ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন অধরা


কালীগঞ্জের ১০ গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন অধরা

স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। বর্ষাকালে কাদাপানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বাড়তি শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এখানে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ নানা ফসলের চাষ হয়। কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করেন কৃষিকাজ ও যাতায়াতের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বর্ষাকালে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে, ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে কাদাপানি না থাকলেও গর্ত, উঁচু-নিচু মাটি ও খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মানুষ। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরও পড়ুন: বিএনপি সরকারকে নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে ভালুকায় বিউটি পার্লার মালিক সাথী আক্তার আটক

স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বাড়ছে। সময়মতো ফসল পরিবহন করতে না পারায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।

কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, মাঠে ফসল ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। রাস্তার কারণে ফসল ঘরে তোলার সময় নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফসল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানান।

কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর। মাঠ থেকে ফসল নিয়ে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমেও গর্তের কারণে সমস্যা হয়। রাস্তা ভালো হলে কৃষিকাজের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছেন। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর রাস্তা পাকা করার কথা শুনছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চান।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ট্রাকচাপায় ৫ মৃত্যুর ঘটনায় আত্মগোপনে থাকা চালক গ্রেপ্তার

স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত আলী জানান, এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় কাদা জমলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে স্থায়ী সমাধান এখনও আসেনি।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। এলাকার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করছেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৭০টি রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ ও পাকাকরণ করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

আরও পড়ুন: প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসের আলোয় ঝলমল রামু

তিনি আরও বলেন, এত দিন রাস্তাটির আইডি না থাকায় পাকাকরণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। আইডি পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। তাছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বরাবর রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে রাস্তাটি পাকা হবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আড়ুয়াশালুয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ও কৃষকেরা।

আরও পড়ুন: পার্বতীপুরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়কে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


পশ্চিম তীরে বন্দুকযুদ্ধে দুই ফিলিস্তিনি নিহত, আহত ছয় ইসরায়েলি সেনা

অধিকৃত পশ্চিম তীরের হেবরন শহরে বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় দুই ফিলিস্তিনির মৃত্যুর খবর দিয়েছে দখলদার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। শুক্রবার, অবৈধ তেলেম বসতির নিকটে রিজার্ভ সেনাদের একটি ব্যাটালিয়নে হামলার পর এই ঘটনা ঘটে।

আলজাজিরা সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিসের মাধ্যমে জানা যায়, এই বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ছয়জন ইসরায়েলি সেনা আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

ইসরায়েলি সূত্রের দাবি, ফিলিস্তিনিরা একটি ইসরায়েলি নম্বরপ্লেটযুক্ত গাড়িতে করে এসে হেবরনের আশপাশে অবস্থিত একটি সামরিক চৌকির কাছে সেনাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, গোলাগুলি প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলেছে। পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দুই ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করে এবং শহরজুড়ে অবরোধ আরোপ করে।

সাম্প্রতিক সময়ে এই অঞ্চলে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী ও সেনাদের সহিংসতা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চলতি জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে।

এদিকে, আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ইসরায়েলের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। এই ঘটনার পর শুক্রবারের নির্বাচনী কর্মসূচি বাতিল করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির অধিকৃত পশ্চিম তীরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেন, ‘অনেক দেরি হওয়ার আগেই আমাদের পদক্ষেপ নিতে হবে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে ভেঙে দিতে হবে, নিরস্ত্র করতে হবে এবং তাদের সন্ত্রাসী অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস করতে হবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪৯ পি.এম


নিউমার্কেটে দোকান দখলচেষ্টার অভিযোগে ছাত্রদলের ৩ নেতার পদ স্থগিত

রাজধানীর নিউমার্কেটে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর, মালামাল লুট এবং দখলচেষ্টার অভিযোগে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের তিন নেতার সাংগঠনিক পদ স্থগিত করেছে কেন্দ্রীয় সংসদ। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) এই ঘটনার প্রেক্ষিতে দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী, তাঁর ছেলে এবং মার্কেটের ব্যবস্থাপককে মারধরের অভিযোগও উঠেছে।

পদ স্থগিত হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাজেদুল ইসলাম এবং সদস্য শেখ পারভেজ মোশাররফ ও সাগর খান।

আজ শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক (সহসভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁদের পদ স্থগিত করা হয়েছে। সংগঠনটির সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এ সিদ্ধান্তের অনুমোদন দিয়েছেন।

এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে গ্লোব শপিং সেন্টারের একটি দোকানে হামলা, ভাঙচুর এবং মালামাল সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের কয়েকজন নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে। এ সময় দোকানের ভাড়াটিয়া ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম, তাঁর ছেলে এবং মার্কেটের ব্যবস্থাপক জুয়েল রানাকে মারধর ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

আমিনুল ইসলামের অভিযোগ, দোকানটি ভাড়া নিয়ে ব্যবসা শুরুর প্রস্তুতি নেওয়ার পর এক ব্যক্তি এর মালিকানা দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধের কারণে একদল লোক দোকানে ঢুকে ভাঙচুর করে এবং মালামাল বাইরে ফেলে দেয়। এতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছেন। এ ছাড়া তাঁর মানিব্যাগসহ অন্যান্য মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করেছেন এই ব্যবসায়ী।

মার্কেটের ব্যবস্থাপক জুয়েল রানার বক্তব্য অনুযায়ী, দোকানটির মালিকানা নিয়ে বিরোধের কারণে এ ঘটনা ঘটে। এতে মার্কেটের ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এদিকে ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিষয়টি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে অবহিত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হবে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, দোকানটির মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষের বিরোধ রয়েছে এবং এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে মামলা চলমান। বিরোধটি আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, নাগরদোলায় চড়ার সুযোগ নেই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের উইসকনসিনে অদ্ভুত স্থাপত্যের পর্যটনস্থল, নাগরদোলায় চড়ার সুযোগ নেই

যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণের জন্য রয়েছে বিভিন্ন আকর্ষণ, যেমন নিউইয়র্কের টাইমস স্কোয়ার ও স্ট্যাচু অব লিবার্টি এবং সান ফ্রান্সিসকোর গোল্ডেন গেট ব্রিজ। এর বাইরে একটি বিশেষ পর্যটনস্থল রয়েছে, যেখানে বিশাল নাগরদোলা, অদ্ভুত স্থাপনা এবং বিচিত্র সংগ্রহ রয়েছে। তবে, এখানে নাগরদোলাটি দেখা গেলেও তাতে চড়ার সুযোগ নেই।

এই স্থানটি উইসকনসিন অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত ‘হাউস অন দ্য রক’ নামে পরিচিত। যারা সাধারণ পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে কিছু ব্যতিক্রমী দেখতে চান, তাদের জন্য এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য। কনটেন্ট নির্মাতা খাইলের একটি ভিডিওতে এই কমপ্লেক্সের বিচিত্র আয়োজন তুলে ধরা হয়েছে। তার মতে, এর মতো অভিজ্ঞতা অন্য কোথাও পাওয়া কঠিন।

কেন এত অদ্ভুত ‘হাউস অন দ্য রক’? খাইল নিজের পোস্টে ‘হাউস অন দ্য রক’-কে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম উদ্ভট পর্যটনস্থল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মন্তব্যের পেছনে রয়েছে জায়গাটির প্রতি মুগ্ধতা। তার দৃষ্টিতে, এখানে কিছু প্রদর্শনী অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দেয়, আবার কিছু দেখে মনে হয় যেন অদ্ভুত কোনো স্বপ্নের জগতে চলে এসেছেন। অ্যালেক্স জর্ডান ১৯৬০ সালে এই বাড়িটি নির্মাণ করেন।

কমপ্লেক্সটির অন্যতম আলোচিত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম ইনডোর নাগরদোলা। এতে ২৬৯টি পশুর অবয়ব, ২০ হাজার আলো এবং ১৮২টি ঝাড়বাতি রয়েছে। বিশাল এই আয়োজন দেখলে যে কারো চোখ আটকে যেতে পারে। তবে, নাগরদোলাটি অন্যান্য নাগরদোলার মতো নয়। এখানে চড়ার অনুমতি নেই কোনো পর্যটকের। দূর থেকে এর বিশালত্ব ও সাজসজ্জা দেখেই সন্তুষ্ট থাকতে হয়।

এখানকার আরেকটি উল্লেখযোগ্য স্থাপনা ‘ইনফিনিটি রুম’। এই অংশটি দীর্ঘ, অনুভূমিক শিখরের মতো দেখতে, যা উইসকনসিনের উপত্যকার ওপর দিয়ে প্রায় ২০০ ফুট প্রসারিত হয়েছে। এর নকশা ও অবস্থান দর্শকদের জন্য ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা তৈরি করে।

এক ঘরে বিশাল নাগরদোলা, অন্য ঘরে স্বয়ংক্রিয় বাদ্যযন্ত্রের দল। যন্ত্রগুলি নিজে থেকেই বাজতে থাকে। কোথাও আবার মাথার ওপর ঝুলতে দেখা যায় বিশাল এক সামুদ্রিক প্রাণীর অবয়ব। একের পর এক ঘর ঘুরে দেখলে বোঝা যায়, প্রতিটি অংশের সাজসজ্জা ও প্রদর্শনীর ধরন আলাদা। ফলে পুরো কমপ্লেক্স ঘুরে দেখার সময় একঘেয়ে হওয়ার সুযোগ কম।

এখানে ক্ষুদ্রাকৃতির পুতুলবাড়ির বিশাল সংগ্রহ রয়েছে। এসব বাড়ির নকশায় ঔপনিবেশিক আমল থেকে ভিক্টোরীয় যুগের স্থাপত্যশৈলীর নমুনা দেখা যায়। এ ছাড়া এখানে ২০০টিরও বেশি জাহাজের মডেল, আগ্নেয়াস্ত্র, গয়না এবং নানা ধরনের ব্যতিক্রমী সামগ্রীও প্রদর্শিত হয়।

খাইল জায়গাটিকে ‘ভৌতিক’ ও ‘সুন্দর’ দুইভাবেই বর্ণনা করেছেন। তার মতে, অদ্ভুত স্থাপনা ও অপ্রচলিত সংগ্রহ দেখতে যারা পছন্দ করেন, তাদের কাছে ‘হাউস অন দ্য রক’ ভালো লাগবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচিত পর্যটনকেন্দ্রের বাইরে অন্য রকম কিছু দেখতে চাইলে জায়গাটি ভ্রমণের পরিকল্পনায় রাখতে পারেন।

কখন যাবেন, কতক্ষণ সময় রাখবেন?

‘হাউস অন দ্য রক’ প্রতি মঙ্গলবার ও বুধবার বন্ধ থাকে। অন্যান্য দিন কমপ্লেক্সটি বিকেল ৫টায় বন্ধ হয়ে যায়। ‘আলটিমেট এক্সপেরিয়েন্স’ ট্যুরের শেষ বুকিংয়ের সময় দুপুর ২টা। এই ট্যুরে ঘুরে দেখতে প্রায় তিন ঘণ্টা লাগে।

কমপ্লেক্সের কয়েকটি অংশ দুপুর ২টার মধ্যেই বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই সব প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পরিকল্পনা থাকলে দিনের শুরুতেই পৌঁছানো ভালো। এতে বিভিন্ন সংগ্রহ ও স্থাপনা দেখার জন্য পর্যাপ্ত সময় পাওয়া যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫০ পি.এম


আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর সোলায়মানের জন্য ৬০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ সাউথখালী গ্রামের ছয় মাস বয়সী বাবাহারা শিশু সোলায়মানের হৃদ্‌পিণ্ডে দুটি ছিদ্র ধরা পড়ার পর তার চিকিৎসার জন্য মায়ের আকুতি নিয়ে আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর দেশ-বিদেশের মানবিক মানুষের সহযোগিতায় তার চিকিৎসার জন্য ৬০ হাজার টাকা সংগ্রহ হয়েছে। চিকিৎসা ইতিমধ্যে শুরু হলেও, এখনো আরও অর্থের প্রয়োজন রয়েছে।

অভাবের সংসারে ভিক্ষা করে সন্তানকে নিয়ে জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া সোলায়মানের মায়ের মুখে ফিরেছে আশার হাসি। সন্তানের চিকিৎসা শুরু হওয়ায় তিনি মানুষের সহায়তার জন্য সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

সোলায়মানের মা বলেন, "মানুষ যেভাবে আমার ছেলের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাতে আমি অনেক খুশি। আল্লাহ সবাইকে ভালো রাখুন। আমার ছেলেটার জন্য সবাই দোয়া করবেন।"

স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষক সোহাগ হাওলাদার এবং তাইজুল ইসলাম জানান, আরটিভিতে সংবাদ প্রকাশের পর দেশ-বিদেশের মানুষ যেভাবে সহযোগিতা করেছেন, তার জন্য আরটিভিসহ সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই।

তবে সোলায়মানের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসার জন্য এখনো আরও অর্থের প্রয়োজন। পরিবারের আশা, মানবিক মানুষের সহযোগিতায় সুস্থ হয়ে উঠবে ছোট্ট সোলায়মান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%