ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

লেবু গাছের সঙ্গে কী শত্রুতা? কাটা হলো ২০০ গাছ


লেবু গাছের সঙ্গে কী শত্রুতা? কাটা হলো ২০০ গাছ

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবরুণ্ডি এলাকায় পূর্বে ঘটে যাওয়া শত্রুতার কারণে একটি লেবু বাগানের প্রায় ২০০টি চারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ জুন) মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।

অভিযুক্ত দলটিতে উপস্থিত আছেন- আমিনুল ইসলাম ওরফে তনু (৪০), শরিফ হাজারী (৩৩), সেলিনা বেগম (৩৮), আবুল হোসেন (৪৩) ও ইন্নত আলী (৬৫)-এর মতো আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের

অভিযোগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সদর উপজেলার মধ্যবরুণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম তাদের মালিকানাধীন ২৭ ডিসিমেল জমিতে প্রায় ১৫ দিন আগে লেবু ও পাটের চারা রোপণ করেছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে জমিতে প্রবেশ করে অধিকাংশ লেবু গাছের চারা কেটে ফেলে এবং পাটের চারাও নষ্ট করে দেয়।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি দখলের উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে তাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করেছে এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে।

এর আগে, প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম ওরফে তনুর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের একটি অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

স্থানীয় জমির মালিক রাসেল হোসেন জানান, আমরা জানি জমিটির মালিক জাহিদুল ও তার মা। শুনেছি তাদের লাগানো লেবুর গাছগুলো কাটা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জলি আক্তারের দেবর মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু জানান, দলিল অনুযায়ী জমিটির বৈধ মালিক হচ্ছেন জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম। জমি দখলের উদ্দেশ্যে লেবুর চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং পাটের চারাগুলোকে মধ্যে পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে।

জমির যৌথ মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, চাষাবাদ করে আমি আমার পড়াশোনার জন্য খরচ মেটাতে পারি। কিন্তু তনুরা আমার অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছে। জমিটি আমার খালাদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে এবং আমার নানীও কিছু জমি আমাকে লিখে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমি এবং আমার মা ২৭ ডিসিমেল জমির মালিক। পরিকল্পিতভাবে আমাদের লেবুর চারা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং পাটের চারাও নষ্ট করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী জলি আক্তার বলেছেন, আমার ও আমার ছেলের মালিকানাধীন জমিতে আমরা লেবুর চারা রোপণ করেছিলাম। সবগুলো চারা কেটে ফেলা হয়েছে। আমাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন ঘটেছে। এর আগে, লেবু গাছ রোপণের আগের দিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সামনেই তনু আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।

আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না

অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম তনু জানিয়েছেন, আমি কারো লেবু গাছ কাটিনি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো তারা আমার মিষ্টি কুমড়া খেত উজাড় করে হাল চাষ করেছে।

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেছেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর পুনরায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১২ পি.এম


টাঙ্গাইলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর পুনরায়

টাঙ্গাইলের গোপালপুর এবং ভূঞাপুর উপজেলার মধ্যে দুটি গ্রামের সংঘর্ষের ফলে একজন নিহত হওয়ার পর প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে ১৪৪ ধারা জারি করলেও, তা উপেক্ষা করে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা পুনরায় ঘটেছে।

শুক্রবার (৫ জুন) সকাল ৯টা থেকে সংঘর্ষ আবার শুরু হয়। এই সময় অন্তত পাঁচটি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করা হয়। ফলে পুরো এলাকায় নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের মতে, ১৪৪ ধারার মধ্যেও দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা অব্যাহত আছে। পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। আশপাশের কয়েকটি এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। যদি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সংঘর্ষ আশপাশের অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এভাবে জানানো হয়েছে, প্রথমে দুই গ্রামের মধ্যে বিরোধ সীমাবদ্ধ ছিল কিন্তু বর্তমানে সংঘর্ষের প্রভাব অন্যান্য এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘটনাস্থল এবং আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহবুব হাসান বলেন, একটি ছোট বিষয় নিয়ে ঘটনাটি শুরু হলেও বর্তমানে এটি আধিপত্য বিস্তারের রূপ নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সবাইকে শান্ত থাকার জন্য আহ্বান জানানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দোকানে বাকি খাওয়াকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বিরোধের জেরে গত ২২ এপ্রিল গোপালপুর উপজেলার গোলপেঁচা এবং ভূঞাপুর উপজেলার জগৎপুরা গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধের ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বিকেলে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সংঘর্ষে একজন নিহত এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এই সময় অন্তত ১০টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগ এবং ব্যাপক ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে প্রশাসন সংশ্লিষ্ট এলাকার মধ্যে ১৪৪ ধারা জারি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের কাছে হারের স্বাদ নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৪ পি.এম


পাকিস্তানের কাছে হারের স্বাদ নিয়ে বাংলাদেশে পা রাখল অস্ট্রেলিয়া

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের হতাশা নিয়েই বাংলাদেশ সফরে এসেছে। শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে ঢাকায় পৌঁছায় সফরকারীদের প্রথম বহর। আসন্ন তিন ম্যাচের ওয়ানডে ও তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে যাচ্ছেন তারা। এরপর আরও কিছু ক্রিকেটার আলাদা ফ্লাইটে দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।

৫টা ২৩ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অস্ট্রেলিয়া দলের প্রথম গ্রুপ অবতরণ করে। সফরে তারা সাদা বলের দুটি সিরিজে অংশ নেবে। মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আগামী ৯ জুন প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১১ ও ১৪ জুন একই ভেন্যুতে সিরিজের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

ওয়ানডে সিরিজ শেষ হওয়ার পর চট্টগ্রামে যাবে দুই দল টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে। বীরশ্রেষ্ঠ শহিদ মতিউর রহমান ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ১৭, ১৯ ও ২১ জুন তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।

অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দল এই সফরে পূর্ণ শক্তির দল নামায়নি। তারা বিশ্রাম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কারণে প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজেলউড, স্টিভেন স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও মার্কাস স্টয়নিসকে দলে রেখেছে না।

বিশেষ করে ম্যাক্সওয়েল ও স্টয়নিসের অনুপস্থিতি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তারা চোটমুক্ত হলেও টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা পাননি। অন্যদিকে স্টিভেন স্মিথও টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে নেই, যা তার ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।

অস্ট্রেলিয়া এই সফরে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড়কে সুযোগ দিয়েছে। ওয়ানডে দলে প্রথমবার ডাক পেয়েছেন পেস অলরাউন্ডার লিয়াম স্কট এবং টি-টোয়েন্টি দলে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন বাঁহাতি স্পিনার জোয়েল ডেভিস। তাদের পারফরম্যান্সের দিকেই নজর থাকবে নির্বাচকদের।

বাংলাদেশ সফরের আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ২-১ ব্যবধানে পরাজিত হয় অস্ট্রেলিয়া। সিরিজের শেষ ম্যাচে তারা ৪ উইকেটে পরাজিত হয়ে শিরোপা হাতছাড়া করে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) জানিয়েছে, সিরিজের টিকিট অনলাইনে বিক্রি শুরু হয়েছে। দর্শকেরা নির্ধারিত ওয়েবসাইট থেকে টিকিট সংগ্রহ করতে পারবেন।

মিরপুরে ম্যাচগুলোর টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ক্যাটাগরি অনুযায়ী। গ্র্যান্ড স্ট্যান্ড ২,৫০০ টাকা, আন্তর্জাতিক গ্যালারি ১,৫০০ টাকা, ক্লাব হাউস ৬০০ টাকা, নর্দার্ন গ্যালারি ৪০০ টাকা এবং ইস্টার্ন গ্যালারি ২০০ টাকা।

বাংলাদেশ এবং অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার এই সিরিজকে ঘিরে ক্রিকেটপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অভিজ্ঞ কয়েকজন তারকার অনুপস্থিতি এবং নতুনদের সুযোগ সব মিলিয়ে সিরিজটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশের বিপক্ষে এই লড়াই শুরু হবে মিরপুরে ৯ জুন থেকে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা এনসিপির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৭ পি.এম


৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকার ছায়া বাজেট ঘোষণা এনসিপির

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ‘বাংলাদেশ ২.০: সংস্কার, কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগের মাধ্যমে টেকসই প্রবৃদ্ধি’ শীর্ষক একটি ছায়া বাজেট উপস্থাপন করেছে। দলটির দাবি হলো, জনকল্যাণ বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের মাধ্যমে একটি টেকসই অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে, যা এ বাজেটের প্রধান লক্ষ্য।

শুক্রবার (৫ জুন) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন এই ছায়া বাজেটটি ঘোষণা করেন দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা জানিয়েছেন, তাদের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার হল ৮ লাখ ৫২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় ৬২ হাজার ১৫৭ কোটি টাকা বেশি। তবে, বাজেটের ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বাজেটের আওতায় মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশে এবং পরবর্তী অর্থবছরে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ছায়া বাজেটের অধীনে রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত বর্তমান ৬ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে প্রথম বছরে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ জন্য বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা, টিআইএন-এনআইডি-ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস সংযুক্তিকরণ, সম্পদ কর চালু, বন্দর ডিজিটালাইজেশন এবং অপ্রয়োজনীয় কর অব্যাহতি বাতিলের মতো পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে। দলটির হিসাব অনুযায়ী এসব উদ্যোগ থেকে অতিরিক্ত ৭৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে।

কর কাঠামোতে সংশোধনের জন্য বড় ধরনের পরিবর্তনগুলোর প্রস্তাবও এনসিপি দিয়েছে। সাধারণ করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, নারী ও প্রবীণদের জন্য ৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ৫ লাখ টাকা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে জাকাতকে আয়কর রিবেট হিসেবে স্বীকৃতি, উত্তরাধিকার কর চালু করা এবং করপোরেট কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে বাজেটে সবচেয়ে বড় বরাদ্দের প্রস্তাব করেছে দলের পক্ষ থেকে। শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতে ১ লাখ ২৪ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ, সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি, ৫ হাজার কোটি টাকার শিক্ষক মানোন্নয়ন তহবিল এবং ৫ হাজার স্কুল জাতীয়করণের পরিকল্পনার বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া পাঁচ বছরে এক কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নির্ধারণ করে এসএমই ঋণ, যুব উদ্যোক্তা তহবিল এবং ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে ২৫ শতাংশ বাজেট বৃদ্ধি করে ৫২ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়। এর আওতায় জাতীয় স্বাস্থ্য বিমা চালু, দুরারোগ্য রোগের চিকিৎসায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ভর্তুকি, ময়মনসিংহ ও বরিশালে আন্তর্জাতিক মানের সুপার-স্পেশালিটি হাসপাতাল এবং ৫০০ নতুন জিপিএস-ট্র্যাকড অ্যাম্বুলেন্স চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষি খাতে আধুনিক শস্য বিক্রয় কেন্দ্র, সরাসরি কৃষকের অ্যাকাউন্টে সার ভর্তুকি প্রদান এবং ফসল সংরক্ষণ অবকাঠামো সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদ্যমান খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও এনসিপি দিয়েছে।

পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও পরিবেশ খাতে এনসিপি ‘সোলার এনার্জি সোভারেনটি অ্যাক্ট’ প্রণয়নের প্রস্তাব দিয়েছে। এ আইনের আওতায় সৌর পণ্যের ওপর আগামী পাঁচ বছর শূন্য শতাংশ কর নিশ্চিত করার আলোচনা করা হয়েছে। এছাড়া ৬ হাজার কোটি টাকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি কর্মসূচির মাধ্যমে এক বছরে ২ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, ৩ হাজার অফ-গ্রিড গ্রামে সৌর মিনি-গ্রিড স্থাপন এবং ৫০ হাজার ডিজেলচালিত সেচপাম্পকে সৌরভিত্তিক শক্তিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়েছে।

নারী ও যুব উন্নয়নে ৫ হাজার কোটি টাকার নারী উদ্যোক্তা তহবিল, স্যানিটারি ন্যাপকিনে শূন্য ভ্যাট, ছয় মাসের বেতনসহ মাতৃত্বকালীন ছুটি এবং এক মাসের পিতৃত্বকালীন ছুটির প্রস্তাব রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতদের সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্যাংক খাত সংস্কারে খেলাপি ঋণগ্রহীতাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন, রাষ্ট্রীয় ‘ব্যাড ব্যাংক’ গঠন, সব তফসিলি ব্যাংকের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার প্রতিবেদন প্রকাশ এবং পুঁজিবাজারের আকার জিডিপির ৪০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতিরক্ষা বাজেট বৃদ্ধি, দেশীয় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তি উন্নয়ন, সরকারি ব্যয়ের রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং পোর্টাল চালু করা, গোপন সম্পদের ওপর বিশেষ কর এবং একটি স্বাধীন বাজেট অফিস প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও ছায়া বাজেটের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে এনসিপি নেতারা বলেন, তাদের ৭১ দফা সংস্কার প্রস্তাব শুধুমাত্র একটি বিকল্প বাজেট নয়, বরং দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও বিনিয়োগবান্ধব ‘বাংলাদেশ ২.০’ গঠনের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক প্রস্তাব, পরিবারের পৌঁছানোর অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক প্রস্তাব, পরিবারের পৌঁছানোর অনুরোধ

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা গভীর শোক প্রকাশ করেছে। রাজ্যের বিধানসভা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গৃহীত শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি তার পরিবারের কাছে পৌঁছানোর জন্য আবেদন জানিয়েছে। এই প্রক্রিয়ার জন্য কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার প্রধান সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাসের স্বাক্ষরিত একটি চিঠি কলকাতায় বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনারের কাছে পাঠানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি বিধানসভার অধিবেশন চলমান অবস্থায় খালেদা জিয়ার মৃত্যুর জন্য শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। ওই অধিবেশনের কার্যবিবরণীর সংশ্লিষ্ট অংশের একটি অনুলিপি চিঠির সাথে সংযুক্ত করা হয়েছে।

চিঠিতে অনুরোধ করা হয়েছে, শোকপ্রস্তাব সংবলিত ওই অনুলিপি যেন বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের কাছে পৌঁছানো হয়। কার্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়েছে যে অধিবেশন চলাকালে স্পিকার খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন ও অবদানের কথা স্মরণ করেন এবং তার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন বিধানসভার সদস্যরা।

প্রায় চার মাস পর, ২ জুন তাং ওই শোকপ্রস্তাবের অনুলিপি পৌঁছে দেওয়ার জন্য কূটনৈতিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশের উপ-হাইকমিশনের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন করা হয়।

শোকপ্রস্তাবে খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে উল্লেখ করা হয় এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার দায়িত্বের কথা বলা হয়। এতে আরও বলা হয় যে, তিনি দীর্ঘদিন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর নেতৃত্বে ছিলেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছেন।

এছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে তার অবদান তুলে ধরা হয়। শোকপ্রস্তাবে বেগম খালেদা জিয়াকে দক্ষিণ এশিয়ার সমকালীন রাজনীতির একটি প্রভাবশালী নেতা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%