০২:৫২ পি.এম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানুষের হয়ে পণ্য কেনার সময় দাম কমানো, বাড়িভাড়ার চুক্তি নিয়ে আলোচনা এবং চাকরিতে বেশি বেতন আদায় করার কাজ করতে সক্ষম হবে। এ ধরনের এআই এজেন্ট তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে কাজ করছে অ্যানথ্রপিক, যা আইনজীবীদের কাছ থেকে দরকষাকষি সংক্রান্ত পরামর্শ নিচ্ছে।
ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, অ্যানথ্রপিক আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করছে যাতে এআই এজেন্ট ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষা করতে পারে এবং একই সঙ্গে আইনি ও নৈতিক সীমা মেনে চলার বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। এজেন্টকে কতটা স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া হবে এবং কখন ব্যবহারকারীর অনুমতি নিতে হবে, তা নিয়েও আলোচনা চলছে।
কিভাবে কাজ করবে এআই এজেন্ট?
আরও পড়ুন: শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রবাসীদের জন্য ২০০ ট্রলি প্রদান
যেমন, যদি কেউ একটি ল্যাপটপ কম দামে কিনতে চান, তাহলে এআই এজেন্ট শুধুমাত্র বিভিন্ন দোকানের দাম তুলনা করবে না, বরং বিক্রেতার এআই এজেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করে দাম কমানোর চেষ্টা করবে। একইভাবে, বাড়িভাড়ার চুক্তি, গ্রাহকের অভিযোগ এবং চাকরির বেতন নিয়েও দরকষাকষি করার সক্ষমতা থাকবে।
তবে এখানে একটি জটিলতা বিদ্যমান। ক্রেতার এআই কম দামে পণ্য কেনার চেষ্টা করবে, অন্যদিকে বিক্রেতার এআই বেশি দামে বিক্রি করার চেষ্টা করবে। দুই পক্ষের এআই যখন নিজেদের ব্যবহারকারীর স্বার্থ রক্ষায় কাজ করবে, তখন আলোচনা কীভাবে ন্যায্য থাকবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন উঠছে।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য অ্যানথ্রপিক ‘নেগোশিয়েশন নর্মস’ বা দরকষাকষির নিয়ম তৈরির বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি, এআই এজেন্টকে কী কাজ করতে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তা যাচাই করার ব্যবস্থাও ভাবছে প্রতিষ্ঠানটি। উদাহরণস্বরূপ, ব্যবহারকারী স্বাক্ষরিত নথিতে এজেন্টের ক্ষমতা ও সীমাবদ্ধতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যেতে পারে।
দর-কষাকষিতে কঠোর এআই কি বেশি সফল?
আরও পড়ুন: দুর্গম এলাকায় মোবাইল সেবায় ভোগান্তি, মানসম্মত নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে বিটিআরসির উদ্যোগ
গত সেপ্টেম্বরে অ্যানথ্রপিক একটি ব্লগ পোস্টে বাস্তব পরিস্থিতির আদলে তৈরি একটি পরীক্ষার কথা জানায়। সেখানে কর্মীরা ভার্চ্যুয়াল বাজারে এআই এজেন্ট ব্যবহার করে বই কেনাবেচা করেন। পরীক্ষায় দেখা যায়, কঠোর দরকষাকষির নির্দেশনা পাওয়া এজেন্টগুলো তুলনামূলকভাবে কিছুটা ভালো চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। অন্যদিকে, সহযোগিতামূলক আচরণ করা কিছু এজেন্ট সবার জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান খুঁজতে নিজেদের পছন্দের বাইরে গিয়েও সমঝোতা করেছে।
এআই এজেন্টের দরকষাকষি নিয়ে অন্যান্য গবেষকরাও কাজ করছেন। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের সহকারী অধ্যাপক মিশেল ভাকারোর গবেষণায় চাকরির প্রস্তাব ও বাড়িভাড়ার মতো বিষয় নিয়ে এআই এজেন্টদের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজারের বেশি দরকষাকষি পরীক্ষা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে এজেন্ট অন্য এজেন্টকে কৌশলে প্রভাবিত করে গোপন তথ্য বের করার চেষ্টা করতে পারে। এ ধরনের ঝুঁকির একটি উদাহরণ হলো ‘প্রম্পট ইনজেকশন’, যেখানে বিশেষভাবে তৈরি নির্দেশনার মাধ্যমে এআইকে তার নির্ধারিত কাজ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।
গোপনীয়তা ও বৈষম্যের আশঙ্কা
এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ানোর ফলে সাধারণ মানুষ পেশাদার সহায়তা ছাড়াই ভালো চুক্তি আদায়ের সুযোগ পেতে পারেন। তবে যদি উন্নত এআই ব্যবহারের সুযোগ মূলত ধনী ব্যক্তি ও বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে তারা দরকষাকষিতে অন্যদের তুলনায় বেশি সুবিধা পেতে পারে।
আরও পড়ুন: ২১তম ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ফোরামে নিরাপদ ও মানবকেন্দ্রিক ডিজিটাল ভবিষ্যতের আহ্বান
মানুষের হয়ে দরকষাকষি ও লেনদেন করার জন্য এআই এজেন্টের জন্য এখনো পূর্ণাঙ্গ আইনি ও নীতিগত কাঠামো তৈরি হয়নি। তাই এজেন্ট কখন কঠোর অবস্থান নেবে, কখন সমঝোতা করবে এবং কখন ব্যবহারকারীর অনুমতি চাইবে—এসব বিষয় নির্ধারণ করা জরুরি হয়ে উঠছে। এআইকে আরও বুদ্ধিমান করে তোলার পাশাপাশি তার সিদ্ধান্তের সীমা, গোপনীয়তা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন