০৬:২৩ পি.এম
সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় নিহত বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
মন্ত্রী নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাদের স্থায়ী আবাসন, সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেছেন। একই ঘটনায় আহত ওমরাহযাত্রীদের চিকিৎসা, সার্বিক সহযোগিতা ও নিরাপদে দেশে প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করতে মন্ত্রীর উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন দেশে ফিরে আসা যাত্রীরা। মঙ্গলবার রাতে দেশে ফিরে আসা ওমরাহযাত্রীদের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানানো হয়।
গত ১০ অক্টোবর সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার শিকার হন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া ৪৫ সদস্যের একটি ওমরাহ কাফেলা। এ ঘটনায় বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের পাশাপাশি নিহত হন বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী মুফতি মো. নাসরুল্লাহ বদরপুরি (৪৫)। তিনি কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই ওমরাহ কাফেলার দলনেতা (ইমাম) ছিলেন। হামলায় কাফেলার আরও কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে তেলক্ষেত্রে ড্রোন হামলা প্রতিহত, দুই বিদেশির মৃত্যু
হামলার খবর পাওয়ার পরপরই ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আক্রান্ত ওমরাহ কাফেলার সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। সৌদি আরবে কর্মরত বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় করে আহতদের উদ্ধার ও চিকিৎসার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেন তিনি। সে সময় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকলেও সার্বক্ষণিকভাবে আহত ও অন্যান্য যাত্রীর খোঁজখবর নেন মন্ত্রী।
হামলায় ওমরাহযাত্রীদের লাগেজ হারিয়ে গেলে মন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তাঁদের আপ্যায়ন ও নতুন পোশাকের ব্যবস্থা করা হয়। পাশাপাশি দেশে ফেরার টিকিট নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রাখা হয়।
নিহত মুফতি নাসরুল্লাহ বদরপুরির পরিবারের খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি গত ১৩ অক্টোবর ধর্মমন্ত্রীর পক্ষ থেকে মাওলানা ইয়াকুব ওসমানীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বদরপুরে তাঁর বাড়িতে যায়। এ সময় পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়।
প্রতিনিধি দলটি নিহতের মরদেহ দাফন, পরিবারের স্থায়ী আবাসন এবং সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব পালনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরিবারের সঙ্গে ফোনালাপে ধর্মমন্ত্রী শহীদের মরদেহ জান্নাতুল বাকিতে দাফন অথবা দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারটিকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী আজ খুলনা ও বাগেরহাট সফরে, অংশ নেবেন সরকারি কর্মসূচিতে
এদিকে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার শিকার ৪৫ সদস্যের ওমরাহ কাফেলার ৩৩ জন সদস্য মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাত ১১টা ২০ মিনিটে সৌদি অ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করেন।
ধর্মমন্ত্রীর নির্দেশনায় তাঁর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ, পরিচালক (হজ) মো. লোকমান হোসেনসহ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে দেশে ফেরা যাত্রীদের অভ্যর্থনা জানান।
বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিব ছাদেক আহমদ বলেন, “সৌদি আরবে আটকে পড়া ওমরাহযাত্রীদের অভ্যর্থনা জানাতে মন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা বিমানবন্দরে এসেছি। ধর্মমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ফিরে আসা যাত্রীদের নৈশভোজের ব্যবস্থা করেছেন। সবাইকে নিরাপদে নিজ নিজ মাদ্রাসা ও বাসায় পৌঁছে দিতে পরিবহনেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, পরবর্তী সময়েও প্রয়োজনীয় সব সহযোগিতা অব্যাহত রাখবেন ধর্মমন্ত্রী। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে করণীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
আরও পড়ুন: ইশরাক ‘পোষ্য কোটায়’ রাজনীতিতে এসেছেন, অভিজ্ঞতা কম: নিলোফার মনি
এ সময় ওলামায়ে কেরামের পক্ষে জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের মহাসচিব আকরাম হোসাইনের নেতৃত্বে ওমরাহ কাফেলার সদস্যরা বিপদের মুহূর্তে পাশে থাকা এবং সার্বিক সহযোগিতার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)-এর প্রতি ধন্যবাদ জানান।
দেশে ফেরা যাত্রীরা জানান, সৌদি আরবের বিমানবন্দরে হামলার ঘটনার পর ধর্মমন্ত্রী সার্বক্ষণিক তাঁদের খোঁজখবর নিয়েছেন। প্রয়োজনীয় সংস্থানের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি দেশে ফিরিয়ে এনে নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য যানবাহনের ব্যবস্থাও করেছেন তিনি। এ জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রী ও ধর্মমন্ত্রীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানকালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা, আবাসন ও অন্যান্য সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সৌদি সরকারের প্রতিও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান দেশে ফেরা ওমরাহযাত্রীরা।
বিমানবন্দরে জামেয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি ফয়জুল্লাহ, জাতীয় ইমাম পরিষদ বাংলাদেশের নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: গ্রীষ্মের আগেই ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের আশা: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন