ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আশিক চৌধুরী একীভূত বিনিয়োগ কাঠামোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন


আশিক চৌধুরী একীভূত বিনিয়োগ কাঠামোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন

দোহা, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ : ইনভেস্ট বাংলাদেশ অথরিটির চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী আন্তর্জাতিক পুঁজি আকর্ষণের লক্ষ্যে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক খাতে বিনিয়োগ প্রচার কার্যক্রমকে সুবিন্যস্ত করা, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার করা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘জ্বালানি খাতে রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করতে বিনিয়োগ সহায়ক অবকাঠামো শক্তিশালী করা এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের চাহিদার সঙ্গে জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারের সামঞ্জস্য বজায় রেখে কাজ করছে বাংলাদেশ।’

কাতারের দোহায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম (ডব্লিউআইএফ) ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘গ্লোবাল ইনভেস্টমেন্ট প্রমোশন কনফারেন্স’-এ এক মন্ত্রীপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় অংশ নিয়ে আজ আশিক চৌধুরী এসব মন্তব্য করেন।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ

‘জলবায়ু অগ্রাধিকার থেকে বিনিয়োগ : জ্বালানি রূপান্তর প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি ত্বরান্বিতকরণ’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনায় মূলত দেশগুলো কীভাবে তাদের জলবায়ু সংক্রান্ত অঙ্গীকার এবং জ্বালানি খাতের অগ্রাধিকারগুলোকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়ার উপযোগী ও বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর প্রকল্পে রূপান্তর করতে পারে-তা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

আশিক চৌধুরী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিনিয়োগ উন্নয়ন কৌশলে সরকারি সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিনিয়োগকারীদের যোগাযোগ সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যে একটি একক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর অধীনে বিনিয়োগ সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থাকে একই ছাতার নিচে আনাকে একটি চ্যালেঞ্জিং প্রশাসনিক কাজ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং সামগ্রিক বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজ করতে সংস্থাসমূহের মধ্যকার বিচ্ছিন্নতা বা প্রাতিষ্ঠানিক ভিন্নতা দূর করা অপরিহার্য।

তিনি জানান, এই উদ্যোগের ফলে বিনিয়োগ উন্নয়ন, নীতি গবেষণা, শিল্পভিত্তিক জমির উন্নয়ন এবং লেনদেন কাঠামোর মধ্যে সমন্বয় সুদৃঢ় হবে; যা বিনিয়োগকারীদের প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রক্রিয়াটিকে আরও দক্ষ ও সহজভাবে সম্পন্ন করতে সহায়তা করবে।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি

তিনি উল্লেখ করেন যে, উন্নত প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়ের মাধ্যমে বিশেষ করে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতে জমি প্রাপ্তি, নিয়ন্ত্রণমূলক আইনি প্রক্রিয়া এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক প্রকল্প প্রস্তুতির দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জগুলো সমাধান করা সম্ভব হবে।

ক্লিন এনার্জি খাতে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের লক্ষ্য হলো বাণিজ্যিক আকারের সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্প খাতের জন্য নবায়নযোগ্য শক্তি প্রকল্প এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও গ্রিড অবকাঠামো জোরদারকরণে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা।

তিনি আরও যোগ করেন, এসব ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণে অর্থায়নযোগ্য প্রকল্প তৈরি, উপযুক্ত জমির নিশ্চয়তা বিধান এবং সুনির্দিষ্ট ও অনুমেয় নীতি-কাঠামো প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।

আশিক চৌধুরী জানান, এই সমন্বিত বিনিয়োগ উন্নয়ন কাঠামো আন্তর্জাতিক তহবিল ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যেমন লাভজনক প্রকল্পগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত করবে, তেমনি সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যকার সমন্বয়কেও দৃশ্যমানভাবে উন্নত করবে।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স প্রবাহ বছরে ১৩.৩% বেড়ে ২৫৪ কোটি ৩০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে

জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থা (আঙ্কটাড) আয়োজিত ওয়ার্ল্ড ইনভেস্টমেন্ট ফোরামে বিশ্বজুড়ে নীতি-নির্ধারক, ব্যবসায়ী নেতা এবং বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা একত্রিত হয়ে বৈশ্বিক বিনিয়োগ পরিস্থিতি, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

বাংলাদেশকে প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগের (এফডিআই) অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে আগামী সোমবার আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের সামনে দেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা ও সুবিধাগুলো তুলে ধরবে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’।

এই ফোরামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ দেখিয়ে দিতে চায় যে, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, উন্নত প্রকল্প প্রস্তুতকরণ এবং জোরালো কাঠামোগত সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে আন্তর্জাতিক মূলধন সচল রাখা এবং ক্লিন এনার্জির দিকে দেশের রূপান্তরকে ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংকিং সেবা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪২ পি.এম


মেঘনা নদীতে নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব

ভোলার লালমোহনে প্রশাসনের নাকের ডগায় বসে মেঘনা নদীতে চলছে মা ইলিশ নিধনের মহোৎসব, যা সরকারের নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল। দিন কিংবা রাত, কোনো বিরতি ছাড়াই অবাধে শিকার করা হচ্ছে ডিমওয়ালা মা ইলিশ। এসব ইলিশ প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে উপজেলার চতলা, জনতা বাজার, লর্ড হার্ডিঞ্জ ও রায়চাঁদ বাজারসহ বিভিন্ন হাট বাজার, রাস্তার মোড়ে এবং বাত্তির খাল, গাইট্রার খাল ও কাটির মাথা নামক মাছ ঘাটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অসাধু জেলে ও ব্যবসায়ীরা কোনো রকম ভয়ভীতি ছাড়াই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।

ইলিশের প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় সরকার চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের মা ইলিশ রক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে ০৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত ২২ দিন নদী ও সাগরের নিদিষ্ট স্থানে সব ধরনের মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তবে, লালমোহনের মেঘনা নদীর পয়েন্টগুলোতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

দিন-রাত ২৪ ঘণ্টায় মেঘনা নদীতে শত শত ট্রলার ও নৌকা নিয়ে অসাধু জেলেরা ডিমওয়ালা মা ইলিশ শিকার করছে। নদী থেকে ধরে আনা মা ইলিশ লুকোচুরি করে বা সরাসরি বা প্রকাশ্যে বেচাকেনা করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালী অসাধু মৎস্য ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট ঘাটগুলোতে কেনাবেচা ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করছে। সচেতন মহল জানাচ্ছে, এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন অব্যাহত থাকলে দেশের জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন চরম হুমকির মুখে পড়বে।

মা ইলিশ রক্ষায় ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের মেঘনা নদীর মাছ ঘাট বাতির খাল, কাঠির মাথা, গাইট্রা, লর্ড হার্ডিঞ্জ ইউনিয়নের গাইট্রার খাল এলাকার শাখাওয়াত মাঝির নেতৃত্বে রাত দিন মা ইলিশ নিধন চলছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়। এদিকে বুড়ির দোন, সর্দারের খাল, চোরা খাল ও বেতুয়া স্লুইসগেট মাছ ঘাটে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের সমন্বয়ে দিন ও রাতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করার নিয়ম থাকলেও তা চোখে পড়ছে না। মা ইলিশ নিধন সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

যদি উপজেলা মৎস্য অফিস বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি না থাকে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে নির্ধারিত পদক্ষেপ বা ইলিশের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়বে এবং ভেস্তে যাবে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা, এমনই ধারণা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ আলী আহমদ আকন্দ বলেন, "আমার সামর্থ্য অনুযায়ী আমি চেষ্টা করছি, একদিকে জনবল সংকট অন্যদিকে আমাদের নিজস্ব যানবাহন নেই এবং সীমিত বরাদ্দ, এবং দায়িত্বতো আমার একার নয়।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসের আলোয় ঝলমল রামু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ পি.এম


প্রবারণা পূর্ণিমায় ফানুসের আলোয় ঝলমল রামু

কক্সবাজারের রামুতে প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি বর্ণিল ফানুস উৎসব। রবিবার (২৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে রামুর আকাশ রঙিন ফানুসে ছেয়ে যায়। ফানুসের আলোয় চারপাশ আলোকিত হয়ে ওঠে। উৎসবের আয়োজনের মধ্যে শান্তি, মানবতা, সম্প্রীতি ও কল্যাণের বার্তা উঠে আসে।

জেলার অন্যতম বৃহৎ ফানুস উৎসব অনুষ্ঠিত হয় রামুর কেন্দ্রীয় সীমা মহাবিহার ও সাদা চিংয়ের সামনের মাঠে। সন্ধ্যা নামতেই বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা নানা রঙের ফানুস নিয়ে সমবেত হন। একে একে অসংখ্য ফানুস আকাশে ওড়ানো হয়। কিছু ফানুসে বুদ্ধের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়। কোথাও গৌতম বুদ্ধের জীবনদর্শন ফুটে ওঠে, কোথাও লেখা থাকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বিশ্বশান্তির বার্তা।

সীমা মহাবিহার থেকে ওড়ানো বিশেষ কিছু ফানুসে চিত্রায়িত হয় গৌতম বুদ্ধের জীবনের বিভিন্ন অধ্যায়। সিদ্ধার্থের নগর ভ্রমণ, চারি নিমিত্ত দর্শন, গৃহত্যাগ, কেশরাশি ত্যাগ, কঠোর তপস্যা ও বোধিলাভের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয় এসব ফানুসে।

কিছু ফানুসে লেখা ছিল ‘সাম্প্রদায়িকতা দূর হোক, সম্প্রীতি বেঁচে থাক’, ‘ফানুসের আলোয় আমাদের ভেতরের অন্ধকার দূর হোক’ এবং ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’। এসব বার্তার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানানো হয়। কয়েকটি ফানুসে রামু সীমা মহাবিহারের প্রয়াত অধ্যক্ষ পণ্ডিত সত্যপ্রিয় মহাথেরের প্রতিকৃতিও স্থান পায়।

রামু সীমা মহাবিহারের সহকারী পরিচালক ও কক্সবাজার জেলা বৌদ্ধ সুরক্ষা পরিষদের সভাপতি প্রজ্ঞানন্দ মহাথের বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি দিন। আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাসের বর্ষাবাস শেষে এদিন ভিক্ষুরা আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে নতুন প্রতিজ্ঞায় ব্রতী হন। এটি সংযম, পরিশুদ্ধতা ও কল্যাণের উৎসব।’

তিনি আরো বলেন, ‘ফানুস ওড়ানো প্রবারণা পূর্ণিমার অন্যতম অনুষঙ্গ। বৌদ্ধ বিশ্বাস অনুযায়ী, ফানুসের আলো অন্ধকার দূর করে শান্তি, কল্যাণ ও আলোকিত জীবনের প্রতীক। ফানুস উড়িয়ে মানুষ নিজের, সমাজের ও বিশ্বের মঙ্গল কামনা করেন।’

বর্ষাবাস শেষে ধর্মীয় উৎসব

প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে সকাল থেকেই রামুর বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়। বুদ্ধপূজা, অষ্টশীল গ্রহণ, মহাসংঘদান ও ধর্মসভার আয়োজন করা হয়। রামুর ঐতিহাসিক রাংকূট বনাশ্রম বৌদ্ধবিহার, মৈত্রী বৌদ্ধবিহার, কক্সবাজার শহরের অগ্গমেধা বৌদ্ধবিহারসহ টেকনাফ, উখিয়া, মহেশখালী, চকরিয়া ও কক্সবাজার সদর উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধবিহারে উৎসবটি উদ্‌যাপিত হয়।

পূর্বরাজারকুলের সমাজকর্মী রতন বড়ুয়া বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা আত্মশুদ্ধি, সংযম ও কল্যাণের বার্তা বহন করে। বর্ষাবাস শেষে এ উৎসব উপলক্ষে রামুতে ফানুস উত্তোলন ও জাহাজ ভাসানোর আয়োজন করা হয়। ধর্মীয় ঐতিহ্যের পাশাপাশি এসব আয়োজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও রামুর সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।’

রামুর সাংবাদিক ও কেন্দ্রীয় প্রবারণা ও জাহাজ ভাসা উৎসব উদ্‌যাপন পরিষদের প্রধান সমন্বয়কারী অর্পন বড়ুয়া বলেন, ‘সম্প্রীতির জাহাজে, ফানুসের আলোয় দূর হোক সাম্প্রদায়িক অন্ধকার। প্রবারণা মানে শান্তি, সহমর্মিতা ও মানবতার জয়গান। পৃথিবীর সব যুদ্ধ, নিপীড়ন ও অন্যায়ের অবসান হোক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

বাঁকখালী নদীতে ভাসবে কল্পজাহাজ

প্রবারণা পূর্ণিমার আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে রামুর বাঁকখালী নদীতে ঐতিহ্যবাহী কল্পজাহাজ ভাসানোর উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ আয়োজন ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘প্রবারণা পূর্ণিমা শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা দেয়। রামু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য জনপদ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেমিশে উৎসব উদ্‌যাপন করুক এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, ‘কক্সবাজার সম্প্রীতি ও মৈত্রীর শহর। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মানুষ মিলেমিশে বসবাস করেন এবং একে অপরের ধর্মীয় উৎসবে অংশ নেন। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে আয়োজিত ফানুস উৎসবও সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের অনন্য দৃষ্টান্ত। সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় উৎসব নির্বিঘ্নে উদ্‌যাপন নিশ্চিত করতে সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছে।’

ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, বর্ণিল ফানুস আর কল্পজাহাজ ভাসানোর মধ্য দিয়ে রামুতে প্রবারণা পূর্ণিমা কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও মানবিক মূল্যবোধের বার্তাও ছড়িয়ে দিচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবি অধ্যাপক ড. শামীমা পিএসসির সদস্য নিযুক্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৩ পি.এম


জাবি অধ্যাপক ড. শামীমা পিএসসির সদস্য নিযুক্ত

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার (২৫ অক্টোবর) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব আল বশিরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের তথ্য প্রকাশিত হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের ১৩৮(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানাকে পিএসসির সদস্য পদে নিয়োগ করেছেন। তবে, এই নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, তাকে কোনো পেশা বা ব্যবসা, সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও চাকরিসংক্রান্ত সম্পর্ক ছিন্ন করতে হবে।

এছাড়াও, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের তারিখ থেকে পাঁচ বছর অথবা ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে যেটি আগে ঘটবে, সেটিই হবে তার দায়িত্ব পালনের শেষ সময়।

নিয়োগ সম্পর্কে অধ্যাপক ড. শামীমা সুলতানা মন্তব্য করেছেন, "সরকার আমার ওপর আস্থা রেখে যে দায়িত্ব দিয়েছে, তা সততার সঙ্গে পালনের চেষ্টা করব।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শেষ উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে পাকিস্তানকে জয় উপহার দিলো শাদাব খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৪৪ পি.এম


শেষ উইকেটে বিশ্বরেকর্ড গড়ে পাকিস্তানকে জয় উপহার দিলো শাদাব খান

ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে একটি অসাধ্যকে সাধন করে পাকিস্তান নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করেছে। দলের নেতৃত্ব নিয়ে শাদাব খানের প্রথম সেঞ্চুরি এবং শেষ উইকেটে হারিস রউফের সঙ্গে গড়া অবিশ্বাস্য জুটির মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে একটি রুদ্ধশ্বাস জয় নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। এই জুটির ফলে দশম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ডও গড়েছে তারা।

রোববার (১৪ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান বিপর্যয়ে পড়ে। স্কোরবোর্ডে ১৫৪ রান তুলতেই তারা ৯ উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের কিনারায় চলে যায়। তখন জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৮৮ রান।

তবে শেষ উইকেটে শাদাব খান ও হারিস রউফ ম্যাচের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বদলে দেন। এই দুজন অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি গড়ে ৪৭.১ ওভারে দলের জয় নিশ্চিত করেন। চলতি ত্রিদেশীয় টুর্নামেন্টে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে এটি পাকিস্তানের দ্বিতীয় জয়।

৯৬ বল মোকাবেলায় ১৩টি চার ও ৫টি ছক্কার সাহায্যে শাদাব খান ১১৩ রানের দুর্দান্ত এক অপরাজিত ইনিংস খেলেন। অপরদিকে, শেষ ব্যাটার হিসেবে হারিস রউফ ৭ রানে অপরাজিত থাকেন।

এটি ওয়ানডে ইতিহাসে দশম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটির নতুন বিশ্বরেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। শাদাব ও হারিস পেছনে ফেলেছেন ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপে গড়া ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটির রেকর্ড। সেই সময় বার্মিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষে এই কীর্তি গড়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ডেরিক মারে ও অ্যান্ডি রবার্টস। প্রায় পাঁচ দশক পর সেই রেকর্ড নিজেদের করে নিলেন শাদাব ও হারিস।

এর আগে ব্যাটিংয়ে নেমে ইংল্যান্ড ২৪১ রানের সংগ্রহ দাঁড় করিয়েছিল বেন ডাকেটের সেঞ্চুরিতে (১০৫ রান)। তবে শাদাব ও হারিসের রূপকথার ইনিংসের মাধ্যমে লাহোরে পাকিস্তানের এই জয় ক্রিকেট ইতিহাসে একটি স্মরণীয় প্রত্যাবর্তনের গল্প হয়ে রইল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%