের পরিস্থিতিকে আরও করুণ করে তুলছে।
আরও পড়ুন: ‘নেতানিয়াহু সরকারের প্রতি আস্থার অভাব’, বুথফেরত জরিপে মন্তব্য আইজেনকোটের
সূত্রঃ দ্য ন্যাশনাল
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন