মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:১১ এম
ভালোবাসার মানুষটি হয়তো প্রতিদিনই বলেন, ‘আমি তোমাকে ভালোবাসি।’ কিন্তু কখনো কি মনে হয়েছে, কথাটি শুনেও মনের ভেতর কোথাও একটা শূন্যতা রয়ে গেছে? সঙ্গী ভালোবাসেন, অথচ তার আচরণে সেই ভালোবাসার নিশ্চয়তা খুঁজে পাওয়া যায় না। কখনো উত্তর দিতে দেরি করা, কখনো হঠাৎ চুপ হয়ে যাওয়া, আবার কখনো মনোমালিন্যের পর দূরত্ব তৈরি হওয়া— এসব ছোট ঘটনাও সম্পর্কে জন্ম দিতে পারে অনিশ্চয়তা।
সম্পর্কে শুধু ভালোবাসার কথা বলাই যথেষ্ট নয়, সেই ভালোবাসার অনুভূতি সঙ্গীর কাছে পৌঁছে দেওয়াও জরুরি। ভারতের সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পারস্পরিক আশ্বাস সম্পর্ককে নিরাপদ ও স্থিতিশীল অনুভব করতে সাহায্য করে। কঠিন সময়ে সঙ্গীর পাশে থাকার কথা জানানো কিংবা ছোট্ট একটি খোঁজ নেওয়াও সম্পর্কের গভীরতায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
সম্পর্কে মানসিক নিরাপত্তা তৈরি করে
একটি সুস্থ সম্পর্কে দুজন মানুষই চান, তাদের অনুভূতি গুরুত্ব পাক। সঙ্গী যখন ব্যস্ততার মধ্যেও খোঁজ নেন, কোনো কাজের প্রশংসা করেন কিংবা ভালোবাসার কথা মনে করিয়ে দেন, তখন অন্যজন বুঝতে পারেন যে তিনি এই সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ।
তবে শুধু মুখের কথায় নয়, আচরণেও সেই ভালোবাসার প্রতিফলন থাকা জরুরি। কথার সঙ্গে কাজের মিল থাকলে সম্পর্কের প্রতি আস্থা বাড়ে। তখন নিজের অনুভূতি প্রকাশ করা কিংবা দুর্বল মুহূর্তগুলো ভাগ করে নেওয়াও সহজ হয়।
ছোট সন্দেহ বড় সমস্যা হওয়ার আগেই থামায়।
সঙ্গী হঠাৎ মেসেজের উত্তর দিতে দেরি করছেন, স্বাভাবিকের চেয়ে কম কথা বলছেন কিংবা কোনো কারণে চুপচাপ আছেন। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি কি রাগ করেছেন? আগের মতো ভালোবাসেন না? নাকি সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন?
অথচ এর পেছনে থাকতে পারে কাজের চাপ, ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা মানসিক ক্লান্তি। বিষয়টি পরিষ্কার করে জানালে অপ্রয়োজনীয় ভুল-বোঝাবুঝি এড়ানো যায়।
‘আজ খুব ব্যস্ত আছি, তবে তোমার কথা মনে আছে’— এমন একটি ছোট বার্তাও সঙ্গীর মনে স্বস্তি এনে দিতে পারে। অনুমানের ওপর নির্ভর না করে খোলামেলা কথা বলাই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে কার্যকর।
মনোমালিন্যের সময় সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় কমায়।
মতবিরোধ যেকোনো সম্পর্কের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু ঝগড়ার সময় অনেকেই ভয় পান, এই মতবিরোধের কারণে সঙ্গী হয়তো সম্পর্ক ছেড়ে চলে যাবেন। ফলে মূল সমস্যা নিয়ে কথা বলার পরিবর্তে তারা সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
এমন সময়ে আশ্বাস গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সঙ্গীকে বলা যায়, ‘আমাদের মধ্যে সমস্যা হয়েছে, কিন্তু আমি চাই আমরা কথা বলে এর সমাধান করি।’
এ ধরনের কথা দুজনকেই বুঝতে সাহায্য করে, মতের অমিল মানেই ভালোবাসার অবসান নয়। এতে একে অপরকে দোষারোপ না করে সমস্যার সমাধানে মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়।
সঙ্গীকে নিজের গুরুত্ব অনুভব করায়
দীর্ঘদিনের সম্পর্কে অনেক সময় একে অপরের উপস্থিতি এতটাই স্বাভাবিক হয়ে যায় যে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাই কমে আসে। সঙ্গী প্রতিদিন যে পরিশ্রম করছেন, যত্ন নিচ্ছেন কিংবা ছোট ছোট দায়িত্ব পালন করছেন, সেগুলো আর আলাদা করে চোখে পড়ে না।
কিন্তু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে এসব প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। ‘আজ আমার জন্য এত কিছু করেছ, ধন্যবাদ’ কিংবা ‘তুমি পাশে থাকলে আমার ভালো লাগে’— এমন কথাগুলো সঙ্গীকে তার গুরুত্ব উপলব্ধি করতে সাহায্য করে।
ভালোবাসা প্রকাশের জন্য জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী কিংবা বিশেষ কোনো দিনের অপেক্ষা করতে হয় না। প্রতিদিনের ছোট ছোট স্বীকৃতিই সম্পর্ককে প্রাণবন্ত রাখতে পারে।
কঠিন সময়ে দূরত্ব তৈরি হতে দেয় না।
কাজের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব কিংবা ব্যক্তিগত দুশ্চিন্তা— জীবনের নানা পরিস্থিতিতে সঙ্গীকে সময় দেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও দুজনের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়।
এমন সময়ে নিজের পরিস্থিতি খোলাখুলি জানানো এবং সঙ্গীর অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করা গুরুত্বপূর্ণ। সব সময় দীর্ঘ সময় একসঙ্গে কাটানো সম্ভব না হলেও, আন্তরিকভাবে খোঁজ নেওয়া কিংবা কিছুটা সময় কথা বলার মাধ্যমে সম্পর্কের সংযোগ ধরে রাখা যায়।
সঙ্গীকে বোঝানো প্রয়োজন, বর্তমান সময়টা কঠিন হলেও সম্পর্কটি তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। এতে সাময়িক ব্যস্ততা বা দূরত্বকে ভালোবাসার অভাব বলে মনে করার আশঙ্কা কমে।
ভালোবাসার কথা নয়, আচরণেও চাই আশ্বাস
সম্পর্কে আশ্বাস দেওয়ার অর্থ এই নয় যে প্রতিটি সন্দেহের জবাব দিতে হবে কিংবা সব সময় ভালোবাসার প্রমাণ দিতে হবে। বরং এর অর্থ হলো, দুজনের মধ্যে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যেখানে কেউ নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে ভয় পাবেন না।
একটি ‘আমি আছি’, সময়মতো খোঁজ নেওয়া, মনোযোগ দিয়ে কথা শোনা কিংবা ভুল হলে তা স্বীকার করা— এসব ছোট আচরণই ভালোবাসাকে বাস্তব করে তোলে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে ইরানের ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়েছে। যুদ্ধের সময় দেশটির ৭০ থেকে ৮০টি উড়োজাহাজ হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ইরান এয়ারের প্রধান নির্বাহী তাহের আবদোলহাই এই তথ্য প্রকাশ করেন। আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আবদোলহাই উল্লেখ করেন, ইরানের বিমান চলাচল খাতের চাহিদা পূরণের জন্য প্রায় এক হাজার যাত্রীবাহী উড়োজাহাজ প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমানে দেশটির বিমান বহরে ৩০০টির মতো উড়োজাহাজ রয়েছে।
তিনি জানান, যুদ্ধ শুরুর পূর্বে উড়োজাহাজগুলোর মধ্যে ১৩০ থেকে ১৪০টি সচল ছিল। সংঘাত চলাকালে ২০ থেকে ৩০টি উড়োজাহাজ ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইরানের জাতীয় বিমান সংস্থা ইরান এয়ার, যা ‘হোমা’ নামেও পরিচিত, এর প্রধান দাবি করেন, ইসরাইলের হামলায় তাদের উড়োজাহাজ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য কয়েকটি সংস্থার উড়োজাহাজে একটি করে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলেও ইরান এয়ারের একটি উড়োজাহাজ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়েছে বলে তিনি জানান।
আবদোলহাই আরও বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ইরান এয়ারের কার্যক্রম ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এর ফলে সংস্থাটির সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা কমেছে এবং লাভজনক আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলের সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
বিমান সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী জানান, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ সংগ্রহে জটিলতা, আর্থিক সংকট এবং কর্মীসংক্রান্ত নানা সমস্যা তাদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তিনি আরো জানান, ইরান এয়ারে ৯ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছেন। সচল উড়োজাহাজের সংখ্যা কমে যাওয়ায় সংস্থাটির দক্ষতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
ইরান এয়ারকে বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন আবদোলহাই। তিনি মনে করেন, এই জাতীয় বিমান সংস্থা শুধুমাত্র বাণিজ্যিক পরিবহন সেবা প্রদান করে না; বরং দেশটির কৌশলগত জাতীয় স্বার্থ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
অতএব, সংস্থাটির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক লাভের পাশাপাশি জাতীয় স্বার্থকেও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের ফলে ইরানের সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেশটির বিমান চলাচল খাতকে চাপের মধ্যে রেখেছে।
২০১৮ সালে ইরানের সঙ্গে করা পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়ানোর পর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। এর ফলে বোয়িং ও এয়ারবাসের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা ব্যাহত হয়েছে। প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও রক্ষণাবেক্ষণ সেবার অভাবে কিছু উড়োজাহাজ স্থগিত রাখতে হয়েছে, এবং পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বেড়ে গেছে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নওগাঁর পোরশা উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মাঝে ৩৬ টি শাড়ি বিতরণ করেছে পোরশা উপজেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদ পোরশা উপজেলা শাখা। দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।জাতীয় আদিবাসী পরিষদ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের অসহায় ও দরিদ্র নারীদের মধ্যে এসব শাড়ি বিতরণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ১ নম্বর নিতপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার ছয়জন নারীকে শাড়ি দেওয়া হয়।শাড়ি সহায়তা পাওয়া নারীরা হলেন—কাপালির মোড় টিয়াপাড়ার শ্রীমতি অনুবালা, মনোহরপুরের শ্রীমতি শেফালী মারডী, সাঁকো দিঘীর শ্রীমতি গোলাপি পাহান, বিজলী পাড়ার শ্রীমতি ঝারো উড়াও, বিষ্ণপুর, শ্রীমতি মঙ্গলি উড়াও এবং নিতপুর সদরের শ্রীমতি মনসা রানী ঋষি।এ উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গাপূজার আনন্দ সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়ার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতার বার্তা তুলে ধরা হয়েছে।পোরশা উপজেলা জাতীয় আদিবাসী পরিষদের পোরশা উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে বস্ত্র বিতরণ কার্যক্রমে সহযোগিতাকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে সবার আশীর্বাদ ও শুভকামনা কামনা করা হয়।ধর্মীয় উৎসবকে কেন্দ্র করে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে মানবিকতা, সহমর্মিতা ও সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
‘বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার ডিসেম্বরের দ্বিতীয় প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত লক্ষ্যে কালকিনি ও ডাসার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধ। ইনশাআল্লাহ, বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত। জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।’—এমন স্লোগানসংবলিত একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে মাদারীপুরের কালকিনি ও ডাসার উপজেলায় আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) কালকিনি পৌরসভার সাবেক মেয়র এনায়েত হোসেনের ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে পোস্টটি প্রকাশ করা হয়। পোস্টের সঙ্গে যুক্ত ভিডিওতে কালকিনি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক, সাবেক পৌর মেয়র এনায়েত হোসেনসহ কালকিনি ও ডাসার এলাকার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপস্থিত থাকতে দেখা যায়। ভিডিওতে তাঁদের স্লোগান দিতে ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
পোস্টে শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দ্বিতীয়বার প্রত্যাবর্তনের আশাবাদ ব্যক্ত করে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে পোস্টে কোনো তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। একই সঙ্গে ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্যের প্রেক্ষাপট ও প্রত্যাবর্তনসংক্রান্ত দাবির বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্যও পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন। এ অবস্থায় দলটির নেতাকর্মীদের এমন স্লোগানসংবলিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা দেখা দিয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সাবেক মেয়র এনায়েত হোসেন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মীর গোলাম ফারুক কিংবা সংশ্লিষ্ট অন্য নেতাকর্মীদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ : প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অধিকার রক্ষা, মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সরকারি রাজস্ব আহরণে গতিশীলতা আনার লক্ষ্যে ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু নির্দেশনা দিয়েছেন, যাতে সরকারি জলমহাল ব্যবস্থাপনায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হয়।
মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, জলমহাল ইজারা প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না। উন্মুক্ত ও অনলাইনভিত্তিক ইজারা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রকৃত মৎস্যজীবী সমবায় সমিতিগুলোকে সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আজ ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভা কক্ষে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৯২তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, এমপি বলেছেন, প্রান্তিক ও প্রকৃত মৎস্যজীবীরা যাতে কোনো প্রকার বাধা ছাড়া সুবিধা পেতে পারেন, সেদিকে সর্বোচ্চ খেয়াল রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকারি জলমহালগুলোর সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভূমি মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
মন্ত্রী কোনো প্রকার অন্যায় তদবির গ্রহণ না করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সাথে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের সরকারি জলমহাল ইজারা সংক্রান্ত সুপারিশ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভায় উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ২০ একরের বেশি আয়তনের সরকারি জলমহাল ছয় বছরের জন্য ইজারা দেওয়ার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
মৌলভীবাজারের ১১টি, রংপুরের ১টি, সিলেটের ১৯টি ও কুষ্টিয়ার ৩টিসহ সর্বমোট ৪টি জেলার ৩৪টি জলমহালের প্রস্তাব সভায় উপস্থাপন করা হয়।
এছাড়া বরিশালের দুর্গাসাগর দিঘি, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার বিল চুড়ইল জলমহাল, মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়িত নিমগাছি প্রকল্পের ৭৭৯টি পুকুরের মেয়াদ বৃদ্ধি এবং হবিগঞ্জ জেলার বিল সুতী নদী (বদ্ধ) জলমহাল বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়।
উপস্থাপিত প্রস্তাব যাচাই-বাছাই শেষে সভায় ২৫টি জলমহাল ছয় বছর মেয়াদে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, ভূমি মন্ত্রণালয়ের সায়রাত অনুবিভাগের যুগ্মসচিব মোহাম্মদ মফিজুল ইসলামসহ কমিটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া মৌলভীবাজার, সিলেট, রংপুর, বরিশাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসকরা ভার্চুয়ালি সভায় সংযুক্ত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ