প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভবনটি ১৯৮৫ সালে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। এর পর থেকে ৪১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে।
বর্তমানে ভবনের বয়স প্রায় ১৫০ বছর। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ এই ভবনে প্রতিদিন আদালতের কার্যক্রম চলছে। বিচারকরা মামলা শুনছেন, আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করছেন; এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন বিচারপ্রার্থীরা।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, যে ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে, সেটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
ভবনের ভেতরে স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ বিরাজমান। টিনের ছাউনির আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। অনেক জায়গায় পলেস্তারা খসে পড়েছে। সবচেয়ে বড় নিরাপত্তার ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে ভবনের ওপর দিয়ে যাওয়া ১১ হাজার ভোল্টের বিদ্যুৎ লাইন।
নেই পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সীমানাপ্রাচীর।
ভবনে কর্মরতরা জানান, বৃষ্টির সময় টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে আদালত কক্ষে। এতে গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথি ও অন্যান্য কাগজপত্র নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তারা আরও জানান, প্রতিদিন বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শত শত বিচারপ্রার্থীকে এই ঝুঁকি নিয়েই আদালত প্রাঙ্গণে আসতে হচ্ছে। শুধু ভবন নয়, সীমানাপ্রাচীরের সংকটও রয়েছে।
ফলস্বরূপ, বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, আদালত ভবন ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বিদ্যমান।
কর্মরতরা আরও জানান, ৪১ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে বিচার কার্যক্রম চলছে, অন্যদিকে বিচারকের সংকট এবং মামলার পাহাড়—এই তিন সংকটের কারণে দক্ষিণ চট্টগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক কেন্দ্র পটিয়া এখন কার্যত ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৮৮২ সালে ব্রিটিশ সরকারের আমলে পটিয়া আদালত ভবন নির্মিত হয়। একই বছর ভবনটিতে চৌকি আদালতের কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৫ সালে গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করলেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায় পরিত্যক্ত ভবনেই বিচারিক কার্যক্রম চলছে।
এদিকে, নতুন আদালত ভবন নির্মাণের জন্য ১৯৯১ সালে প্রায় ছয় কোটি টাকা এবং ২০১০ সালে প্রায় ২১ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছিল। কিন্তু কোনোটিই বাস্তবায়িত হয়নি। বর্তমানে বিষয়টি জাতীয় সংসদে উত্থাপিত হয়েছে। চট্টগ্রাম ১২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক এনাম দ্রুত আধুনিক আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।
এ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে জানান, পুরনো ও ঝুঁকিপূর্ণ আদালত ভবনগুলোকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়ন করা হবে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন ভবন নির্মাণ সরকারের বিচার অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ।
পটিয়া আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তানজিনা জাহান বলেন, বর্ষাকালে আদালতে কর্মরত ও বিচারপ্রার্থীদের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। টিনের ছিদ্র দিয়ে ভেতরে পানি পড়ে। এতে মামলার গুরুত্বপূর্ণ নথি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা না থাকায় বিচারকদের খাসকামরা, চেম্বার, বাসভবন, সড়ক ও আদালত ভবনসহ পুরো এলাকায় নিরাপত্তাহীনতা বিদ্যমান।
অ্যাড. তানজিনা আরও বলেন, এটি শুধু পুরনো ভবনের সমস্যা নয়; বরং এর সঙ্গে বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং হাজার হাজার বিচারপ্রার্থীর নিরাপত্তা ও বিচারসেবার মান জড়িত। পটিয়ার ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের চাহিদা বিবেচনায় দ্রুত একটি আধুনিক বহুতল আদালত কমপ্লেক্স নির্মাণ করা প্রয়োজন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন