প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার কাটিগ্রাম ইউনিয়নের মধ্যবরুণ্ডি এলাকায় পূর্বে ঘটে যাওয়া শত্রুতার কারণে একটি লেবু বাগানের প্রায় ২০০টি চারা গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার (৫ জুন) মানিকগঞ্জ সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্ত দলটিতে উপস্থিত আছেন- আমিনুল ইসলাম ওরফে তনু (৪০), শরিফ হাজারী (৩৩), সেলিনা বেগম (৩৮), আবুল হোসেন (৪৩) ও ইন্নত আলী (৬৫)-এর মতো আরও ৪ থেকে ৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, সদর উপজেলার মধ্যবরুণ্ডি গ্রামের বাসিন্দা জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম তাদের মালিকানাধীন ২৭ ডিসিমেল জমিতে প্রায় ১৫ দিন আগে লেবু ও পাটের চারা রোপণ করেছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) ভোরে দুর্বৃত্তরা পরিকল্পিতভাবে জমিতে প্রবেশ করে অধিকাংশ লেবু গাছের চারা কেটে ফেলে এবং পাটের চারাও নষ্ট করে দেয়।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জমি দখলের উদ্দেশ্যে এবং দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এতে তাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে জমি দখলের প্রচেষ্টা চালিয়ে আসছে, ফসলি জমির ক্ষতিসাধন করেছে এবং পারিবারিক বিরোধের কারণে ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে।
এর আগে, প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম ওরফে তনুর বিরুদ্ধে জোরপূর্বক জমি দখলের একটি অভিযোগ রয়েছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় জমির মালিক রাসেল হোসেন জানান, আমরা জানি জমিটির মালিক জাহিদুল ও তার মা। শুনেছি তাদের লাগানো লেবুর গাছগুলো কাটা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জলি আক্তারের দেবর মঞ্জুরুল আলম মঞ্জু জানান, দলিল অনুযায়ী জমিটির বৈধ মালিক হচ্ছেন জলি আক্তার ও তার ছেলে জাহিদুল ইসলাম। জমি দখলের উদ্দেশ্যে লেবুর চারা উপড়ে ফেলা হয়েছে এবং পাটের চারাগুলোকে মধ্যে পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করা হয়েছে।
জমির যৌথ মালিক জাহিদুল ইসলাম বলেন, চাষাবাদ করে আমি আমার পড়াশোনার জন্য খরচ মেটাতে পারি। কিন্তু তনুরা আমার অনেক বড় ক্ষতি করে ফেলেছে। জমিটি আমার খালাদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে এবং আমার নানীও কিছু জমি আমাকে লিখে দিয়েছেন। সব মিলিয়ে আমি এবং আমার মা ২৭ ডিসিমেল জমির মালিক। পরিকল্পিতভাবে আমাদের লেবুর চারা গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং পাটের চারাও নষ্ট করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী জলি আক্তার বলেছেন, আমার ও আমার ছেলের মালিকানাধীন জমিতে আমরা লেবুর চারা রোপণ করেছিলাম। সবগুলো চারা কেটে ফেলা হয়েছে। আমাদের প্রায় ৪০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন ঘটেছে। এর আগে, লেবু গাছ রোপণের আগের দিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সামনেই তনু আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি।
অভিযুক্ত আমিনুল ইসলাম তনু জানিয়েছেন, আমি কারো লেবু গাছ কাটিনি, এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। উল্টো তারা আমার মিষ্টি কুমড়া খেত উজাড় করে হাল চাষ করেছে।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনির হোসেন বলেছেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন