মঙ্গলবার, ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০২:১১ পি.এম
ঝিনাইদহে একটি বাসের আঘাতে হোটেল শ্রমিক নুর ইসলাম (৬৫) নিহত হয়েছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শহরের আম বাজার এলাকায়।
পুলিশ এবং নিহতের স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, নুর ইসলাম তার বাড়ি থেকে বের হয়ে কর্মস্থল হোটেলে যাওয়ার পথে ছিলেন। তিনি যখন আম বাজার এলাকায় পৌঁছান, তখন ঢাকাগামী ‘দর্শনা ডিলাক্স’ নামের একটি বাস তাকে সজোরে ধাক্কা দেয় এবং দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে।
পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
নিহত নুর ইসলামের বাড়ি শহরের কলেজ স্ট্যান্ড পাড়ায়, তিনি মৃত আমছার আলীর ছেলে। কোটচাঁদপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, ঘাতক বাসটি শনাক্ত করা হয়েছে এবং চালককে আটক করার জন্য প্রচেষ্টা চলছে। ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য এলাকায় যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত ৩৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। তবে, টেস্ট ম্যাচের অভিজ্ঞতা তাদের নেই।
এবার বাংলাদেশ পাচ্ছে সেই সুযোগ। আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে যে তারা একমাত্র টেস্ট ম্যাচের পাশাপাশি একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করবে।
এসিবি আগামী মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে একমাত্র টেস্ট ম্যাচের পর জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ আয়োজন করবে। আফগানিস্তান তাদের হোম ম্যাচগুলো সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিভিন্ন ভেন্যুতে খেলে থাকে।
এই ধারাবাহিকতায়, বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটি সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে অনুষ্ঠিত হবে যেখানে রশিদ খানরা অংশগ্রহণ করবে। ম্যাচটি শুরু হবে আগামী ৯ অক্টোবর।
টেস্ট ম্যাচের পর, ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু হবে ১৭ অক্টোবর। উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ হবে জিম্বাবুয়ে।
১৯ অক্টোবর আফগানিস্তান ও জিম্বাবুয়ের মধ্যে মুখোমুখি লড়াই হবে। অন্যদিকে, ২১ অক্টোবর আফগানিস্তান-বাংলাদেশ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। একবার করে পরস্পরের মুখোমুখি হওয়ার পর ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ২৩ অক্টোবর।
ত্রিদেশীয় সিরিজ সম্পর্কে এসিবির প্রধান নির্বাহী নাসিব খান মন্তব্য করেছেন, ‘আফগানিস্তানের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি নিশ্চিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলা আমাদের খেলোয়াড়দের জন্য মূল্যবান প্রতিযোগিতামূলক সুযোগ দেবে এবং আমাদের সমর্থকদের জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি রোমাঞ্চকর সময় উপহার দেবে।’
প্রথমবার সংযুক্ত আরব আমিরাতে টেস্ট ম্যাচ খেলা নিয়ে বিসিবি প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী বলেছেন, ‘টেস্ট ম্যাচ এবং ত্রিদেশীয় সিরিজটি বাংলাদেশ ও আফগানিস্তান উভয় দেশের ক্রিকেট ভক্তদের জন্য রোমাঞ্চকর এক মুহূর্ত উপহার দেবে। টেস্ট ক্রিকেটকে আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিই এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে লাল বলের ক্রিকেটের অভিজ্ঞতা আমাদের ক্রিকেটাররা প্রথমবার পাবে। আফগানিস্তান এই কন্ডিশনে বরাবরই ভালো খেলে। এই সফর এবং ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজন করার জন্য আমরা আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আশা করি, দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক টুর্নামেন্ট হবে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রুদ্ধশ্বাস কয়েকটি সপ্তাহের জন্য আমরা মুখিয়ে আছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভবনটি ১৯৮৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর পর থেকে ৪১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।
বর্তমানে ভবনের বয়স প্রায় ১৫০ বছর। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন আদালতের কার্যক্রম চলছে। বিচারকরা মামলা শুনছেন, আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন; এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বিচারপ্রার্থীরা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, যে ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে, সেটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভবনের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজমান। টিনের ছাউনির আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন।
নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সীমানাপ্রাচীর।
ভবনে কর্মরতরা জানান, বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে আদালত কক্ষে। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা আরও জানান, প্রতিদিন বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শত শত বিচারপ্রার্থীকে এই ঝুঁকি নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণে আসতে হচ্ছে। শুধু ভবন নয়, সীমানাপ্রাচীরের সংকটও রয়েছে।
ফলস্বরূপ, বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, আদালত ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিদ্যমান।
কর্মরতরা আরও জানান, ৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে, অন্যদিকে বিচারকের সংকট এবং মামলার পাহাড়—এই তিন সংকটের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কেন্দ্র পটিয়া এখন কার্যত ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সরকারের আমলে পটিয়া আদালত ভবন নির্মিত হয়। একই বছর ভবনটিতে চৌকি আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, নতুন আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ১৯৯১ সালে প্রায় ছয় কোটি টাকা এবং ২০১০ সালে প্রায় ২১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম দ্রুত আধুনিক আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবনগুলোকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ সরকারের বিচার অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।
পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান বলেন, বর্ষাকালে আদালতে কর্মরত ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। টিনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে পানি পড়ে। এতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, সড়ক ও আদালত ভবনসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান।
অ্যাড. তানজিনা আরও বলেন, এটি শুধু পুরনো ভবনের সমস্যা নয়; বরং এর সঙ্গে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ও বিচারসেবার মান জড়িত। পটিয়ার ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণ করা প্রয়োজন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাৎ আজ মঙ্গলবার বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎ শেষে ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়।
ভারতীয় হাইকমিশন জানায়, বঙ্গভবনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ভারতের রাষ্ট্রদূত দীনেশ ত্রিবেদী। সাক্ষাতের সময় হাইকমিশনার রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার অব্যাহত দায়িত্ব পালনে সাফল্য কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনায় হাইকমিশনার বাংলাদেশ ও ভারতের অভিন্ন ইতিহাস, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক বন্ধন এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কের ভিত্তিতে গড়ে ওঠা গভীর বন্ধনের বিষয়টি তুলে ধরেন।
পোস্টে উল্লেখ করা হয়, তারা দুই সার্বভৌম রাষ্ট্রের জনগণের পারস্পরিক কল্যাণের জন্য দ্বিপক্ষীয় অংশীদারিকে আরো সুদৃঢ় করার গুরুত্বের ওপর বিশেষ জোর দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুড়িগ্রামে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল— “মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা”।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আসাদুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিমতানুর রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক আবদুর রাজ্জাক রনি, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা নুর বখত, ব্র্যাকের কুড়িগ্রাম জেলা কো-অর্ডিনেটর সৈয়দ ফাহিদ হাসান, সলিডারিটির প্রতিনিধি হারুন অর রশীদ লাল, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরীসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জেলা উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর সহকারী পরিচালক হাসান আতিকুর রহমান। । তিনি বলেন, টেকসই উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে সাক্ষরতার পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষা হতে হবে জীবনমুখী, কর্মমুখী ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন। তিনি আরও বলেন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের বোঝা নন; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করাই সমাজের দায়িত্ব।
আলোচনা সভায় জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, শিশু-কিশোরদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা, খেলাধুলা ও নৈতিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কর্মমুখী শিক্ষা বিস্তারেরও আহ্বান জানান তারা।
সভায় বক্তারা সাক্ষরতা আন্দোলনকে আরও বেগবান করতে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ