মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৭:১১ পি.এম
ঢাকা, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬ : আগামী বৃহস্পতিবার থেকে রাজধানীতে শুরু হতে যাচ্ছে তিন দিনব্যাপী বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। এ বছরের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘এআইনির্ভর পর্যটন, টেকসই গন্তব্য’, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন ও টেকসই পর্যটন উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক এ পর্যটন মেলার ১৪তম আসরটি ২৯ থেকে ৩১ অক্টোবর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টোয়াব) এর আয়োজক।
আজ ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিস্তারিত তুলে ধরেন টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ। তিনি জানান, ‘পর্যটনসেবায় আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সংযোজন, পরিবেশবান্ধব ভ্রমণে উৎসাহ এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশের পর্যটন খাতের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করাই এ মেলার লক্ষ্য।’
এ বছর ২০টিরও বেশি দেশের পর্যটন সংস্থা, এয়ারলাইনস, আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠান এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পের প্রতিনিধিরা এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন। অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনেই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজান।
মোহাম্মদ হানিফ আরও জানান, মেলায় ২০০টিরও বেশি বুথ ও স্টল, ২২০ জনের বেশি প্রদর্শক, ২৫০ জনেরও বেশি উপযুক্ত যোগ্যতাসম্পন্ন ক্রেতা এবং প্রায় আড়াই হাজার দর্শনার্থী অংশ নেবেন। তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনে ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করা হচ্ছে। চারটি বিষয়ভিত্তিক প্রদর্শনীতে ২০০টিরও বেশি এয়ারলাইনস, হোটেল ও ট্যুর অপারেটর অংশগ্রহণ করবে।
আয়োজকরা জানান, দেশি-বিদেশি পর্যটন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরা, বিনিয়োগের সুযোগ অন্বেষণ, বানিজ্যিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ (বিটুবি) প্রতিষ্ঠার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হতে যাচ্ছে এ আয়োজনটি।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, আগের ১৩টি আসর সফলভাবে আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ মেলা ইতোমধ্যে আঞ্চলিক পর্যটন খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘আগের ১৩টি আসরের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ এখন দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে।’
এ মেলার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরার পাশাপাশি বৈশ্বিক পর্যটন ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হবে এবং স্থানীয় উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে মেলার মূল প্রতিপাদ্য হিসেবে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বৈশ্বিক ভ্রমণ ও পর্যটনশিল্পে ডিজিটাল রূপান্তরের ক্রমবর্ধমান গুরুত্ব প্রতিফলিত হয়েছে বলে জানান তিনি।
মেলার আয়োজকরা জানান, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন পর্যটনসেবার মান উন্নয়ন, পর্যটন গন্তব্যের প্রচার এবং ভ্রমণকারীদের সঙ্গে সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর যোগাযোগ আরও কার্যকর করতে সহায়তা করতে সক্ষম।
এছাড়া, টেকসই পর্যটন গন্তব্যের ওপর গুরুত্বারোপের উদ্দেশ্য হলো পরিবেশবান্ধব পর্যটনচর্চায় উৎসাহ দেওয়া এবং বাংলাদেশের পর্যটনসম্পদের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
এ মেলার মাধ্যমে বাংলাদেশের ট্যুর অপারেটরদের আন্তর্জাতিক ক্রেতা, ট্রাভেল এজেন্সি, এয়ারলাইনস এবং আতিথেয়তা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এবারের মেলার টাইটেল স্পন্সর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস এবং এয়ারলাইন পার্টনার হিসেবে অংশ নিচ্ছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ), বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার্স অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এফবিসিসিআই) সার্বিক সহযোগিতায় এ মেলা আয়োজন করা হচ্ছে।
টোয়াব জানায়, স্থানীয় পর্যটন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক অংশীজনদের সংযোগ স্থাপন এবং দেশের বৈচিত্র্যময় পর্যটন আকর্ষণগুলো তুলে ধরার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যটন বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে এ মেলা দারুণ ভূমিকা রাখবে।
এ আয়োজন নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি, উদ্ভাবনে উৎসাহ এবং আরও প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই পর্যটনশিল্প গড়ে তুলতে সহায়তা করবে বলে আশা করে টোয়াব।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, শেখ মুজিবুর রহমানের হাত ধরেই স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও ক্রসফায়ারের ইতিহাস শুরু হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, সিরাজ শিকদারকে হত্যার মাধ্যমে দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল এবং শেখ মুজিবুর রহমান সংসদে দাঁড়িয়ে এই বিষয়ে দম্ভ প্রকাশ করেছিলেন।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলে অনুষ্ঠিত একটি আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের ঐতিহাসিক পল্টন ট্র্যাজেডির শহীদদের স্মরণে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও তাদের পুরো ইতিহাসই হত্যা, সন্ত্রাস ও দমন-পীড়নের ইতিহাস। স্বাধীনতার পর ক্ষমতায় এসে শেখ মুজিবুর রহমান গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করেছিলেন এবং মাত্র চারটি বাদে দেশের সব গণমাধ্যম বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আর স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম ক্রসফায়ারের সংস্কৃতিও চালু করেছিলেন তিনি। সিরাজ শিকদারকে হত্যার পর সংসদে দাঁড়িয়ে দম্ভভরে বলা হয়েছিল—‘কোথায় সিরাজ শিকদার?’ অর্থাৎ বিচারবহির্ভূত হত্যা ও ক্রসফায়ারের যে রক্তমাখা ইতিহাস, তা আওয়ামী লীগের মাধ্যমেই এ দেশে শুরু হয়েছে।’
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরের পল্টন ট্র্যাজেডির স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সেদিন লগি-বৈঠা দিয়ে সাপের মতো পিটিয়ে মানুষ হত্যা করেই ক্ষান্ত হয়নি আওয়ামী সন্ত্রাসীরা, লাশের ওপর উঠে নৃত্য করেছিল। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন বর্বরোচিত ও পৈশাচিক ঘটনা বিরল। আওয়ামী লীগ মূলত কোনো রাজনৈতিক দল নয়; এটি একটি সন্ত্রাসী ও রক্তপিপাসু সংগঠন।’
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে জামায়াতে ইসলামীকে ধ্বংস করতে শীর্ষ নেতাদের বিচারিক প্রক্রিয়ায় হত্যা করা হয়েছে, শত শত নেতাকর্মীকে গুম ও খুন করা হয়েছে এবং দল নিষিদ্ধ করে নিবন্ধন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এত জুলুম-নির্যাতনের পরও জামায়াতকে এ দেশের মাটি ও মানুষের হৃদয় থেকে মুছে ফেলা যায়নি।
বর্তমান সরকারের উদ্দেশে হুঁশিয়ারি দিয়ে এটিএম আজহার বলেন, চব্বিশের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর যারা আবার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চায় কিংবা নব্য ফ্যাসিবাদের স্বপ্ন দেখে, এ দেশের সচেতন জনগণ তাদের সেই ষড়যন্ত্র কখনোই সফল হতে দেবে না। তিনি অবিলম্বে ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরসহ বিগত ১৫ বছরের সব গণহত্যা ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান শ্রমিকের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের পাশাপাশি সব শ্রেণি-পেশার শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকের অধিকার আদায়ের পরিবর্তে কিছু ট্রেড ইউনিয়ন দল বা ব্যক্তিগত স্বার্থকে অধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বলেন, "আমরা বলতে চাই, নেতাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ বা দল নয়, শ্রমিকের স্বার্থই হোক ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রধান লক্ষ্য।" তৈরি পোশাকশিল্প থেকে শুরু করে অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত—সব শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি ও অধিকার নিশ্চিত করতে শ্রমিকবান্ধব ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত ত্রৈমাসিক অঞ্চল দায়িত্বশীল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতির বাস্তবায়ন অনিবার্য’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ বৈঠকে কেন্দ্রীয় ও অঞ্চল পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতারা অংশগ্রহণ করেন। ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক লস্কর মো. তসলিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় সহসভাপতি অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, গোলাম রব্বানী, মাস্টার শফিকুল আলম, কবির আহমদ ও মজিবুর রহমান ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আতিকুর রহমান আরও বলেন, দেশের শ্রমিকদের একটি বড় অংশ এখনো ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে যথাযথ অধিকার থেকে বঞ্চিত। তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের মজুরি নিয়ে আলোচনা হলেও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতসহ বিভিন্ন পেশার শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ ও পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি যথাযথ গুরুত্ব পাচ্ছে না। শ্রমের ধরন, পরিশ্রম ও জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে সব শ্রেণি-পেশার শ্রমিকের জন্য ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করতে হবে।
বৈঠকে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা, ট্রেড ইউনিয়ন কার্যক্রম জোরদার, অঞ্চল ও উপজেলা পর্যায়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শ্রমজীবী মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের। আজ মঙ্গলবার পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ নির্দেশনা প্রদান করেন অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মো. সায়েদুর রহমান।
সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রান্তে ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অতিরিক্ত আইজিপি উল্লেখ করেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের অবস্থান হচ্ছে ‘জিরো টলারেন্স’।
তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি বাড়াতে হবে। তিনি আরও বলেন, দায়িত্ব পালনকালে জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা উচিত।
তিনি ডাকাতি মামলা রেকর্ড ও ঘটনা দ্রুত উদ্ঘাটনের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। এছাড়া ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারক করতে হবে, যাতে বিচারে সাজার হার বৃদ্ধি পায়। অন্যান্য মামলার নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
অতিরিক্ত আইজি আরও বলেন, সমাজে ইতিবাচক ভাবমূর্তিধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে একটি কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।
সম্প্রতি সমাপ্ত দুর্গাপূজা নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে উদযাপিত হওয়ায় মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের আইজিপির পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভায় সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসহ সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। ডাকাতি, দস্যুতা, খুন, ধর্ষণ, পুলিশ আক্রান্ত ও অপহরণ মামলা এবং মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকায় গভীর নলকূপ স্থাপনের সময় ভূগর্ভস্থ গ্যাসের কারণে আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যা ১২ ঘণ্টা পার হলেও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে, এবং তা নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি ফায়ার টিম কাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বাড়িতে গত তিন দিন ধরে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য খননকাজ চলছিল। প্রায় এক হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত খননের একপর্যায়ে মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে হঠাৎ ভূগর্ভ থেকে প্রচণ্ড বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে গ্যাসের সঙ্গে আগুন জ্বলে ওঠে এবং এরপর থেকে আগুন জ্বলতে থাকে।
ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তবে ভূগর্ভ থেকে অব্যাহতভাবে গ্যাস নির্গত হওয়ার কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছেন না। পানি ছিটিয়েও আগুন নেভানো সম্ভব না হওয়ায় মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার পর সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
এদিকে সম্ভাব্য দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাইকিং করে লোকজনকে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড় সামলাতে সংশ্লিষ্টদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন জ্বলে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ সদস্যরাও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার সাইদুল ইসলাম জানান, ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন। সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করছেন।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ