০৪:০৩ পি.এম
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অঞ্চলে চলতি কিছুদিন ধরে 'পুশ ইন' বা 'পুশ ব্যাক' নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। বিজিবি এবং বিএসএফের মধ্যে একাধিকবার পতাকা বৈঠক হয়েছে, উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় ঘটেছে।
একাধিকবার ধাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে।
বিজিবি কর্মকর্তারা পুশ ইন করানোর একটি প্যাটার্ন খুঁজে বের করেছেন। پুশ ইন-এর আগে ভারতের সীমান্তে লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়। বিজিবি কর্মকর্তারা এটি 'সিগন্যাল' হিসেবে ধরে সতর্ক অবস্থানে চলে আসেন।
আরও পড়ুন: প্রতিবন্ধীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করলেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী
বিজিবির রবাত সূত্রে বিবিসি বাংলা জানিয়েছে, মে মাসের শেষ থেকে জুনের প্রথম ভাগ পর্যন্ত সীমান্তের অন্তত ২০টি পয়েন্টে পুশ ইন এবং পুশ ব্যাক নিয়ে উত্তেজনা রয়েছে। এসব পয়েন্টে অন্তত ২০০ জন মানুষকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে বিএসএফ।
বিজিবির দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বিবিসি বাংলাকে বলেছেন, "তাদের সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া বরাবর সীমান্ত সড়ক রয়েছে এবং কাঁটাতারের বেড়ার বিভিন্ন স্থানে গেট রয়েছে। সীমান্ত সড়ক দিয়ে রাতে বড় গাড়িতে করে মানুষ নিয়ে যাওয়া হয়, লাইট বন্ধ করে, কোনো একটি গেট খুলে দিয়ে মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেয় তারা।"
প্রতিটি জেলার ক্ষেত্রেই বিএসএফের এই পুশ ইন প্যাটার্ন বা ঘটনাপ্রবাহ একই রকম রয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন, "প্রতিটি পুশ ইন-এর আগে ওই এলাকায় ভারতের সীমান্তের লাইট বন্ধ করে দেওয়া হয়, এটি সবচেয়ে বড় সিগন্যাল।"
মে মাসের শেষদিকে সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলা সংলগ্ন সীমান্তের ভারত অংশে কয়েকশো মানুষ জড়ো হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে বিজিবির। এই ঘটনার পরেই দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সব এলাকায় নজরদারি বৃদ্ধি করে বিজিবি।
আরও পড়ুন: ফেনীতে সাংবাদিককে মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগে সাবেক কাউন্সিলর আটক
ঝিনাইদহ, যশোর, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন জেলার সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত টহল দেয় বিজিবি।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসানের দাবি, সীমান্তের কাছে থাকা গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষ যদি এই নজরদারি এবং টহলের কাজে বিজিবিকে সহায়তা না করতেন, তাহলে 'পুশ ইন' ঠেকানো তাদের পক্ষে সম্ভব হত না।
তিনি জানিয়েছেন, বিজিবি নিয়মিত স্থানীয় স্কুল, মসজিদ, বাজারে মাইকিং করে। এলাকাবাসীর সঙ্গে আলোচনা করে তাদের জানানো হয়, সীমান্তে এ ধরনের লক্ষণ দেখা গেলে বুঝতে হবে, পুশ ইন হতে পারে।
গত ৩ জুন বাঙ্গাবাড়ি সীমান্তে একজন চৌকিদারের কাছ থেকে পুশ ইন-এর তথ্য পায় বিজিবি। চৌকিদার জানান, বিজিবি কয়েকদিন আগে থেকেই তাকে সীমান্তের লাইট বন্ধ হওয়া বা রাতে সীমান্তের ওপারে গাড়ি চলাচলের শব্দ শুনলে সতর্ক থাকার জন্য বলেছে।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
বিজিবির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএসএফ এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দেয়নি। তবে বিএসএফের কর্মকর্তারা বিজিবির সাথে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের বৈঠকে একাধিকবার এই পুশ ইন-এর অভিযোগ অস্বীকার করেছে বলছেন বিজিবির শীর্ষ কর্মকর্তাদের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন