০৬:২৭ পি.এম
তুরস্ক, কাতার, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়া একত্রে ‘বদর সমঝোতা স্মারক’ স্বাক্ষর করেছে, যা প্রতিরক্ষা শিল্পে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত হয়েছে। এই সমঝোতার মাধ্যমে দেশগুলো যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং কারিগরি প্রশিক্ষণে সহযোগিতার পরিধি বৃদ্ধি করবে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) কাতারের রাজধানী দোহায় এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।
আনাদোলু এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, চার দেশের মধ্যে এই সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্দেশ্য হল সমরাস্ত্র উৎপাদন, প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়নে সমন্বিত সহযোগিতা গড়ে তোলা।
আরও পড়ুন: ইরানে হামলার প্রস্তুতির মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটি থেকে সেনা সরাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
দোহায় অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তুরস্কের জাতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসার গুলের দেশটির প্রতিনিধিত্ব করেন। কাতারের প্রতিরক্ষাবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ সউদ বিন আব্দুল রহমান বিন হাসান আল থানি, ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এসজাফরি এসজামসুদ্দিন এবং পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা মুহাম্মদ আসিফও নিজ নিজ দেশের পক্ষে স্মারকে স্বাক্ষর করেন।
এই সহযোগিতা কার্যক্রম তুরস্কের ‘প্রেসিডেন্সি অব ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিজ’-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে। এতে সামরিক প্ল্যাটফর্ম ও সরঞ্জাম সরবরাহের পাশাপাশি যৌথ সমরাস্ত্র উৎপাদন প্রকল্প গ্রহণ, সরবরাহব্যবস্থা একীভূত করা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও তথ্য বিনিময়ের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
তবে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার জন্য কোনো বাধ্যবাধকতা অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ, এই চুক্তির আওতায় কোনো একটি দেশ আক্রান্ত হলে অন্য দেশগুলোকে সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে হবে—এমন কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই। চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হল প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা সম্প্রসারণ করা।
গত আগস্টে তুরস্ক, পাকিস্তান এবং সৌদি আরবের মধ্যে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ওই চুক্তিতে ন্যাটোর আদলে এক দেশের ওপর আক্রমণকে সব সদস্য দেশের ওপর আক্রমণ হিসেবে বিবেচনা করার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। এ কারণে ‘বদর’ সমঝোতা স্মারকের সঙ্গে ওই চুক্তির মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো, নতুন সমঝোতাটি প্রতিরক্ষা শিল্পের সহযোগিতার ওপর কেন্দ্রিত; এতে পারস্পরিক সামরিক প্রতিরক্ষার কোনো অঙ্গীকার নেই।
আরও পড়ুন: ভারতের একক বৃহত্তম তেল শোধনাগার পরিদর্শনে রুবিও, কিন্তু কেন?
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন