ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষিঋণে খেলাপি ১৯ হাজার কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকে বাড়ছে


কৃষিঋণে খেলাপি ১৯ হাজার কোটি টাকা, ইসলামী ব্যাংকে বাড়ছে

বাংলাদেশের কৃষি ও পল্লিঋণ খাতে এক বছরে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ কিছুটা কমলেও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে খেলাপি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বেড়ে গেছে। এ তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। খাত-সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন, কৃষিঋণে শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়, বরং আদায় কার্যক্রমকেও জোরদার করতে হবে।

কৃষকের প্রকৃত চাহিদা ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা যাচাই করে ঋণ বিতরণ করা এবং ঋণের অর্থ নির্ধারিত খাতে ব্যবহার হচ্ছে কি না, তা নিয়মিত তদারকি করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণ দ্রুত বাড়ায় ঋণ বিতরণ ও আদায় ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করার প্রয়োজন রয়েছে। এ ছাড়া ঋণ গ্রহীতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখে সময়মতো কিস্তি আদায় এবং অনাদায়ী ঋণের কারণ চিহ্নিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, এ মাসে কৃষিঋণে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ১৭ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ঋণের পরিমাণ ছিল ১৯ হাজার ৪৯৭ কোটি ৫১ লাখ টাকা। এই হিসাবে এক বছরে শ্রেণিকৃত ঋণ কমেছে ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৬০ হাজার কোটি টাকায় কুমিল্লা–ঢাকা নতুন রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা

একই সময়ে কৃষিঋণের মেয়াদোত্তীর্ণ অংশও কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৯৬৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৯৩৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। এক বছরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমেছে ১ হাজার ২৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা বা ৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

তবে সামগ্রিক খাতে ঋণ কমলেও ব্যাংকভেদে চিত্র ভিন্ন। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণে শ্রেণিকৃত ঋণের পরিমাণ ২০২৫ সালের আগস্টে ছিল ৪৫৯ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৭৯ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এক বছরে এ ঋণ বেড়েছে ৯১ দশমিক ৪৩ শতাংশ।

একই সময়ে ইসলামী ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এ পরিমাণ ছিল ৩৮৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। এক বছর পর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮৩৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। এতে এক বছরে মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ বেড়েছে ১১৬ দশমিক ২৯ শতাংশ।

আরও পড়ুন: দীর্ঘদিনের ক্ষমতার অবসান, সার্বিয়ার নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে জয়

শুধু খেলাপি ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ নয়, আদায়যোগ্য কৃষিঋণের পরিমাণও ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৭০৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৪৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। এক বছরে আদায়যোগ্য ঋণ বেড়েছে ৭৩ দশমিক ১৬ শতাংশ।

অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকগুলোর কৃষিঋণ আদায়ের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে আদায় হয়েছিল ৮৯৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১৭০ কোটি ৫ লাখ টাকা। এ ক্ষেত্রে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত ঋণ ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ—দুটিই বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ ছিল ৪ হাজার ৬৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ১৬৬ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এক বছরে বেড়েছে ১০ দশমিক ৩১ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এর পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ২২৫ কোটি ২১ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৬৫ কোটি ৮৭ লাখ টাকা। এক বছরে এ ঋণ বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

অন্যদিকে, বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণ কমেছে। ২০২৫ সালের আগস্টে এসব ব্যাংকের শ্রেণিকৃত ঋণ ছিল ১৩ হাজার ৪৯৮ কোটি ৩১ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ১৬৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। এক বছরে কমেছে ৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৩৬ জেলায় ১০১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর

বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণও কমেছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৯২ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ কম। বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতেও কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমেছে। এক বছরে শ্রেণিকৃত ঋণ ৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ কমে ৮০১ কোটি ৫৪ লাখ টাকায় নেমেছে। মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ কমেছে ২৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ। ২০২৬ সালের আগস্টে এসব ব্যাংকের মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ৭৪১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ২০২৫ ও ২০২৬ সালের আগস্ট—উভয় সময়েই শ্রেণিকৃত এবং মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণের পরিমাণ শূন্য ছিল।

কৃষিঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সামগ্রিকভাবে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৬ সালের আগস্টে অংশগ্রহণকারী ব্যাংকগুলো মোট ৭ হাজার ৪১৯ কোটি ৫৫ লাখ টাকা কৃষিঋণ আদায় করেছে। আগের বছরের একই সময়ে আদায়ের পরিমাণ ছিল ৬ হাজার ৭৩ কোটি ৫৮ লাখ টাকা। এক বছরে আদায় বেড়েছে ২২ দশমিক ১৬ শতাংশ।

ব্যাংকের ধরন অনুযায়ী, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে কৃষিঋণ আদায় বেড়েছে ৩৯ দশমিক ১৯ শতাংশ। ইসলামী ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে আদায় বেড়েছে ১৫ দশমিক ৮৯ শতাংশ। বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে ৭ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোতে বেড়েছে ৩ দশমিক ৭ শতাংশ।

তবে আদায় বাড়লেও আদায়যোগ্য কৃষিঋণের পরিমাণও বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে ব্যাংকগুলোর মোট আদায়যোগ্য কৃষিঋণ ছিল ৩০ হাজার ৭৭৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ৭৩২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এক বছরে আদায়যোগ্য ঋণ বেড়েছে ৬ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

আরও পড়ুন: হুথিদের হামলার হুমকির মধ্যেই রিয়াদ বিমানবন্দর পুনরায় চালু করল সৌদি আরব

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৬ সালের আগস্টে ৫৮টি ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষিঋণ বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে বিতরণের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার ৮২৬ কোটি ৩ লাখ টাকা। এক বছরে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়েছে ৪২ দশমিক ১০ শতাংশ।

একই সময়ে ব্যাংকগুলোর মোট কৃষিঋণের স্থিতি বেড়েছে। ২০২৫ সালের আগস্টে কৃষিঋণের স্থিতি ছিল ৫৯ হাজার ৫৪১ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের আগস্টে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৩ হাজার ৬২০ কোটি ২৭ লাখ টাকা। এক বছরে ঋণের স্থিতি বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে কৃষি ও পল্লিঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৬ হাজার ৮৫৭ কোটি ৯৫ লাখ টাকা, যা মোট লক্ষ্যমাত্রার ১১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে বিতরণে এগিয়ে রয়েছে বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। এসব ব্যাংকের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের হার ২৬ দশমিক ৪৫ শতাংশ। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর অর্জন ১২ দশমিক ৬৫ শতাংশ, ইসলামী ব্যাংকগুলোর ১২ দশমিক ৯৩ শতাংশ, রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ।

ব্যাংকগুলোর বাইরে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডকে (বিআরডিবি) অন্তর্ভুক্ত করে হিসাব করলে, ২০২৬ সালের আগস্টে কৃষিঋণ বিতরণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ হাজার ৬৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২১ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এ হিসাবে এক বছরে বিতরণ বেড়েছে ৪০ দশমিক ৭১ শতাংশ।

আরও পড়ুন: ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংকের দশ বছরের পরিসংখ্যানে কৃষিঋণের শ্রেণিকৃত অংশের বড় পরিবর্তন দেখা যায়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে শ্রেণিকৃত কৃষিঋণের পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ২৪০ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৫৭৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা।

একই সময়ে কৃষিঋণ বিতরণ বেড়ে ৪২ হাজার ৮৩৪ কোটি ১৬ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণ আদায়ের পরিমাণ বেড়ে হয়েছে ৪৫ হাজার ৬২৬ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। অন্যদিকে, আদায়যোগ্য ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণের পরিমাণ ১৯ হাজার ৮০৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।

২০২৬ সালের আগস্টে কৃষিঋণের মোট শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ ঋণ আগের বছরের তুলনায় কমলেও ইসলামী ব্যাংক ও রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে ঋণমানের অবনতি দেখা গেছে। বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকগুলোর শ্রেণিকৃত ও মেয়াদোত্তীর্ণ কৃষিঋণের দ্রুত বৃদ্ধি খাতটির ব্যাংকভিত্তিক পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য তুলে ধরেছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কৃষিঋণের ঝুঁকি কমাতে শুধু ঋণ বিতরণ বাড়ানো যথেষ্ট নয়, বরং ঋণগ্রহীতার সক্ষমতা যাচাই, অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত তদারকিও জোরদার করতে হবে। কৃষির উৎপাদনব্যবস্থা, কৃষি উপকরণের সরবরাহ এবং ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অর্থায়ন না হলে ঋণ আদায়ে চাপ তৈরি হতে পারে। এ কারণে খেলাপি ঋণ কমানোর পাশাপাশি কৃষি অর্থায়নের ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: জার্মানি ও চেক প্রজাতন্ত্র সফর করলেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ময়মনসিংহে পরিচ্ছন্নতায় সেরা ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেল ডিসির পুরস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৬ পি.এম


ময়মনসিংহে পরিচ্ছন্নতায় সেরা ১৪ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পেল ডিসির পুরস্কার

ময়মনসিংহের ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ‘ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ প্রদান করা হয়েছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বাস্তবায়নে নেতৃত্ব ও সমন্বয়ের জন্য ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলামকেও এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অক্টোবর মাসের সেরা পরিচ্ছন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসনের ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কর্মসূচিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে জেলার বিভিন্ন উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়।

প্রতিটি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে ডাস্টবিন, বেলচা এবং প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জাম উপহার দেওয়া হয়।

অক্টোবর মাসে ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচিতে সেরা পরিচ্ছন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে পুরস্কার পেয়েছে—ফুলপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, খায়রুল্লাহ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সায়েরা সাফায়েত স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বারোয়ামারী উচ্চ বিদ্যালয়, দুল্লা উচ্চ বিদ্যালয়, কান্দিপাড়া আলিমুন্নেচ্ছা গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নান্দাইল রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিশ্বেশ্বরী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বিয়ারা পাটুলী রহমত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়, ধাইরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়, মোজাহারদি উচ্চ বিদ্যালয়, ডিএস আলিম মাদ্রাসা ও জনতা উচ্চ বিদ্যালয়।

এদিকে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘ক্লিন সানডে’সহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে নেতৃত্ব, উদ্যোগ ও সমন্বয়ের জন্য ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলামকে ‘ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ অক্টোবর-২০২৬ প্রদান করা হয়। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব করে তোলা।

‘যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছন্নতা’—এ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ময়মনসিংহকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ‘ক্লিন সানডে’ কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানে বাবা নিজের সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করতেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


পাকিস্তানে বাবা নিজের সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করতেন

পাকিস্তানের ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) একটি আন্তর্জাতিক শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সন্ধান পেয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তি, যিনি নিজের নাবালক সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করতেন।

রবিবার ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনসিসিআইএ-এর অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ শোয়েব খান জানান, পাকিস্তানের ইতিহাসে এটি একটি নজিরবিহীন ঘটনা, যেখানে একজন বাবা তাঁর সন্তানদের বিরুদ্ধে এ ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িত ছিলেন।

তিনি বলেন, “অভিযুক্ত ব্যক্তি তাঁর চার ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তানদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করে তা বিক্রি করছিলেন। ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে টেলিগ্রামের গোপন গ্রুপে এসব ভিডিও বেচাকেনা হতো।” শোয়েব খান আরও জানান, উদ্ধারকৃত ভিডিওগুলোতে পশুপাখির ওপর নৃশংসতার চিত্রও দেখা গেছে। গ্যাংটির মূল হোতা স্কার্দু এলাকার বাসিন্দা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্ত চলাকালে ইসলামাবাদ, মুলতান ও দক্ষিণ পাঞ্জাব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে। চক্রটির অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে তিনি জানান। শোয়েব খান বলেন, “এ ধরনের জঘন্য অপরাধে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”

আরেকটি পৃথক ঘটনার কথা উল্লেখ করে শোয়েব খান জানান, এক শিশুর মোবাইল থেকে পাওয়া প্রায় ৬০টি ভিডিও তদন্ত করে শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি জানান, প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তি ইনস্টাগ্রামে ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলত, টাকার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের আপত্তিকর ভিডিও তৈরি করত এবং পরে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করত। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে এই একই অপরাধে দুই চীনা নাগরিককেও দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

অন্য একটি মামলার বিবরণ দিয়ে অতিরিক্ত পরিচালক জানান, করাচির এক নাবালিকা ধারাবাহিক যৌন হয়রানির শিকার হয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। মেয়েটি বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ভুক্তভোগী পরিবারের সহায়তায় এনসিসিআইএ টিম মাত্র ১৩ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামিকে ইসলামাবাদ থেকে সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি গত ২-৩ বছর ধরে ওই মেয়েটিকে ক্রমাগত ব্ল্যাকমেইল ও হয়রানি করছিল। তিনি বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ন্যায়বিচার এনে দেওয়াই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। নারী ও শিশুদের প্রতি হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “কোনো সংবেদনশীল বা আপত্তিকর বিষয় পোস্ট করার আগে ভাবুন। আইন সক্রিয় রয়েছে, ভুল বিষয়বস্তু আপলোড করে কেউ পার পাবে না।” নাগরিকদের ওটিপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের বিবরণ বা ব্যক্তিগত তথ্য কারো সঙ্গে শেয়ার না করার আহ্বান জানান তিনি। ভুয়া ওয়েবসাইট ও ভুয়া নম্বরে যোগাযোগ করে প্রতারিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, “আপনি যদি সাইবার অপরাধের শিকার হন, তবে চুপ থাকবেন না; এনসিসিআইএ আপনার পাশে আছে।” অভিযোগের জন্য ২৪ ঘণ্টা চালু থাকা হেল্পলাইন ১৭৯৯-এ যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।

নারী ও শিশু হয়রানির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি

এনসিসিআইএ-এর এক বিবৃতিতে জানানো হয়, সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল (ডিজি) সৈয়দ আলী নাসির রিজভী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নাগরিকদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের হয়রানিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

ডিজি একটি বৈঠকে এই নির্দেশ দেন, যেখানে তথ্যপ্রযুক্তি পরিচালক আতিফ আব্বাস, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনচার্জ তাইয়্যেবা দৌলত এবং জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুব এলাহী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে সাইবার অপরাধ দমন, ভুয়া তথ্য রোধ ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

ডিজি নির্দেশ দেন যে ভুয়া তথ্য ছড়ানো, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো এবং জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী অ্যাকাউন্টগুলোর ওপর নজরদারি বৃদ্ধি করতে হবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বৈষম্যহীন ব্যবস্থা নিতে হবে।

এর আগে গত ২৩ অক্টোবর, এনসিসিআইএ করাচি জোন তিন সংস্থা থেকে একাধিক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। তারা আন্তর্জাতিক গ্রাহকদের জন্য যৌন উদ্দীপক অ্যানিমেটেড কার্টুন, চাইল্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ মেটেরিয়াল (সিএসএএম) এবং অন্যান্য পর্নোগ্রাফিক ডিজিটাল সামগ্রী তৈরি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ছিল।

ইউনিসেফের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, পাকিস্তানে এক বছরে আনুমানিক ১৫ লাখ শিশু অনলাইন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ৮৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নির্যাতনকারী ব্যক্তিরা ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী শিশুদের পূর্বপরিচিত ছিল। এছাড়া, ৭১ শতাংশ ভুক্তভোগী শিশু কাউকেই তাদের এই অভিজ্ঞতার কথা জানায়নি। জরিপে অংশ নেওয়া কোনো শিশুই পুলিশ, হেল্পলাইন বা সমাজকর্মীদের মতো প্রাতিষ্ঠানিক মাধ্যমে অভিযোগ দায়ের করেনি।

অন্যদিকে, শিশু অধিকার সংস্থা 'সাহিল'-এর আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে দেশজুড়ে অন্তত ১,৯১৪টি শিশু নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুন ২০২৬-এর মধ্যে ১,০১৫টি শিশু যৌন নির্যাতন, ৫৫৮টি অপহরণ, ১০১টি শিশু নিখোঁজ এবং ৩৫টি বাল্যবিয়ে সংক্রান্ত ঘটনা ঘটে। এছাড়া যৌন নির্যাতনের পর পর্নোগ্রাফি তৈরির ৯৮টি ঘটনাও রেকর্ড করা হয়।

সাহিলের এই প্রতিবেদনটি পাকিস্তানের চারটি প্রদেশসহ ইসলামাবাদ, আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর এবং গিলগিট-বালতিস্তানের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকার সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই মেয়েশিশু এবং ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী শিশুরা এই ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিএনপির অফিসে অগ্নিসংযোগ, সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১০ জন কারাগারে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৭ পি.এম


বিএনপির অফিসে অগ্নিসংযোগ, সাবেক দুই চেয়ারম্যানসহ ১০ জন কারাগারে

বিএনপির অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কুমিল্লার হোমনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহিরুল হক জহর এবং আছাদপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জহিরসহ ১০ জনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) দ্রুতবিচার আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আবিদা সুলতানা মলির আদালতে জামিন আবেদন জানালে, শুনানি শেষে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী তৌহিদুল ইসলাম বাবু রাত সোয়া ৮টায় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আইনজীবী জানান, চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে তিতাস উপজেলার নাগেরকান্দিতে বিএনপির কার্যালয়ে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ওই সময় কার্যালয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছবি ছিল। ঘটনার সময় ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ককটেল বিস্ফোরণের অভিযোগও রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ মামলায় আসামিরা জামিন চাইতে কুমিল্লা আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনৈতিক বিবেচনায় ১,৪১৩টি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের তদন্তে আইনি ব্যবস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:১৬ পি.এম


রাজনৈতিক বিবেচনায় ১,৪১৩টি প্লট বরাদ্দে অনিয়মের তদন্তে আইনি ব্যবস্থা

ঢাকা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন আবাসন প্রকল্পে রাজনৈতিক কারণে বরাদ্দকৃত ১ হাজার ৪১৩টি প্লটের মধ্যে পূর্বাচল ও ঝিলমিলের ১ হাজার ৭৪টি প্লটের অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন পাওয়া গেছে।

এই প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেছে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

আজ রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির দ্বিতীয় বৈঠকে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকটি সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মো. রেজাউল করিম বাদশা এমপি।

বৈঠকে জানানো হয়, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত গুলশান, বনানী, উত্তরা, পূর্বাচল নতুন শহর ও ঝিলমিল আবাসিক এলাকায় রাজনৈতিক বিবেচনায় মোট ১ হাজার ৪১৩টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে সর্বাধিক ৯৪৪টি প্লট বরাদ্দ হয়েছে।

রাজউকের বিভিন্ন প্রকল্পে এই প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম বা বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের জন্য হাইকোর্ট বিভাগে দায়ের করা রিট পিটিশনের রুলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত কমিটি নথিপত্র পরীক্ষা করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

বৈঠকে জানানো হয়, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের ৮৭৪টি এবং ঝিলমিল আবাসিক এলাকার ২০০টি প্লটের অনিয়ম সংক্রান্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এসব প্লটের নথি-সংক্রান্ত কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রয়েছে। রাজনৈতিক বিবেচনায় বরাদ্দ এবং অনিয়মের অভিযোগ যথাযথভাবে তদন্ত করে বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং সংলগ্ন উদ্যান ও প্রাঙ্গণের অসমাপ্ত সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানানো হয়। আশা করা হচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে কবরস্থানের মূল অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

সরকারি ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের লক্ষ্যে ‘এনহ্যান্সিং ক্লিন এনার্জি অ্যাকসেস থ্রু রুফটপ সোলার পিভি ইন পাবলিক ইনফ্রাস্ট্রাকচার’ শীর্ষক প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। বৈঠকে জানানো হয়, এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। সংশ্লিষ্ট ভবনগুলোতে ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

জাতীয় সংসদ ভবনকেন্দ্রিক গণপূর্ত অধিদপ্তরের ২০২৬ সালে সম্পন্ন করা বিভিন্ন পূর্তকাজের অগ্রগতিও বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। সংসদ ভবনের যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সংসদের ভাবগাম্ভীর্য বজায় রাখতে সংশ্লিষ্টদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এ ছাড়া আগামী ১৬ ডিসেম্বর রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের লক্ষ্যে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে বৈঠকে জানানো হয়।

বৈঠকের শুরুতে আলোচ্যসূচি অনুযায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী নিশ্চিত করা হয়। পরে প্রথম বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি বিস্তারিতভাবে উপস্থাপন করে মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, মো. লুৎফুজ্জামান বাবর, শেখ মজিবুর রহমান ইকবাল, এম মঞ্জুরুল করিম রনি, মো. রুহুল আমিন ও মো. তাজউদ্দীন খানসহ সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

এ সময় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধীন দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%