০৪:০৪ পি.এম
মেক্সিকোর ঐতিহাসিক আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো আয়োজনে পর্দা উঠেছে ২০২৬ ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোর ঝলকানি, মেক্সিকোর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উপস্থাপনা এবং জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। তবে, স্টেডিয়ামের বাইরে বিক্ষোভ এবং পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে উদ্বোধনী ম্যাচের পূর্বে রাজধানী মেক্সিকো সিটিতে পরিস্থিতি উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং সামাজিক অস্থিরতার কারণে ৮২ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার স্টেডিয়ামকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
মেক্সিকো স city's নাগরিক নিরাপত্তা সচিবালয়ের তথ্যে জানা যায়, ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ২০০ মুখোশধারী বিক্ষোভকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এই ঘটনায় ২৮ বছর বয়সী এক নারীকে আটক করা হলেও পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্পে এক সপ্তাহের মধ্যে মজুরি বোর্ড গেজেট প্রকাশের ঘোষণা শ্রমমন্ত্রীর
বিক্ষোভের কারণে শহরের কয়েকটি মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। এছাড়া একটি ফ্যান জোনেও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হলেও দ্রুত তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। তবে এসব ঘটনার প্রভাব মাঠে পড়েনি; অধিকাংশ সমর্থক কোনো বড় ধরনের বিলম্ব ছাড়াই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে সক্ষম হন।
বিশ্বকাপের উদ্বোধনের আগে থেকেই দেশটির সরকার এবং শিক্ষক সংগঠন সিএনটিই-র একাংশের মধ্যে বিরোধ চলছিল। তাদের প্রধান দাবি হচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ক্লদিয়া শেইনবম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ২০০৭ সালের বিতর্কিত আইএসএসএসটিই আইন বাতিল করা। এই আইন রাষ্ট্রীয় পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছিল।
সিএনটিই টানা দশম দিনের মতো দেশব্যাপী ধর্মঘট পালন করছে। সংগঠনটির দাবি হলো, শিক্ষকদের জন্য শতভাগ বেতন বৃদ্ধি এবং পেনশন ব্যবস্থার সংস্কার। এই ধর্মঘটের ফলে দেশজুড়ে ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মাদক-সহিংসতা মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার অভিযোগ নিয়েও বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত রোববার বিক্ষোভকারীরা আজতেকা স্টেডিয়ামের প্রধান সড়ক অবরোধ করে এবং ‘ফিফা, চলে যাও’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করে।
আরও পড়ুন: শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চে ব্র্যাককে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দ্বিতীয় জয়
পরিস্থিতি সামাল দিতে মেক্সিকো সরকার ম্যাচের দিন রাজধানীর সব স্কুল বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা যায়। যদিও এর আগে শিক্ষাবর্ষ ছয় সপ্তাহ আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, পরে তা বাতিল করা হয়।
বিশ্বকাপের জাঁকজমকপূর্ণ উদ্বোধনের আড়ালে মেক্সিকোর সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে উদ্বোধনী আয়োজন নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন