ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রংপুরে ৪ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ত্রাণমন্ত্রী


রংপুরে ৪ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ত্রাণমন্ত্রী

রংপুরের আলোচিত গণপতি চক্রবর্তী পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে গভীর ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিহতদের বসতবাড়িতে পৌঁছান মন্ত্রী। এ সময় তিনি নিহতদের শোকার্ত স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের প্রতি সমবেদনা জানান।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত লোমহর্ষক ও মর্মান্তিক একটি হত্যাকাণ্ড। প্রাথমিক তদন্তে মাদকের সূত্র ধরে ঘটনার শুরু বলে মনে হচ্ছে।

আরও পড়ুন: ডাকাতিয়ায় সেতু না থাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ

ইতোমধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, জঘন্য এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকে যেন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায়, তা নিশ্চিত করা হবে।

একই সাথে এই চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তি বা গুজব না ছড়ানোর আহ্বান জানান মন্ত্রী। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অন্যতম প্রধান কারণ ‘মাদক’ উল্লেখ করে সমাজ থেকে মাদক নির্মূলে সাধারণ জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

এর আগে সকালে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে প্রশিক্ষিত যুবদের কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বনের লক্ষ্যে উপকরণ ও চাকরি প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের তরুণ যুবসমাজকে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ মুক্ত উন্নত-সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে যুবকদের অগ্রণী ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন তিনি।

আরও পড়ুন: গাইবান্ধায় ডিবি পুলিশ পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, আতঙ্কে এলাকাবাসী

ইউরোপিয়ান ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (ইআইটি) রংপুরের পরিচালক মোঃ নাজমুল আলম নাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান (সচিব) ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং রংপুরের বিভাগীয় কমিশনার মোঃ দেলোয়ার হোসেনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নেপাল-চীনে বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৩৯ পি.এম


নেপাল-চীনে বন্যায় নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার, সুড়ঙ্গে উদ্ধার অভিযান চলছে

হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের কয়েক দিন পরেও নেপাল ও চীনে হাজার হাজার নিখোঁজ মানুষকে উদ্ধারের জন্য উদ্ধারকর্মীরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

গত বুধবার প্রবল স্রোতের সঙ্গে বরফ, কাদা ও ধ্বংসাবশেষের সুনামির মতো ঢেউয়ে পুরো গ্রাম ভেসে যাওয়ার পর থেকে এই উদ্ধার অভিযান চলছে।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

দুই দেশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজার। এখন পর্যন্ত ৬৮২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কিছু মরদেহ নেপালের নদীর স্রোতে ভেসে ভারতের অনেক দূরের এলাকাতেও পৌঁছে থাকতে পারে বলে খবর পাওয়া গেছে।

শনিবার রাতে উদ্ধার অভিযানে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নেপালি সেনাবাহিনী ত্রিশুলি-৩ এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি সুড়ঙ্গে পাইপ ঢোকাতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে বেশ কয়েকজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে ওই ছোট ছিদ্র দিয়ে সুড়ঙ্গের ভেতরে বাতাস পাঠানো শুরু করেছি। এখন খননকাজ শুরু করা হবে এবং উদ্ধারকারী দলকে ভেতরে পাঠানো হবে।’

ত্রিশুলি-৩ এ ও ৩ বি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গে এখনও ১০০ জনের বেশি শ্রমিক জীবিত অবস্থায় আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। উদ্ধারকাজে এসব এলাকাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, বুধবার নেপাল-তিব্বত সীমান্তে হিমবাহ ধসে ভয়াবহ এই পানির স্রোত ও বন্যার সৃষ্টি হয়।

হিমবাহ ধসের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। তবে বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হিমবাহ দ্রুত গলে যাচ্ছে। ফলে এ ধরনের দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।

জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক প্রধান সাইমন স্টিয়েল এক বিবৃতিতে বলেন, ‘হঠাৎ হিমবাহ ধস ও আকস্মিক বন্যা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পাহাড়ি পরিবেশ কতটা নাজুক।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটাও জানি, বিপুল পরিমাণ কয়লা, তেল ও গ্যাস পোড়ানোর ফলে জলবায়ু উষ্ণ হচ্ছে। এর ফলে এ ধরনের ভয়াবহ দুর্যোগের আশঙ্কা, ঘনঘন সংঘটিত হওয়ার প্রবণতা এবং ক্ষয়ক্ষতির মাত্রাÑসবই বাড়ছে। আর এসব দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীগুলো।’

‘কিছুই অবশিষ্ট নেই’

নিখোঁজ স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা জানার জন্য উৎকণ্ঠায় অপেক্ষা করছেন তাদের পরিবারের সদস্যরা। একই সঙ্গে অনেক মানুষকে শূন্য থেকে নতুন করে জীবন শুরু করার প্রস্তুতিও নিতে হচ্ছে।

নেপালের নুওয়াকোট জেলার বাসিন্দা বুদ্ধি রাম দাঙ্গোল বলেন, ‘নদীর আশপাশের সব বসতিই ভেসে গেছে। কিছুই অবশিষ্ট নেই।’

বিদুরে উদ্ধার অভিযানের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত একটি সেনা ঘাঁটিতে স্বজনরা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দেখতে ভিড় করেন।

কালকা শারদা নামের এক ব্যক্তি মরিয়া হয়ে তালিকায় ছেলের নাম খুঁজছিলেন। তিনি বলেন, ‘আমি এখানে আমার ছেলেকে খুঁজতে এসেছি। সে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করত। কিন্তু তালিকায় তার নাম পাচ্ছি না, আর কর্তৃপক্ষও কিছু বলছে না।’

বড় বড় বিদ্যুৎ অবকাঠামো প্রকল্প থাকা ওই এলাকায় নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের হিসাবে নিখোঁজদের মধ্যে ৯৩৩ জন জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক রয়েছেন। এছাড়া নিখোঁজ রয়েছেন ৫১৭ জন বিদেশি, যাদের মধ্যে পর্যটক, পর্বতারোহী এবং তিব্বতের পবিত্র কৈলাস পর্বতে যাওয়া হিন্দু তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।

ভারতীয় ধর্মগুরু সদগুরুর নেতৃত্বাধীন ইশা ফাউন্ডেশন শনিবার ইনস্টাগ্রামে জানায়, তাদের ৮০ সদস্যের একটি দল ওই এলাকায় ভ্রমণে গিয়েছিল।

তাদের দলটি চীনের সীমান্তবর্তী মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং এলাকায় ছিল। ফাউন্ডেশনটি জানায়, এলাকাটি ‘পুরোপুরি পানিতে ভেসে গেছে’। সেখানে অভিবাসন দপ্তরের এলাকায় এখনও কেউ বেঁচে থাকার আশাব্যঞ্জক কোনো খবর পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানানো হয়।

‘প্রবল মানসিক আঘাত’

যুক্তরাষ্ট্র শনিবার নেপালের জন্য ৩৬ লাখ ডলারের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর মধ্যে জরুরি খাদ্য সহায়তাও রয়েছে। এর আগে দুর্যোগের পরপরই ওয়াশিংটন ৫ লাখ ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।

নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল বলেছেন, পুনর্গঠনে ব্যয় কয়েক বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে।

তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো উদ্ধার অভিযান চালানো এবং যতটা সম্ভব মানুষের জীবন রক্ষা করা।’

আটকে পড়া মানুষকে শনাক্ত করতে ভারী মালামাল বহনে সক্ষম ড্রোন ও আধুনিক প্রযুক্তিসহ বিশেষায়িত সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।

মরদেহ শনাক্ত করতে ফরেনসিক পরীক্ষার কিট এবং সেগুলো সংরক্ষণের জন্য হিমায়িত রাখার ব্যবস্থা চেয়েছেন তিনি। তার আশঙ্কা, পানিতে থাকা মরদেহ দ্রুত পচে যেতে পারে।

নিখোঁজদের সন্ধানে নতুন করে বন্যার আশঙ্কাও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বরফ ও কাদা-মাটির প্রবল স্রোতে বড় বড় জলাধারের মতো হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে একটি নতুন হ্রদ থেকে আবারও বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

চীন ও নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা শনিবার এ বিষয়ে কথা বলেছেন। দুই পক্ষই স্যাটেলাইট ও নদী-সংক্রান্ত পানির তথ্য বিনিময়ের বিষয়ে আলোচনা করেছে।

তিব্বতে চীনা কর্তৃপক্ষই তথ্যের একমাত্র উৎস। নতুন সৃষ্টি হওয়া একটি হ্রদ থেকে ফের বন্যার আশঙ্কায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং এলাকায় উদ্ধার অভিযান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল।

তবে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি শনিবার রাতে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানায়, হ্রদটির পানি ‘প্রাকৃতিকভাবে বের হয়ে যাচ্ছে’ এবং প্রায় পুরোপুরি পানি নেমে গেছে।

চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, গিরং এলাকায় মোট ২ হাজার ১৪১ জন উদ্ধারকর্মী কাজ করছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় রয়েছেন ৫০০ জনের বেশি।

নেপাল শনিবার জানিয়েছে, দেশটিতে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৫ জনে দাঁড়িয়েছে।

দেশটিতে এখনও ২ হাজার ৪২৬ জনের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। নিখোঁজদের মধ্যে কয়েকশ বিদেশিও রয়েছেন।

সীমান্তের ওপারে তিব্বতে বিদেশি সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার খুবই সীমিত। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭ জন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

তিব্বতে আটকা পড়া ৫৫৫ জন পর্যটক ও ৪৯৯ জন চীনা নাগরিককে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এদিকে ভারতের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপাল থেকে প্রবাহিত নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এগুলো বন্যায় ভেসে যাওয়া মানুষের মরদেহ বলে ধারণা করা হচ্ছে।

‘আর কোনো আশা নেই’

নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের মধ্যে হতাশা বাড়ছে।

বিদুরে কালকা শারদা তার ১৮ বছর বয়সী ছেলে বিনোদ শারদার খোঁজে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা দেখছিলেন। বিনোদ একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

কালকা বলেন, ‘আমার মনে হয় আর কোনো আশা নেই। কারণ সে যদি বেঁচে থাকত, তাহলে কোনো না কোনোভাবে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করত।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এল নিনোর প্রভাবে জরুরি অবস্থা জারি ইকুয়েডরে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪০ পি.এম


এল নিনোর প্রভাবে জরুরি অবস্থা জারি ইকুয়েডরে

এল নিনো জলবায়ু পরিস্থিতির কারণে, যা রেকর্ড সৃষ্টিকারী মাত্রায় শক্তিশালী হতে পারে, শনিবার ইকুয়েডর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে। এটি ল্যাটিন আমেরিকার সর্বশেষ দেশ যা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করল। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ বছরের এল নিনো ইতোমধ্যে মধ্য আমেরিকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করছে। বর্তমানে অঞ্চলটি তীব্র খরার কবলে রয়েছে। একই সঙ্গে, ইন্দোনেশিয়াতেও এটি দাবানলের প্রকোপ বৃদ্ধি করছে।

কুইটো থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবরটি প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, চলমান এল নিনো বছরের শেষ নাগাদ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে ২০২৭ সালে বিশ্বব্যাপী রেকর্ড পরিমাণ তাপমাত্রা বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।

ইকুয়েডরের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানায়, ‘এল নিনো পরিস্থিতির’ কারণে পুরো দেশে ‘রেড অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে।

এই সতর্কতার আওতায় জরুরি কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা হয়েছে। এসব কমিটির দায়িত্ব হবে লোকজনকে নিরাপদ স্থানে আগাম সরিয়ে নেওয়া এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সমন্বয় করা।

এল নিনোর কারণে নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের মধ্য ও পূর্বাঞ্চলে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে বাতাসের গতিপথ, বায়ুচাপ ও বৃষ্টিপাতের ধরন পরিবর্তিত হয়। এর প্রভাব মাছ ধরা ও পাখির পরিযানের ওপরও পড়ে।

ইকুয়েডরের পূর্বাঞ্চলের আমাজন এলাকায় খরা ও দাবানলের আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এল নিনোর কারণে পানামা, হন্ডুরাস ও এল সালভাদর ইতোমধ্যে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে।

দক্ষিণে পেরুও এল নিনোর কারণে দেশটির এক-তৃতীয়াংশ শহরে জরুরি অবস্থা জারি করেছে। দেশটি সতর্ক করে বলেছে, তীব্র তাপ ও বৃষ্টির কারণে মানুষের পর্যাপ্ত খাবার নাও থাকতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাকিস্তানের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৫ পি.এম


পাকিস্তানের হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে অগ্নিকাণ্ডে ১৪ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় ৮ কর্মকর্তা বরখাস্ত

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালের প্রসূতি ও নবজাতক বিভাগে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

প্রধানমন্ত্রীর গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার পর আগুন লাগার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে পুরো ইউনিট আগুনে গ্রাস করে ফেলে।

হাসপাতালে তত্ত্বাবধানে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন মাত্র এক নার্স। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক এবং নবজাতক বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইসলামাবাদের জরুরি সেবা বিভাগের মহাপরিচালককেও বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “যারা গুরুতর অবহেলার জন্য দায়ী, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, তাদের “আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”

হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

আগুন নেভাতে দেরির অভিযোগ

তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার ছয় মিনিটের মধ্যে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আরও ১৫ মিনিট পর।

নিহত শিশুদের বাবা-মা এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে সাড়া দিতে দেরি হয়েছিল। এমনকি নিরাপত্তাকর্মীরা কয়েকজনকে ভবন থেকে বের হতে বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালটিতে আগুন বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিস্তারিত পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না।

আগুন লাগার সময় ওই ওয়ার্ডে দুইজন নার্স, এক নারী নিরাপত্তাকর্মী এবং আরও এক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে কোনো তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়

এর আগে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, এয়ার কন্ডিশনার থেকে ছিটকে পড়া একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।

তবে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের প্রকৃত উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

ভয়াবহ এই ঘটনার পর বুধবারই দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ আমলা স্বাস্থ্যসচিব আসলাম ঘোরিকে বরখাস্ত করা হয়।

পাকিস্তানে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা আইন, ভবন নির্মাণ বিধিমালার সীমাবদ্ধতা এবং এসব নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ না করাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে করাচি শহরের একটি শপিং সেন্টারে আগুনে ৬৫ জনের বেশি মানুষ মারা যায়।

২০২৩ সালেও করাচির আরেকটি শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়।

এর আগে ২০১২ সালে করাচির একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ২৫০ শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৩:৪৬ পি.এম


ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: এলজিআরডি মন্ত্রী

ডেঙ্গু এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব সহকারে কাজ করে যাচ্ছে।

এমনটি জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি উল্লেখ করেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

আজ সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গু এবং অন্যান্য মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা চ্যালেঞ্জ বিদ্যমান। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি কর্পোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মশার লার্ভা জন্ম নেওয়ার স্থানগুলো চিহ্নিত করে সেখানে পানি জমতে না দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মন্ত্রী আরো বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা এবং আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ, ১৩টি সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাগণও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%