ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ছদ্মবেশে র‍্যাব-৬ এর মিশন ও কথিত বন্দুকযুদ্ধ: বিএনপি নেতা মেহেদী হত্যাকাণ্ডের কলকাঠি নেড়েছিলেন কারা?


ছদ্মবেশে র‍্যাব-৬ এর মিশন ও কথিত বন্দুকযুদ্ধ: বিএনপি নেতা মেহেদী হত্যাকাণ্ডের কলকাঠি নেড়েছিলেন কারা?

ঢাকা থেকে ফেরা মাত্রই ভিক্ষুক সেজে ঘরে ঢুকে হামলা, জনরোষ এড়াতে পুলিশের 'মিথ্যা আশ্বাস'—২০০৪ সালের সেই রক্তাক্ত ২৫ অক্টোবরের নেপথ্যে কি তবে দলীয় কোন্দল ও টেন্ডার আধিপত্য?

 

২০০৪ সালের ২৫ অক্টোবর (রমজান মাস)। রাজধানী ঢাকা থেকে দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর সফর শেষে বরিশালের দক্ষিণ আলেকান্দার নিজ বাসভবনে ফেরেন ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও মহানগর যুবদলের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম মেহেদী। ঢাকার সফরক্লান্তি দূর করতে তিনি কেবলই গোসলে ঢোকার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, অন্যদিকে পরিবারে চলছিল মাগরিবের আজান ও ইফতারের আয়োজন। ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে এক অলৌকিক ও নৃশংস নাটকের রূপায়ন, যা আজও বরিশালবাসীর স্মৃতিতে এক বিভীষিকাময় অধ্যায় হয়ে আছে।

আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন

অভিযোগ রয়েছে, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৬ এর বরিশাল চাঁদমারিস্থ অস্থায়ী ক্যাম্পের একটি দল পরিকল্পিতভাবে ছদ্মবেশে মেহেদীর বাসভবনে প্রবেশ করে। স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, রোজা রাখার কথা বলে এবং ভিক্ষুক সেজে কয়েকজন ব্যক্তি প্রথমে বাসায় ঢোকে। মেহেদী তাদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে ইফতার করানোর নির্দেশ দেন। কিন্তু কিছুক্ষণ পরই বোঝা যায়, এরা অন্য কেউ নন—র‍্যাব-৬ এর ছদ্মবেশী সদস্য। তারা দ্রুত খবর পাঠায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো বাড়িটি ঘেরাও করে ফেলে র‍্যাবের একটি বড় দল।

অভিযোগ উঠেছে, কোনো রকম আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এবং কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই র‍্যাব সদস্যরা মেহেদীর ওপর চড়াও হয়। তৎকালীন সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল এবং প্রধান অপারেশনস অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার কে এম সাজ্জাদ হোসেনের নির্দেশে র‍্যাব-৬ এর একটি দল মেহেদীর ওপর প্রচণ্ড শারীরিক নির্যাতন চালায়। এতে তার দুই হাতের কবজি থেকে ডেনা ভেঙে যায়। পরবর্তীতে ফায়ারিং স্কোয়াডের মতো একতরফা গুলি চালিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। ঘটনার পর তৎকালীন সময়ে র‍্যাব আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করে যে, আভিযানিক দলের সঙ্গে গোলাগুলিতে অর্থাৎ 'বন্দুকযুদ্ধে' মেহেদী নিহত হয়েছেন।

মেহেদীকে নির্মমভাবে হত্যার খবর ছড়িয়ে পড়তেই ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের হাজার হাজার সাধারণ মানুষ তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে এবং পুরো বাড়ি ঘেরাও করে র‍্যাব টিমকে অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরিস্থিতির গাম্ভীর্য ও উত্তাপ বুঝতে পেরে র‍্যাব থানা ও পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স তলব করে। জনরোষ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পেরে তখন পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এক কৌশলী প্রতারণার আশ্রয় নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলা হয়, "মেহেদী গুরুতর আহত হয়েছেন, তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিতে হবে।" এরপর একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাকে এমনভাবে বসিয়ে ও তুলনামূলক স্বাভাবিক ভঙ্গিতে তুলে নেওয়া হয়, যাতে সাধারণ মানুষ বুঝতে না পারে যে প্রিয় কাউন্সিলর ইতোমধ্যে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। অ্যাম্বুলেন্সটি দ্রুত স্থান ত্যাগ করে মেহেদীর লাশ বরিশাল মর্গে রেখে আসে। ততক্ষণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা নিরাপদে ঘটনাস্থল ত্যাগ করতে সক্ষম হয়।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে কোস্ট গার্ডের সঙ্গে ‘দাদা ভাই বাহিনী’র বন্দুকযুদ্ধে ৫ জেলে উদ্ধার

মেহেদীর নাম ভাঙিয়ে অপরাধের সাম্রাজ্য: নেপথ্যে রুবেল ও রফিক সিন্ডিকেট

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। মাহাবুবুল আলম মেহেদীর বিরুদ্ধে সেসময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন মাধ্যমে যত অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তার একটি বড় অংশ সম্পর্কে তিনি নিজেও সম্পূর্ণ অবিদিত ছিলেন।

একটি বিশেষ সূত্রের দাবি অনুযায়ী, মেহেদীর সাথে সব সময় দুই ছায়াসঙ্গী অবস্থান করতেন—যাদের একজন 'রফিক' এবং অন্যজন 'নাককাটা রুবেল'। মূলত তারা দুইজন মেহেদীর ক্ষমতার প্রভাব ও নাম ভাঙিয়ে বরিশাল শহরের বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি এবং মোটরসাইকেল শোডাউন করে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শনের মাধ্যমে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করত। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, এই দুজন কেবল চাঁদাবাজিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মতো চরম ঘৃণ্য ও নৃশংস অপরাধের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।

মেহেদীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং আস্থাভাজন হওয়ায় সাধারণ মানুষ কিংবা ভুক্তভোগীদের পক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কোনো নালিশ নিয়ে মেহেদীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হতো না। তাদের ভয়ে মুখ খোলার সাহস পেতেন না কেউই। অনুসন্ধানী একাধিক সূত্রের মতে, রফিক ও নাককাটা রুবেলের এসব অপকর্মকেই পুঁজি করে পরবর্তীতে প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক নেতারা চতুরতার সাথে নিজ ফায়দা লুটেন এবং একজন উদীয়মান ও সাহসী যুবদল নেতাকে বলির পাঠা বানিয়ে পরিকল্পিতভাবে র‍্যাবের হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দাদের দাবি।

আরও পড়ুন: কুমিল্লার আদালতে মহিলা আ.লীগ নেত্রীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ, আটক

কথিত বন্দুকযুদ্ধে মেহেদীর মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এই দুই অনুসারী নিজেদের গুটিয়ে নেয়। ঘটনাচক্রে 'নাককাটা রুবেল' ও 'রফিক' দীর্ঘ প্রায় এক যুগ (১২ বছর) বরিশাল ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যায়। পরবর্তীতে জুলাই-আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নাককাটা রুবেলকে পুনরায় বরিশালে দেখা যায় এবং সে তার পুরোনো প্রভাব ফিরে পাওয়ার চেষ্টা চালায়। তবে বর্তমানে আদালতে তার বিরুদ্ধে একটি ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন থাকায় সে পুনরায় বরিশাল থেকে আত্মগোপন করেছে বলে জানা গেছে।

 

হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন পার হলেও ২০২২ সালে মাহাবুবুল আলম মেহেদীর বড় ভাই শফিকুল আলম গুলজার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক আলোড়ন সৃষ্টকারী তথ্যের অবতারণা করেন। তিনি সরাসরি দাবি করেন, মেহেদীর এই নির্মম মৃত্যুর পেছনে মূল কলকাঠি নেড়েছিলেন তৎকালীন স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতারা।

তার দেওয়া তথ্যমতে, তৎকালীন এমপি মজিবুর রহমান সারোয়ার, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বরিশাল মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খসরু এবং তার ভাই এ টি এম শহিদুল্লাহ কবিরের রাজনৈতিক চক্রান্তের শিকার হয়েই মেহেদীকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

আরও পড়ুন: কালীগঞ্জে ডোপ টেস্টে মাদক সেবনের প্রমাণ, ৫ জনের কারাদণ্ড

অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ আলেকান্দার একক প্রভাবশালী ও অত্যন্ত জনপ্রিয় তরুণ নেতা ছিলেন মেহেদী। স্থানীয় রাজনীতি ও টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে তৎকালীন এমপির অনুগামীদের সাথে তার তৈরি হয়েছিল চরম দূরত্ব। তৎকালীন এমপির বাধানিষেধ তোয়াক্কা না করে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহসই যেন তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। বরিশাল শহরের সরকারি দপ্তরের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক আধিপত্য নিয়ে শীর্ষ নেতাদের মাথাব্যথার কারণ হয়ে উঠেছিলেন তিনি।

একটি বিশ্বাসযোগ্য সূত্র দাবি করে, বরিশাল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া যখন বরিশালে আসেন, তখন বরিশাল সার্কিট হাউসে বসে তৎকালীন এমপি মজিবুর রহমান সারোয়ার মেহেদীর বিরুদ্ধে সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে নালিশ জানান এবং তাকে 'সন্ত্রাসী ও ক্যাডার পালনকারী' বলে অভিহিত করেন। কিন্তু নির্ভীক মেহেদী তাৎক্ষণিক প্রধানমন্ত্রীর সামনেই উত্তর দিয়ে বলেন, "আপনার ভাইয়েরাই চাঁদাবাজি করে বরিশালে ফেনসিডিলসহ মাদকের সিন্ডিকেট চালু রেখেছে।" বেগম খালেদা জিয়ার সাথে মেহেদীর বিশেষ স্নেহপূর্ণ সম্পর্ক থাকায় প্রধানমন্ত্রী সেদিন কোনো নেতিবাচক মন্তব্য না করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। তবে এই ঘটনা স্থানীয় শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে মেহেদীর মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

 

বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার তথ্য ও ২০০৪ সালের সার্বিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেসময়ে তথাকথিত 'বন্দুকযুদ্ধ' বা 'ক্রসফায়ার'-এর নামে অসংখ্য ঘটনা ঘটেছে, যা মূলত আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার শামিল। এলিট ফোর্স র‍্যাবের মূল কাজ ছিল শীর্ষ অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের হাতে সোপর্দ করা। কিন্তু রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল এবং ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার হাতিয়ার হিসেবে র‍্যাবকে ব্যবহার করার একাধিক অভিযোগ উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন: বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকেরা বিএনপির রাজনীতিতে ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন

স্থানীয়ভাবে ‘গরিবের রবিনহুড’ হিসেবে পরিচিত মেহেদী যদি কোনো প্রভাবশালী বা এলিট শ্রেণীর বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিয়ে থাকেন, তাও ছিল সাধারণ মানুষের কল্যাণে—এমনটাই দাবি অনুসারীদের।

'তালাশ বিডি'র চলমান অনুসন্ধান

একটি উদীয়মান নেতৃত্বকে ষড়যন্ত্রের বেড়াজালে ফেলে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে হত্যা করা হলেও তার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও প্রশ্নগুলো আজও মুছে যায়নি।

২০০৪ সালের সেই রক্তাক্ত ২৫ অক্টোবরের ঘটনার প্রকৃত সত্য বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ 'তালাশ বিডি'। এই ঘটনার মূল নেপথ্য রহস্য উন্মোচনে র‍্যাব-৬ এর তৎকালীন সিও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তফা কামাল এবং প্রধান অপারেশনস অফিসার স্কোয়াড্রন লিডার কে এম সাজ্জাদ হোসেন-এর তৎকালীন ভূমিকা পুনর্মূল্যায়ন করা জরুরি। তারা বর্তমানে অবসর জীবনযাপন করছেন, বিদেশে আছেন নাকি অন্য কোথাও অবস্থান করছেন—তা অনুসন্ধানের আওতায় আনছে তালাশ বিডির বিশেষ প্রতিনিধি দল।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে শীতলা মন্দিরের জমি উদ্ধারের দাবিতে জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন

খুব শীঘ্রই তাদের সাক্ষাৎকার, বক্তব্য এবং সংগৃহীত নতুন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এই রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের আসল রূপ বরিশালবাসীর সামনে তুলে ধরা হবে। তালাশ বিডির বিশেষ অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে...

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ; একজন উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


কর্ণফুলী নদীতে ট্রলারডুবি, দুই জেলে নিখোঁজ; একজন উদ্ধার

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে একটি মাছ ধরার ট্রলার ইঞ্জিন বিকল হয়ে ডুবে গেছে। এই ঘটনায় নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। ট্রলারে থাকা কামাল উদ্দিন নামে একজন জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

রোববার দিবাগত রাত ৪টার দিকে চট্টগ্রামের আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে রয়েছেন হাতিয়ার তমরদ্দি ইউনিয়নের মোস্তফার ছেলে মিরাজ উদ্দিন (৩২) এবং সোনাদিয়া ইউনিয়নের চরচেঙ্গা গ্রামের জয়নাল আবেদিনের ছেলে শরীফ উদ্দিন (৩৪)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দিন আগে মাছ ধরার কাজে ব্যবহারের জন্য একটি লালবোট কেনার উদ্দেশ্যে চট্টগ্রামের বন্দরটিলা এলাকায় যান ওই জেলেরা। বোটটি কেনার পর রোববার রাতে তাঁরা সেটি নিয়ে হাতিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে, আকমল আলী ঘাটসংলগ্ন কর্ণফুলী নদীতে পৌঁছালে বোটটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এর ফলে নদীর স্রোতে বোটটি নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে এবং একপর্যায়ে পেছনে থাকা একটি কার্গো জাহাজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে বোটটি ডুবে যায়।

দুর্ঘটনার পর কামাল উদ্দিন কার্গো জাহাজের শিকল ধরে ঝুলে থাকেন। পরে জাহাজের কর্মীরা তাঁকে উদ্ধার করেন। তবে ট্রলারে থাকা অপর দুই জেলে মিরাজ উদ্দিন ও শরীফ উদ্দিনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

হাতিয়ার নলচিরা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আশিষ চন্দ্র সাহা বলেন, "চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।"

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হ্যারি কেইনের হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৮ এম


হ্যারি কেইনের হাতে ক্যারিয়ারের প্রথম ব্যালন ডি’অর

কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামালকে পেছনে ফেলে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অর্জন করলেন ইংল্যান্ড এবং বায়ার্ন মিউনিখের তারকা হ্যারি কেইন।

নিজ শহর লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে সোমবারের (২৬ অক্টোবর) জমকালো রাতে ব্যালন ডি’অরের এলিট ক্লাবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করলেন ইংলিশ অধিনায়ক।

এটি শুধুমাত্র তার ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করে না, বরং ফুটবলের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ অর্জন ব্যালন ডি’অর জিতে একজন ফুটবলার অমরত্ব লাভ করেন। কিংবদন্তিরা এই ১২ কেজি ওজনের সোনায় মোড়ানো ট্রফিটি স্পর্শ করতে পারেন। সেই এলিট ক্লাবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করলেন ইংলিশ ফুটবলার হ্যারি কেইন। অসাধারণ এই অর্জনের মাধ্যমে নিজেকে আরও পরিপূর্ণ করলেন বায়ার্ন মিউনিখের তারকা।

১৯৫৬ সালে প্রথম ব্যালন ডি’অর জয় করে অমরত্ব লাভ করেছিলেন স্যার স্ট্যানলি ম্যাথিউস। এই ইংলিশ কিংবদন্তিকে বিশেষ শ্রদ্ধা জানাতে, চিরাচরিত প্রথা ভেঙে প্যারিসের বিখ্যাত শাতলিয়ে থিয়েটারের পরিবর্তে প্রথমবার ব্যালন ডি’অর আয়োজন করা হলো লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে। নিজ শহরের ঝলমলে রাতের সব আলো নিজের করে নিয়েছেন হ্যারি কেইন।

ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে কিলিয়ান এমবাপে ও লামিন ইয়ামালের কথার লড়াই থেকে নিজেকে অনেকটা দূরে রেখেছেন হ্যারি কেইন। তবে শীর্ষ দশের মধ্যে লড়াইটি যে এই তিনজনের মধ্যে হবে, তা ছিল অনুমেয়। এল ফেনোমেনোন রোনালদো নাজারিওর হাত থেকে ব্যালনের ট্রফি নিয়ে এমবাপে-ইয়ামেলের কথার লড়াইয়ের ইতি টানলেন ইংলিশ তারকা।

পেশাদার ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন বরাবরই। তবে ব্যালন ডি’অরের মঞ্চে উঠে বাকরুদ্ধ হয়ে যান। দীর্ঘ বক্তব্যে সাবেক ক্লাব ও সতীর্থদের পাশাপাশি বর্তমানদের ধন্যবাদ জানান। প্যালাডিয়াম থিয়েটারে হ্যারি কেইনের জন্য এই দিনটি আরও বিশেষ হয়ে উঠে নিজ দেশের মাটিতে পুরস্কার পাওয়ার কারণে। সেই সঙ্গে পুরো পরিবারের উপস্থিতি। ছেলের অসামান্য অর্জন খুব কাছ থেকে দেখলেন কেইনের বাবা-মা।

২০০১ সালে মাইকেল ওয়েনের পর এই প্রথম কোনো ইংলিশ ফুটবলারের হাতে উঠল ব্যালন ডি’অরের ট্রফি। আর পাক্কা ৪৫ বছর পর জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যাচ্ছে ফুটবলে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ এই পুরস্কার।

শুধু ব্যালন নয়, ২০২৫-২৬ মৌসুমে ৯০ গোল করে সেরা স্ট্রাইকারের পুরস্কারটিও জিতে নিয়েছেন ইংলিশ অধিনায়ক কেইন। লন্ডন থেকে এমবাপে খালি হাতে ফিরলেও সেরা উদীয়মান ফুটবলারের পুরস্কার জিতেছেন লামিন ইয়ামাল। এতে কিছুটা হলেও আক্ষেপ কমবে এই স্প্যানিশ ফুটবলারের। টানা তৃতীয়বার উদীয়মান ফুটবলার নির্বাচিত হয়েছেন কেইন।

গত মৌসুমে ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেন কেইন। ৬৫ ম্যাচে তার গোলসংখ্যা ৭৩। এর মধ্যে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ৫১ ম্যাচে করেন ৬১ গোল, যা এক মৌসুমে ক্লাবটির কোনো খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। তার পারফরম্যান্সের কারণে ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়, আর বায়ার্ন পৌঁছায় চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমিফাইনালে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরাকের আল-ফাও উপকূলে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৯ এম


ইরাকের আল-ফাও উপকূলে জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা

ইরাকের আল-ফাও উপকূল থেকে ৬৩ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে একটি জাহাজে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে।

সোমবার যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র ইউকেএমটিও এই তথ্য প্রকাশ করেছে। খবরটি আলজাজিরার মাধ্যমে জানা গেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে তাদের কাছে জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পৌঁছেছে।

তবে, জাহাজটির নাবিকদের অবস্থা, ক্ষতির পরিমাণ, কিংবা পরিবেশের ওপর এর প্রভাব সম্পর্কে এখনও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৫৯ এম


বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ, দুই দিনব্যাপী কর্মসূচি

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উপলক্ষে সংগঠনটি দুই দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। কর্মসূচিগুলোর মধ্যে রয়েছে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, দোয়া-মোনাজাত, রক্তদান, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, আলোচনাসভা, র‌্যালি ও সমাবেশ। পাশাপাশি, দেশব্যাপী বিভিন্ন সামাজিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা।

যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচির বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রথম দিন আজ সকাল ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জিয়া উদ্যানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ এবং দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী।

কর্মসূচিতে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটি এবং ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ যুবদলের নেতাকর্মীরা অংশগ্রহণ করবেন।

একই দিন দুপুর ১২টায় রাজধানীর নয়াপল্টনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় রক্তদান কর্মসূচি ও বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু হবে।

এছাড়া, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে আলোচনাসভা, র‌্যালি, সমাবেশ, স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা, বৃক্ষরোপণ, পরিচ্ছন্নতা অভিযান, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ এবং দুস্থদের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা সামাজিক কর্মসূচি পালন করা হবে। সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলো নিজেদের নির্ধারিত সময়ে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

ঘোষিত কর্মসূচির দ্বিতীয় দিন ২৮ অক্টোবর উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও অধস্তন ইউনিটগুলো নিজ নিজ সুবিধাজনক সময়ে এসব কর্মসূচি পালন করবে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%