প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের দিল্লির জন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর ঘটনায় সাতদিন বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার পর কারামুক্ত হয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দুই মুখপাত্র সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এক বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের মুক্তির নির্দেশ দেন। সূত্র : এনডিটিভি
গত ১৩ অক্টোবর জন্তর মন্তরের তালাবদ্ধ ফটক টপকে ভেতরে প্রবেশ করে জাতীয় পতাকা ওড়ান সিজেপির এই দুই মুখপাত্র। তারা নির্ধারিত প্রতিবাদস্থলের তালিকা থেকে জন্তর মন্তরকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করেন। তাদের আটক হওয়ার পর ১০ অক্টোবর শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা দিয়েছিলেন। প্রসিকিউশনের অভিযোগ, পরবর্তীতে তাদের এই কর্মকাণ্ড মুচলেকার শর্ত ভঙ্গ করেছে।
১৪ অক্টোবর তাদের বিশেষ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে হাজির করা হলে প্রথমে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। সোমবার তাদের হেফাজতের মেয়াদ আরো দুইদিন বাড়ানো হয়। সিজেপি আদালতে আবেদন করে, অভিযোগ করে যে, দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়া ঠেকাতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারিক কার্যক্রম বিলম্বিত করা হচ্ছে।
বুধবার সকালে হাইকোর্টে আবেদনের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালত মুচলেকা ভঙ্গের বিষয়টি তুলে ধরে মন্তব্য করেন, প্রতিবাদের অগ্রভাগে থাকা ব্যক্তিরা ব্যারিকেড ভাঙলে অন্যরাও তা অনুসরণ করতে পারেন। পরিস্থিতি সহিংস হয়ে উঠতে পারে বলে আদালত সতর্ক করেন। বিদেশে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের উদাহরণও আদালত উল্লেখ করেন।
আদালত সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার বয়স জানতে চাইলে, তাদের বয়স যথাক্রমে ৩১ ও ২৭ বছর জানানো হলে আদালত মন্তব্য করেন, তারা জেন-জি প্রজন্মের নন। আদালত তাদের আন্দোলনের উদ্দেশ্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। জুন ও জুলাইয়ে সিজেপি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট (নিট)-এর প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদ জানিয়েছিল। বর্তমানে দলটি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে।
ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে শুনানির সময় দিল্লি পুলিশ দুই মুখপাত্রের বিচার বিভাগীয় হেফাজত আরো তিন দিন বাড়ানোর আবেদন করে। উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত আদেশের জন্য বিষয়টি অপেক্ষমাণ রাখেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার পর তাদের মুক্তির নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের আদেশে বলা হয়, দুই মুখপাত্রের ব্যক্তিগত মুচলেকা ও জামিনদারের মুচলেকা গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপির ব্যক্তিগত বন্ড ও সমপরিমাণ জামিনদারের বন্ড দিতে বলা হয়েছে। মুচলেকায় তারা শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং আইন অনুযায়ী প্রতিবাদ করার অঙ্গীকার করেছেন। জন্তর মন্তরকে আইনানুগভাবে পুনরায় নির্ধারিত প্রতিবাদস্থল ঘোষণা না করা পর্যন্ত সেখানে কোনো বিক্ষোভের ডাক দেবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন তারা।
আদালত আরো জানিয়েছে, এ বিষয়ে তদন্ত বা বিচারিক অনুসন্ধান চলবে। মামলার পরবর্তী শুনানি শুক্রবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন