বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪১ এম
দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে প্রবাসী আয়। সদ্য শেষ হওয়া আগস্ট মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে ২৯৬ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রতি ডলার ১২১ টাকা ধরে, এই পরিমাণ প্রায় ৩৫ হাজার ৮৬০ কোটি টাকা।
আগের বছরের একই মাসে দেশে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার। এই হিসাবে, এক বছরের ব্যবধানে আগস্ট মাসে প্রবাস আয় বেড়েছে প্রায় ৫৪ কোটি ৪৭ লাখ ডলার, যা শতাংশের হিসাবে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
তবে, রেমিট্যান্সের এই স্বস্তির মধ্যে আগস্ট মাসে ৭টি ব্যাংকে কোনো প্রবাস আয় আসেনি। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত রেমিট্যান্স সংক্রান্ত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, আগস্টে রেমিট্যান্স প্রবাহ শুধু গত বছরের একই মাসের তুলনায় বাড়েনি, বরং আগের মাস জুলাইয়ের তুলনাতেও বেড়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে দেশে এসেছিল ২৮৫ কোটি ৮৭ লাখ ডলার। ফলে, এক মাসের ব্যবধানে আগস্টে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।
যেসব ব্যাংকে রেমিট্যান্স আসেনি
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক (১টি) : বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি।
বিশেষায়িত ব্যাংক (১টি) : রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব)।
বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক (২টি) : আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক এবং পদ্মা ব্যাংক পিএলসি।
বিদেশি বাণিজ্যিক ব্যাংক (৩টি) : ব্যাংক আল-ফালাহ, হাবিব ব্যাংক লিমিটেড এবং স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া।
এছাড়াও, ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান কোনো রেমিট্যান্স সংগ্রহ করতে পারেনি।
অপরদিকে, বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২ হাজার ২৩৪ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ প্রায় ৫৫০ কোটি ৮৯ লাখ, ব্র্যাক ব্যাংক প্রায় ২৫২ কোটি ৮১ লাখ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক প্রায় ২১১ কোটি ৪৯ লাখ ডলার রেমিট্যান্স সংগ্রহ করেছে। বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে আগস্টে এসেছে প্রায় ৬ কোটি ৭৪ লাখ ডলার।
সরকারি ব্যাংকে এসেছে ৪৩৩ কোটি ডলার
বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকভিত্তিক হিসাবেও রেমিট্যান্স প্রবাহের একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র পাওয়া যায়। আগস্ট মাসে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে দেশে এসেছে প্রায় ৪৩৩ কোটি ৪৬ লাখ ডলার। এর মধ্যে অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ১৬২ কোটি ৮ লাখ ডলার, সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ১৩৯ কোটি ৯১ লাখ এবং জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ৭৯ কোটি ৩১ লাখ ডলার। বিশেষায়িত ব্যাংকগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের মাধ্যমে এসেছে প্রায় ২৯১ কোটি ৯১ লাখ ডলার।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে বন বিভাগ অবৈধ করাতকলের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানের অংশ হিসেবে, উপজেলার একটি ইউনিয়নে ৭টি করাতকলের কোন কাগজপত্র না থাকার কারণে সেগুলো সিলগালা করে দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এই সময় সংরক্ষিত বনের কাঠ এবং করাতকলের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় চুনারুঘাটের শানখলা ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযানের নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তৌফিক আনোয়ার এবং সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীন।
বন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চুনারুঘাট উপজেলা একটি পাহাড়ি এলাকা হওয়ার কারণে এখানে বহু অবৈধ করাতকল গড়ে উঠেছে। অবৈধ করাতকল বন্ধ করতে বন বিভাগ অভিযান চালায়, যেখানে উপজেলা প্রশাসন সহযোগিতা করে।
হবিগঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক জয়নাল আবেদীন জানান, লাইসেন্সবিহীন ৭টি করাতকল সিলগালা করে তাদের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একই সাথে, অবৈধ করাতকল পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করার নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু) বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। জানা গেছে, তার ফুসফুসে ইনফেকশন হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টায় রাজধানীর শাহবাগে অবস্থিত ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে তাকে ভর্তি করা হয়।
মন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী আবদুল্লা আল কায়েস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, গত কয়েকদিন ধরে মন্ত্রী ঠান্ডা, জ্বর ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। মঙ্গলবার শ্বাসকষ্টের মাত্রা কিছুটা বেড়ে যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তার ফুসফুসে ইনফেকশন রয়েছে এবং তিনি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার কারণে কাতার এনার্জি বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া এই গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকলে ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। তবে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উচ্চ দামেও কার্গো পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব কারণে চলমান গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। কাতার এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হয়ে থাকে। ওমানের সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে দীর্ঘ সময় গ্যাস পাওয়া যায়। স্পট মার্কেটের মতো প্রতিদিন দামের বড় ওঠানামার ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে কম।
কিন্তু হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাই এখন বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। কাতারের এলএনজি রপ্তানির বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে কাতার থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতার সরবরাহ বন্ধ রাখে। জুলাইয়ে কাতার থেকে একটি কার্গো বাংলাদেশে এলেও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সর্বশেষ অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে কাতারের সরবরাহের মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাই আপাতত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে নিয়মিত কার্গো পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) ও অপারেশনের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ জানান, কাতার এনার্জির কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি পেট্রোবাংলা। এর আগে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে কাতার অনিবার্য পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। তিনি বলেন, "আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আপাতত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা ছাড়া তেমন বিকল্প নেই।"
স্পট মার্কেটে কার্গো নিয়ে সংকট
কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ার মধ্যে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তবে সেখানেও কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহের জন্য এলএনজি কিনতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও ৮-৯ সেপ্টেম্বর সরবরাহের একটি কার্গোর জন্য কোনো সরবরাহকারী প্রস্তাব দেয়নি। একইভাবে ১-২ অক্টোবর সরবরাহের জন্য আহ্বান করা কার্গোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য দুটি কার্গোর প্রস্তাব পাওয়া গেলেও দাম চাওয়া হয় অস্বাভাবিক বেশি। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম চাওয়া হয় ২৫ দশমিক ৯২ ডলার।
এ পরিপ্রেক্ষিতে চারটি কার্গোর জন্য আবারও দর প্রস্তাব চেয়েছে পেট্রোবাংলা। গত সোমবার জারি করা এক নোটিশে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চারটি কার্গোর জন্য মূল্য প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, ৮-৯ সেপ্টেম্বর, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর, ১-২ অক্টোবর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য এসব কার্গো কেনা হবে। প্রতিটি কার্গোর দর প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব দিতে হবে এলএনজি স্পট পারচেজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকে এলএনজির দাম রয়েছে প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলারের মধ্যে। এর চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ডলার বেশি দামে কার্গো কেনা হলে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে। খুব অল্প সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে কিছুটা বেশি দাম স্বাভাবিক হলেও এত বড় ব্যবধানকে অস্বাভাবিক মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মাসে ১০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে সাত থেকে আটটি স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বিপরীতে ওই গ্যাস বিক্রি করে সরকার পায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্গোতে লোকসান হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে প্রতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই সরকারের বাড়তি লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
এরই মধ্যে আগস্টের এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলাকে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের জন্যও বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে চলতি বছরে এলএনজি আমদানিতে সরকারের লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট
দেশে প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট চলছে। দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি জুলাই-আগস্ট মাসে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়। পরে টার্মিনাল চালু হলেও কার্গো নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে।
গতকাল রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি বা আরএলএনজি ৭০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। অথচ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট।
বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৭০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হলেও টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করা গেলেও জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
শিল্পে বাড়ছে উৎকণ্ঠা
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ শিল্পে পড়ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।
কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং স্পট মার্কেট থেকেও প্রয়োজনীয় সময়ে কার্গো পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিল্পে সংকট আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সামনে এলএনজি সরবরাহে বড় কোনো স্বস্তি না এলে গ্যাসনির্ভর শিল্পে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কারখানা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ কম। ২০ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শিল্প পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে এরই মধ্যে দুটি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। আরও পাঁচটি কারখানার গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
ভালুকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং ও সিরামিক শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটিও দেওয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশ বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।
তিতাস গ্যাসের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংকটের সময়ে শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনও ৬০ থেকে ৯০ পিএসআই পর্যন্ত উঠলেও স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। তাই গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন শুধু উৎপাদন কমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাইযোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ডের পর সিআইডিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, নির্বাহী সদস্য সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, তিনি জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চেক না পেয়ে তিনি রাজধানীর বাংলামোটর এনসিপি অফিসে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, জুলাই আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, তাসনিম জারা, স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান।
তারা তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দেওয়া হবে। কিন্তু উল্লিখিত আসামিরা ‘আজ না, কাল’ বলে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। ২০২৫ সালের ৩ মে চেক নিতে গেলে আসামিরা জানান, চেকের ৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলেই ব্যাংক থেকে ক্যাশ করে চেক নিতে পারবেন। বাদী গিয়াস উদ্দিন ৫০ শতাংশ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে কৌশলে গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখলে শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। পরে বাদীকে ফেলে দিলে রডের সাথে গিয়ে তার মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরে এলে তিনি দেখতে পান, তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে বের করে দেয়। এরপর তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বাদী তার অভিযোগে আরও বলেন, থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করছে। এর আগে আরো একজন একই অভিযোগে মামলা করেছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ