বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৪:১০ পি.এম
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ : রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে ২ হাজার ৮৪০ টি মামলা দায়ের করেছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়, যার ফলে এসব মামলা করা হয়েছে।
আজ ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য প্রকাশ করেন।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ট্রাফিক-রমনা বিভাগে ৯টি বাস, ২টি ট্রাক, ৭টি কাভার্ড ভ্যান, ২৩টি সিএনজি এবং ৬৪টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৫টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-লালবাগ বিভাগে ১০টি বাস, ৯টি ট্রাক, ২০টি সিএনজি এবং ৯১টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৬৯টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগে ২৬টি বাস, ৩টি ট্রাক, ১৩টি কাভার্ডভ্যান, ৮৪টি সিএনজি এবং ৩০২টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫০৪টি মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগে ৩৩টি বাস, ১৯টি ট্রাক, ২১টি কাভার্ডভ্যান, ৩৭টি সিএনজিসহ এবং ৮৭টি মোটরসাইকেলসহ মোট ২৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রাফিক-তেজগাঁও বিভাগে ১৪টি বাস, ২টি ট্রাক, ৬টি কাভার্ডভ্যান, ২৪টি সিএনজি এবং ৮৮টি মোটরসাইকেলসহ মোট ১৮০টি মামলা হয়েছে। ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগে ২০টি বাস, ৪১টি ট্রাক, ৪৫টি কাভার্ডভ্যান, ৩৮টি সিএনজি এবং ১৫৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৪৪৮টি মামলা করা হয়েছে। ট্রাফিক-উত্তরা বিভাগে ৫৪টি বাস, ২৬টি ট্রাক, ৩৫টি কাভার্ডভ্যান, ৫৩টি সিএনজি এবং ২৩৯টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ট্রাফিক-গুলশান বিভাগে ৫৩টি বাস, ৬টি ট্রাক, ২৫টি কাভার্ডভ্যান, ৬৪টি সিএনজি এবং ১৬৫টি মোটরসাইকেলসহ মোট ৫৩২টি মামলা করা হয়েছে।
এছাড়া, অভিযান চলাকালে মোট ৫৭৮টি গাড়ি ডাম্পিং এবং ৩৫৮টি গাড়ি রেকার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর এলাকায় ট্রাফিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে পুলিশ জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে আন্তঃসংযুক্ত ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থা সম্প্রসারণের ফলে বাংলাকিউআরভিত্তিক লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৯০ দিনে বাংলাকিউআর লেনদেনের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ গুণ বেড়ে গেছে এবং লেনদেনের অর্থমূল্য প্রায় ৫ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ১ নভেম্বর থেকে পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন চালু হবে।
বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসাইন খান এই তথ্য প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, বর্তমানে ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) গ্রাহকরা মোবাইল অ্যাপ ব্যবহার করে দেশের প্রায় ৩৯ লাখ মার্চেন্টে বাংলাকিউআর স্ক্যান করে অর্থ পরিশোধের সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২৬ সালের জুনে দৈনিক গড়ে ১ লাখ বাংলাকিউআর পেমেন্ট সম্পন্ন হত, যার অর্থমূল্য ছিল গড়ে ২৮ কোটি টাকার বেশি। বর্তমানে দৈনিক গড়ে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ বাংলাকিউআর পেমেন্ট হচ্ছে, যার অর্থমূল্য প্রায় ১৪৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের উদ্যোগে দেশীয় বাংলাকিউআরের মাধ্যমে লেনদেন সম্প্রসারণে ১ জুলাই থেকে সব ধরনের প্রোপ্রাইটারি কিউআরের স্থলে বাংলাকিউআর প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি বাংলাকিউআর লেনদেনের পারফরম্যান্স, প্রচার ও মূল্য নির্ধারণে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া, আগামী ১ অক্টোবর থেকে বাংলাকিউআরভিত্তিক পেমেন্ট গ্রহণে মার্চেন্টদের উৎসাহিত করতে সংশ্লিষ্ট মার্চেন্ট হিসাবে অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করা হবে। একই সময় থেকে বাংলাকিউআর পেমেন্টে অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) সর্বোচ্চ ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ইস্যুকারী প্রতিষ্ঠানের ইন্টারচেঞ্জ রিইমবার্সমেন্ট ফি (আইআরএফ) শূন্য করা হয়েছে। এর ফলে বাজার পর্যায়ে বাংলাকিউআর পেমেন্টের খরচ কমবে।
এদিকে, সেপ্টেম্বর মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে গড় লেনদেনের পরিমাণ বেড়ে ৪ হাজার ১০১ টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা জুনে ছিল ২ হাজার ৮০০ টাকা।
আরিফ হোসাইন খান জানান, আগামী ১ নভেম্বর থেকে বাংলাকিউআর কোডভিত্তিক পারসন-টু-পারসন (পিটুপি) লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে একজন গ্রাহক অন্য গ্রাহকের বাংলাকিউআর স্ক্যান করে অথবা সংশ্লিষ্ট মোবাইল অ্যাপে ছবি আপলোড করে অর্থ স্থানান্তর করতে পারবেন।
গ্রাহকের আস্থা বাড়াতে ব্যর্থ বাংলাকিউআর লেনদেনের অর্থ দ্রুততম সময়ে ফেরতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর পৃথক গাইডলাইন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : সিলেটে নদীভাঙন, জলাবদ্ধতা এবং দীর্ঘস্থায়ী বন্যা মোকাবিলার উদ্দেশ্যে নদীতীর সংরক্ষণ, পুনঃখনন, বাঁধ নির্মাণ ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্পের বাস্তবায়ন শুরু করেছে সরকার।
এ তথ্য জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার সিলেট সদর উপজেলার কানিশাইলে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ‘সুরমা-কুশিয়ারা নদী অববাহিকার উন্নয়ন এবং বন্যা ও সমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (১ম পর্যায়)’ এর আওতায় সুরমা নদীর ডানতীরের নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী উল্লেখ করেন, সুরমা নদীর ভাঙন রোধে পর্যায়ক্রমে মীরের চক এলাকায় ৩০০ মিটার, মেহন্দিবাগে ৪০০ মিটার, কানিশাইলে ৫৫০ মিটার, টোকের বাজারে ৫০০ মিটার এবং মীরেরগাঁওয়ে ৫০০ মিটার নদীতীর প্রতিরক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, কুশিয়ারা ও বাসিয়া নদী পুনঃখনন, রিজিং এবং সারি ও আরশারিক নদীর তীর প্রতিরক্ষা কাজও পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, সিলেটের বন্যা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এর আওতায় সুরমা নদীর উভয় তীরে প্রায় ১৭ কিলোমিটার করে বাঁধ ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নগরবাসীর হাঁটার সুযোগ এবং নদীকেন্দ্রিক পর্যটনের সম্ভাবনা তৈরি হবে।
উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কাজের অগ্রগতি ও মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। এ জন্য স্থানীয় ইমাম, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী ও বিশিষ্ট নাগরিকদের সমন্বয়ে তদারকি কমিটি গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রবীর কুমার গোস্বামী, সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন ও সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলুসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কক্সবাজার শহরের কেন্দ্রস্থল কলাতলীতে সরকারি জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে, যার মূল্য শত কোটি টাকা। রাতের অন্ধকারে কিংবা দিনের আলোতে টিনের বেড়ার আড়ালে একের পর এক নতুন স্থাপনা গড়ে উঠছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং স্থিতাবস্থা সংক্রান্ত আদেশ থাকা সত্ত্বেও নির্মাণকাজ থেমে নেই।
কলাতলী পুলিশ বক্স থেকে ওশান প্যারাডাইস-সংলগ্ন এলাকায় ইতোমধ্যে প্রায় ১১টি কাউন্টার, ট্রাভেল এজেন্সি এবং চায়ের দোকান গড়ে ওঠার খবর পাওয়া গেছে। একই এলাকায় আরও ১৯টি দোকান নির্মাণের কাজ চলছে বলে জানা গেছে, যার মধ্যে প্রায় ১০টি দোকানের নির্মাণকাজ শেষের পথে।
স্থানীয়দের দাবি, এসব দোকান বরাদ্দের নামে প্রতি দোকান থেকে ৫ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত অগ্রিম ‘সালামি’ এবং মাসিক প্রায় ২০ হাজার টাকা ভাড়ার চুক্তি করা হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, টিনের বেড়ার ভেতরে বেশকিছু শ্রমিক নির্মাণকাজে নিয়োজিত। সাংবাদিক পরিচয়ে ভেতরে প্রবেশ করার পর নির্মাণকাজের বিষয়ে জানতে চাইলে নিরাপত্তাকর্মীসহ শ্রমিকরা স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি।
নির্মাণস্থলের মাঝখানে টাঙানো একটি সাইনবোর্ডে আদালতের নির্দেশনার কথা উল্লেখ রয়েছে। সেখানে নতুন কোনো স্থাপনা নির্মাণ না করার নির্দেশনার কথাও লেখা আছে। কিন্তু সেই নির্দেশনার মধ্যেই নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রসাদ প্যারাডাইসের মালিক ইউসুফ আবদুল্লাহ এই জমির মালিক দাবী করলেও বৈশাখী রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুলের নেতৃত্বে এই দখল-বাণিজ্য চলছে।
ডলফিন মোড়সংলগ্ন বৈশাখী রেস্টুরেন্ট এলাকার ঘেরা দেওয়া জমির পরিমাণ ৪ দশমিক ৫০ একর বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই জমিতে টানানো নোটিশেও ৪ দশমিক ৫০ একর জমির কথা উল্লেখ করে প্রবেশ নিষেধ করা হয়েছে।
কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে আগে বরাদ্দ দেওয়া প্লটগুলোর মধ্যে শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে বেশ কিছু প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৩ সালে কলাতলী হোটেল-মোটেল জোনে ১৩০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ৮৭টি প্লটের মধ্যে ৫৭টি প্লটের বরাদ্দ বাতিল করা হয়েছে। এর মধ্যে এই প্লটও রয়েছে বলে জানা গেছে।
তাহলে বৈশাখী রেস্টুরেন্টসংলগ্ন ৪ দশমিক ৫০ একর জমিটি ঠিক কোন দাগ, খতিয়ান ও প্লটের অন্তর্ভুক্ত এবং এর বর্তমান বৈধ মালিকানা বা বরাদ্দের অবস্থা কী—তা নিশ্চিত নয়।
এ বিষয়ে বৈশাখী রেস্টুরেন্টের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, “জমিটি আমাদের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্লট। সরকার এ বরাদ্দ বাতিল করেনি। স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জমিটি দখলের পাঁয়তারা করছেন। এ কারণে নিজেদের বরাদ্দকৃত জায়গা সুরক্ষিত রাখতে আমরা সেখানে ঘেরাবেড়া দিচ্ছি।”
কক্সবাজারের কলাতলী ও সৈকতসংলগ্ন এলাকায় সরকারি জমি, বাতিল ইজারা এবং অবৈধ স্থাপনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জটিলতা বিদ্যমান। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে কলাতলী, সুগন্ধা ও লাবণী পয়েন্ট এলাকায় সরকারি খাসজমি, গণপূর্তের জমি এবং বাতিল ইজারার জমি নিয়ে পৃথক প্রশাসনিক অবস্থার কথা উঠে এসেছে।
এর আগে কলাতলীতে আদালতের স্থিতাবস্থা থাকা জমিতে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। আবার ২০২২ সালে কলাতলীর গণপূর্তের একটি মাঠ থেকে দেড় শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও যদি নতুন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে কীভাবে এত বড় নির্মাণকাজ চলছে? কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং কারা এসব স্থাপনা থেকে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন—তা তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুল মান্নান বলেন, বাতিলকৃত সরকারি প্লটে যেকোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি জানার পর সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করবে বলেও জানান তিনি।
এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের এই অবস্থানের পর কলাতলীতে কথিত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ হয় কি না এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগে জড়িতদের বিরুদ্ধে কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনায় জনমনে উদ্বেগ-আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। একদিকে মন্দিরে ঢুকে স্বর্ণালংকার ও পূজার সামগ্রী চুরি হচ্ছে, অন্যদিকে ভোরে সিএনজি থামিয়ে চালককে পিটিয়ে যাত্রীদের টাকা ও মোবাইল লুটের ঘটনায় সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযোগ উঠেছে, মসজিদ, দানবাক্স, বসতঘর, দোকানপাট, সিএনজি, মোটরসাইকেল ও টিউবওয়েলও চোরচক্রের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে লেলাং ইউনিয়নের শাহনগর বণিকপাড়ার শ্রী শ্রী মঙ্গলচণ্ডী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা তিনটি ঘট, ঘটের গলায় থাকা তিনটি স্বর্ণের চেইন ও তিনটি লকেটসহ পূজার সামগ্রী নিয়ে যায়। মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ ধর জানান, এতে আনুমানিক দুই থেকে আড়াই ভরি স্বর্ণ ছিল। এর কয়েকদিন আগে বিএনপি নেতা সরোয়ার হোসেনের বড় ভাইয়ের ঘর থেকেও স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনা ঘটে।
উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা অমর কান্তি দে বলেন, দুর্গাপূজার আগে এমন চুরির ঘটনায় আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
ফটিকছড়ি থানা অফিসার ইনচার্জ ওসি রবিউল আলম খান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত চলছে।
অন্যদিকে মঙ্গলবার ভোরে ভূজপুর ন্যাশনাল স্কুলের পশ্চিম পাশের স্পিড ব্রেকারে সিএনজি থামিয়ে চালককে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে যাত্রীদের টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক।
ভূজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে ছিনতাইকারীরা তার আগেই পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রতিটি ঘটনায় ভুক্তভোগীর অভিযোগ বা মামলার অপেক্ষায় থাকলে অপরাধ প্রতিরোধে পুলিশের ভূমিকা কী? তাদের দাবি, চুরি-ছিনতাই রোধে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা ও অপরাধীদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ