ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত : এবি পার্টি


সরকারের জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাসে জাতি বিরক্ত : এবি পার্টি

“জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি” শীর্ষক মুক্ত আলোচনায় বক্তারা মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং গণভোটের রায় কার্যকর করা এখন সময়ের দাবি। বক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা থেকে সরে আসছে, যা জনগণের প্রত্যাশার পরিপন্থী।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) আয়োজিত এ মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিএনপি ৫ আগস্ট পর্যন্ত মজলুম ছিল, কিন্তু এরপর তারা দ্রুত অতীতের কথা ভুলে গেছে। তিনি বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে, কারণ তারা জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করছে না।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি বদলে গেলেও আমরা বদলাব না। জুলাই সনদ ও গণভোট বাস্তবায়ন করেই ছাড়ব। তিনি উল্লেখ করেন, এই সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা পাবার যোগ্য নয়, আজ থেকে সরকারকে নয় ১৮ কোটি মানুষকে সহযোগিতা করবে বিরোধী দল।

আরও পড়ুন: ঢাকায় জরুরি অবতরণে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের দরজা খুলে গেল, রোগীর মৃত্যু

তিনি আরও বলেন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে এবং বিরোধী দলের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা রাষ্ট্রের জন্য অপরাধ। তাঁর মতে, এই আন্দোলন শুধু ১১ দলের নয়, বরং ফ্যাসিবাদের পথ রুদ্ধ করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভূইয়ার সঞ্চালনায় দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু সভায় সভাপতিত্ব করেন।

বক্তব্যে জনাব মঞ্জু বলেন, সরকারের মুখে অক্ষরে অক্ষরে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আশ্বাস শুনতে শুনতে জাতি বিরক্ত হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সরকার এত দ্রুত প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে, আমরা তা কল্পনাও করিনি।

তিনি আরও বলেন, বিএনপি দাবি করেছে, জুলাইয়ে তাদের ৮৪৮ জন কর্মী শহীদ হয়েছেন। শহীদদের রক্ত ও জীবনের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই সরকারের উচিত জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জাতির সঙ্গে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার পরিণতি ভোগ করেছেন; বিএনপিরও সেই ভুল করা উচিত হবে না। জুলাই সনদে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার রয়েছে, যার অনেক কিছুই বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। অথচ ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি এমন আচরণ করছে, যেন জুলাই সনদ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধের আদেশ স্থগিত

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, সরকারকে বুঝতে হবে জনগণ কী চায়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী একাধিকবার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা রাজনৈতিক নেতৃত্বের নৈতিক দায়িত্ব। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন কার্ড বিতরণ নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা তৈরি করে, অথচ নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, জুলাই সনদ বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দলিল এবং রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা। তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের ক্ষেত্রে দ্বৈত অবস্থান নিয়েছে, সরকার গঠনের ফলাফল মেনে নিলেও গণভোটের রায় উপেক্ষা করছে। তিনি বলেন, জুলাই সনদ কার্যকর করতেই হবে; অন্যথায় সংবিধান সংস্কার নিয়ে সংকট আরও গভীর হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে বিএনপি জাতির সঙ্গে প্রতারণা করেছে এবং সনদের একাধিক ধারা লঙ্ঘন করেছে। তাঁর মতে, সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ছিল সংস্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদবিহীন চলা মানে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে ওঠা।

তাঁর অভিযোগ, সরকার রাষ্ট্রকে জনকল্যাণের পরিবর্তে ব্যবসায়িক স্বার্থের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। তিনি সতর্ক করেন যে, জুলাই সনদের মৌলিক চেতনা উপেক্ষা করে রাষ্ট্র পরিচালনা করলে নতুন রাজনৈতিক সংকট তৈরি হবে।

আরও পড়ুন: ডব্লিউএইচওর পদ পেতে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে জালিয়াতির চার্জশিট অনুমোদন

এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, ২০২৪ সালের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ লিখিত রাজনৈতিক দলিল হলো জুলাই সনদ। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এর মৌলিক উদ্দেশ্য। তিনি বলেন, জুলাই সনদে স্বাক্ষর ও গণভোটের মাধ্যমে সংস্কারের প্রশ্নে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হয়েছে; এখন প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে তা বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, সনদের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুললেই সংবিধানের দোহাই দেওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। রাজনৈতিক সংকটের সমাধান রাজনৈতিকভাবেই করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে এবি পার্টি প্রস্তুত।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আব্বাস ইসলাম খান নোমান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ আল মামুন রানা, এবিএম খালিদ হাসান, মো. আলতাফ হোসাইন, শাহাদাতুল্লাহ টুটুল, আমিনুল ইসলাম এফসিএ, বরিশাল সাংগঠনিক সম্পাদক গাজী নাসির, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক পার্টির আহ্বায়ক কেফায়েত হোসাইন তানভীর, ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক রাজিয়া সুলতানা, গণপরিবহনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, সড়ক ও যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক প্রকৌশলী এম শাহেদুল ইসলাম, কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সফিউল বাশার, সমাজকল্যাণ সম্পাদক অধ্যাপক আবু হেলাল, গাজীপুর মহানগরের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আলমগীর হোসাইন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্যসচিব বারকাজ নাসির আহমদ, ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সামিউল ইসলাম সবুজ, সহকারী প্রচার সম্পাদক আজাদুল ইসলাম আজাদ, সহকারী অর্থ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও শাব্বির আহমেদ তামিম, সহকারী দপ্তর সম্পাদক মশিউর রহমান মিলু ও মোহসীনুল হক চৌধুরী, সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক আব্দুর রব জামিল, নারী উন্নয়নবিষয়ক সহসম্পাদক শাহিনুর আক্তার শিলা ও আমেনা বেগম, উদ্যোক্তা ও কর্মসংস্থানবিষয়ক সম্পাদক সুমাইয়া শারমিন ফারহানা, সহ প্রকাশনা সম্পাদক ফিরোজ কবির, গাজীপুর মহানগরের সদস্যসচিব মাসুদ জমাদ্দার রানা এবং প্রবাসীবিষয়ক সহসম্পাদক নুরুন্নবী নয়ন, গাইবান্ধা জেলা আহ্বায়ক খাইরুল ইসলাম, নরসিংদী সমন্বয়ক কাজল মিয়া, রমনা থানার আহ্বায়ক আব্দুল কাদের মুন্সী, যাত্রাবাড়ী থানার আহ্বায়ক মিয়া সুলতান আরিফসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

আরও পড়ুন: জার্মানি ও ইইউ পরিবেশবান্ধব নির্মাণে ২০ মিলিয়ন ইউরো অনুদান দেবে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৪ পি.এম


ভূমি খাতে অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে

ভূমি খাতে অন্যায় ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ভূমি খাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য নেওয়া হয়েছে। যারা ভালো কাজ করছেন, তাদের উৎসাহিত করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে ‘নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র-২’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

ভূমিমন্ত্রী আরো বলেন, সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় ভূমি-সংক্রান্ত কার্যক্রমের বিষয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসাথে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে।

মিজানুর রহমান মিনু জানান, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে ভূমি নিয়ে বিরোধের অভিযোগ আসছে। ভাইয়ে-ভাইয়ে, ভাই-বোনে কিংবা পরিবারের সদস্যদের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ দীর্ঘদিনের সমস্যা। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য ভূমি ব্যবস্থাকে আধুনিক ও স্বচ্ছ করা প্রয়োজন। জমির মালিকানা, হস্তান্তর এবং ক্রয়-বিক্রয়ের প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে আইনগত উদ্যোগের মাধ্যমে অনিয়ম বন্ধ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করে ভূমিমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে পরিবর্তন আনা হচ্ছে এবং সেবা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। সারা দেশে ভূমি ব্যবস্থাপনায় দক্ষ জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর নাগরিকদের আস্থা অর্জনে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের সব নাগরিকের সম্মান সবার আগে। মন্ত্রণালয়ের স্বয়ংক্রিয় সেবাগুলো চালুর মাধ্যমে নাগরিকদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেবার মান যাচাই করতে তিনি ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী বিভিন্ন সময়ে ফোন করে সেবা কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছেন।

ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন জানান, আমাদের দুটি সেবা কেন্দ্র রয়েছে। প্রথম কেন্দ্রটির কার্যক্রম ভালোভাবে চলতে দেখে আমরা চিন্তা করি, ঢাকায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন কার্যক্রম যেখানে বেশি পরিচালিত হয়, সেখানে আরেকটি কেন্দ্র চালু করা প্রয়োজন। সে পরিকল্পনা থেকেই দ্বিতীয় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ভূমিমন্ত্রীর পরিকল্পনা অনুযায়ী, খুব অল্প সময়ের মধ্যে, প্রায় দুই মাসের মধ্যেই আমরা এটি চালু করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, ভূমিসেবার জন্য যেসব স্বয়ংক্রিয় সেবা ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে, সেগুলো নাগরিকেরা এখানে বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা ভূমি-সংক্রান্ত জটিল বিষয়ে প্রাথমিক পরামর্শ দিয়ে সহায়তা করবেন। এ ছাড়া প্রতিটি জেলায় নাগরিক ভূমিসেবা কেন্দ্র চালুর প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। এ কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করছি, অতি দ্রুত দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারি পরিসরে এসব সেবা কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবুল হাছানাত হুমায়ুন কবীর প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতা নিয়ে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৫ পি.এম


ইসরাইলি সেনাদের নৃশংসতা নিয়ে ‘নাজা’ প্রামাণ্যচিত্রের আলোচনা

গাজার ভয়াবহতা আমি নিজের চোখে দেখেছি। আমি দেখেছি, কীভাবে মুহূর্তের মধ্যে পুরো আবাসিক এলাকা ধ্বংস হয়ে যায়, কীভাবে বাড়িঘরে মানুষ থাকা অবস্থায় বোমা হামলা চালানো হয়, এবং কীভাবে পরিবারগুলোকে অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়। দুর্ভিক্ষের অভিজ্ঞতাও আমার হয়েছে। দুবার সেই দুর্ভিক্ষের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে আমাকে। তাই গাজায় কী ঘটেছে, তা জানতে কোনো চলচ্চিত্র দেখার প্রয়োজন ছিল না।

তবে সম্প্রতি ‘নাজা’ চলচ্চিত্রটি আমি দেখেছি। গাজায় কী ঘটেছিল, তা জানার জন্য নয়; বরং যে মানুষগুলো এসব ঘটিয়েছে, তারা কীভাবে নিজেদের কাজকে ন্যায্য বলে মনে করে, তা বোঝার জন্য। হলোকাস্টের স্মৃতি উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া একটি জনগোষ্ঠীর মানুষ কীভাবে অন্য একটি জনগোষ্ঠীর ওপর ভয়াবহ নৃশংসতাকে সমর্থন করতে পারেন? একসময় যারা নিজেরাই নির্যাতনের শিকার হওয়ার ইতিহাস বহন করেন, তারা কীভাবে অন্যের ওপর নিপীড়ন চালানোর পক্ষে দাঁড়ান? তারা কি কখনো অনুশোচনা করেন? নিজেদের কর্মকাণ্ডের ভয়াবহতা কি তারা বুঝতে পারেন? এসব কথা বলার সময় তাদের কি লজ্জা হয়? কখনো তাদের কারও মুখোমুখি হলে তিনি কি আমার চোখের দিকে তাকাতে পারবেন? রাতে তারা কীভাবে ঘুমান? বিবেককে কীভাবে এতটা নীরব করে রাখেন? আমার কাছে চলচ্চিত্রটির গুরুত্ব এখানেই।

এবার শুনতে চেয়েছি অপরাধীদের কথা

বিশ্ব বহুদিন ধরেই ফিলিস্তিনিদের অভিজ্ঞতা ও সাক্ষ্য শুনছে। এই যুদ্ধের বড় একটি সময়জুড়ে আমিও মানুষকে জানিয়েছি, গাজায় নিজের চোখে কী দেখেছি। কিন্তু এবার কথা বলছেন এমন কিছু মানুষ, যারা সরাসরি সামরিক ব্যবস্থার অংশ ছিলেন। তারা নিজেদের সিদ্ধান্ত, কর্মকাণ্ড এবং আমাদের জীবন-মৃত্যুকে কীভাবে দেখেছেন, সে সম্পর্কে কথা বলেছেন।

এ কারণেই চলচ্চিত্রটিতে ফিলিস্তিনিদের তুলনায় ইসরাইলিদের বক্তব্য বেশি জায়গা পেয়েছে—এমন সমালোচনার সঙ্গে আমি একমত নই। আমি যা দেখেছি, তা সত্যি ছিল—এ কথা প্রমাণ করতে কোনো ইসরাইলি সেনার প্রয়োজন নেই। আমি সেখানে ছিলাম। আমি জানি, কী ঘটেছে। তবে আমি শুনতে চাই, তিনি নিজের কর্মকাণ্ডের ব্যাখ্যা কীভাবে দেন। নিজের কাছে সেসব কাজকে কীভাবে ন্যায্য প্রতিপন্ন করেন, তা বুঝতে চাই।

অপরাধীর সাক্ষ্য কখনো ভুক্তভোগীর সাক্ষ্যের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে যায় না। কিন্তু সেই সাক্ষ্য এমন কিছু বিষয় সামনে আনতে পারে, যা ভুক্তভোগীর পক্ষে দেখা সম্ভব ছিল না। আমরা যখন প্রাণ বাঁচানোর জন্য ছুটছিলাম, তখন অন্য প্রান্তে কী ঘটছিল, তা জানা যায় তাদের বক্তব্য থেকে।

গাজা ছেড়ে আসার পর থেকে সেখানকার স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা করছি। স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছি। এমনভাবে ঘুমাতে শিখতে চাই, যাতে ঘুমের মধ্যে আবার যুদ্ধের সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে না হয়। মানুষের ভিড়ে বসেও যেন হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর মুখ দেখতে না হয়, কিংবা ধ্বংস হয়ে যাওয়া জায়গাগুলোর কথা মনে না পড়ে। কিন্তু চলচ্চিত্রটি দেখতে গিয়ে বুঝলাম, গাজা ছেড়ে চলে আসার অর্থ স্মৃতিগুলোও পেছনে ফেলে আসা নয়।

কল্পিত সেই সীমারেখা, যার ওপারে মৃত্যু

২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ইসরাইলি সেনাবাহিনী আমাদের যে এলাকা ছিলাম, সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। সেটি নিছক কোনো বার্তা বা সতর্কতা ছিল না। আমাদের বাড়ির দেয়ালে গোলা এসে আঘাত করছিল। আমি ও আমার মা যখন দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করছিলাম, তখন সামনের রাস্তায়ও গোলা পড়তে শুরু করে। আমরা বুঝেছিলাম, সেখান থেকে চলে যেতেই হবে। কিন্তু কোথায় যাব, তা জানতাম না।

মনে হচ্ছিল, চারদিকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। নিরাপদ কোনো রাস্তা ছিল না, কোন দিকে যেতে হবে, তা বলার মতো কেউ ছিল না। আমরা দৌড়াতে শুরু করলাম। কয়েক পা এগোলেই সামনের দেয়ালে গুলি এসে লাগত। তখন বুঝতে পারতাম, ওই পথে আর এগোনো যাবে না। আমরা শিখছিলাম, কোথায় যাওয়া যাবে, আর কোথায় যাওয়া যাবে না—আমাদের দিকে ছুটে আসা গুলির মাধ্যমে।

চলচ্চিত্রে একজন ইসরাইলি সেনাকে বলতে শুনলাম, এমন কোনো দিন যায়নি, যেদিন কাউকে হত্যা করা হয়নি। তিনি একটি সম্মতিভিত্তিক ‘কল্পিত সীমারেখার’ কথা বলছিলেন। সেই সীমা অতিক্রম করলেই গুলি করে হত্যা করা হতো।

চলচ্চিত্রটির নির্মাতা ইউভাল আব্রাহাম তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, মানুষ কীভাবে বুঝবে সেই সীমারেখা কোথায়? সেনাটি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে শিখতে হবে।’ অর্থাৎ, রক্তের বিনিময়ে। ‘রক্তের বিনিময়ে’—কথাটি আমার মনে গেঁথে গিয়েছিল। কারণ, আমাদের সঙ্গেও ঠিক এই ভাষাতেই আচরণ করা হয়েছিল। সেদিন আমাদের সঙ্গে যা ঘটেছিল, চলচ্চিত্রটি দেখতে গিয়ে প্রথমবার অন্য পক্ষের দৃষ্টিকোণ থেকে তা বুঝতে পারলাম।

আমরা প্রাণ বাঁচাতে রাস্তায় ছুটছিলাম। অথচ কোথাও কেউ বিশ্বাস করছিলেন, মানুষকে কোথায় দাঁড়াতে দেওয়া হবে, তা শেখানোর জন্য তাদের দিকে গুলি চালানো সম্পূর্ণ গ্রহণযোগ্য। তার কাছে সেটি ছিল নিরাপত্তার জন্য নির্ধারিত একটি কল্পিত সীমারেখা। আর আমাদের কাছে সেটিই ছিল জীবন ও মৃত্যুর পার্থক্য—আরেকটি পদক্ষেপ নেওয়া কিংবা চিরতরে থেমে যাওয়ার ব্যবধান।

ওই সেনা আরো বলেছিলেন, সেখানে ১৪০ জন মানুষ নিহত হয়েছিলেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তারা সবাই ছিলেন বেসামরিক নাগরিক। চলচ্চিত্র নির্মাতা আবারও তাকে প্রশ্ন করেছিলেন, তাদের কারও কাছে কি অস্ত্র ছিল না? সেনাটি উত্তর দিয়েছিলেন, না, তাদের কেউই সশস্ত্র ছিলেন না।

১৪০ জন মানুষ! কথাটি শুনে বারবার মনে পড়ছিল, বোমা হামলার পর আমরা কতবার শুনেছি—সেনাবাহিনী কোনো ‘হুমকি’, ‘সন্দেহভাজন ব্যক্তি’ কিংবা ‘সামরিক অভিযান পরিচালনার এলাকা’ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এমন শব্দের আড়ালে কত মানুষ হারিয়ে যান? কত মানুষের জীবনকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়, যেন তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না?

গাজার শিশুরাও রেহাই পায়নি

এরপর আসে একটি শিশুর গল্প। ওই সেনা জানান, তাদের ক্যামেরায় দেখা গিয়েছিল, একটি শিশু নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করছে। শিশুটি সেখানে কেন গিয়েছিল, তা তারা জানতেন না। শিশুটি কিছুই করছিল না। সে শুধু সেখানে ছিল। আর এ কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল।

একটি শিশুকে হত্যা করা হয়েছিল, কারণ সে জানত না—সশস্ত্র ব্যক্তিরা একটি কল্পিত সীমারেখা টেনে রেখেছেন এবং সেই সীমা অতিক্রম করলে মৃত্যুই তার শাস্তি। শিশুটি কোনো অপরাধ করার কারণে নিহত হয়নি; বরং সে যে নিয়মের কথা জানতই না, সেই নিয়ম না জানার কারণেই তাকে প্রাণ দিতে হয়েছে।

চলচ্চিত্রটি দেখার পর থেকে শিশুটির কথা বারবার মনে পড়ছে। একবার ভাবুন, মানুষ জানে অন্য মানুষকে হত্যা করা হচ্ছে, তাদের মরদেহ কুকুরের খাবারে পরিণত হচ্ছে; অথচ এ নিয়ে আপত্তি জানানোকে সে নিজের পেশাগত দায়িত্বের বাইরে বলে মনে করছে!

শিশুটি কি তার মা-বাবাকে খুঁজছিল? পথ হারিয়ে ফেলেছিল? নিজের বাড়ি খুঁজতে বের হয়েছিল? সে কি জানত, কেউ তাকে নজরে রাখছে এবং কোথাও বসে থাকা একজন মানুষ একটি বোতাম চাপলেই তার জীবন শেষ হয়ে যেতে পারে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।

কিন্তু গাজার শিশুদের আমি চিনি। জানি, তারা কীভাবে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দিয়ে হেঁটে বেড়ায়। পানি, খাবার কিংবা হারিয়ে যাওয়া স্বজনের খোঁজে কীভাবে বেরিয়ে পড়ে। কোনো শিশু শুধু ভুল জায়গায় চলে যাওয়ার কারণে নিহত হয়েছে—এ কথা ভাবলে এর চেয়ে বর্বরতার আর কোনো নাম খুঁজে পাই না।

এরপর চলচ্চিত্র নির্মাতা ওই সেনার কাছে জানতে চান, এসব এলাকায় নিহত বেসামরিক মানুষের লাশের কী হয়েছিল? যারা জানতেনই না, কোন রাস্তা পর্যন্ত তাদের চলাচলের অনুমতি রয়েছে, তাদের লাশের পরিণতি কী হয়েছিল? সেনাটি কিছুক্ষণ নীরব ছিলেন। এরপর বলেন, কুকুর সেগুলো খেয়ে ফেলেছিল। তিনি জানান, নিজে ঘটনাটি দেখতে পারেননি। তবে তার সঙ্গে থাকা অন্যরা কুকুরকে লাশ খেতে দেখেছিলেন।

চলচ্চিত্র নির্মাতা জানতে চান, তিনি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারতেন না? সেনাটির উত্তর ছিল, সেটি তার দায়িত্ব নয়। তার দায়িত্ব ছিল কেবল কারিগরি বিষয়ে। নৈতিক অবস্থান নেওয়া তার কাজের অংশ ছিল না। একবার ভাবুন, একজন মানুষ জানেন যে অন্যদের হত্যা করা হচ্ছে এবং তাদের লাশ কুকুরের খাবারে পরিণত হচ্ছে। তারপরও তিনি মনে করেন, এমন ঘটনায় আপত্তি জানানো তার পেশাগত দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না।

‘শুধু আদেশ পালন করেছি’

সেনাটির এই উত্তর আমাকে ভাবিয়ে তুলেছিল। একজন মানুষের বিবেক থাকতে হলে তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি লাগবে কেন? আমার মনে পড়েছিল নুরেমবার্গের বিচারপ্রক্রিয়ার কথা। নাৎসিদের অপরাধের পর বিশ্ব যে অজুহাত শুনেছিল, তা হলো—‘আমরা শুধু আদেশ পালন করেছি।’

এই কথার মাধ্যমে অপরাধীরা দায়মুক্তি পাননি। অথচ এখন আমরা আরও শীতল এক ব্যাখ্যা শুনছি—আমি শুধু কারিগরি দিকের দায়িত্বে ছিলাম, নৈতিক বিষয়টি আমার কাজ নয়। যেন একটি অপরাধকে ছোট ছোট দায়িত্বে ভাগ করে দিলে সেটি আর অপরাধ থাকে না।

একজন নজরদারি করেন, আরেকজন লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেন, তৃতীয় ব্যক্তি অনুমতি দেন, চতুর্থজন বোতাম চাপেন। শেষ পর্যন্ত একজন মানুষ মারা যান। এরপর প্রত্যেকে হয়তো বাড়ি ফিরে যান। ভাবেন, তাকে যে ছোট্ট দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল, তিনি শুধু সেটুকুই পালন করেছেন। কিন্তু মানুষটি তো মারা গেছেন। তাহলে তার মৃত্যুর দায় কার?

আমি তাদের সাক্ষ্য থেকে অন্য কিছু খুঁজছিলাম। জানতে চেয়েছিলাম, এসব ঘটানোর পর তাদের ভেতরে কী হয়েছিল। তারা কি নিহত মানুষগুলোর কথা ভেবেছিলেন? সেই মুখগুলো কি কখনো তাদের স্মৃতিতে ফিরে এসেছিল? স্বাভাবিক জীবনে ফিরেও কি তারা সেই স্মৃতি বহন করতেন? তাদের মধ্যে কোনো পরিবর্তন এসেছিল কি?

একজন সেনা বলেছিলেন, একবার পোল্যান্ডে গিয়ে তিনি ভেবেছিলেন, জার্মান সমাজ কীভাবে নিজেদের অতীতের অপরাধের পরও স্বাভাবিক জীবন চালিয়ে যেতে পেরেছে। পরে তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বিষয়টি কত সহজ হতে পারে। একজন মানুষ কোনো জায়গায় বোমা হামলা চালিয়ে সেদিন সন্ধ্যাতেই নিজের ব্যক্তিগত সাক্ষাতের সময় নিয়ে চিন্তা করতে পারেন।

আরেকজনের বলা একটি কথা আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি ভবনটি ধসিয়ে দিয়েছিলাম, তারপর সেদিন রাতেই বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ার পান করতে বেরিয়েছিলাম।’ কথাটি শুনে আমার ভেতরে কী অনুভূতি হয়েছিল, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

যেদিন ধ্বংস হয়েছিল আমার পরিবার

এখনো এমন একটি রাত কাটাতে পারিনি, যেদিন ঘুমের মধ্যে যুদ্ধের স্মৃতি ফিরে আসেনি। আর সেই মানুষটি বলছেন, একটি আবাসিক ভবন ধ্বংস করার পর তিনি বন্ধুদের সঙ্গে সাধারণ একটি সন্ধ্যা কাটাতে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। যেন কিছুই ঘটেনি। যেন সেখানে কেউ ছিলই না।

হঠাৎ আমার মনে একটি প্রশ্ন জেগে উঠল, যা কিছুতেই সরাতে পারছিলাম না। তিনি যে ভবনটি ধ্বংস করার কথা বলছিলেন, সেটি কি আমার পরিবারের বাড়ি হতে পারে? ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর বোমা হামলায় আমার পরিবারের ৪২ জন সদস্য নিহত হয়েছিলেন। সেই বাড়িটিই কি ছিল তার ধ্বংস করা ভবন?

আমরা যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে প্রিয়জনদের খুঁজছিলাম, হারানো মানুষগুলোর জন্য কাঁদছিলাম, তখন কি তাদের হত্যাকারী কোথাও বসে বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ার পান করছিলেন? আমি জানি না, আমার পরিবারের বাড়িতে কে বোমা হামলা চালিয়েছিলেন। এটাও জানি না, এরপর তিনি কী করেছিলেন। কিন্তু এমনটা ঘটে থাকতে পারে—এই চিন্তাটুকুই আমাকে অসুস্থ করে দেওয়ার মতো যন্ত্রণা দিয়েছে। তিনি কি একবারও ভেবেছিলেন, পেছনে কী রেখে এসেছেন? কল্পনা করেছিলেন কি, কয়েক মিনিটের একটি কর্মকাণ্ডের কারণে কতগুলো পরিবারকে বাকি জীবন ধরে সেই ক্ষত নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে?

আমার দাদি সেই বাড়িতে ছিলেন। ছিলেন আমার বাবার ও মায়ের দিকের চাচা-মামারা, তাদের ছেলে-মেয়েরা এবং তাদের সন্তানরা। তারা ছিলেন আমার পরিচিত মানুষ। তাদের ভালোবাসতাম। জীবনের বহু বছর তাদের সঙ্গে কাটিয়েছি।

এখনো তাদের কণ্ঠস্বর মনে পড়ে, মুখগুলো চোখের সামনে ভেসে ওঠে। মনে পড়ে একসঙ্গে কাটানো সাধারণ মুহূর্তগুলো, ছোট ছোট ঘটনা—যেগুলো অন্য কারও কাছে হয়তো তেমন গুরুত্বপূর্ণ নয়, কিন্তু আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না।

যিনি বাড়িটিতে বোমা ফেলেছিলেন, তার কাছে হয়তো সেটি ছিল আরেকটি ভবন ধ্বংস করা, আরেকটি অভিযান সফলভাবে শেষ করা। কিন্তু আমার কাছে ওই বাড়িটির সঙ্গে জীবনের একটি অংশও শেষ হয়ে গেছে। তিন বছর পেরিয়ে গেছে। তারপরও আমি বারবার সেই দিনে ফিরে যাই। তাদের অনুপস্থিতি নিয়ে কীভাবে বেঁচে থাকতে হয়, এখনো তা শেখার চেষ্টা করছি।

হত্যায় আনন্দ খুঁজে পাওয়া

তবে সেনাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সক্ষমতার চেয়েও যে বিষয়টি আমাকে বেশি ক্ষুব্ধ করেছে, তা হলো—তাদের কেউ কেউ হত্যার কথা এমনভাবে বলেছেন, যেন তারা বাধ্য হয়ে কাজটি করেননি; বরং এতে আনন্দ পেয়েছেন।

একজন অংশগ্রহণকারী বলেছিলেন, সংঘাত বাড়লে সেনারা নিজেদের মধ্যে আনন্দ করার কথা বলতেন। তাদের ভাষায়, সেটি ছিল ‘মজা, সত্যিকারের মজা’। কথাগুলো নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ভেবেছি।

গাজার হাসপাতালগুলোতে কাজ করার সময় আমি যথেষ্ট মৃত্যু দেখেছি। নিজের চোখের সামনে শিশুদের মারা যেতে দেখেছি। পরিবারগুলোকে নিশ্চিহ্ন হয়ে যেতে দেখেছি। এমন মানুষদের দেখেছি, যাঁদের বাঁচাতে আমরা মরিয়া হয়ে চেষ্টা করেছি, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিনি।

একজন মানুষকে হত্যা করা এমনিতেই ভয়াবহ। কিন্তু কাউকে হত্যা করে আনন্দ পাওয়া? এমন নিষ্ঠুরতা আমি বুঝে উঠতে পারি না। জীবনে যতটা দুর্ভোগ দেখেছি, তার চেয়েও বেশি কষ্ট দেখেছি বলে মনে হয়। কিন্তু সেই কষ্টের মধ্যে কেউ কীভাবে আনন্দ খুঁজে পেতে পারেন, তা কখনো বুঝতে পারিনি।

আরো একটি বিষয় আমাকে ভাবিয়েছে। চলচ্চিত্রে একজন অংশগ্রহণকারী বলেছিলেন, এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত অনেকেই কট্টর ডানপন্থী ছিলেন না। তাদের কেউ কেউ তেল আবিবের বাসিন্দা, এমনকি মধ্যপন্থী বাম রাজনীতির সমর্থকও ছিলেন। কথাটি নিয়ে বারবার ভেবেছি।

আমরা অনেক সময় ধরে নিই, এমন কাজ করতে পারে কেবল সেই মানুষ, যারা শুরু থেকেই চরমপন্থী। কিন্তু যদি তারা সাধারণ মানুষ হন? এমন মানুষ, যাদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে কিংবা কোনো ক্যাফেতে দেখা হতে পারে। যাঁরা আমাদের পাশে বসে শান্তি, ন্যায়বিচার ও মানবাধিকার নিয়ে কথা বলতে পারেন।

একজন মানুষ কীভাবে বন্ধুদের প্রতি সদয়, পরিবারের প্রতি স্নেহশীল এবং মানবাধিকারে বিশ্বাসী হয়েও মেনে নিতে পারেন যে একটি শিশু এমন একটি সীমারেখা অতিক্রম করার কারণে নিহত হতে পারে, যে রেখাটি শিশুটি দেখতেই পায়নি? অন্য একজন মানুষের মানবিকতাকে যখন সহজেই উপেক্ষা করা যায়, তখন একজন মানুষের বিবেকের কী হয়?

চলচ্চিত্র দেখে ফিরেও গাজা থেকে ফিরতে পারিনি

চলচ্চিত্রটি দেখে বেরিয়ে আসার সময় আমার মধ্যে দীর্ঘদিনের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র ক্ষোভ অনুভব করছিলাম। গাজায় কী ঘটেছে, তা জানতে আমি চলচ্চিত্রটি দেখতে যাইনি। আমি সেখানে ছিলাম। যথেষ্ট দেখেছি।

আমি গিয়েছিলাম বুঝতে, যারা এসব করেছে, তারা কীভাবে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে বেঁচে থাকতে পারে। কীভাবে হত্যাকে ন্যায্য বলে মনে করে? কীভাবে নিজেদের বোঝায় যে তারা যা করছে, তা স্বাভাবিক? আর কেউ কেউ কীভাবে সেই কাজের মধ্যেই আনন্দ খুঁজে পায়?

হয়তো আমি অনুশোচনার কোনো চিহ্ন খুঁজছিলাম। আশা করেছিলাম, তাদের কেউ একজন বলবেন, শেষ পর্যন্ত তিনি বুঝতে পেরেছেন কী করেছেন—যদিও সেই উপলব্ধি আসতে অনেক দেরি হয়েছে। কিন্তু আমি যে উত্তর খুঁজছিলাম, তা পাইনি। বরং এমন কিছু প্রশ্ন নিয়ে ফিরেছি, যেগুলো আমাকে আরো বেশি আতঙ্কিত করেছে।

সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম, কিন্তু নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারিনি। মাদ্রিদের রাস্তায় পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় হেঁটেছি। পুরো পাঁচ ঘণ্টা। কোথায় ছিলাম, কোথায় যাচ্ছিলাম, তা বুঝতে পারছিলাম না। চারপাশের রাস্তাঘাটের দিকেও খুব একটা খেয়াল ছিল না। সামনে তাকিয়েও যেন কিছু দেখতে পাচ্ছিলাম না।

শুধু হেঁটে যাচ্ছিলাম। কিন্তু মাদ্রিদকে দেখছিলাম না, দেখছিলাম গাজাকে। দেখছিলাম ২০২৩ সালের ডিসেম্বরের সেই দিনগুলো, যখন মায়ের সঙ্গে গুলির মধ্যে দিয়ে দৌড়াচ্ছিলাম। জানতাম না, কোথায় যাব। দেখছিলাম দুর্ভিক্ষের দিনগুলো, যখন ভাগ করে খাওয়ার জন্য এক টুকরো রুটিও খুঁজে পাওয়া যেত না।

দেখছিলাম হাসপাতালগুলো, সেই শিশুদের, যাদের বাঁচাতে পারিনি। আর বারবার ফিরে যাচ্ছিলাম সেই দিনে, যেদিন আমার পরিবারের বাড়িতে বোমা হামলা হয়েছিল। মনে পড়ছিল, সেদিন যাঁদের হারিয়েছি, তাদের কথা। সিনেমা হল থেকে বেরিয়ে এসেছিলাম ঠিকই, কিন্তু চলচ্চিত্রটিকে পেছনে ফেলে আসতে পারিনি। হয়তো আমার ভেতরের কোনো অংশ এখনো গাজাতেই রয়ে গেছে।

যা কিছু আমি ভুলতে পারি না

গাজা ছেড়ে আসার পর থেকেই আবার বাঁচতে শেখার চেষ্টা করছি। এখন বাইরে হাঁটতে গেলে গোলা এসে পড়ার ভয় নেই। খাবার কিনতে গিয়ে জীবন বিপন্ন হওয়ার আশঙ্কা নেই। বাড়ি থেকে বেরিয়ে ফিরে এসে দেখতে পারি, সেটি যেখানে রেখে গিয়েছিলাম, সেখানেই আছে। এগুলো খুবই সাধারণ বিষয়। অথচ এখনো নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করছি, সত্যিই এমন স্বাভাবিক জীবন সম্ভব।

মাদ্রিদের রাস্তায় ওই পাঁচ ঘণ্টা হাঁটার পর বুঝতে পেরেছি, ইউরোপে আসার পর থেকে যে সত্যটি স্বীকার করতে চাইছিলাম না, তা হলো—আমি শুধু শরীরটাকে গাজা থেকে বের করে আনতে পেরেছি। সেখানে ঘটে যাওয়া সবকিছু থেকে মুক্ত হতে পারব কি না, জানি না। আর সত্যি বলতে, সবকিছু পেছনে ফেলে আসতে চাই কি না, সেটিও নিশ্চিত নই।

যাদের ভালোবেসেছি, তাদের কীভাবে ভুলে যাব? তাদের জীবন এভাবে শেষ হয়ে গেছে—এই সত্যের সঙ্গে কীভাবে আপস করব? আমি সিনেমা হলে গিয়েছিলাম, শুনতে চেয়েছিলাম, যারা আমাদের সঙ্গে এসব করেছে, তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড কীভাবে মনে রাখে। কিন্তু বেরিয়ে আসার সময় আমার মনে পড়ছিল শুধু সেই সবকিছু, যা আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না।

কখনো মনে হয়, যদি পুরো একটি দিন তাদের কথা মনে না করে কাটিয়ে দিতে পারি, তাহলে যেন তাদের আরও কিছুটা হারিয়ে ফেলব। মনে হয়, এক দিনের জন্যও ভুলে যাওয়া মানে তাদের হারানোর আরেকটি অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া। আবার কখনো শুধু চাই, একটি রাত যেন তাদের মুখ না দেখে ঘুমাতে পারি। এই দুই অনুভূতির মধ্যে কীভাবে সমন্বয় করব, জানি না। প্রতিদিনই তারা আমার সঙ্গে থাকে।

তিন বছর আগে, মাত্র একটি দিনে আমি পরিবারের ৪২ জন সদস্যকে হারিয়েছি। যিনি তাঁদের বাড়িতে বোমা ফেলেছিলেন, তিনি এরপর কী করেছিলেন, তা আমি জানি না। জানি না, তিনি বন্ধুদের সঙ্গে বিয়ার পান করতে গিয়েছিলেন, স্ত্রী-সন্তানদের কাছে ফিরে গিয়েছিলেন, নাকি সেদিন রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়েছিলেন। আমি জানি না। কিন্তু এটুকু জানি, সেদিনের পর থেকে আমি আর কোনো রাত নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারিনি।

আমি বেঁচে ফিরেছি, গাজা ছেড়ে এসেছি। তারপরও সেই বাড়িটিকে সঙ্গে নিয়ে বেঁচে আছি—সেই বাড়ির ভেতরে থাকা মানুষগুলোকে সঙ্গে নিয়ে। আমি সিনেমা হলে গিয়েছিলাম, শুনতে চেয়েছিলাম, যারা আমাদের সঙ্গে এসব করেছে, তারা নিজেদের কর্মকাণ্ড কীভাবে মনে রাখে। কিন্তু ফিরে এসে মনে পড়ছিল শুধু সেই সবকিছু, যা আমি কোনো দিন ভুলতে পারব না.

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুর্গাপূজার মূল দর্শন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


দুর্গাপূজার মূল দর্শন অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো: রাষ্ট্রপতি

ঢাকা, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ : রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দুর্গাপূজার মূল দর্শন হচ্ছে অন্যায়, অত্যাচার, অসততা ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং সেগুলোকে পরাজিত করা।

তিনি রোববার শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে রমনা মন্দির পরিদর্শনকালে এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রপতি দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘শুধু বাংলাদেশেই নয়, সমগ্র পৃথিবীতে যখন অন্যায়, অত্যাচার, নিপীড়ন, নির্যাতন নেমে এসেছিল, তখনই দেবী দুর্গার আবির্ভাব হয়েছিল।’

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, এই দেশে বারবার অসুরের আবির্ভাব ঘটেছে এবং বাংলাদেশের মানুষ তাদেরকে পরাজিত করেছে। রমনা কালী মন্দিরের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৭১ সালে এটিকে ধ্বংস করার চেষ্টা হয়েছিল এবং পরে ১৯৭৩ সালে এই মন্দিরটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলার সময় যারা এই অপকর্ম করেছে, তাদের হাতেই এটি ঘটেছিল।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, ২০০১ সালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের উদ্যোগে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে রমনা কালী মন্দির পুনঃস্থাপিত হয় এবং তখন থেকেই এটিকে পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সকলকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বিষয়ে সবসময় অপব্যাখ্যা ও অপপ্রচার করা হয়। তিনি বলেন, আমরা দৃঢ় কণ্ঠে বলতে পারি- বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক যে সম্প্রীতি রয়েছে, তা বিশ্বের আর কোথাও নেই।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলোর সমাধানে বর্তমান সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি। এ সময় তিনি পূজার সফলতা কামনা করেন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশনকারীদের ধন্যবাদ জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, রমনা মন্দিরের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্য। রমনা মন্দিরের সদস্য সুভাষ চন্দ্র দাস রাষ্ট্রপতিকে উত্তরীয় পরিয়ে দেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কাউখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪, পুলিশের জিম্মায় গাড়ি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কাউখালী প্রতিনিধি

রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৫৮ পি.এম


কাউখালীতে বাস-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ আহত ৪, পুলিশের জিম্মায় গাড়ি

পিরোজপুরের কাউখালীতে বাস ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে নারীসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে কাউখালীর বেকুটিয়া সেতুর ওপারে উত্তর শিয়ালকাঠী নতুন বাজার ব্যাপারী বাড়ীর সামনের এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনায় আহতরা হলেন,অটোরিকশাচালক আলমগীর হোসেন (৫০), এবং দুই যাত্রী রিফাত হোসেন (২২) ও স্মৃতি (১৮)। তারা সবাই কাউখালী উপজেলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে বিপরীত দিক থেকে আসা অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং হতাহতের এই ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে, একই দিনে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে পিরোজপুর সদরের বাসিন্দা সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহও আহত হন। এ বিষয়ে আহত সাংবাদিক মাসুম বিল্লাহ জানান, বেপরোয়া অটোরিকশার কারণে প্রতিদিন সাধারণ যাত্রীরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ নেই, নেই কোনো লাইসেন্স।
এ বিষয়ে কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন-এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জানান,
"দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনা কবলিত বাস ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে বর্তমানে থানা পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%