০৬:৫৯ এম
অতিরিক্ত মদপানের কারণে লিভারের ক্ষতি হওয়ার বিষয়টি অনেকেই জানেন। তবে মদপানের পাশাপাশি, আমাদের দৈনন্দিন ভুল জীবনযাপন, রক্তে চর্বি বা শর্করার আধিক্য এবং ভাইরাসের সংক্রমণও লিভারের মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির চূড়ান্ত ও বিপজ্জনক পর্যায়কে ‘লিভার সিরোসিস’ বলা হয়।
লিভার সিরোসিসের সহজ ব্যাখ্যা, এর লক্ষণ, কারণ এবং নিজেকে কীভাবে সুরক্ষিত রাখা যায়—এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা যাক।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, নাগরদোলায় চড়ার সুযোগ নেই
লিভার সিরোসিস কী?
যখন লিভারের দীর্ঘমেয়াদি ঘা বা প্রদাহের ফলে এর সুস্থ ও স্বাভাবিক টিস্যুগুলো শক্ত স্কার (ক্ষতচিহ্ন বা দাগ) টিস্যুতে পরিণত হয়, তখন তাকে সিরোসিস বলা হয়।
যখন শক্ত দাগের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন লিভার তার স্বাভাবিক কার্যক্রম—যেমন রক্ত পরিশোধন, খাবার হজমে সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় প্রোটিন উৎপাদন—বন্ধ করে দেয়।
সিরোসিসের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যুকে পূর্বাবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয় (এটি রিভার্স করা সম্ভব নয়), তবে সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করলে এই ক্ষতি থামানো যেতে পারে।
আরও পড়ুন: উৎসবে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে
সিরোসিসের প্রধান দুটি ধাপ
১. কমপেনসেটেড সিরোসিস (প্রাথমিক ধাপ): এই পর্যায়ে লিভারের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বাকি সুস্থ অংশটি শরীরের কার্যক্রম চালিয়ে যায়। ফলে শরীরে সাধারণত কোনো স্পষ্ট উপসর্গ দেখা যায় না।
২. ডিকম্পেনসেটেড সিরোসিস (উন্নত ধাপ): যখন লিভারের কার্যক্ষমতা একেবারে কমে যায়, তখন শরীরে বিভিন্ন জটিলতা ও লক্ষণ প্রকাশ পেতে শুরু করে।
যে লক্ষণগুলো খেয়াল রাখবেন
আরও পড়ুন: দাঁড়িয়ে কাজ করলে হাঁটু ও কোমরে ব্যথার ঝুঁকি
প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণ বোঝা না গেলেও, লিভারের কার্যক্ষমতা কমার সঙ্গে সঙ্গে যে লক্ষণগুলো দেখা দেয়:
প্রাথমিক লক্ষণ
পরবর্তী মারাত্মক লক্ষণ
কেন হয় এই রোগ?
আরও পড়ুন: রাতে ঘুম না আসলে ক্যামোমাইল চা পান করুন
লিভারে দীর্ঘমেয়াদি প্রদাহ বা অ্যালার্জি সৃষ্টি করে এমন যেকোনো কারণ সিরোসিসের দিকে নিয়ে যেতে পারে। এর মধ্যে প্রধান কারণগুলো হলো:
ম্যাশ: রক্তে উচ্চ চর্বি, অতিরিক্ত ওজন এবং ডায়াবেটিসের মতো মেটাবলিক সমস্যার কারণে লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমে এই ক্ষতি হতে পারে।
হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস: দীর্ঘদিনের ভাইরাল সংক্রমণের কারণে লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অ্যালকোহল গ্রহণ: দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত মদপানের অভ্যাস থাকলে।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশের পূজায় চমকে গেলেন ময়ূখ, চট্টগ্রামের জন্য আলাদা পুরস্কার চাইলেন
অন্যান্য কারণ: অটোইমিউন রোগ, বংশগত কিছু রোগ কিংবা ব্যথানাশক ওষুধের অতিরিক্ত এবং ভুল ব্যবহারের ফলেও লিভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
লিভার সুরক্ষায় জীবনযাত্রায় যে পরিবর্তনগুলো আনতে হবে (প্রতিরোধ ও প্রতিকার)
যদিও সিরোসিস সম্পূর্ণরূপে ভালো করা যায় না, তবে কিছু জীবনযাত্রার পরিবর্তন লিভারকে আরও বড় ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে:
১. মদপান ও ক্ষতিকর ওষুধ বর্জন: লিভারকে সুরক্ষিত রাখতে অ্যালকোহল এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যত্রতত্র ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়া সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
আরও পড়ুন: গাড়িতে বই পড়া বা ফোন দেখলে বমি পায় কেন, জেনে নিন উপায়
২. ওজন ও খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত ওজন কমানো এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।
৩. ডায়াবেটিস ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: রক্তে শর্করা ও চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখলে লিভারের ওপর থেকে বাড়তি চাপ কমে।
৪. নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও ভ্যাকসিন: হেপাটাইটিস ভাইরাসের টিকা নেওয়া এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার মাধ্যমে লিভারের যেকোনো সমস্যা শুরুতেই চিহ্নিত করা সম্ভব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন