প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্বাধীনতার পর ৫৫ বছর অতিবাহিত হলেও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার নিয়ামতপুর ইউনিয়নের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের মানুষের পাকা রাস্তার স্বপ্ন এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। বছরের পর বছর ধরে আশ্বাস পাওয়া সত্ত্বেও রাস্তার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবে দেখা যাচ্ছে না। বর্ষাকালে কাদাপানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে ভরা রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি গ্রামের হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। কৃষকেরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের উৎপাদিত ফসল মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যেতে বাড়তি শ্রমিক ও পরিবহন খরচ বহন করতে হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের মধ্য দিয়ে যাওয়া কাঁচা রাস্তাটি আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এখানে ধান, গম, মসুর, কলাইসহ নানা ফসলের চাষ হয়। কৃষক, শ্রমিক এবং সাধারণ মানুষ প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করেন কৃষিকাজ ও যাতায়াতের জন্য। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় রাস্তাটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
বর্ষাকালে রাস্তাজুড়ে কাদা ও পানি জমে থাকে, ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়। শুষ্ক মৌসুমে কাদাপানি না থাকলেও গর্ত, উঁচু-নিচু মাটি ও খানাখন্দের কারণে স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। বাইসাইকেল ও মোটরসাইকেল নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন মানুষ। অনেক সময় পায়ে হেঁটে চলতেও দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, ফসল উৎপাদনের পর তা মাঠ থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া তাদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তার বেহাল অবস্থার কারণে কৃষিপণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় ও শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচের পাশাপাশি ফসল ঘরে তোলার ব্যয়ও বাড়ছে। সময়মতো ফসল পরিবহন করতে না পারায় কৃষকেরা আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কায় রয়েছেন।
কৃষক তরিকুল ইসলাম জানান, মাঠে ফসল ফলাতে সার, বীজ, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে অনেক টাকা খরচ করতে হয়। রাস্তার কারণে ফসল ঘরে তোলার সময় নতুন করে দুর্ভোগে পড়তে হয়। রাস্তা ভালো না থাকায় ফসল পরিবহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত রাস্তাটি পাকা করার দাবি জানান।
কৃষক মফিজুল ইসলাম বলেন, বর্ষার সময় রাস্তা দিয়ে চলাচল করা অত্যন্ত কষ্টকর। মাঠ থেকে ফসল নিয়ে বের হওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমেও গর্তের কারণে সমস্যা হয়। রাস্তা ভালো হলে কৃষিকাজের খরচ কমবে, সময় বাঁচবে এবং উৎপাদিত ফসল সহজে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।
কৃষক শহিদুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই রাস্তার দুর্ভোগ সহ্য করছেন। কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, বছরের পর বছর রাস্তা পাকা করার কথা শুনছেন, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হচ্ছে না। তারা আর আশ্বাস নয়, বাস্তব উন্নয়ন দেখতে চান।
স্থানীয় বাসিন্দা মহাব্বত আলী জানান, এই রাস্তা দিয়ে আশপাশের অনেক গ্রামের মানুষ চলাচল করেন। বর্ষায় কাদা জমলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। অসুস্থ মানুষকে নিয়ে যাতায়াত করতেও সমস্যা হয়। জনপ্রতিনিধিরা বিভিন্ন সময় রাস্তা উন্নয়নের আশ্বাস দিয়েছেন, তবে স্থায়ী সমাধান এখনও আসেনি।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, নির্বাচনের আগে রাস্তা সংস্কার ও পাকা করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, কিন্তু নির্বাচনের পর আর কেউ খোঁজ নেন না। এলাকার মানুষ প্রতিদিন কষ্ট করছেন। দ্রুত রাস্তাটি পাকা করা হলে কৃষকসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তা সংস্কার ও পাকাকরণের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। কৃষিকাজ, পণ্য পরিবহন ও দৈনন্দিন চলাচলে দুর্ভোগ তাদের নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে। তারা রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার ও টেকসইভাবে পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব ও আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নিয়ামতপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাহবুবুর রহমান মিলন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় তিনি ইউনিয়নের ছোট-বড় প্রায় ৭০টি রাস্তা সংস্কার, নির্মাণ ও পাকাকরণ করেছেন। ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দারাও তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। রাস্তাটির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত নাজুক এবং এটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এত দিন রাস্তাটির আইডি না থাকায় পাকাকরণের কাজ করা সম্ভব হয়নি। আইডি পাওয়ার জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কার্যালয়ে আবেদন করেছেন তিনি। তাছাড়া ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় বরাবর রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তিনি আশা করছেন, দ্রুত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, উপজেলার যেসব রাস্তার এখনো আইডি হয়নি, সেগুলোর আইডি করার জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আড়ুয়াশালুয়া গ্রামের রাস্তাটির আইডি করার জন্যও আবেদন করা হয়েছে। রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়েও আবেদন করা হয়েছে। আইডি সম্পন্ন হলে দরপত্রের মাধ্যমে পাকাকরণের কাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে কবে রাস্তাটি পাকা হবে, এখন সেই অপেক্ষায় রয়েছেন আড়ুয়াশালুয়াসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ ও কৃষকেরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন