ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পানি কম খাচ্ছেন? বিপদে ফেলছেন নিজের হার্টকে


পানি কম খাচ্ছেন? বিপদে ফেলছেন নিজের হার্টকে

দৈনন্দিন জীবনে সুস্থ থাকার জন্য প্রোটিন ও ফাইবারের মতো পানির চাহিদাও অপরিহার্য। পুষ্টিবিদরা প্রতিদিন ২.৭ থেকে ৩ লিটার পানি পান করার পরামর্শ দেন। তবে কাজের ব্যস্ততা বা অলসতার কারণে অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করতে ভুলে যান, কিংবা চেষ্টা করেও তা সম্ভব হয় না।

অনেকে মনে করেন, পানি কম খেলে শুধু তৃষ্ণা অনুভূত হয় বা কিছুটা ক্লান্তি আসে। কিন্তু কি জানেন, পানির এই অভাব আপনার হৃদযন্ত্র বা হার্টের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে?

ভারতের দিল্লির ধর্মশিলা নারায়ণা সুপারস্পেশালিটি হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ড. প্রদীপ কুমার নায়ক ব্যাখ্যা করেছেন কীভাবে সামান্য পানির অভাব আপনার হার্টের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং শরীরকে ঝুঁকিতে ফেলে।

আরও পড়ুন: যমুনার বুকে চায়না বাঁধের রূপালী উপাখ্যান

পানি কম খেলে হার্টে আসলে কী ঘটে? আমাদের শরীরে রক্তের যে প্রবাহ চলে, তার একটি বড় অংশজুড়ে থাকে পানি। রক্তপ্রবাহ ও রক্তের সঠিক ঘনত্ব বজায় রাখতে পানি অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।

ড. প্রদীপ কুমার নায়ক বলেন, ‘শরীর যখন পানিশূন্য বা ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়ে, তখন রক্তে তরলের পরিমাণ কমে যায়। ফলে শিরা-উপশিরায় প্রবাহিত রক্তের মোট পরিমাণও হ্রাস পায়। এখন শরীরের সমস্ত অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অক্সিজেন পৌঁছে দেওয়া তো থামানো যাবে না! তাই কম রক্ত নিয়েই হার্টকে দ্রুত ও বাড়তি শক্তিতে পাম্প করতে হয়।’

সহজ কথায়, শরীরে পানি কম থাকলে রক্ত পাতলা রাখার ও সঞ্চালন সচল রাখার জন্য হার্টকে অতিরিক্ত খাটতে হয়। ফলে হৃদস্পন্দন অস্বাভাবিক দ্রুত হয়ে যায় বা বুক ধড়ফড় করতে থাকে।

ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণগুলো

আরও পড়ুন: ‘ভালোবাসি’ বললেই কি যথেষ্ট? সম্পর্কে ৫টি বিষয়ও জরুরি

আপনার শরীরে পানির অভাব হচ্ছে কিনা, তা বোঝার প্রধান উপায়গুলো হলো:

কাদের জন্য ঝুঁকি বেশি?

যেকোনো বয়সের মানুষের পানিশূন্যতা হতে পারে, তবে কিছু ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে:

১. যারা ভারী ব্যায়াম বা ওয়ার্কআউট করেন: শরীরচর্চার সময় প্রচুর ঘাম হয়। এ সময় পানিশূন্যতা পূরণে পানি না খেলে হার্টবিট অস্বাভাবিক বেড়ে যায়।

আরও পড়ুন: প্রতিদিন কতগুলো ডিম খাওয়া নিরাপদ?

২. রোদে বা গরমে কাজ করা মানুষ: কড়া রোদে বেশিক্ষণ থাকলে তৃষ্ণা না পেলেও ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে তরল বেরিয়ে যায়।

৩. জ্বর, বমি বা ডায়রিয়া হলে: এই শারীরিক সমস্যাগুলোতে শরীর থেকে একবারে অনেক তরল ও মিনারেল নষ্ট হয়ে যায়।

৪. বয়স্ক ব্যক্তিরা: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃষ্ণার অনুভূতি কমে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন ওষুধের প্রভাব থেকেও বয়স্করা দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে পড়েন।

বুক ধড়ফড় শুরু হলে কী করবেন?

আরও পড়ুন: ফেলে দেয়া ৬ হাজার প্লাস্টিক বোতলে নির্মিত পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের ভিড়

পানির অভাবে যদি বুক ধড়ফড় শুরু হয় বা হার্টের গতি বেড়ে যায়, তবে নিচের প্রাথমিক পদক্ষেপগুলো নিতে পারেন:

ঠান্ডা স্থানে বিশ্রাম: কাজের ফাঁকে সাথে সাথে কোনো ঠান্ডা বা ছায়াযুক্ত জায়গায় গিয়ে বিশ্রাম নিন।

ধীরে ধীরে পানি পান: একবারে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে আস্তে আস্তে চুমুক দিয়ে পানি পান করুন।

স্যালাইন গ্রহণ: অতিরিক্ত ঘাম, বমি বা ডায়রিয়া হলে সাধারণ পানির বদলে খাবার স্যালাইন খাওয়া বেশি কার্যকর।

আরও পড়ুন: লম্বা ছুটিতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করা যাবে ৩৫টি দেশে

চিকিৎসকের পরামর্শ

পর্যাপ্ত পানি খাওয়া ও বিশ্রামের পরও যদি হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক না হয়, তবে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত। কারণ বুক ধড়ফড় করার পেছনে কেবল পানিশূন্যতা নয়—রক্তস্বল্পতা (অ্যানিমিয়া), থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা হার্টের অন্য কোনো অন্তর্নিহিত রোগও কারণ হতে পারে।

তাহলে প্রতিদিন নিয়ম মেনে পর্যাপ্ত পানি পান করুন, সুস্থ থাকুন এবং আপনার হার্টকে রাখুন চিন্তামুক্ত।

আরও পড়ুন: ইলিশের নামে চন্দনা ও সুরমা বিক্রির অভিযোগ, চিনবেন যেভাবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘গল্পের জাদুকর’ জেফরি আর্চার মারা গেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৩ এম


‘গল্পের জাদুকর’ জেফরি আর্চার মারা গেছেন

জনপ্রিয় ব্রিটিশ লেখক ও সাবেক রাজনীতিবিদ জেফরি আর্চার (৮৬) মারা গেছেন। তার প্রকাশক হারপারকলিন্স জানিয়েছে, স্থানীয় সময় সোমবার (৫ অক্টোবর) লেখালেখির ফাঁকে নিজ বাড়িতে তার মৃত্যু ঘটে।

পাঁচ দশকের দীর্ঘ লেখক জীবনে আর্চারের ৩০ কোটিরও বেশি বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘ক্লিফটন ক্রনিকলস’ ও ‘কেইন অ্যান্ড অ্যাবেল’র মতো জনপ্রিয় বই। এই গল্পের জাদুকর প্রায়ই সমারসেটের ওয়েলিংটন শহরকে নিজের উপন্যাসগুলোর পটভূমি হিসেবে বেছে নিতেন।

কনজারভেটিভ পার্টির সাবেক এমপি হিসেবে আর্চার ২০০১ সালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার দায়ে কারাবরণ করেছিলেন। ১৯৮৭ সালে ‘ডেইলি স্টার’ পত্রিকার বিরুদ্ধে মানহানির মামলায় মিথ্যা বলা ও প্রতারণার অভিযোগে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।

১৯৪০ সালের ১৫ এপ্রিল উত্তর লন্ডনে জন্মগ্রহণ করা আর্চার দ্রুতই সমারসেটের ওয়েস্টন-সুপার-মেয়ারে চলে যান। সেখানে তার পরিবার জন ক্লিসের মায়ের কাছ থেকে একটি বাড়ি কিনেছিল।

১৯৬৯ সালে আর্চার লিংকনশায়ারের লাউথ নির্বাচনি এলাকা থেকে এমপি নির্বাচিত হন। কনজারভেটিভ পার্টির চেয়ারম্যান হওয়ার আগে তিনি পাঁচ বছর এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার এবং বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির দায়ে চার বছরের কারাদণ্ড হলে তার রাজনৈতিক জীবন থমকে যায়। ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি হাউস অব লর্ডসে ফিরে যান এবং ২০২৪ সালে অবসর নেওয়া পর্যন্ত সেখানে দায়িত্ব পালন করেন।

হারপারকলিন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, জেফরি আর্চারের শেষ বই ‘অ্যাডাম অ্যান্ড ইভ’ এই সপ্তাহেই প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। প্রকাশনা সংস্থাটি তাকে একজন ‘নিপুণ গল্পকথক’ হিসেবে অভিহিত করেছে, যার কাছে পাঠকদের গুরুত্ব ছিল অপরিসীম।

গত সপ্তাহে আর্চার তার শেষ বইয়ের প্রচারের জন্য নিজের পুরোনো স্কুলে ফিরে গিয়েছিলেন। ওয়েলিংটন স্কুলে আর্চার বলেছিলেন, ‘ফিরে আসাটা দারুণ ব্যাপার।’

শনিবার চেলটেনহ্যাম ফেস্টিভ্যালে নিজের শেষ উপন্যাস নিয়ে আলোচনার কথা ছিল আর্চারের।

হারপারকলিন্স জানিয়েছে, আর্চার ও তার স্ত্রী মেরি চলতি বছর তাদের ৬০তম বিবাহবার্ষিকী উদযাপন করেছিলেন। দম্পতিটির দুই ছেলে ও পাঁচজন নাতি-নাতনি রয়েছে। সূত্র: বিবিসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লিভার সিরোসিস ঝুঁকিতে আছেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৬:৫৯ এম


লিভার সিরোসিস ঝুঁকিতে আছেন? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়

অতিরিক্ত মদপানের কারণে লিভারের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি অনেকেই জানেন। তবে মদপানের পাশাপাশি, আমাদের দৈনন্দিন ভুল জীবনযাপন, রক্তে চর্বি বা শর্করার আধিক্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণও লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চূড়ান্ত ও বিপজ্জনক পর্যায়কে ‘লিভার সিরোসিস’ বলা হয়।

লিভার সিরোসিসের সহজ ব্যাখ্যা, এর লক্ষণ, কারণ এবং নিজেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়—এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা যাক।

লিভার সিরোসিস কী?

যখন লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ঘা বা প্রদাহের ফলে এর সুস্থ ও স্বাভাবিক টিস্যুগুলো শক্ত স্কার (ক্ষতচিহ্ন বা দাগ) টিস্যুতে পরিণত হয়, তখন তাকে সিরোসিস বলা হয়।

যখন শক্ত দাগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন লিভার তার স্বাভাবিক কার্যক্রম—যেমন রক্ত পরিশোধন, খাবার হজমে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন—বন্ধ করে দেয়।

সিরোসিসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় (এটি রিভার্স করা সম্ভব নয়), তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এই ক্ষতি থামানো যেতে পারে।

সিরোসিসের প্রধান দুটি ধাপ

১. কমপেনসেটেড সিরোসিস (প্রাথমিক ধাপ): এই পর্যায়ে লিভারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাকি সুস্থ অংশটি শরীরের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। ফলে শরীরে সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না।

২. ডিকম্পেনসেটেড সিরোসিস (উন্নত ধাপ): যখন লিভারের কার্যক্ষমতা একেবারে কমে যায়, তখন শরীরে বিভিন্ন জটিলতা ও লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।

যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেন

প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ বোঝা না গেলেও, লিভারের কার্যক্ষমতা কমার সঙ্গে সঙ্গে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়:

প্রাথমিক লক্ষণ

পরবর্তী মারাত্মক লক্ষণ

কেন হয় এই রোগ?

লিভারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কারণ সিরোসিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:

ম্যাশ: রক্তে উচ্চ চর্বি, অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক সমস্যার কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এই ক্ষতি হতে পারে।

হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস: দীর্ঘদিনের ভাইরাল সংক্রমণের কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

অ্যালকোহল গ্রহণ: দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত মদপানের অভ্যাস থাকলে।

অন্যান্য কারণ: অটোইমিউন রোগ, বংশগত কিছু রোগ কিংবা ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত এবং ভুল ব্যবহারের ফলেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

লিভার সুরক্ষায় জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তনগুলো আনতে হবে (প্রতিরোধ ও প্রতিকার)

যদিও সিরোসিস সম্পূর্ণরূপে ভালো করা যায় না, তবে কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন লিভারকে আরও বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে:

১. মদপান ও ক্ষতিকর ওষুধ বর্জন: লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যালকোহল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।

২. ওজন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

৩. ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করা ও চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে লিভারের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমে।

৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভ্যাকসিন: হেপাটাইটিস ভাইরাসের টিকা নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মাধ্যমে লিভারের যেকোনো সমস্যা শুরুতেই চিহ্নিত করা সম্ভব।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোমল পানীয় পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, বলছে গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ এম


কোমল পানীয় পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়, বলছে গবেষণা

মিষ্টি পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত কোল্ড ড্রিংকস শরীরের জন্য ক্ষতিকর—এ কথা সকলের জানা। ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের ঝুঁকির বিষয়গুলো বহুবার আলোচিত হলেও, এবার নতুন একটি প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে: অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় কি পাকস্থলীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে?

২০২৬ সালে বিখ্যাত চিকিৎসা সাময়িকী ‘গ্যাস্ট্রো হেপ অ্যাডভান্সেস’-এ প্রকাশিত একটি নতুন গবেষণায় চিনিযুক্ত পানীয় এবং কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের সম্পর্কের বিষয়টি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

ভারতের মুম্বাইয়ের ‘এমওসি ক্যানসার কেয়ার’-এর বিশিষ্ট ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. রূপজ্যোতি শর্মা এই গবেষণার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

কী দেখা গেছে গবেষণায়?

ড. রূপজ্যোতি শর্মা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি একটি গবেষণায় ১,১২,২৮৪ জন মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্য দীর্ঘ সময় ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এর মধ্যে ২৭৮ জনের পাকস্থলীর ক্যানসার শনাক্ত হয়।

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, যারা মাসে গড়ে একটির কম চিনিযুক্ত পানীয় পান করতেন, তাদের তুলনায় যারা প্রতিদিন অন্তত একটির বেশি মিষ্টি পানীয় পান করতেন, তাদের মধ্যে পাকস্থলীর ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার হার ছিল ২.৪৫ গুণ বেশি।

শরীরচর্চা, ধূমপান, মদ্যপান বা ডায়াবেটিসের মতো বিষয়গুলো হিসাবের মধ্যে নেওয়ার পরও এই ফলাফলে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তবে ড. রূপজ্যোতি স্পষ্ট করে বলেছেন, এটি একটি পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ গবেষণা। তাই এতে মিষ্টি পানীয়ের সঙ্গে ক্যানসারের একটি সম্পর্ক দেখা গেলেও কোল্ড ড্রিংকস সরাসরি ক্যানসার তৈরি করে—এমন কোনো সরাসরি প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

গবেষণার কিছু সীমাবদ্ধতা

এটি একটি পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধ গবেষণা ছিল। এ ছাড়া এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে:

১. পাকস্থলীর ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ ‘হেলিকোব্যাকটার পাইলোরি’ ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ সম্পর্কিত তথ্য মাত্র অল্প কিছু অংশগ্রহণকারীর ক্ষেত্রে পাওয়া গিয়েছিল।

২. বংশগত ইতিহাস বা টিউমারের সঠিক অবস্থান সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য ছিল না।

৩. গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের সিংহভাগই ছিলেন শ্বেতাঙ্গ মার্কিন নাগরিক। তাই বিশ্বব্যাপী বা বিশেষ করে এশীয়/উপমহাদেশীয় জনগণের ওপর এই তথ্য কতটা প্রযোজ্য, তা সরাসরি বলা সম্ভব নয়।

ক্যানসার ও মিষ্টি পানীয়: মূল ঝুঁকিগুলো কী কী?

ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ড. শর্মার মতে, কেবল মিষ্টি পানীয়কেই ক্যানসারের মূল কারণ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এর পেছনে আরও বেশ কয়েকটি বড় ঝুঁকি কাজ করে:

১. এইচ. পাইলোরি সংক্রমণ: পাকস্থলীর ক্যানসারের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো এইচ. পাইলোরি ব্যাকটেরিয়ার ক্রনিক সংক্রমণ। সময়মতো এর চিকিৎসা করালে ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমে।

২. অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার: অতিরিক্ত লবণযুক্ত ও অস্বাস্থ্যকর উপায়ে সংরক্ষিত খাবার খাওয়া।

৩. অন্যান্য শারীরিক কারণ: বয়স, বংশগত ইতিহাস, অতিরিক্ত ওজন, ধূমপান ও ভুল জীবনযাপন।

‘ডায়েট’ বা কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয় কি নিরাপদ?

আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই গবেষণায় কৃত্রিম মিষ্টিযুক্ত পানীয়ের সঙ্গে পাকস্থলীর ক্যানসারের এমন কোনো সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।

তবে ড. রূপজ্যোতি শর্মা সতর্ক করে জানান, ‘এর মানে এই নয় যে ডায়েট ড্রিংকস ক্যানসার প্রতিরোধ করে। কৃত্রিম মিষ্টি নিয়ে স্বাস্থ্যবিজ্ঞানীদের মতামত এখনো মিশ্র।

‘ওয়ার্ল্ড ক্যানসার রিসার্চ ফান্ড’-এর মতো বৈশ্বিক সংস্থাগুলোর মতে, যেকোনো মিষ্টি পানীয়ের বদলে সবসময় সাধারণ বিশুদ্ধ পানি বা চিনি ছাড়া প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে উত্তম।’

এ ছাড়া কৃত্রিম মিষ্টি ‘অ্যাস্পারটেম’-কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ‘সম্ভাব্য ক্যানসার সৃষ্টিকারী’ বললেও, তা সাধারণ মাত্রায় পান করলে সরাসরি ক্যানসার তৈরি করে—এমন কোনো শক্ত প্রমাণ এখনো নেই।

চিকিৎসকের পরামর্শ

প্রতিদিন চিনিযুক্ত পানীয় খাওয়ার অভ্যাস পরিহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ। কারণ অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয় সরাসরি স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও মেটাবলিক রোগের ঝুঁকি বাড়ায়—যা পরোক্ষভাবে শরীরের সার্বিক ক্যানসার ঝুঁকিকেও বাড়িয়ে দিতে পারে।

তাহলে কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেজজাত জুসের অভ্যাস কমিয়ে দৈনন্দিন জীবনে পানি, ডাবের পানি বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় পানের অভ্যাস গড়ে তোলাই শ্রেয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় সাংবাদিককে না পেয়ে ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে আটক করল পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৭:০৩ এম


খুলনায় সাংবাদিককে না পেয়ে ১৬ বছর বয়সি ছেলেকে আটক করল পুলিশ

খুলনার খানজাহান আলী থানায় দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংবাদপত্র দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেককে খুঁজে না পেয়ে তার ১৬ বছর বয়সি পুত্রকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শহরের গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার বাসা থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়ামকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।

প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই অভিযানটি খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।

সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ তাদের ছেলেকে শারীরিক নির্যাতন করেছে এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। শিশুটি কোনো মামলার আসামি নয়, তবুও তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। থানায় অবস্থানকালে তার বাবার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শিশুটিকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক অভিযোগ করেছেন যে, মাদক ব্যবসায়ী শাবানার নিকটাত্মীয় কসাই আরমান শেখ হঠাৎ করে গফ্ফার ফুড মোড়ে গরু জবাই করে বিক্রি শুরু করে। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে স্থানান্তরের কথা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমিসহ চারজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেন। থানার ওসি কোনো তদন্ত বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই অতিউৎসাহী হয়ে মামলাটি রেকর্ড করেন।

তিনি আরও বলেন, শাবানা নামের একজন স্থানীয় নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাংস বিক্রেতা আরমান ওই নারীর আত্মীয়। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে শাবানা আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ছিল, যার ফলস্বরূপ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু জানান, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের শিশু সন্তানকে আটকের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাবার দায় শিশু নেবে কেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার শিশুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শিশুটি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং পুলিশকে গালাগাল করেছে। তাই তাকে ধরে আনা হয়েছিল। পরে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৬ মাসের প্রবেশন দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।

এদিকে সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং তার শিশু সন্তানকে আটক করে থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%