বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৫:৪৫ পি.এম
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার সীমান্তের মাধ্যমে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তিন বাংলাদেশিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-এর সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (২৮ বিজিবি)। বিজিবি জানিয়েছে, এ সময় মানবপাচারকারী চক্রের আরও দুই সদস্য পালিয়ে গেছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে উপজেলার বাংলাবাজার ইউনিয়নের বাঁশতলা বিওপির আওতাধীন আরমান ছড়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়েছে।
আটক হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালী এলাকার মো. আবুল হোসেন (৪২), শার্শা উপজেলার বেনাপোল এলাকার নবিস উদ্দিনের মেয়ে ফাতেমা (১৮) এবং স্থানীয় মানবপাচারকারী দোয়ারাবাজারের ইসলামপুর গ্রামের জহির মিয়ার ছেলে মো. আমির।
সূত্র জানায়, আটক আবুল হোসেন ও ফাতেমার ভারতে আত্মীয়স্বজন রয়েছেন। তাদের সীমান্ত পার করে দিতে স্থানীয় পাচারকারী আমিরের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল। ঘটনার সময় অর্থের বিনিময়ে তাদের ভারতীয় দালালদের কাছে পৌঁছে দিতে সীমান্ত অতিক্রমের চেষ্টা করা হচ্ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে স্থানীয় বাঁশতলা বিওপির বিজিবি সদস্যরা আরমান ছড়া সীমান্ত এলাকা থেকে তাদের আটক করেন। অভিযান চলাকালে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারী চক্রের সদস্য দোয়ারাবাজারের অনিক মিয়া (২৪) ও আলাউদ্দিন (৫৪) কৌশলে পালিয়ে যায়।
দোয়ারাবাজার থানার ওসি তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ সীমান্ত পারাপার ও মানবপাচারের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালকে কেন্দ্র করে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা নতুন মাত্রায় প্রবাহিত হয়েছে। বিনিয়োগ, আধুনিক প্রযুক্তি, দক্ষ জনবল এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রতিশ্রুতি নিয়ে বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতে প্রবেশের আগ্রহ প্রকাশ করেছে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কিছু বিমানবন্দর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান।
এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাজ্যভিত্তিক মেনজিস এভিয়েশন, সুইজারল্যান্ডের সুইসপোর্ট, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন হোল্ডিং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ডনাটা অংশগ্রহণ করছে। সংশ্লিষ্ট তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জাপানি কনসোর্টিয়ামের অধীনে তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সংক্ষিপ্ত তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা, কারিগরি সক্ষমতা ও নিয়ন্ত্রক শর্ত পূরণের বিষয়গুলো যাচাইয়ের পর চূড়ান্ত অপারেটর নির্বাচনের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের প্রধান বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবায় বাংলাদেশ বিমান এয়ারলাইনসের প্রাধান্য রয়েছে। নতুন ব্যবস্থায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত হলে এ খাতে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং সেবার মান, প্রযুক্তির ব্যবহার ও পরিচালন দক্ষতায় পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বৈশ্বিক অভিজ্ঞতায় এগিয়ে মেনজিস
আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ব্যাপ্তি ও অভিজ্ঞতার কারণে প্রতিযোগিতায় আলোচনায় রয়েছে মেনজিস এভিয়েশন। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের প্রায় ৬৫টি দেশের ৩৫০টি বিমানবন্দরে তাদের কার্যক্রম রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত রয়েছেন প্রায় ৬৫ হাজার কর্মী।
যাত্রীসেবা, কার্গো ব্যবস্থাপনা, বিমান পরিচালনায় ভূমিসেবা এবং বিমানবন্দরের বিভিন্ন অপারেশনাল কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ঢাকায় আধুনিক প্রযুক্তি, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবলনির্ভর গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং সেবা চালুর পরিকল্পনা করছে তারা।
অন্যদিকে, তুরস্কের চেলেবি এভিয়েশন পাঁচটি দেশে ৬০টিরও বেশি বিমানবন্দরে কার্যক্রম পরিচালনা করে এবং প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ৯ হাজার কর্মী রয়েছেন বলে প্রাপ্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ব্যাপ্তি বেশি হলেই কোনো প্রতিষ্ঠান চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগের বাস্তবতা, নিরাপত্তা মানদণ্ড, আর্থিক প্রস্তাব এবং বিমানবন্দরের চাহিদা পূরণের সক্ষমতাই চূড়ান্ত নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
১ কোটি ২০ লাখ ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা
বাংলাদেশে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ১ কোটি ২০ লাখ মার্কিন ডলারের বেশি বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে মেনজিস এভিয়েশন। বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় হার অনুযায়ী এর পরিমাণ প্রায় ১৪০ কোটি টাকার কাছাকাছি হতে পারে।
প্রস্তাবিত বিনিয়োগের আওতায় গ্রাউন্ড সাপোর্ট ইকুইপমেন্ট, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিচালনব্যবস্থা এবং কর্মীদের প্রশিক্ষণের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যাগেজ ব্যবস্থাপনা, বিমানকে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করা এবং অন্যান্য ভূমিসেবার কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মেনজিসের মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট চার্লস ওয়াইলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে এক হাজারের বেশি সরাসরি কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে। এসব পদের প্রায় ৯৯ শতাংশ স্থানীয়ভাবে নিয়োগের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান, পরিবহনসেবা, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০টি পরোক্ষ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসংক্রান্ত এসব প্রতিশ্রুতি প্রস্তাবনানির্ভর। চূড়ান্ত অনুমোদন, চুক্তি এবং কার্যক্রম শুরুর পরই বাস্তবায়নের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে।
দেশে এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব
মেনজিসের প্রস্তাবের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বাংলাদেশে একটি এভিয়েশন প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠা। এর মাধ্যমে গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং, বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা, যন্ত্রপাতি পরিচালনা এবং আন্তর্জাতিক মানের যাত্রীসেবা বিষয়ে স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা গেলে দেশে দক্ষ এভিয়েশন কর্মী তৈরির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের সেবা প্রদানের সক্ষমতা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগও তৈরি হবে।
এভিয়েশন খাতের সম্প্রসারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষ জনবল গড়ে তোলা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৃতীয় টার্মিনালের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম শুরু হলে যাত্রী ও ফ্লাইট পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কর্মীর চাহিদাও বাড়তে পারে।
আগে থেকেই প্রস্তুতির দাবি মেনজিসের
বাংলাদেশের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং বাজারে প্রবেশের উদ্যোগ নতুন নয় মেনজিস এভিয়েশনের। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং কোম্পানিগুলোর লাইসেন্সের জন্য আবেদন আহ্বানসংক্রান্ত এয়ার নেভিগেশন আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে তারা বেবিচকে আবেদন জমা দিয়েছিল।
মেনজিসের দাবি, ওই প্রক্রিয়ায় তাদের আবেদনটি প্রয়োজনীয় কারিগরি ও পরিচালনাগত নথিপত্রসহ জমা দেওয়া হয়েছিল। এতে নিরাপত্তা নির্দেশিকা, কার্যক্রম পরিচালনার মানদণ্ড এবং অন্যান্য নিয়ন্ত্রক নথি অন্তর্ভুক্ত ছিল বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে মেনজিস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে একটি স্থানীয় কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছে বলেও জানিয়েছে। প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক ও প্রস্তুত করা পরিচালনব্যবস্থা কাজে লাগিয়ে তিন মাসের মধ্যে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব বলে তাদের দাবি।
তবে আগের আবেদন বা অনুমোদনের বর্তমান প্রক্রিয়ায় প্রাসঙ্গিকতা এবং কার্যক্রম শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে বেবিচকের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
যাত্রীসেবার মান উন্নয়নই বড় চ্যালেঞ্জ
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ব্যাগেজ সরবরাহে বিলম্ব, বিমানকে পরবর্তী ফ্লাইটের জন্য প্রস্তুত করতে অতিরিক্ত সময় লাগা এবং ভূমিসেবার সমন্বয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রশ্ন রয়েছে।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক মানের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং অপারেটর যুক্ত হলে সেবার মান উন্নয়ন, আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার এবং পরিচালন কার্যক্রমে জবাবদিহি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শুধু আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করলেই প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসবে না। এ জন্য প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মদক্ষতা সূচক, নিয়মিত তদারকি এবং চুক্তির শর্ত অনুযায়ী জবাবদিহি নিশ্চিত করা।
ব্যাগেজ সরবরাহের নির্ধারিত সময়, বিমান প্রস্তুতকরণের দক্ষতা, নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং সেবায় ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জরিমানার মতো বিষয়গুলো চুক্তিতে স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিনিয়োগ ও প্রতিযোগিতার নতুন সুযোগ
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় এভিয়েশন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপযুক্ত অপারেটর নির্বাচন করা গেলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ বাড়তে পারে।
মেনজিস এভিয়েশনের বিস্তৃত আন্তর্জাতিক কার্যক্রম, প্রস্তাবিত বিনিয়োগ, স্থানীয় কর্মী নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ একাডেমি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা প্রতিষ্ঠানটিকে প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রেখেছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন, আর্থিক ও কারিগরি প্রস্তাব এবং চুক্তির শর্তের ওপর।
সংশ্লিষ্টদের কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কতটা কার্যকর সেবায় রূপ নেয়। তৃতীয় টার্মিনালের সফলতা শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত হবে নিরাপদ বিমান পরিচালনা, দ্রুত ব্যাগেজ সরবরাহ, উন্নত যাত্রীসেবা এবং দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ক্রিকেট মাঠে ব্যাটে বল লেগেছে কিনা, তা নিয়ে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অনেক সময় বিতর্ক সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন ধরনের প্রযুক্তি সেই বিতর্ক কমানোর চেষ্টা করলেও তা সম্পূর্ণভাবে সমাধান করতে পারেনি। এই পরিস্থিতিতে ক্রিকেটে নতুন প্রযুক্তি আসছে—সনিক।
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের চলমান সিরিজে প্রথমবারের মতো এই প্রযুক্তিটি ব্যবহার করা হচ্ছে। শব্দ বিশ্লেষণের মাধ্যমে ব্যাটে বল লাগার বিষয়টি চিহ্নিত করতে তৃতীয় আম্পায়ারকে সহায়তা করবে সনিক।
নতুন এই প্রযুক্তিটি নিউজিল্যান্ডে তৈরি করা হয়েছে। এর পরীক্ষা ও কার্যকারিতা যাচাই ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে আলোচনা করে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে এবং ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই) এ কাজে সহায়তা করেছে।
ভারত ও নিউজিল্যান্ডের টি টোয়েন্টি ম্যাচের পর পাঁচটি ওয়ানডে ও দুটি টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে, এই সিরিজেই প্রথমবারের মতো সনিক ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কীভাবে কাজ করবে সনিক?
ব্যাটে বল লাগলে যে শব্দ উৎপন্ন হয়, তা বিশ্লেষণ করে সম্ভাব্য সংযোগ শনাক্ত করবে সনিক। বিশেষ করে বল ব্যাটে লেগে উইকেটকিপার বা ফিল্ডারের হাতে যাওয়ার আগে আম্পায়ারের চোখে ধরা না পড়লে, সিদ্ধান্ত পর্যালোচনায় প্রযুক্তিটি কার্যকর হবে।
ডিআরএসের মাধ্যমে কোনো সিদ্ধান্ত পর্যালোচনার সময় সনিকের বিশ্লেষণ থেকে পাওয়া তথ্য তৃতীয় আম্পায়ার বিবেচনা করতে পারবেন। তবে প্রযুক্তিটি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের বিকল্প নয়; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাড়তি তথ্য দিয়ে তাকে সহায়তা করবে।
সনিক যুক্ত হচ্ছে ভার্চ্যুয়াল আইয়ের সরবরাহ করা ডিআরএস ব্যবস্থার সঙ্গে। বল ট্র্যাকিং প্রযুক্তির জন্য ২০০৮ সালে আইসিসির স্বীকৃতি পেয়েছে এই প্রতিষ্ঠান।
তবে আপাতত শুধুমাত্র ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজেই প্রযুক্তিটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে আইসিসি। ভবিষ্যতে অন্য সিরিজে সনিক ব্যবহার করতে নতুন করে আইসিসির অনুমোদন নিতে হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমতলীতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইমরান পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস সড়কের পাশের খাদে পড়ে অন্তত ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়কের আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহতদের উদ্ধার করে আমতলী ও পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে গুরুতর আহত ৪–৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে চালকের পরিবর্তে বাসটির হেলপার গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে জানতে পেরেছে ফায়ার সার্ভিস। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে বুধবার রাতে কুয়াকাটার উদ্দেশে ছেড়ে আসে ইমরান পরিবহনের বাসটি। বৃহস্পতিবার সকালে বাসটি আমতলী উপজেলার বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে চালক নেমে যান বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এরপর বাসটি চালাচ্ছিলেন হেলপার। একপর্যায়ে মহাসড়কের একটি বাঁক ঘুরতে গিয়ে বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়।এতে বাসটির বিভিন্ন অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং বেশ কয়েকজন যাত্রী আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁরা বাসের ভেতরে আটকে পড়া ও আহত যাত্রীদের উদ্ধার করেন। পরে আহতদের অ্যাম্বুলেন্সসহ প্রয়োজনীয় পরিবহনের মাধ্যমে আমতলী ও কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। গুরুতর আহত কয়েকজনের শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাঁদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার মো. মাহবুবুর আলম বলেন, সকালে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করেন। তাঁদের আমতলী ও কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বান্দ্রা বাজার এলাকায় পৌঁছানোর আগের একটি স্টপেজে বাসটির চালক নেমে যান। এরপর হেলপার বাসটি চালাচ্ছিলেন। সড়কের একটি বাঁক ঘুরতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ইয়াকুব হোসেন দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় ২০ থেকে ২৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।বাসটির চালক ও হেলপার ঘটনাস্থলে না থাকায় তাঁদের আটক করা সম্ভব হয়নি। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আমীরে হিযবুল্লাহ আলহাজ্ব হযরত মাওলানা মুফতি শাহ আবু নছর নেছারুদ্দীন আহমদ হুসাইন (মা.জি.আ.) বলেছেন- নিয়ত বা অন্তরের সংকল্পের ওপরই ইবাদতের আসল মূল্য ও কবুলিয়ত নির্ভর করে। নিয়ত যদি খাঁটি ও একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে না হয়, তবে তা ইবাদতের প্রকৃত শিক্ষা ও রুহানি উপকারিতা প্রদান করতে পারে না।
২১ অক্টোবর, বুধবার নারায়ণগঞ্জ বন্দর থানাধীন মিরকুন্ডী দারুসসুন্নাত ছালেহীয়া দীনিয়া কমপ্লেক্স ও ডাঃ ইয়াসির হাসান শেখ হাফিজিয়া মাদ্রাসায় ছারছীনা দরবার শরীফের আলা হযরত পীর সাহেব কেবলার শুভাগমণ উপলক্ষে মিরকুন্ডী কবরস্থান সংলগ্ন ঈদগাহ ময়দানে অত্র গ্রামের সর্বস্তরের জনগণের আয়োজনে ইছালে ছওয়াব ও দোয়ার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, যেকোনো নেক আমলের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো ইখলাস বা নিয়তের বিশুদ্ধতা। রাসুলুল্লাহ (সাঃ) স্পষ্ট ঘোষণা করেছেন, আমলের প্রতিদান নিয়তের ওপর নির্ভরশীল। ইবাদতে যদি লোকদেখানো মনোভাব (রিয়া), দুনিয়াবী নাম-ডাকের ইচ্ছা কিংবা অহংকার প্রবেশ করে, তবে বাহ্যিক কষ্ট স্বীকার সত্ত্বেও সেই ইবাদত আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। ফলে মানুষ ইবাদতের আসল শিক্ষা অর্থাৎ তাকওয়া, আত্মশুদ্ধি ও চরিত্রগঠন থেকে বঞ্চিত হয়।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সময়ে মানুষ আমলের বাহ্যিক রুপের প্রতি যতটা মনোযোগী, অন্তরের বিশুদ্ধতার প্রতি ততটা যত্নবান নয়। হাসাদ (হিংসা), ক্বিবর (অহংকার) ও রিয়া থেকে অন্তরকে মুক্ত না রাখলে ইবাদত কেবল প্রথাগত অনুশীলনে পরিণত হয়, যা ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে না। তাই যেকোনো ভালো কাজ শুরুর পূর্বেই নিয়তকে খাঁটি করে নিতে হবে।”
বাদ আসর থেকে শুরু হয়ে গভীর রাত পর্যন্ত চলমান মাহফিলে অন্যান্যের মধ্যে আরও আলোচনা করেন বাংলাদেশ জমইয়াতে হিযবুল্লাহর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোঃ হেমায়েত বিন তৈয়্যেব, ছারছীনা দারুচ্চুন্নাত জামেয়ায়ে নেছারীয়া দীনিয়ার নায়েবে মুদীর মাওলানা মোঃ মামুনুল হক, হযরত পীর ছাহেব কেবলার সফরসঙ্গী মাওলানা মোঃ মোহেব্বুল্লাহ আল মাহমুদ প্রমূখ।
মাহফিল শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর হেদায়েত, ঐক্য এবং দেশ ও জাতির সার্বিক শান্তি-কল্যাণ কামনা করে হযরত পীর ছাহেব কেবলা আভেরী মুনাজাত পরিচালনা করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ