০৭:০৩ এম
খুলনার খানজাহান আলী থানায় দায়ের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে স্থানীয় সংবাদপত্র দৈনিক প্রবাহের স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল্লাহ তারেককে খুঁজে না পেয়ে তার ১৬ বছর বয়সি পুত্রকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে শহরের গিলাতলা দক্ষিণপাড়ার বাসা থেকে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র মো. সিয়ামকে আটক করে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তাকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই অভিযানটি খানজাহান আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশারের নেতৃত্বে পরিচালিত হয়।
আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের পরিবার অভিযোগ করেছে যে, পুলিশ তাদের ছেলেকে শারীরিক নির্যাতন করেছে এবং তার স্ত্রী ও মেয়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে। শিশুটি কোনো মামলার আসামি নয়, তবুও তাকে থানায় নিয়ে গিয়ে দীর্ঘ সময় আটকে রাখা হয়। থানায় অবস্থানকালে তার বাবার নাম ধরে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করা হয়। এরপর স্থানীয় সাংবাদিকরা বিষয়টি জানার পর প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শিশুটিকে সমাজসেবা কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেক অভিযোগ করেছেন যে, মাদক ব্যবসায়ী শাবানার নিকটাত্মীয় কসাই আরমান শেখ হঠাৎ করে গফ্ফার ফুড মোড়ে গরু জবাই করে বিক্রি শুরু করে। এর ফলে পরিবেশ দূষিত হচ্ছিল। গফ্ফার ফুড মোড় দোকান মালিক সমিতির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে স্থানান্তরের কথা জানালে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমিসহ চারজনের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করেন। থানার ওসি কোনো তদন্ত বা যাচাই-বাছাই ছাড়াই অতিউৎসাহী হয়ে মামলাটি রেকর্ড করেন।
তিনি আরও বলেন, শাবানা নামের একজন স্থানীয় নারী মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। মাংস বিক্রেতা আরমান ওই নারীর আত্মীয়। মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে শাবানা আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত ছিল, যার ফলস্বরূপ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা শিশু সুরক্ষা জোটের সভাপতি শামিমা সুলতানা শিলু জানান, সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের শিশু সন্তানকে আটকের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বাবার দায় শিশু নেবে কেন? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড
খানজাহান আলী থানার ওসি আবুল বাশার শিশুকে থানায় নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বলেন, শিশুটি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং পুলিশকে গালাগাল করেছে। তাই তাকে ধরে আনা হয়েছিল। পরে তাকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের জেলা প্রবেশন কার্যালয়ের মাধ্যমে ৬ মাসের প্রবেশন দিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়।
এদিকে সাংবাদিক সাইফুল্লাহ তারেকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা এবং তার শিশু সন্তানকে আটক করে থানায় দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন