ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪.৯১ শতাংশ কমেছে


ফ্রান্সে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ৪.৯১ শতাংশ কমেছে

ইউরোপের বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি বৃদ্ধি পেলেও ফ্রান্সে তা ৪.৯১ শতাংশ কমেছে। দেশটিতে রপ্তানি আয় নেমে এসেছে ৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারে। ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, ইউরোপে পোশাকের চাহিদার হ্রাস এবং ক্রেতাদের তীব্র দরকষাকষি এই খাতের অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ইইউর বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি ৩.৩৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে বাজারভেদে রপ্তানির চিত্রে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য। একই সময়ে স্পেনে রপ্তানি বেড়েছে ১৩.৭৩ শতাংশ, যার পরিমাণ ১১৪ কোটি ৮৪ লাখ ডলার।

এদিকে ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি-আগস্ট সময়ে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি আয় ১১.৬৭ শতাংশ কমেছে। রপ্তানির পরিমাণও ৪.৫৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। একই সময়ে গড় রপ্তানিমূল্য কেজিপ্রতি ১৪.৮৭ ইউরো থেকে কমে ১৩.৭৬ ইউরো হয়েছে। অর্থাৎ, কম পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি আগের তুলনায় কম দামে পোশাক বিক্রি করায় আয় ও মুনাফার ওপর চাপ বাড়ছে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বিএফআইইউ

বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘রপ্তানি প্রবৃদ্ধি কিছুটা মন্থর থাকা অবস্থায় ফ্রান্সের রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা নতুন উদ্বেগ বাড়িয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবেলায় সদস্যদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি নতুন বাজার সম্প্রসারণ ও পণ্যের বহুমুখীকরণে কাজ করছি, যাতে কোনো একটি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।’

এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়ছে কারখানার উৎপাদন ও শ্রমিকদের আয়ে। গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানার সুইং অপারেটর রহিমা খাতুন বলেন, আগে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত কাজ করে বাড়তি আয় করা যেত। এখন অনেক দিন বিকেল ৫টার মধ্যেই কারখানা ছুটি হয়ে যাচ্ছে। ওভারটাইম কমে যাওয়ায় সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

রপ্তানিকারকদের মতে, এ চাপ সামলাতে নতুন বাজার খোঁজা, উচ্চমূল্যের পোশাক উৎপাদন, পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।

আরও পড়ুন: রেমিট্যান্স ও ডিজিটাল সেবা বৃদ্ধিতে ওয়ান ব্যাংক ও নগদের চুক্তি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস উদযাপন করছে বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস উদযাপন করছে বিশ্ব

আজ ২৪ অক্টোবর, জাতিসংঘ দিবস। ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সনদ কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে সংস্থাটির কার্যক্রম শুরু হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা এবং লিগ অব নেশনসের ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার মূল উদ্দেশ্য ছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শান্তি প্রতিষ্ঠা, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে গঠিত এই সংস্থাটি ৮১ বছরে পদার্পণ করেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানে (নিউইয়র্ক) অবস্থিত এই সংস্থাটির নামকরণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্রাঙ্কলিন ডি রুজভেল্টের দ্বারা করা হয়। বর্তমানে জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৩। জাতিসংঘের মহাসচিব প্রধান নির্বাহী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে জাতিসংঘের মহাসচিব হলেন পর্তুগালের নাগরিক আন্তোনিও গুতেরেস।

স্বাধীনতার পর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের উদ্যোগ গ্রহণ করে বাংলাদেশ। ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়। এরপর থেকে বহুপক্ষীয় কূটনীতি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে দেশটি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষাক্রমে নতুন ৪ বই যুক্ত, বদলাবে শিখনপদ্ধতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৬ এম


শিক্ষাক্রমে নতুন ৪ বই যুক্ত, বদলাবে শিখনপদ্ধতি

২০২৭ শিক্ষাবর্ষে চতুর্থ ও ষষ্ঠ শ্রেণিতে নতুন চারটি পাঠ্যবই যুক্ত হতে যাচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এই বইগুলো প্রণয়ন করেছে, যা মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ, সৃজনশীলতা, নৈতিকতা এবং বাস্তবমুখী দক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।

নতুন বইগুলোর মধ্যে চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ ও ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ও ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আগামী ২৫ অক্টোবর জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসি) সভায় বইগুলোর চূড়ান্ত অনুমোদন প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার পর চারটি বইয়ের প্রায় দেড় কোটি কপি ছাপানো হবে।

এনসিটিবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে আনন্দময় শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতিচর্চা ও হাতে-কলমে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে বইগুলো তৈরি করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন উল্লেখ করেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক শিষ্টাচার, পারিবারিক সংস্কৃতি ও সুনাগরিকের গুণাবলি গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এনসিটিবি বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জানান, নতুন চারটি বইয়ের পাণ্ডুলিপি প্রণয়ন ও যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এনসিসির অনুমোদনের পর বইগুলো ছাপানোর জন্য পাঠানো হবে এবং আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে মুদ্রণকাজ শেষ করার আশা করা হচ্ছে।

চতুর্থ শ্রেণির ‘খেলাধুলা’ বইটি ১৪টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে, যেখানে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস ও দাবার নিয়মকানুনের পাশাপাশি আত্মরক্ষার কৌশল যেমন কারাতে, জুডো ও তায়কোয়ান্দোর বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। খেলাধুলার সময় আঘাত, নাক দিয়ে রক্ত পড়া ও হিট স্ট্রোকের মতো পরিস্থিতিতে করণীয়, প্রাথমিক চিকিৎসা, পুষ্টি ও সামাজিক দক্ষতা সম্পর্কেও ধারণা পাবে শিক্ষার্থীরা।

অন্যদিকে, ১১টি অধ্যায়ে সাজানো ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ বইয়ে ভাষা, পোশাক, শিল্পকলা, খাবার, সামাজিক রীতিনীতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে শিশুদের প্রতিভা অন্বেষণমূলক আয়োজন ‘নতুন কুঁড়ি’র ইতিহাস এবং ১৯৭৬ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে আয়োজনটি শুরুর তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ষষ্ঠ শ্রেণির ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটি ছয়টি অধ্যায়ে সাজানো হয়েছে। এতে পরীক্ষা ও মুখস্থনির্ভরতার বাইরে দৈনন্দিন অভিজ্ঞতা, পরিবেশ, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা, সৃজনশীলতা ও পারস্পরিক সম্পর্কের মধ্য দিয়ে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

আটটি অধ্যায়ের ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ বইয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার, সমস্যা সমাধান, ছোট উদ্যোগ, সবুজ প্রযুক্তি ও টেকসই জীবনযাপনের বিষয় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি বাস্তব কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।

এনসিটিবির সদস্য (শিক্ষাক্রম) অধ্যাপক এ কে এম শওকত আলী খান মন্তব্য করেন, নতুন বইগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পুঁথিগত বিদ্যার বাইরে আনন্দময় পরিবেশে বাস্তবমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেট্রো স্টেশনগুলোতে বসছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর ও লাগেজ স্ক্যানার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


মেট্রো স্টেশনগুলোতে বসছে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর ও লাগেজ স্ক্যানার

ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার জন্য নতুন দুটি সিস্টেম যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের আওতায়, প্রতিষ্ঠানটি সব মেট্রো রেল স্টেশনে আর্চওয়ে মেটাল ডিটেক্টর এবং লাগেজ স্ক্যানার স্থাপন করবে।

ডিএমটিসিএলের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, "অনাকাঙ্ক্ষিত যেকোনো ঘটনা প্রতিরোধ এবং যাত্রীদের ব্যাগ ও মালামাল সুনির্দিষ্টভাবে তল্লাশির জন্যই এই আধুনিক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।"

তথ্য অনুযায়ী, মেট্রো রেলের নিরাপত্তাসংক্রান্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক অনলাইন দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। গত ১৯ অক্টোবর, ডিএমটিসিএলের স্টোর অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ই-দরপত্র আহ্বান করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য ও আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে জাতীয় ই-গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টালে নিবন্ধনের মাধ্যমে ই-দরপত্র জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দরপত্রসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও বিস্তারিত তথ্য ই-জিপি পোর্টাল এবং কর্তৃপক্ষের নির্দিষ্ট হেল্পডেস্ক থেকে সংগ্রহ করা যাবে।

একই বিজ্ঞপ্তিতে এমআরটি লাইন-৬-এর ডিপোর বিদ্যুৎ বিভাগের সুবিধার্থে বার্ষিক রক্ষণাবেক্ষণ চুক্তির (এএমসি) বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আওতায় ডিপোতে স্থাপিত লো-ভোল্টেজ ব্যবস্থা, ডিজেল জেনারেটর সেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা বা ইউপিএস, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সাধারণ বৈদ্যুতিক কাজের বার্ষিক তদারকি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১১ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টার মধ্যে এই দরপত্রের প্রাথমিক প্রয়োজনীয় নথি কেনা যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঋণের বোঝা ও বনদস্যুদের শঙ্কায় পাইকগাছার জেলেদের সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি, নৌকা ও জাল গোছাতে ব্যস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ২৪শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


ঋণের বোঝা ও বনদস্যুদের শঙ্কায় পাইকগাছার জেলেদের সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি, নৌকা ও জাল গোছাতে ব্যস্ত

কিছু জেলে নৌকা মেরামত করছেন, কেউ আলকাতরা দিচ্ছেন, কেউ জাল সেলাই করছেন, আবার কেউ আলকাতরা মাখানো জাল শুকাতে দিচ্ছেন এবং লোহার কাছি নিয়ে টানাটানি করছেন। এভাবে খুলনার পাইকগাছার প্রতিটি জেলেপল্লীতে মাছ ধরার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ গোছাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন মৎস্যজীবীরা। এক সপ্তাহ পর, ৩০ অক্টোবর থেকে সাগরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন এখানকার জেলেরা। চলতি মৌসুমে এই উপজেলা থেকে প্রায় ৫ শতাধিক নৌকা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

জেলেরা ৫ থেকে ৬ মাস সাগরে অবস্থান করেন মাছ ধরার জন্য। এজন্য প্রতি নৌকার জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পুঁজির প্রয়োজন হয়, যা মূলত এনজিওর ঋণ এবং মহাজনের চড়া সুদের ওপর নির্ভরশীল। এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়েই তারা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বনদস্যুদের অত্যাচার এবং পারমিট নেওয়ার ক্ষেত্রে বন কর্মকর্তাদের বাড়তি টাকা দিতে হওয়ার মতো নানা শঙ্কার কথা প্রকাশ করেছেন জেলেরা।

আগামী ২৯ অক্টোবর শেষ হচ্ছে ইলিশ প্রজনন মৌসুমের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেই ৩০ অক্টোবর সাগরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন তারা। প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবন সংলগ্ন পাইকগাছার বোয়ালিয়া, বাঁকা, কাটিপাড়া, রাড়ুলী, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটী, কাশিমনগর ও আগড়ঘাটা জেলেপল্লী থেকে ৫ শতাধিক নৌকা সাগরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি নৌকা যায় বোয়ালিয়া হিতামপুর থেকে। জাল-দড়ি সেলাই, নৌকা মেরামত ও আলকাতরা মাখানোসহ চাল-ডাল গুছিয়ে নিতে দিন-রাত কাজ করছেন জেলে পরিবারের সদস্যরা।

বোয়ালিয়া জেলেপল্লীর সুবোল বিশ্বাস মন্তব্য করেন, সাগরে যাওয়ার জন্য প্রতিটি নৌকার জন্য ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পুঁজির প্রয়োজন হয়। এত টাকা আমাদের কারও কাছে নেই। এই টাকা এনজিওর ঋণ এবং মহাজনের কাছ থেকে চড়া সুদে সংগ্রহ করতে হয়। ফলে সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ আহরণ করতে না পারলে সামাজিক ও আর্থিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়।

সঞ্জয় বিশ্বাস নামের এক জেলে জানান, ইলিশ প্রজনন মৌসুমকে কেন্দ্র করে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময় যদি কমপক্ষে ১৫ দিন এগিয়ে নেওয়া হতো, তাহলে তারা আগেভাগে সাগরে যেতে পারতেন, এতে মৎস্যজীবীরা অনেক লাভবান হতেন।

বাঁকা এলাকার বিমল বিশ্বাস অভিযোগ করেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বনদস্যুদের অত্যাচারসহ নানা শঙ্কা নিয়ে তাদের সাগরে যেতে হয়। বন বিভাগের পারমিট নেওয়ার জন্য বন কর্মকর্তাদের বাড়তি টাকা দিতে হয়। নৌকা প্রতি ৩ থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়। এছাড়া মাছের ট্রলার নিয়ে যাওয়ার সময় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় বলে অভিযোগ করেন আরও অনেকে।

এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এ জেড এম হাছানুর রহমান বলেন, সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ শুধুমাত্র সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ পাস দিয়ে থাকে। এখানে এ ধরনের কোন সুযোগ নেই।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, পূর্ব বন বিভাগের অফিসে কোনো টাকা দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। এখানে কোনো কর্মকর্তা এ ধরনের টাকা নেন না। অন্য কোথাও অন্য কেউ নিয়ে থাকলে সেটা তার জানা নেই।

অনিয়ম, হয়রানি, অত্যাচার ও নির্যাতন বন্ধ হয়ে সব ধরনের শঙ্কামুক্ত পরিবেশে জেলেরা যেন সাগরে মাছ ধরতে পারেন-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%