প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চাঁদপুরে ‘চর্যাপদ একাডেমি সাহিত্য উৎসব-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। এই উৎসবে সাহিত্যের বিভিন্ন শাখায় অবদান রাখার জন্য সাতজন সাহিত্যিককে দোনাগাজী পদক প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর শহরের সাংবাদিক ক্লাবের রেডরোজ হলে সকাল ১১টায় অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক এবং বরেণ্য নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা।
আয়োজনটির সভাপতিত্ব করেন একাডেমির সভাপতি আয়েশা আক্তার রুপা, এবং মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি ও জুড়িবোর্ডের সদস্য সচিব শিউলী মজুমদার অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক পরিচালক, দেশের খ্যাতনামা কবি এবং ডেইলি এক্সপ্রেস দেশের কণ্ঠের উপদেষ্টা সম্পাদক নাসির আহমেদ।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্য রাখেন জলছবি সম্পাদক কবি জামসেদ ওয়াজেদ এবং জলধি সম্পাদক কথাসাহিত্যিক নাহিদা আশরাফী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিজয়ী-এর ফাউন্ডার তানিয়া ইশতিয়াক খান, ইয়ূথ ফোরাম বাংলাদেশের কো-অর্ডিনেটর আলেয়া বেগম লাকী, কবি আসাদুল্লা কাহাফ, এবং উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব দিলীপ ঘোষ স্বাগত বক্তৃতা দেন।
প্রধান অতিথি নাসির আহমেদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি প্রদত্ত পুরস্কারগুলো সম্পর্কে আমি আগে থেকেই অবগত। এই পুরস্কারের সুনাম আমাকে মুগ্ধ করেছে। আমি মনে করি, এ পুরস্কার এখন দেশের গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কারের একটি হিসেবে গণ্য করা হয়।"
তিনি কবি সোহরাব পাশা এবং অন্যান্য সাহিত্যিকদের অভিনন্দন জানান এবং সাহিত্য শিল্প সাধনার বিষয় নিয়ে চর্যাপদ একাডেমি নতুন শিল্পী গড়ে তুলবে এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
নাট্য গবেষক মোস্তফা কামাল যাত্রা মন্তব্য করেন, "চাঁদপুরের ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব মধ্যযুগের কবি দোনাগাজীকে থিয়েটারে আনা যায় কি না সেটা এখন ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমি মনে করি, দোনাগাজীকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার উদ্যোগ এখন সময়ের দাবি।"
মহাপরিচালক রফিকুজ্জামান রণি জানান, ২০১৯ সাল থেকে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমি নিয়মিতভাবে এই পদক প্রদান করে আসছে। এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতি বছর দেশের বিভিন্ন জেলার লেখক ও শিল্পীরা চাঁদপুর শহরে পদচারণা করেন।
প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে রণি বলেন, "মধ্যযুগের কবি দোনাগাজী ছিলেন চাঁদপুরের কৃতিসন্তান। তার নামে চাঁদপুরে স্থাপনা নির্মাণ করে রাষ্ট্রীয়ভাবে দোনাগাজীর স্মৃতি ধরে রাখার দাবি জানাচ্ছি।"
পরে সাহিত্য উৎসবে দেশের সাত বিশিষ্ট ব্যক্তির হাতে চর্যাপদ সাহিত্য একাডেমির ‘দোনাগাজী পদক ২০২৫ ও ২০২৬’ তুলে দেওয়া হয়।
পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন- সোহরাব পাশা (২০২৫-কবিতা), ইশরাত তানিয়া (কথাসাহিত্য), স. ম. শামসুল আলম (শিশুসাহিত্য), রনক রায়হান (সংগীত), শিবলী মোকতাদির (২০২৬-কবিতা), অমল সেনগুপ্ত (চারুকলা) এবং সৈয়দা আঁখি হক (লোক-গবেষণা)।
এছাড়াও প্রশংসাপত্র প্রদান করেন জয়ন্তী ভৌমিক, কামরুন্নাহার বিউটি, দুখাই মুহাম্মাদ, মিজানুর রহমান স্বপন, রাসেল ইব্রাহীম ও ফেরারী প্রিন্স।
বেলাল শেখের বাঁশির সুরে কবিতা আবৃত্তি করেন বাচিকশিল্পী আবু বকর সিদ্দিক, দিপান্বিতা দাস ও মৃন্ময়ী মজুমদার।
অনুষ্ঠানে দোনাগাজীর বংশধর নাসিমা খাতুন লাকীসহ অন্যান্যদের হাতে শুভেচ্ছা উপহার তুলে দেওয়া হয় এবং উদযাপন পরিষদের সমন্বয়ক আইরিন সুলতানা লিমার তত্ত্বাবধানে একটি চমৎকার শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন