০৩:৫২ পি.এম
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি মন্তব্য করেছেন যে, যদি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা ব্যবহার করা হয়, তবে এর জন্য জাপান সরকারকেও দায় নিতে হবে। তিনি জাপানের জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা তাদের সরকারের কাছে জবাবদিহি দাবি করে।
এই তথ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সির সূত্রে প্রকাশিত হয়েছে।
আরাগচি বিশেষভাবে প্রশ্ন তুলেছেন যে, কিভাবে জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিশ্বের শীর্ষ ১০ ব্যাংকের তালিকা: চীনের চার ব্যাংক শীর্ষে
সম্প্রতি, জাপানের মিসাওয়া বিমানঘাঁটি থেকে মার্কিন এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যের দিকে পাঠানো হয়েছে এবং সেগুলো ইরানে হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে—এমন খবরের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।
ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আরাগচি বলেছেন, “জাপানে অবস্থিত স্থাপনাগুলোর ব্যবহারের জন্য টোকিও দায়ী।”
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনা যদি অন্য দেশের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হয়, তবে টোকিওর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। যদিও জাপান সরাসরি জড়িত না থাকলেও, তার ভূখণ্ড ও সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়টি উপেক্ষা করা যায় না, এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
আরাগচি জাপানের জনগণের উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের সরকারের ‘মার্কিন অপরাধে অংশগ্রহণের’ বিষয়টি নিয়ে জবাবদিহি দাবি করা উচিত।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় গ্রেপ্তার ১ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে
তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে মিত্রদেশগুলোর সামরিক ঘাঁটি ও অবকাঠামো ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আনতে চাইছে। বিশেষ করে, জাপানে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো থেকে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক তৎপরতা পরিচালিত হলে তার রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক দায় কার—সেই প্রশ্নই তুলেছেন ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক।
জাপানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
জাপানের উত্তরাঞ্চলের আওমোরি প্রিফেকচারে অবস্থিত মিসাওয়া বিমানঘাঁটি মার্কিন ও জাপানি সামরিক বাহিনীর একটি গুরুত্বপূর্ণ যৌথ স্থাপনা। এখান থেকে মার্কিন যুদ্ধবিমান পরিচালিত হয়ে থাকে।
ইরানে হামলার জন্য এই ঘাঁটি থেকে এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানোর খবর সামনে আসার পর, জাপানের ভূখণ্ড কীভাবে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
আরও পড়ুন: রাশিয়ার দাবি: ইউক্রেনের ১২৬টি ড্রোন ভূপাতিত
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সেই বিতর্ককে আরও তীব্র করতে পারে। বিশেষ করে, জাপানের সংবিধানের শান্তিবাদী অবস্থান এবং দেশটিতে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক বিতর্কের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি তাৎপর্যপূর্ণ।
মিসাওয়া ঘাঁটি ঘিরে বিতর্ক
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা জোট বিদ্যমান। জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সেনা, বিমান ও সামরিক স্থাপনা রয়েছে। পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেই এসব ঘাঁটি ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে, এসব স্থাপনা জাপানের ভূখণ্ডে থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের কোনও সামরিক অভিযানে সেগুলো ব্যবহৃত হলে জাপানের ভূমিকা ও দায় নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
আরও পড়ুন: ঢাকায় সৌদি রাষ্ট্রদূতকে ডেকে মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে আরাগচির মন্তব্য সেই পুরোনো প্রশ্নকেই নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে—মিত্রদেশের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশটি কতটা দায় বহন করবে।
ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি ওয়াশিংটনের মিত্রদের ভূমিকারও সমালোচনা করে আসছে। আরাগচির সর্বশেষ বক্তব্যে জাপানকে সরাসরি লক্ষ্য করা সেই কূটনৈতিক চাপেরই অংশ বলে মনে করা হচ্ছে। সূত্র: আল-জাজিরা
আরও পড়ুন: এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেবে না: আখতার হোসেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন