রবিবার, ২০ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:০০ পি.এম
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শাখা ছাত্রদলের মধ্যে দুই গ্রুপের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে ক্যাম্পাসে শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব শামসুল আরেফীন এবং যুগ্ম-আহ্বায়ক নাহিয়ান বিন হক অনিকের গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় ৩ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন, অর্থনীতি বিভাগের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১ ব্যচ) শিক্ষার্থী মাদুদ এবং লোক প্রশাসন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের (১৯ ব্যাচ) শিক্ষার্থী ইমন। অপরজনের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। সংঘর্ষের কারণ এবং সূত্রপাত সম্পর্কে প্রাথমিকভাবে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের মতে, ভিক্টোরিয়া পার্কের চায়ের দোকানের পাশে সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর ক্যাম্পাসের কাঁঠালতলা এলাকায় রড ও পাইপ নিয়ে হামলা করতে দেখা যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান জানান, "কোন দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়েছে নাম জানিনা। তবে সংঘর্ষ হয়েছিল। আমরা পুলিশ ডেকে নিয়ে আসছি। এখন মোটামুটি কামডাউন, এখন একটু শান্ত। উল্লেখযোগ্যভাবে আহত হয়নি। মানে উল্লেখ করার মত কেউ আহত হয় নাই, টুকটাক হয়তো লেগেছে।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পাবনায় তৃতীয় শ্রেণীর শিশু শিক্ষার্থী কলি হত্যার ঘটনায় দ্রুত বিচার সম্পন্ন করার এবং জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়ে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী এবং নিহত শিশুর সহপাঠীরা। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা জেলা পরিষদের সামনে অনুষ্ঠিত হয় এই মানববন্ধন। মানববন্ধনের পর বিক্ষোভ মিছিলটি আদালত এলাকা ও আশপাশের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী এলাকাবাসী এবং হত্যাকাণ্ডের শিকার শিশুর সহপাঠীরা দাবি জানান, দ্রুত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হত্যার আগে গ্রেফতারকৃতরা মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনে ঘরের মধ্যে নিয়ে গিয়ে ওই শিশুকে ধর্ষণ করে এবং পরে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশুর প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক এবং তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
এদিকে, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর ওই শিশু শিক্ষার্থী বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কুলুনিয়া গ্রামে শিশুটির বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধান অভিযুক্তের বাড়িতে স্থানীয়রা ভাংচুর চালিয়েছে। নিহত শিশুর পরিবার, সহপাঠী এবং এলাকাবাসী দ্রুত বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চাঁদপুরে ‘চর্যাপদ একাডেমি সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখার জন্য সাতজন সাহিত্যিককে দোনাগাজী পদক প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর শহরের সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক এবং বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা।
আয়োজনটির সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা, এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি ও জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশের খ্যাতনামা কবি এবং ডেইলি এক্সপ্রেস দেশের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক নাসির আহমেদ।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ এবং জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান, ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ, এবং উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ স্বাগত বক্তৃতা দেন।
প্রধান অতিথি নাসির আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।"
তিনি কবি সোহরাব পাশা এবং অন্যান্য সাহিত্যিকদের অভিনন্দন জানান এবং সাহিত্য শিল্প সাধনার বিষয় নিয়ে চর্যাপদ একাডেমি নতুন শিল্পী গড়ে তুলবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা মন্তব্য করেন, "চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মধ্যযুগের কবি দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কি না সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।"
মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি জানান, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিতভাবে এই পদক প্রদান করে আসছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীরা চাঁদপুর শহরে পদচারণা করেন।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রণি বলেন, "মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তার নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।"
পরে সাহিত্য উৎসবে দেশের সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ‘দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।
পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সোহরাব পাশা (২০২৫-কবিতা), ইশরাত তানিয়া (কথাসাহিত্য), স. ম. শামসুল আলম (শিশুসাহিত্য), রনক রায়হান (সংগীত), শিবলী মোকতাদির (২০২৬-কবিতা), অমল সেনগুপ্ত (চারুকলা) এবং সৈয়দা আঁখি হক (লোক-গবেষণা)।
এছাড়াও প্রশংসাপত্র প্রদান করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারী প্রিন্স।
বেলাল শেখের বাঁশির সুরে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।
অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকীসহ অন্যান্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনের উপলক্ষে আয়োজিত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণে জরিমানা করার নোটিশ ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্ট (আইআইএম) জম্মু তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি, তাদের ৫০০ রুপি জরিমানা এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ভারতের প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসসহ বিভিন্ন মহলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
নরেন্দ্র মোদির ৭৬তম জন্মদিন ১৭ সেপ্টেম্বর পালিত হয়। এই উপলক্ষে দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মোদির জন্মদিন পালনের উদ্যোগও দেখা যায়। আইআইএম জম্মুর পক্ষ থেকে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল।
তবে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিয়ে জারি করা কড়াকড়ি নোটিশ বিষয়টি বিতর্কিত করে তোলে। জানা গেছে, অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের ডিন বা ছাত্র পরিষদের পক্ষ থেকে শৃঙ্খলাভঙ্গের নোটিশ পাঠানো হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, ১৬ সেপ্টেম্বর আয়োজিত প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক ছিল এবং যারা আসেননি, তাদের অনুপস্থিতির কারণ লিখিতভাবে জানাতে হবে।
এই ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। রাজনৈতিক আঙিনায় বিষয়টি গড়ালে কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নসীর হুসেন প্রশ্ন তুলেন, "কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন পালনে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কেন বাধ্যতামূলক করা হবে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যেকোনো রাজনৈতিক প্রচার-প্রচারণা থেকে দূরে রাখা উচিত।"
তবে কর্তৃপক্ষ তোপের মুখে পড়ে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন অনুষ্ঠানে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করার বিতর্কিত নিয়মটি পর্যালোচনা করতে শিগগিরই বৈঠক ডাকার আশ্বাস দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সাবেক চেয়ারম্যান ও অর্থনীতিবিদ ড. আবুল বারকাতের সম্পদের হিসাব তলব করেছে।
দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে জারি করা আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নোটিশ পাওয়ার ২১ কর্মদিবসের মধ্যে আবুল বারকাতকে নির্ধারিত ছকে নিজের, তার স্ত্রীর এবং তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে বা বেনামে থাকা সমস্ত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা, আয়ের উৎস এবং সম্পদ অর্জনের বিস্তারিত বিবরণী দাখিল করতে হবে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুদক সূত্রে এ তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
নোটিশে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(১) ধারার আওতায় আবুল বারকাতের কাছে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি সম্পদ বিবরণী দাখিল না করা হয় অথবা মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিয়ে বিবরণী জমা দেওয়া হয়, তাহলে একই আইনের ২৬(২) ধারায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
জনতা ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল বারকাতের বিরুদ্ধে ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। ২৯৭ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলায় ২০২৫ সালের ১১ জুলাই তাকে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে গ্রেফতার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এছাড়া এননটেক্স গ্রুপের নামে প্রায় ৫৩১ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগের মামলায়ও তিনি চার্জশিটভুক্ত আসামি। ওই মামলায় বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আতিউর রহমানসহ ২৬ জনের বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অক্টোবরে চার্জশিট দাখিল করে দুদক।
দুদকের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ব্যাংক ঋণ অনুমোদন ও বিতরণে অনিয়মের মাধ্যমে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের বিপুল অর্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব মামলার তদন্ত ও সম্পদ অনুসন্ধানের ধারাবাহিকতায় আবুল বারকাতের সম্পদ বিবরণী তলব করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ