০৩:৪৫ পি.এম
পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে একটি হাসপাতালের প্রসূতি ও নবজাতক বিভাগে ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় ১৪ নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আট কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
প্রধানমন্ত্রীর গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টার পর আগুন লাগার প্রায় দুই মিনিটের মধ্যে পুরো ইউনিট আগুনে গ্রাস করে ফেলে।
আরও পড়ুন: ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে
হাসপাতালে তত্ত্বাবধানে থাকা ১৫ নবজাতকের মধ্যে একজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন মাত্র এক নার্স। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক এবং নবজাতক বিভাগের প্রধানসহ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা রয়েছেন। ইসলামাবাদের জরুরি সেবা বিভাগের মহাপরিচালককেও বরখাস্ত করা হয়েছে।
শনিবার রাতে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেন, “যারা গুরুতর অবহেলার জন্য দায়ী, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।” তিনি আরও বলেন, তাদের “আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।”
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম প্রকাশ করা হয়নি।
আগুন নেভাতে দেরির অভিযোগ
আরও পড়ুন: এবি পার্টি: সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত
তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আগুন লাগার ছয় মিনিটের মধ্যে জরুরি সেবায় খবর দেওয়া হয়। কিন্তু প্রথম উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আরও ১৫ মিনিট পর।
নিহত শিশুদের বাবা-মা এবং অন্যান্য প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধারকাজে সাড়া দিতে দেরি হয়েছিল। এমনকি নিরাপত্তাকর্মীরা কয়েকজনকে ভবন থেকে বের হতে বাধা দিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হাসপাতালটিতে আগুন বা জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য বিস্তারিত পরিচালনাগত নির্দেশনা এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ছিল না।
আগুন লাগার সময় ওই ওয়ার্ডে দুইজন নার্স, এক নারী নিরাপত্তাকর্মী এবং আরও এক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তবে সেখানে কোনো তত্ত্বাবধায়ক কর্মকর্তা ছিলেন না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হলেন মেহেরদাদ আখলাঘি কেতাবচি
আগুনের কারণ এখনো নিশ্চিত নয়
এর আগে দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোস্তফা কামাল জানিয়েছিলেন, এয়ার কন্ডিশনার থেকে ছিটকে পড়া একটি স্ফুলিঙ্গ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে।
তবে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগুনের প্রকৃত উৎস এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ভয়াবহ এই ঘটনার পর বুধবারই দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগের শীর্ষ আমলা স্বাস্থ্যসচিব আসলাম ঘোরিকে বরখাস্ত করা হয়।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১১-২০তম গ্রেডে নিয়োগের অগ্রগতি জানতে চেয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়
পাকিস্তানে বড় ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। দুর্বল অগ্নিনিরাপত্তা আইন, ভবন নির্মাণ বিধিমালার সীমাবদ্ধতা এবং এসব নিয়ম যথাযথভাবে প্রয়োগ না করাকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হয়।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে করাচি শহরের একটি শপিং সেন্টারে আগুনে ৬৫ জনের বেশি মানুষ মারা যায়।
২০২৩ সালেও করাচির আরেকটি শপিং মলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু হয়।
এর আগে ২০১২ সালে করাচির একটি পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুনে অন্তত ২৫০ শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন।
আরও পড়ুন: কাতারে গ্রেফতার বিমানবাহিনীর সাবেক প্রধান আব্দুল হান্নান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন