ঢাকা শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যেকোন ভুল এশিয়ার মানচিত্রকে পরিবর্তন করতে পারে!


বাংলাদেশের প্রতি ভারতের যেকোন ভুল এশিয়ার মানচিত্রকে পরিবর্তন করতে পারে!

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে কূটনৈতিক ভুল, রাজনৈতিক ঔদ্ধত্য কিংবা নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ভুল হিসাব শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককেই নয়, সমগ্র এশিয়ার মানচিত্রসহ কৌশলগত ভারসাম্যকেও নাড়া দিতে পারে। তাই বাংলাদেশের প্রতি যেকোনো আগ্রাসী বা একতরফা নীতির সম্ভাব্য পরিণতি নিয়ে ভারতের নীতিনির্ধারকদের গভীরভাবে ভাবার সময় এসেছে।

বাংলাদেশে দীর্ঘ সাড়ে পনেরো বছরে ভারতের একান্ত অনুগত রাজনৈতিক দলের প্রধান শেখ হাসিনা সরকারের ফ্যাসিস্ট শাসনের অবসানের পর দুই দেশের সম্পর্ক শীতলীকরন প্রক্রিয়ায় নতুন বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে।

অতীতের একমুখী সম্পর্কের পরিবর্তে হাসিনা সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ডঃ ইউনুস এর সময় থেকে বর্তমান নির্বাচিত নতুন সরকার গঠনের পর বাংলাদেশ এখন বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির পথে হাঁটছে। এই পরিবর্তনকে স্বাভাবিক কূটনৈতিক বাস্তবতা হিসেবে গ্রহণ করার পরিবর্তে এই পরিবর্তনকে ভারতের উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক অঙ্গনের একটি অংশ ক্রমেই সন্দেহ ও অস্বস্তির দৃষ্টিতে দেখছে। বিশেষ করে সম্প্রতি সম্পন্ন হওয়া নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে ক্ষমতায় আসা বিজেপির শক্তিশালী রাজনৈতিক অবস্থান সেই মনোভাবকে আরও তীব্র থেকে তীব্রতর করেছে বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা।

বাংলাদেশকে নতজানু পররাষ্ট্রনীতিতে অধীনস্থ করে রাখার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দীর্ঘদিনের সীমান্ত হত্যা, সীমান্তে উত্তেজনা এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা ইস্যুর পাশাপাশি নতুন করে অবৈধ "পুশ-ইন" নিয়ে উদ্বেগ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলছে। ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে মোদি সরকারের উগ্র হিন্দুত্ববাদী আচরণের রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন প্রদেশে বসবাসকারী বাংলা ভাষাভাষী, বিশেষত মুসলিম জনগোষ্ঠীর নাগরিকত্ব নিয়ে বিতর্ক এবং তাদের বাংলাদেশী বলে চিহ্নিত করার অপচেষ্টা সহ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার অব্যাহত প্রচেষ্টা বাংলাদেশে গভীর উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। যদি এ ধরনের নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা অব্যাহত থাকে, তবে তা শুধু মানবিক সংকটই নয়, দুই দেশের পারস্পরিক বিশ্বাসকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এ কারণে সম্পর্কের শীতলতা থেকে উষ্ণ হওয়ার পরিবর্তে শীতলীকরণ প্রক্রিয়ায় তা হিমাগারে গিয়ে ঠেকতে পারে। এমনকি এমন ক্রমাগত উস্কানির ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাও অস্বাভাবিক নয়- যার পরিণতি আন্দাজ করা ভুলও হতে পারে।

অন্যদিকে, দীর্ঘ সাড়ে ১৫ বছরের রুদ্ধশ্বাস ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার অবসানের পর থেকেই নতুন বাংলাদেশ চীন, পাকিস্তান, তুরস্ক, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া ও আরব বিশ্ব সহ পশ্চিমা বিশ্বের তথা ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে ও বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামরিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতা সম্প্রসারণ করতে চলেছে, তবে সেটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির অংশ। কোনো রাষ্ট্র তার জাতীয় স্বার্থে বহুমাত্রিক সম্পর্ক গড়ে তুলবে—এটাই আন্তর্জাতিক রাজনীতির স্বাভাবিক নিয়ম। পূর্বের ধ্যান-ধারণা বজায় রেখে সেটাকে বা সেই সিদ্ধান্তকে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চোখে দেখা কিংবা অভ্যাসগতভাবে পূর্বের মতো চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে প্রভাবিত করার চেষ্টা দীর্ঘমেয়াদে কারও জন্যই লাভজনক হবে না বরং তা নিজেদের জন্যই বুমেরাং হতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভারতের নিজস্ব কৌশলগত বাস্তবতা - যে দেশের প্রায় ২৮টি অঙ্গরাজ্যে ও ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অনেকটিতেই দীর্ঘদিন থেকে স্বাধীনতা লাভের চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের অভ্যন্তরীণ জনগোষ্ঠীগুলো। বিশাল ভৌগোলিক বিস্তার, একাধিক ক্ষমতাধর দেশে সঙ্গে সংবেদনশীল সীমান্ত, বিভিন্ন অঞ্চলে দীর্ঘদিনের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে আধিপত্যবাদী মনোভাবের কারণে তৈরি হওয়া জটিল সম্পর্ক—সব মিলিয়ে ভারতের সামনে এমনিতেই বহুস্তরীয় নিরাপত্তার হিসাব রয়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের সঙ্গে নতুন করে ভুল ক্রমেও ক্ষদ্রাতি ক্ষুদ্র কোন ভুল, সংঘাত বা সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা ভারতের জন্যও অপরিণামদর্শী ও অকল্পনীয় জটিল কৌশলগত চাপ তৈরি করতে পারে। একই সময়ে একাধিক নিরাপত্তা ফ্রন্টে চাপ মোকাবিলা করা যেকোনো রাষ্ট্রের জন্যই অত্যন্ত কঠিন। যে ভুলটি দীর্ঘদিন থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের উপর করে এসেছে । বিশাল সামরিক শক্তি, বিশ্বে একাধিপত্যের ভীতিকর ধারণা সবকিছু মিলিয়েই ইরানকে সহজ প্রতিপক্ষ হিসেবে ভুল হিসেব করে সহজেই পর্যদুস্তু করতে চেয়েছিল-এমনকি শাসন ব্যবস্থা সহ তাদের মেরুদন্ডও ভেঙে দিতে চেয়েছিল - পরিণতি কি? বিশ্বব্যবস্থায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিপত্যের স্থানে বহু মেরু ভিত্তিক বিশ্ব ব্যবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে এখন গোটা বিশ্ব, এমনকি রাজনৈতিকভাবে উভয় দেশ তাদের নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক অঙ্গনে কোণঠাসা হয়ে ভবিষ্যৎ ক্ষমতা হারানোর ঝুঁকিও তৈরি করেছে।

এ কারণেই নিজেদের অসংখ্য দুর্বলতা, সীমান্ত জটিলতা, পূর্ব-পশ্চিমে শত্রুভাবাপন্ন প্রতিবেশী প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দুই পরাশক্তির সাথে ক্রমাগত সীমান্ত উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ রাজ্যগুলোতে স্বাধীনতার বিস্ফোরণের চাপ থাকার পরেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের কোন ধরনের শক্তি প্রদর্শনের ভুল রাজনীতি কিংবা সামরিক চাপের কৌশলকে সহজ সমাধান হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে প্রতিটি সিদ্ধান্ত এখন বৃহত্তর আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য, অর্থনৈতিক করিডোর, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতির সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশ আয়তনে ক্ষুদ্র হলেও ভূ-রাজনৈতিকভাবে বিশ্বের কাছে এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, বিশ্ব পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ভুল এর পরিবর্তে তাদের নিজেদের পরাশক্তির শত্রুতা ভুলে একসাথে হতে সময় লাগবে না। এ কারণে একটি ছোট্ট ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া কখন যে প্রত্যাশার সীমা ছাড়িয়ে যাবে, তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা যায় না।

 
বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় মহারাষ্ট্র হিসেবে খ্যাত ভারতকে এত বড় শক্তি হিসেবে দেখতে চায় না বিশ্বের পরাশক্তি গুলো। বিশ্ব শাসনের সুপার পাওয়ার হওয়ার ক্ষেত্রে প্রত্যেকে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাশিয়া, রাশিয়া থেকে চীন এমনকি পশ্চিমা বিশ্বের মার্কিন মিত্র সংশ্লিষ্ট দেশগুলোও ভারতের এই বিশাল ভূখণ্ডকে নিয়ে কৌশলগত রাজনীতিতে একমত। অর্থাৎ বিশ্ব পরাশক্তির রাজনীতিতে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ পরাশক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে অসংখ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ অবস্থায় থাকলেও দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রতি রাজনীতির সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে একই মেরুতে এসে যুক্ত হয়- এটি ভারতের নীতি নির্ধারণী কৌশলবিদ তথা রাজনীতিবিদদের অনুধাবন করা সময়ের দাবি।

বাংলাদেশ আজ আর অতীতের সেই অবস্থানে নেই, যেখানে তার কৌশলগত গুরুত্বকে উপেক্ষা করা সম্ভব। বঙ্গোপসাগর, ইন্দো-প্যাসিফিক, আঞ্চলিক সংযোগ এবং অর্থনৈতিক করিডোরের কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া বাংলাদেশ এখন বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফলে বাংলাদেশের প্রতি যেকোনো আগ্রাসী পদক্ষেপ শুধু ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের মহা সংকট সৃষ্টি করবে না; বরং সমগ্র দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার কৌশলগত মানচিত্র ও পরিবেশকে নতুন অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, শক্তির অহংকার অনেক সময় রাষ্ট্রকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে যার মূল্য বহু বছর ধরে দিতে হয়। তাই আজ প্রয়োজন সংঘাতের ভাষা নয়, বাস্তবতার ভাষা বোঝা। বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্তকে সম্মান করা এবং পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলাই দুই দেশের জনগণের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা করবে। অন্যথায় একটি ক্ষুদ্র ভুল হিসাব কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, সমগ্র এশিয়ার মানচিত্রসহ ভূরাজনীতির গতিপথকেও অপ্রত্যাশিতভাবে বদলে দিতে পারে - এমন কথা আজকের দিনে বলা মনে হয় অমূলক হবে না।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকার করছিল শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থী, অতঃপর...

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২০ পি.এম


শিশুকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকার করছিল শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থী, অতঃপর...

চট্টগ্রামের পটিয়ায় আট বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে ওই মাদরাসার এক শিক্ষক ও তিন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা পরে জানাজানি হলে পুলিশ শনিবার (৪ জুলাই) অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষকের নাম আজিজ উল্লাহ। তিনি বোয়ালখালী উপজেলার শ্রীপুর খরন্দীপ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। ভুক্তভোগী শিশু পটিয়া উপজেলার ধলঘাট ইউনিয়নের ঈশ্বরখাইন চৌধুরীপাড়া আজিজিয়া নজিরিয়া তাহফিজুল কোরআন মাদরাসার দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরে ভুক্তভোগী শিশুটি শারীরিক সমস্যায় ভুগছিল। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টিকে পাইলসজনিত সমস্যা বলে মনে করেছিলেন। পরে শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান যে এটি পাইলস নয় বরং শিশুটির সঙ্গে বলাৎকারের ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

এরপর পরিবারের সদস্যরা শিশুটিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিশুটি পুরো ঘটনা খুলে বলে। শিশুটি জানায়, মাদরাসার শিক্ষক আজিজ উল্লাহ এবং আরও তিন শিক্ষার্থী গত প্রায় এক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে তার ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে আসছিল।

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক বলেন, বিষয়টি জানার পর অভিযুক্তদের মধ্যে আজিজ উল্লাহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি অভিযুক্তদের থানায় হাজির হওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। পরে আজিজ উল্লাহকে সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আদালতে পাঠানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাছ ধরতে গিয়ে মর্টারের গোলা পেল শিশুর দল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


মাছ ধরতে গিয়ে মর্টারের গোলা পেল শিশুর দল

নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী দূর্গাপুরে একটি ৬০ মিলিমিটার মর্টারের অবিস্ফোরিত গোলা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

শনিবার (৪ জুলাই) উপজেলার ভবানীপুর এলাকা থেকে এটি উদ্ধার করা হয়।

নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি) সূত্র জানায়, ভবানীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত পিলার ১১৫৫/১০-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভবানীপুর গ্রামের কয়েকজন শিশু একটি নালায় মাছ ধরতে গিয়ে কাদার নিচে গোলাটি দেখতে পায়।

এরপর স্থানীয় বাসিন্দা মো. আমজাদ আলী গোলাটি নালা থেকে এনে নিজের বাড়ির নিকটবর্তী একটি নিরাপদ স্থানে রেখে বিষয়টি ভবানীপুর বিওপি কমান্ডারকে জানান।

খবর পেয়ে বিজিবির একটি টহলদল গিয়ে নিশ্চিত হয় যে, সেটি একটি ৬০ মিলিমিটার মর্টারের অবিস্ফোরিত গোলা।

পরবর্তীতে গোলাটির চারপাশে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপত্তাবেষ্টনী তৈরি করা হয় এবং সেখানে বিজিবির সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন।

নেত্রকোণা ব্যাটালিয়ন (৩১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৌহিদুল বারী, পিএসসি জানান, ঘটনাস্থলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং বোম্ব ডিসপোজাল দলের মাধ্যমে গোলাটি ধ্বংসের প্রস্তুতি চলছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চায় ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৩ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চায় ইরান

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চাওয়ার কঠিন ঘোষণা দিল ইরান।

প্রিয় নেতার মৃত্যুতে কাঁদছে পুরো দেশ। সারা তেহরান এখন লাখো মানুষের ঢল। হাতে প্রতিশোধের লাল নিশান নিয়ে তাঁরা হাজির। সবার মুখে একটাই কথা— ‘প্রতিশোধ’ সূচিত। ঠিক এমন আবেগঘন পরিবেশে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার চাইবেই। এটি তাদের একটি দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য হিসেবে থাকবে। মন্ত্রণালয়টি উল্লেখ করে আরও জানাচ্ছে, সর্বোচ্চ নেতার বিদায় অনুষ্ঠানে বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে আওয়াজ তুলেছেন বড় বড় নেতারা।

এটি স্পষ্টত: প্রমাণ করে খামেনি কত বড় মাপের নেতা ছিলেন এবং ইরানের মানুষ কতটা মহান। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। শনিবার তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় তাঁর জানাজা শুরু হয়েছে।

পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের ওপর রাখা রয়েছে তার কালো পাগড়ি। সেখানে পাশেই রাখা হয়েছে হামলায় নিহত তার ১৪ মাস বয়সী নাতনিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের ছোট-বড় কফিন। মানবিক মানুষের হৈ-হল্লা ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ’ স্লোগান দিচ্ছেন।

প্রিয় নেতাকে বিদায় জানাতে এসে স্পিকার গালিবাফসহ অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। এক যুবক হতাশ হয়ে বলেন, ‘এই ট্র্যাজেডি দেখার আগে আমার মৃত্যু হলে ভালো হতো!’ ধারণা করা হচ্ছে, আগামী তিন দিনে তেহরানে প্রায় দেড় থেকে দুই কোটি মানুষ জড়ো হবেন।

খামেনির মৃত্যুতে ইরানে মূলত একটি যুগের অবসান হয়েছে। ১৯৮৯ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন। তার সময়ে সামরিক বাহিনী এবং মিসাইল কর্মসূচি অনেক শক্তিশালী হয়। তার মৃত্যু জাতিকে দুর্বল না করে বরং আরও এক করেছে। ছয় দিনের এই বিদায় অনুষ্ঠান ইরান এবং ইরাকের বিভিন্ন শহরে চলবে। আগামী শুক্রবার খামেনির জন্মশহর মাশহাদে তার দাফন সম্পন্ন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

১০:২৫ পি.এম


সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উদযাপিত হলো যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মিউজিক্যাল পারফরম্যান্সের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠিত হয়ে গেল। শনিবার (৪ জুলাই) আমেরিকান দূতাবাস এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সংসদ ভবনের নকশা বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান করেছেন। ঠিক তেমনি, আমেরিকার স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এ ধরনের পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ ও আমেরিকা একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে একে অপরকে সহায়তা করেছে।

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়, বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানো মার্কিন কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ছিল এক অবিস্মরণীয় অবদান। আজকের এই সঙ্গীতায়োজন সেই একই মানবিক ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে বহন করছে। এটাই কেবল বাণিজ্য বা কূটনীতি নয়, বরং দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যকার সম্পর্ককে দীর্ঘস্থায়ী অংশীদারিত্বে রূপ দেবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের বিদ্যমান অংশীদারত্ব ভবিষ্যতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ ও সরকারের প্রতি ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও শক্তিশালী ও ফলপ্রসূ হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বাংলাদেশ আমাদের একটি পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা ও পাশে থাকা আমাদের এই গভীর অংশীদারিত্বেরই প্রমাণ। আমরা বিশ্বাস করি, পারস্পরিক স্বার্থ এবং অভিন্ন লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আগামীতে আরও সুদৃঢ় হবে। যেখানে দুই দেশের টেকসই উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অঙ্গনে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের নিরবচ্ছিন্ন অবদান ও যৌথ অঙ্গীকার প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গণতন্ত্র, উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা বিদ্যমান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে এবং উভয় দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্তিশালী করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

তিনি আরো বলেন, জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই আয়োজন বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের গভীরতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যামবাসেডর বলেন, ১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সকল মানুষ সমান’। আর আজ আমেরিকার ২৫০তম স্বাধীনতা দিবসে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির আলোকেই আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই ঐতিহাসিক ক্ষণে আমরা বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দীর্ঘস্থায়ী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চাই। যেখানে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের টেকসই নিরাপত্তা অংশীদারিত্ব ও আঞ্চলিক শান্তি রক্ষা আমাদের ভবিষ্যত সহযোগিতার প্রধান স্তম্ভ হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে ককাস সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যগণ, সংসদ সদস্যগণ, মার্কিন ও অন্যান্য দেশের কূটনৈতিকবৃন্দ, সংসদ সচিবালয়ের সচিবসহ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩১
ইশা ০৬:৪২
সূর্যোদয় : ০৫:৫৬ সূর্যাস্ত : ০৫:৩১
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%