বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০১:০৫ এম
ভারতের দিল্লির জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় সাতদিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর কারামুক্ত হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। সূত্র : এনডিটিভি
গত ১৩ অক্টোবর জন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ান সিজেপির এই দুই মুখপাত্র। তারা নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে জন্তর মন্তরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের আটক হওয়ার পর ১০ অক্টোবর শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাদের এই কর্মকাণ্ড মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছে।
১৪ অক্টোবর তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরো দুইদিন বাড়ানো হয়। সিজেপি আদালতে আবেদন করে, অভিযোগ করে যে, দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়া ঠেকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে হাইকোর্টে আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে মন্তব্য করেন, প্রতিবাদের অগ্রভাগে থাকা ব্যক্তিরা ব্যারিকেড ভাঙলে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে পারেন। পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে আদালত সতর্ক করেন। বিদেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের উদাহরণও আদালত উল্লেখ করেন।
আদালত সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বয়স জানতে চাইলে, তাদের বয়স যথাক্রমে ৩১ ও ২৭ বছর জানানো হলে আদালত মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। আদালত তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জুন ও জুলাইয়ে সিজেপি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বর্তমানে দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।
ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানির সময় দিল্লি পুলিশ দুই মুখপাত্রের বিচার বিভাগীয় হেফাজত আরো তিন দিন বাড়ানোর আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার পর তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, দুই মুখপাত্রের ব্যক্তিগত মুচলেকা ও জামিনদারের মুচলেকা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ড দিতে বলা হয়েছে। মুচলেকায় তারা শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করার অঙ্গীকার করেছেন। জন্তর মন্তরকে আইনানুগভাবে পুনরায় নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন তারা।
আদালত আরো জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত বা বিচারিক অনুসন্ধান চলবে। মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান মন্তব্য করেছেন যে, বিএনপি যখন ক্ষমতায় থাকে, তখন সব ধর্মের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে, এবং এটি আবারও প্রমাণিত হলো।
তিনি বুধবার (২১ অক্টোবর) রাত সোয়া ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই বক্তব্যটি তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খান উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো এত সুন্দর, সুশৃঙ্খল এবং পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে দেশব্যাপী সনাতন ধর্মাবলম্বী ভাই-বোনেরা তাদের সর্বোচ্চ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে সক্ষম হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের গোষ্ঠীর মানুষেরা নিরাপদে থাকতে পারবেন, নিরাপদে ধর্ম পালন করতে পারবেন এবং উৎসব উদযাপন করতে পারবেন।
রাশেদ খান আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে সব ধর্মের মানুষ নিরাপদে থাকেন। এটি আবারও প্রমাণিত হলো। প্রমাণিত হলো যে, ফ্যাসিবাদী জমানায় রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার জন্য এবং আওয়ামী লীগের প্রভূ রাষ্ট্রের আশীর্বাদ পেতেই মন্দিরে পরিকল্পিত হামলা করা হয়েছে।
দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে রাশেদ খান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে পুলিশ, প্রশাসন, আনসার-ভিডিপিসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, রাত জেগে পাহারা দিয়ে তাঁরা উৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলো তাওহীদ হৃদয়ের দল। বাংলাদেশ যদি আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখতে পারত, তাহলে ফাইনালে খেলার সুযোগ পেত। কিন্তু সেটি সম্ভব হয়নি।
২৭.১ ওভারে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা ১২১ রান সংগ্রহ করতেই বাংলাদেশের বিদায়ের নিশ্চিত হয়। আগামী ২৩ অক্টোবর ফাইনালে আফগানিস্তান মুখোমুখি হবে জিম্বাবুয়ের।
শারজায় আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশ মাত্র ১৬০ রানে অলআউট হয়ে যায়। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করেন পারভেজ হোসেন ইমন, যিনি ৭০ রান সংগ্রহ করেন। আফগানিস্তানের রশিদ খান চারটি উইকেট দখল করেন।
ফাইনালে যাওয়ার জন্য আফগানিস্তানকে ১১৯ রানের মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য নিয়ে বোলিং শুরু করে বাংলাদেশ। শুরুতে তাসকিন আহমেদ রহমানউল্লাহ গুরবাজকে বোল্ড করে কিছুটা আশার আলো দেখান। তবে আফগানিস্তানের ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ব্যাটিং করে সেই সুযোগ আর দেননি। শেষ পর্যন্ত ২৭.১ ওভারে আফগানিস্তানের রান ১২১ ছুঁতেই বাংলাদেশের বিদায় নিশ্চিত হয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কো ইয়ানসেনের বিধ্বংসী বোলিংয়ের ফলে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া মাত্র ৯৯ রানে গুটিয়ে গেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা ১৯৮৮ সালের পর এই প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অন করাতে সক্ষম হয়েছে। এই ফলাফলের মাধ্যমে প্রোটিয়াদের তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে সমতা ফেরানোর সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়ার শুরুটিও ভালো হয়নি। রাবাদা এবং সাইমন হারমারের ঘূর্ণিতে সফরকারী দলের ব্যাটসম্যানরা সমস্যায় পড়তে থাকে। তবে চতুর্থ দিনের খেলা শেষে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেট হারিয়ে ১৫৬ রান সংগ্রহ করেছে। ট্রাভিস হেড ৮৭ রান নিয়ে অপরাজিত আছেন এবং অতিথি দলটি এখনও ১৭০ রানে পিছিয়ে রয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার রাবাদা ও হারমার ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা দাপট দেখাতে থাকে। আনরিখ নরকিয়া কুঁচকির চোটে মাঠ ছাড়ার পর মার্কো ইয়ানসেন বল হাতে ত্রাস সৃষ্টি করেন। তিনি টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার করে মাত্র ৯৯ রানে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে গুঁড়িয়ে দেন। এটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার চতুর্থ সর্বনিম্ন অলআউট এবং ২০২৩ সালের পর টেস্টে ১০০ রানের নিচে অলআউট হওয়ার প্রথম ঘটনা।
অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে একমাত্র প্রতিরোধ গড়েছিলেন স্টিভেন স্মিথ (২৮)। এই ইনিংসের মাধ্যমে তিনি টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্বাদশ এবং রিক পন্টিং ও অ্যালান বোর্ডের পর তৃতীয় অস্ট্রেলীয় হিসেবে ১১,০০০ টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। তবে পিঠের ইনজুরির কারণে তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে চারে নেমে ব্যাট করতে পারেননি। এই টেস্টে একাধিক খেলোয়াড় ইনজুরিতে পড়েছেন। নরকিয়ার সঙ্গে খাদ্যে বিষক্রিয়ায় ভুগছিলেন জশ হ্যাজলউড।
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ৪২৫ রান সংগ্রহ করে ইনিংস ঘোষণা করে। দলের হয়ে বড় অবদান রাখেন মার্কো ইয়ানসেন, কাগিসো রাবাদা এবং উইয়ান মুল্ডার। ৩২৬ রানের বিশাল লিড নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ফলো-অন করায় প্রোটিয়ারা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
দক্ষিণ আফ্রিকা প্রথম ইনিংস: ৪২৫/৯ (ডি.)।
অস্ট্রেলিয়া প্রথম ইনিংস : ৯৯/১০ (স্মিথ ২৮, ইয়ানসেন ৫/৩৩, মুল্ডার ২/১৪ ও রাবাদা ২/৩৩)।
অস্ট্রেলিয়া দ্বিতীয় ইনিংস (ফলো-অন): ১৫৬/৪ রান (হেড ৮৭*, রাবাদা ২/৩০, হারমার ২/৪৭)।
* চতুর্থ দিন শেষে
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে বদর প্রতিরক্ষা চুক্তির পেছনে রয়েছে একটি নজিরবিহীন নিরাপত্তা ঝুঁকি, যা পুরো অঞ্চলে প্রভাব ফেলছে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক রশিদ আল-মোহান্নাদি এই মত প্রকাশ করেছেন।
বুধবার আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আন্তর্জাতিক নীতিগবেষণা কেন্দ্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট আল-মোহান্নাদি উল্লেখ করেন, চুক্তিতে যুক্ত দেশগুলো যে সুনির্দিষ্ট নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হচ্ছে, সেগুলোর প্রেক্ষিতে এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশের নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প রয়েছে, তারা সাধারণত প্রতিরক্ষা শিল্প না থাকা দেশগুলোর তুলনায় সামরিক সক্ষমতা অর্জনে কম খরচ করে। এ কারণে, এই চুক্তির অর্থনৈতিক দিকটিও গুরুত্বপূর্ণ।
আল-মোহান্নাদির মতে, ‘এটি প্রতিরক্ষা খাতে বৈচিত্র্য আনার একটি ভালো উদ্যোগ।’
তিনি আরও যোগ করেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সের মতো পশ্চিমা দেশগুলোর দিকে না তাকিয়ে নিজেদের অঞ্চলের মধ্যেই সামরিক চাহিদা পূরণের সুযোগ তৈরি করাও এই উদ্যোগের কৌশলগত গুরুত্বকে তুলে ধরে।
এমএমআর
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ