বুধবার, ২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৬:৩৬ এম
হরমুজ প্রণালি ঘিরে চলমান অস্থিরতার কারণে কাতার এনার্জি বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ বন্ধের মেয়াদ আরও বাড়িয়েছে। এর ফলে কাতার থেকে এলএনজি সরবরাহ কবে স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তুলনামূলক কম দামে পাওয়া এই গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকলে ঘাটতি পূরণে বাংলাদেশের স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। তবে স্পট মার্কেট থেকে কার্গো পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। উচ্চ দামেও কার্গো পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব কারণে চলমান গ্যাস সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির অন্যতম প্রধান উৎস কাতার। কাতার এনার্জির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় এলএনজি আমদানি করা হয়ে থাকে। ওমানের সঙ্গেও রয়েছে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি। এই চুক্তির সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে দীর্ঘ সময় গ্যাস পাওয়া যায়। স্পট মার্কেটের মতো প্রতিদিন দামের বড় ওঠানামার ঝুঁকি এ ক্ষেত্রে কম।
কিন্তু হরমুজ প্রণালি ঘিরে অস্থিরতায় সেই সরবরাহ ব্যবস্থাই এখন বড় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। এলএনজি বহনকারী জাহাজ চলাচলের জন্য হরমুজ প্রণালি একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। কাতারের এলএনজি রপ্তানির বড় অংশ এই পথের ওপর নির্ভরশীল। সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে কাতার থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চলতি বছরের মার্চে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে এলএনজি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কাতার সরবরাহ বন্ধ রাখে। জুলাইয়ে কাতার থেকে একটি কার্গো বাংলাদেশে এলেও দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। সর্বশেষ অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে কাতারের সরবরাহের মেয়াদ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তাই আপাতত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় কাতার থেকে নিয়মিত কার্গো পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (পিএসসি) ও অপারেশনের চলতি দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী শোয়েব আহমেদ জানান, কাতার এনার্জির কাছ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি পায়নি পেট্রোবাংলা। এর আগে ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির অস্থিরতার কারণে কাতার অনিবার্য পরিস্থিতির কথা জানিয়ে বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে এলএনজি সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। তিনি বলেন, "আবারও এমন পরিস্থিতি হলে আপাতত স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনা ছাড়া তেমন বিকল্প নেই।"
স্পট মার্কেটে কার্গো নিয়ে সংকট
কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হওয়ার মধ্যে ঘাটতি পূরণে স্পট মার্কেটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে। তবে সেখানেও কার্গো পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে সরবরাহের জন্য এলএনজি কিনতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হলেও ৮-৯ সেপ্টেম্বর সরবরাহের একটি কার্গোর জন্য কোনো সরবরাহকারী প্রস্তাব দেয়নি। একইভাবে ১-২ অক্টোবর সরবরাহের জন্য আহ্বান করা কার্গোর বিষয়ে কোনো প্রস্তাব পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য দুটি কার্গোর প্রস্তাব পাওয়া গেলেও দাম চাওয়া হয় অস্বাভাবিক বেশি। প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম চাওয়া হয় ২৫ দশমিক ৯২ ডলার।
এ পরিপ্রেক্ষিতে চারটি কার্গোর জন্য আবারও দর প্রস্তাব চেয়েছে পেট্রোবাংলা। গত সোমবার জারি করা এক নোটিশে ৩০টি প্রতিষ্ঠানের কাছে চারটি কার্গোর জন্য মূল্য প্রস্তাব দিতে বলা হয়েছে। নোটিশ অনুযায়ী, ৮-৯ সেপ্টেম্বর, ২৫-২৬ সেপ্টেম্বর, ১-২ অক্টোবর এবং ৫-৬ অক্টোবর সরবরাহের জন্য এসব কার্গো কেনা হবে। প্রতিটি কার্গোর দর প্রস্তাব জমা দেওয়ার শেষ সময় আজ বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে ১০টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রস্তাব দিতে হবে এলএনজি স্পট পারচেজ সফটওয়্যারের মাধ্যমে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্র বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকে এলএনজির দাম রয়েছে প্রতি ইউনিট ২২ দশমিক ৯৫ থেকে ২৩ দশমিক ৫০ ডলারের মধ্যে। এর চেয়ে প্রায় ২ থেকে ৩ ডলার বেশি দামে কার্গো কেনা হলে সরকারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হবে। খুব অল্প সময়ে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হলে কিছুটা বেশি দাম স্বাভাবিক হলেও এত বড় ব্যবধানকে অস্বাভাবিক মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মাসে ১০টি এলএনজি কার্গোর মধ্যে সাত থেকে আটটি স্পট মার্কেট থেকে কিনতে হচ্ছে। স্পট মার্কেটে প্রতি কার্গোর জন্য ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১ হাজার ১০০ কোটি টাকা। বিপরীতে ওই গ্যাস বিক্রি করে সরকার পায় প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতি কার্গোতে লোকসান হচ্ছে ৭০০ কোটি টাকার বেশি। এ হিসাবে প্রতি মাসে স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কিনতেই সরকারের বাড়তি লোকসান দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকা।
এরই মধ্যে আগস্টের এলএনজি আমদানির জন্য পেট্রোবাংলাকে ৪ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে সরকার। সেপ্টেম্বরের জন্যও বড় অঙ্কের ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেশি থাকলে চলতি বছরে এলএনজি আমদানিতে সরকারের লোকসান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট
দেশে প্রায় দুই মাস ধরে গ্যাস সংকট চলছে। দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের একটি জুলাই-আগস্ট মাসে দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকায় সংকট আরও তীব্র হয়। পরে টার্মিনাল চালু হলেও কার্গো নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দেয়। একই সময়ে দেশীয় গ্যাস উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে কমছে।
গতকাল রাত ৮টার তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩২ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় গ্যাস ১৬১ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট এবং আমদানি করা এলএনজি বা আরএলএনজি ৭০ কোটি ৮০ লাখ ঘনফুট। অথচ দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৪০০ কোটি ঘনফুট।
বর্তমানে দুটি ভাসমান টার্মিনাল থেকে দৈনিক ৭০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস সরবরাহ করা হলেও টার্মিনাল দুটির সম্মিলিত সক্ষমতা প্রায় ১১০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করা গেলেও জাতীয় গ্যাস ব্যবস্থায় বড় ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে।
শিল্পে বাড়ছে উৎকণ্ঠা
গ্যাস সংকটের সবচেয়ে বড় চাপ শিল্পে পড়ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানাগুলো প্রয়োজনীয় গ্যাস না পাওয়ায় উৎপাদন কমাতে বাধ্য হচ্ছে। অনেক কারখানায় উৎপাদন বন্ধ বা ছুটি ঘোষণা করতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনাও ঘটছে।
কাতারের দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ অনিশ্চিত হয়ে পড়া এবং স্পট মার্কেট থেকেও প্রয়োজনীয় সময়ে কার্গো পাওয়া নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিল্পে সংকট আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। সামনে এলএনজি সরবরাহে বড় কোনো স্বস্তি না এলে গ্যাসনির্ভর শিল্পে উৎপাদন আরও কমে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন করে কারখানা বন্ধের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
ময়মনসিংহের ভালুকা শিল্পাঞ্চলেও গ্যাস সংকটে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে গ্যাসের চাপ কম। ২০ আগস্টের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। শিল্প পুলিশ এবং কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গ্যাসের অভাবে এরই মধ্যে দুটি কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। আরও পাঁচটি কারখানার গ্যাসনির্ভর ইউনিট বন্ধ রয়েছে। শিল্পাঞ্চলের প্রধান কারখানাগুলোর উৎপাদন গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে।
ভালুকায় ছোট-বড় দুই শতাধিক কারখানার মধ্যে ৯৯টি গ্যাসনির্ভর। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় টেক্সটাইল, স্পিনিং, ডাইং ও সিরামিক শিল্প সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। গ্যাসনির্ভর কারখানায় উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি শ্রমিকদের ধাপে ধাপে ছুটিও দেওয়া হচ্ছে। শিল্প পুলিশ বলছে, সংকট দীর্ঘায়িত হলে শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কা রয়েছে।
তিতাস গ্যাসের ভালুকা আঞ্চলিক কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, সংকটের সময়ে শিল্পাঞ্চলে গ্যাসের চাপ ৩০ থেকে ৫০ পিএসআইয়ে নেমে আসে। কখনও ৬০ থেকে ৯০ পিএসআই পর্যন্ত উঠলেও স্বাভাবিক উৎপাদনের জন্য তা পর্যাপ্ত নয়। তাই গ্যাস সংকটের প্রভাব এখন শুধু উৎপাদন কমার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; কারখানা বন্ধ ও কর্মসংস্থান ঝুঁকির আশঙ্কাও বাড়ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের ১৪ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মারধরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাইযোদ্ধার কাছে চাঁদা দাবি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালতে এই মামলা দায়ের করেন জুলাইযোদ্ধা গিয়াস উদ্দিন।
আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ডের পর সিআইডিকে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার আসামিদের মধ্যে রয়েছেন—ফাউন্ডেশনের সিনিয়র ভেরিফিকেশন অফিসার ইফতেখার হোসেন, নির্বাহী সদস্য সাবরিনা আফরোজ সেবন্তী, সাইদুর রহমান শাহিদ, মেহেদী হাসান প্রিন্স, সাগর, আফজালু রহমান সায়েম, হারুন অর রশীদ, কামরুল হোসেন, আলিফ, জাহিদ, মোমেনুজ্জামান দিপু, সাজ্জাদ মোস্তফা, ফাতেমা আফরিন পায়েল ও ইয়াছিন মোল্লা।
মামলার বাদী গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করেন যে, তিনি জুলাইযোদ্ধা হিসেবে জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে চেক নিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু চেক না পেয়ে তিনি রাজধানীর বাংলামোটর এনসিপি অফিসে গিয়ে ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক সারজিস আলম, জুলাই আন্দোলনের নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ, তাসনিম জারা, স্নিগ্ধকে বিষয়টি জানান।
তারা তাকে আশ্বস্ত করে জানান যে, জুলাই ফাউন্ডেশনে গেলে চেক দেওয়া হবে। কিন্তু উল্লিখিত আসামিরা ‘আজ না, কাল’ বলে সময় ক্ষেপণ করতে থাকে। ২০২৫ সালের ৩ মে চেক নিতে গেলে আসামিরা জানান, চেকের ৩ লাখ টাকার ৫০ শতাংশ অর্থাৎ দেড় লাখ টাকা দিলেই ব্যাংক থেকে ক্যাশ করে চেক নিতে পারবেন। বাদী গিয়াস উদ্দিন ৫০ শতাংশ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে আসামিরা তাকে কৌশলে গোপন কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে প্রিন্স ও সাগর তার দুই হাত ধরে রাখলে শাহিদ ও সায়েম তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। পরে বাদীকে ফেলে দিলে রডের সাথে গিয়ে তার মাথায় আঘাত লাগে। এতে তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। পরে জ্ঞান ফিরে এলে তিনি দেখতে পান, তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। চিৎকার ও কান্নাকাটি করলে শাহিদ, সায়েম ও কামরুল কিল-ঘুষি দিয়ে তাকে বের করে দেয়। এরপর তার ছেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়।
বাদী তার অভিযোগে আরও বলেন, থানা কর্তৃপক্ষ মামলা না নিয়ে কালক্ষেপণ করছে। এর আগে আরো একজন একই অভিযোগে মামলা করেছে, যা তদন্তাধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ দেশব্যাপী নানা কর্মসূচি, উৎসাহ-উদ্দীপনা এবং দলের নেতা-কর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতির মাধ্যমে পালিত হয়েছে।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দলটি দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জিয়া উদ্যানে দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। একই সঙ্গে সেখানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতেও শ্রদ্ধা জানানো হয়।
সকালে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জিয়া উদ্যানে উপস্থিত হন। এ সময় তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
পরে, তিনি ফাতেহা পাঠ করেন এবং দলের প্রয়াত প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত চেয়ারপার্সনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন।
এ সময় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সেলিমা রহমান, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানিসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের নেতৃবৃন্দকে সঙ্গে নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধি প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জিয়া উদ্যানের লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সমাধি প্রাঙ্গণে নেতা-কর্মীদের প্রবেশের সুযোগ উন্মুক্ত হলে সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঢল নামে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে আসা নেতা-কর্মীরা বিভিন্ন স্লোগানে জিয়া উদ্যানের সমাধি প্রাঙ্গণকে মুখরিত করে তোলে।
‘শুভ শুভ শুভ দিন, বিএনপির জন্মদিন’, ‘এক জিয়া লোকান্তরে, লক্ষ জিয়া ঘরে ঘরে’-এমন নানা স্লোগানে পুরো এলাকা উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। দলীয় নেতা-কর্মীদের হাতে ছিল জাতীয় ও দলীয় পতাকা, ব্যানার এবং ফেস্টুন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে ঘিরে তাদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে শেরেবাংলা নগরে সমবেত হন। সময়ের সাথে সাথে সমাধি প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি আরও বাড়তে থাকে।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দিবসের সূচনায় ভোরে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়, গুলশানে চেয়ারম্যানের কার্যালয়সহ সারাদেশে দলের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় দিনব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প ও ওষুধ বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সকালে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। ক্যাম্পে আগত রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে সরবরাহ করা হয়।
এ ছাড়া প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আগামীকাল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ মিলনায়তনে ‘বিএনপি প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্য ও তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দের পাশাপাশি দেশের বরেণ্য বুদ্ধিজীবীরাও এতে অংশ নেবেন।
এদিকে, বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আজ সারা দেশে জেলা ও মহানগর বিএনপি এবং দলের বিভিন্ন ইউনিটের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল, বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠিত বিএনপি চার দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের পর তাঁর সহধর্মিণী বেগম খালেদা জিয়া এবং বর্তমানে তাঁদের জ্যেষ্ঠ পুত্র তারেক রহমান দলটির নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই দিনে দলটির নেতা-কর্মীরা অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রাম ও অর্জনের স্মৃতি স্মরণ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের পথচলায় নতুন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাভার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও আশুলিয়া থানা পুলিশ পৃথক অভিযানে আশুলিয়ায় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ১১ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম আজ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। অভিযানের স্থানগুলো ছিল আশুলিয়ার ইয়ারপুর, বড়টেক মধুপুর, শ্রীপুর, কাইচাবাড়ী এবং চানপুর।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন- আশুলিয়া থানার তাজপুর এলাকার মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে আহাম্মদ আলী (৪০), কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থানার পাঁচপাড়া (চান্দপুর, মুন্সিবাড়ী) এলাকার জাহাঙ্গীর আলম মুন্সির ছেলে মো. সাগর মুন্সি (৩৫), আশুলিয়া থানার কলতাসূতি এলাকার মো. আবু তালেব মোল্লার ছেলে মিলন মোল্লা (৩০), রাজবাড়ীর পাংশা থানার শরিষা এলাকার শাহাজাহান ঢালির মেয়ে রাশিদা আক্তার রাশু (২৫), সাভার মডেল থানার আড়াপাড়া এলাকার মৃত তারা রাজবংশীর ছেলে শ্যামল রাজবংশী (৩২), মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার আবু ডাঙ্গা এলাকার মৃত তছলিম উদ্দিনের ছেলে মো. জাফর শেখ (৪৫), সাভার মডেল থানার মজিদপুর এলাকার ফুলচাঁন বেপারীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৪৫), গাজীপুরের কালিয়াকৈরের নিজামুদ্দিনের ছেলে রুবেল (৪০), নাটোরের নলডাঙা থানার আসমান প্রধানের ছেলে শামীম মিয়া (৪৫), রংপুরের মিঠাপুকুরের নুরুন্নবীর ছেলে রাসেল (৩৮) এবং গোপালগঞ্জ সদরের মৃত সিদ্দিক শেখের ছেলে পারভেজ (২৮)।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় আহাম্মদ আলী, সাগর মুন্সি, মিলন মোল্লা, রাশিদা আক্তার রাশু, শ্যামল রাজবংশী, জাফর শেখ এবং সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ১০০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট এবং ৫ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
আশুলিয়া থানা পুলিশ অপর এক পৃথক অভিযানে আশুলিয়ার চানপুর এলাকায় রুবেল, শামীম মিয়া, রাসেল এবং পারভেজকে গ্রেফতার করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ১২০ পিছ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।
ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতরা একাধিক মাদক মামলার আসামি। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী জেলার বাজারে নারীর প্রতি অশ্লীল ভাষা ব্যবহার এবং শারীরিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এই কর্মসূচির আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজবাড়ী জেলা শাখা।
জেলা সহ-সভাপতি শাহিনা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সদস্য ও সাবেক মাধ্যমিক জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আজিজা খানম, মহিলা পরিষদের সদস্য আইনজীবী নাজমা খাতুন এবং সদস্য কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, "প্রকাশ্যে এভাবে নারীকে নির্যাতন মানে একজন মায়ের চরম অপমান। আমরা আর এ ধরনের ঘটনা দেখতে চাই না।"
এছাড়া বক্তারা নারীর ওপর হামলাকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ