০৯:১৬ পি.এম
টানা ৩৭ দিনের আন্দোলন থামার ৪৮ ঘণ্টা পেরোতেই, ভারতের তরুণদের নতুন প্লাটফর্ম তেলাপোকা বা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) আবারও আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, আটক আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি মোদি সরকার দিয়েছিল, তা ভঙ্গ করছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক আন্দোলনে যাদের সরকার গ্রেপ্তার করেছে, সবার মুক্তি দাবি করেছে সিজেপি। তারা ঘোষণা করেছে, যদি তা না হয়, তবে তারা মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) থেকে কঠোর আন্দোলন শুরু করবে। এনডিটিভির খবরে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, মূল দাবির একটি বাস্তবায়িত হওয়ায় অর্থাৎ শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করার পর দিল্লির যন্তর মন্তরে ৩৭ দিন ধরে চলা অবস্থান কর্মসূচি ‘সম্মানের খাতিরে’ তুলে নিয়েছিল ‘তেলাপোকা পার্টি’ এর নেতৃত্বে অভিজিৎ দিপক।
আরও পড়ুন: এবার বিআরটি ভাঙতে ব্যয় হবে ৪৫ কোটি টাকা
কিন্তু সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে বিজেপি নেতা ও দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং জীতেন্দ্র সিংকে উদ্দেশ্য করে সোমবার (২৭ জুলাই) লেখেন, আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি অ্যাকশন না নেওয়ার যে চুক্তি হয়েছিল, তা সম্পূর্ণরূপে লঙ্ঘন করা হচ্ছে। বিহার ও বাংলা থেকে শতাধিক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দিল্লির লজিস্টিক সহায়তাকারী স্বেচ্ছাসেবকদের আটক করা হয়েছে এবং বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষার্থীদের ওপর নজরদারি ও হেনাস্থার খবর আসছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত এফআইআর অবিলম্বে প্রত্যাহার, শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং চুক্তি অনুযায়ী দিল্লি পুলিশ অথবা কেন্দ্র ও বিজেপির মিত্র রাজ্যগুলোর পুলিশ যেন নতুন কোনো এফআইআর দায়ের না করে, সে বিষয়ে দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে, আমরা আবারও রাজপথে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হব।
সিজেপির এই মুখপাত্র আলোচনা অনুযায়ী মামলা বাতিলের লিখিত চুক্তি আগামীকালকের মধ্যে তাদের হাতে হস্তান্তরেরও দাবি জানিয়েছেন।
কনস্টিটিউশন ক্লাবে মন্ত্রীদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত তৃতীয় দফার বৈঠকের পর সিজেপি জানিয়েছিল, নিট পরীক্ষার জালিয়াতিতে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে এবং ভারতজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে থাকা সমস্ত এফআইআর তুলে নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকার রাজি হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্পিকার: আওয়ামী লীগের নেতারা মদ খায়, কর্মীরাও খায়, সব বাটপারের কারখানা
সরকারের কাছে পাঁচ দফার দাবি পেশ করে সিজেপি বলেছে, চার সপ্তাহ পর পরবর্তী দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।
২০ জুলাইয়ের ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচির পর ভারতজুড়ে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়। সিজেপি শুরু থেকেই এসব মামলা প্রত্যাহার ও ভবিষ্যতে কোনো আইনগত ব্যবস্থা না নেওয়ার শর্ত দিয়েছিল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন