প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আওয়ামী লীগের ফ্যাসিস্ট রিজিমে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
তিনি শুক্রবার (১২ জুন) ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেন।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, মানুষ দীর্ঘ ফ্যাসিস্ট রিজিম ও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পার করে বাজেট পেয়েছে। আওয়ামী আমলের কারণে দেশের প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়া হয়েছে এবং অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়া হয়েছে। এ কারণে সম্পদের সীমাবদ্ধতার মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক বাজেট করা কঠিন ছিল।
তিনি জানান, বাজেটে মানুষের চাওয়ার প্রতিফলন ঘটেছে। বাজেটে প্রতিটি নাগরিকের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছে। মানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বি, এবং আমরা সবার সাথে কথা বলে সেই প্রত্যাশা প্রতিফলনের চেষ্টা করেছি বাজেটে। সরকারের লক্ষ্য ছিল, প্রতি নাগরিককে বাজেট চিন্তায় আনার চেষ্টা করা। কোনো শ্রেণি-পেশার মানুষ এই বাজেটের আওতার বাইরে থাকেনি।
অর্থমন্ত্রী দাবি করেছেন, এবারের বাজেটে অর্থনীতিকে গণতন্ত্রায়ণ করার উদ্দেশ্য ছিল। এর আগের বাজেটগুলো কিছু মানুষ বা গোষ্ঠীর জন্য ছিল। এখন সবার জন্য রোডম্যাপ দেয়া হয়েছে এবং বাস্তবায়নে কি কি করতে হবে তা পরিষ্কার করে দেয়া হয়েছে। কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ পরিবেশসহ প্রতিটি প্রকল্প ব্যয়ে চার ধরনের কনসিডার করে বাজেট তৈরি করা হয়েছে।
এবারের বাজেটের ভাবনা, চিন্তা ও দর্শন ভিন্ন। ‘রুল বেইজড অর্ডার’ থেকে বিশ্ব সরে এসেছে, যুদ্ধ নতুন করে চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। ফলে প্রকৃত অর্থনীতির দিকে যাওয়া কঠিন হয়ে গেছে। জ্বালানি খাতে অবিঘাত বেশি হয়েছে।
ব্যাংকিং ব্যবস্থার সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ব্যাংকগুলোতে পাচার ও লুটপাটের কারণে ঘাটতি এবং কস্ট অব ফান্ডের অভাব দেখা দিচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিতে পড়ছে।
সরকার ব্যবসা বান্ধব অবস্থা সৃষ্টি করতে কাজ করছে বলেও জানান তিনি। ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর চেষ্টা চলছে। পণ্য খালাস থেকে বাজার পর্যন্ত অধিক খরচ হচ্ছে, যা মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলছে। ইতোমধ্যে তেল-গ্যাসের মূল্য বেড়েছে, এবং বহিরাগত মূল্য বৃদ্ধিতে কিছু করার দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। ফলে অভ্যন্তরীণ খরচ কমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এটি কমালে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতি কমাতে ইতিবাচক প্রভাব থাকবে।
তিনি আরো বলেন, জ্বালানি ক্রয়ে বাফারস্টক রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে, এবং পোর্টে খরচ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করার চেষ্টা চলছে।
প্রসঙ্গত, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১৩.৭ শতাংশ এবং গত অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৩ লাখ কোটি টাকার পাশাপাশি মোট উন্নয়ন ব্যয় ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা এবং পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকার বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় প্রাক্কলন করা হয়েছে, যা জিডিপির ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন