ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গৃহবধূর লাশ বিছানায়, গরু-ছাগলসহ উধাও স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন


গৃহবধূর লাশ বিছানায়, গরু-ছাগলসহ উধাও স্বামী-শ্বশুরবাড়ির লোকজন

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের পরিবারের দাবি, মুন্নীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে পরে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এর আগে, সোমবার (১০ আগস্ট) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়ড়াপাড়া গ্রাম থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

আরও পড়ুন: গোবিন্দগঞ্জে দোকানিকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ: দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দাবি বিদ্যুতের

মোহনগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত মুন্নী আক্তার কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী এবং উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ আলীর মেয়ে। প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের কোনো সন্তান নেই।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টার দিকে স্বামীর ঘরে মুন্নীর মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে স্বামীসহ পরিবারের সদস্যরা তাকে বিছানায় রেখে চলে যান। গভীর রাতে পুলিশ খবর পেয়ে গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় মুন্নীর মরদেহ উদ্ধার করে।

মুন্নীর চাচাতো ভাই মো. মিঠু জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের পরিবারের লোকজন ফোন করে মুন্নী ফাঁস নিয়েছেন এবং মারা যেতে পারে বলে জানান। পরে তারা সেখানে গিয়ে একটি কক্ষে বিছানার উপর মুন্নীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় তার স্বামী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের সদস্যরা গরু-ছাগল নিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান।

আরও পড়ুন: ঈশ্বরদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

মিঠু বলেন, মুন্নীকে হত্যার পর তার মরদেহ ফাঁসিতে ঝোলানো হয় এবং পরে মাথায় পানি ঢেলে বিষয়টি ভিন্নভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় সোহাগসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে। মরদেহ দাফন শেষে থানায় অভিযোগ করা হবে।

এসআই জসিম উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ গিয়ে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করে। তার গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে। তবে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবারের কাউকে পাওয়া যায়নি। তারা পলাতক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয়দের ধারণা, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘটনাটি ঘটতে পারে। লাশ ঝুলন্ত অবস্থা থেকে নামিয়ে পরিবারের লোকজন মাথায় পানি ঢেলেছিলেন বলে জানা যায়। তবে প্রকৃতপক্ষে কীভাবে মুন্নীর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

তিনি বলেন, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। মোহনগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বর্তমানে জেলা সদরে একটি সভায় রয়েছেন। তিনি থানায় ফেরার পর এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: জামিনে মুক্ত হয়ে শ্বশুরবাড়িতে পুলিশকন্যা তাসনিয়া রানা তামান্না

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২ দেশের ৩ নাগরিক মুক্তি পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৬ পি.এম


পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২ দেশের ৩ নাগরিক মুক্তি পেলেন

 

মেহেরপুরের ইসাখালী সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশে আটক উভয় দেশের তিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্ত এলাকায় আব্দুল মান্নান (৭০) নামের এক বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনার প্রতিবাদে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় কৃষককে আটক করে স্থানীয় গ্রামবাসী। এরপর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উভয় দেশের আটক তিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তসংলগ্ন প্রায় দেড় বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে আসছেন।

মঙ্গলবার সকালে নিজের মরিচ খেতে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় কৃষককে আটক করে নিয়ে আসে স্থানীয়রা।

 

আব্দুল মান্নান ইছাখালী মসজিদপাড়ার মৃত নূর বক্সের ছেলে।

আর আটকদের মধ্যে দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন—সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব।

আব্দুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান, দাদাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় স্থানীয়রা দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসে। পরে বিষয়টি সমাধানে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটকদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইছাখালী বিজিবি বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু হানিফ এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন নব চন্দ্রপুর কম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর রাজীব কুমার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনা করার উদ্দেশ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন মসজিদে।

আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং দেশের সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সফলতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট: চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না, দিন-রাত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


বরিশালে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট: চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না, দিন-রাত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী

গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, থমকে যাচ্ছে শিল্প উৎপাদন; দ্রুত লাগাম না টানলে বাড়তে পারে জনঅসন্তোষ।
তীব্র গরমের মধ্যে বরিশাল নগরীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ৩০টি ওয়ার্ডের লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনেও।

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ওজোপাডিকোর চাঁদমারী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে বরিশাল নগরীর বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ একসঙ্গে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট—চাহিদার অর্ধেকের সামান্য বেশি বিদ্যুৎ দিয়ে চালাতে হচ্ছে পুরো নগরীর সরবরাহ ব্যবস্থা।

অফপিক সময়েও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে রেশনিং ও রোটেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীতে চাঁদমারী-১ ও আমানতগঞ্জ-২ জোনের আওতায় মোট ৩৮টি ফিডারের মাধ্যমে ৩০টি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহের তুলনায় চাহিদার বিশাল ব্যবধান থাকায় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে গিয়ে অন্য এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে নগরবাসীর কাছে বিদ্যুৎ এখন নিয়মিত সেবার পরিবর্তে অনিশ্চিত এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপটিস্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা সোহান, রাহাত ও মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগে তুলনামূলক সহনীয় ছিল। কিন্তু আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখন দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

তাঁদের ভাষ্য, সরকারের যেকোনো মেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁরা বলেন,বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু ‘ঘাটতি’ বলে ব্যাখ্যা করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণ সমস্যার কারণের পাশাপাশি সমাধানও দেখতে চায়।** দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে না আনতে পারলে জনদুর্ভোগের সঙ্গে জনঅসন্তোষও বাড়তে পারে।


বিদ্যুৎ সংকটের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীতেও। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা তাফস জানান, বিদ্যুৎ লোডশেডিং হওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি চালু ও বন্ধ করতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ওজোপাডিকো বরিশাল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বরিশালের চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ৩৮টি ফিডারে রোটেশন পদ্ধতিতে সরবরাহ দিতে হচ্ছে। এক এলাকায় বিদ্যুৎ চালু রাখলে অন্য এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি না কমলে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি করা কঠিন।


বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনা হলেও নগরবাসীর প্রশ্ন, তীব্র গরমের মধ্যে দিনের পর দিন এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে?

বিদ্যুৎ মানুষের বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক জীবনের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শুধু বাসাবাড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই নয়—শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জনজীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ‘লোডশেডিং’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরিশাল নগরবাসীর এখন একটাই দাবি—বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যার পাশাপাশি দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চলমান জনদুর্ভোগ একপর্যায়ে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষে রূপ নিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই কি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্য-উপাত্তে কারসাজি করলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


তথ্য-উপাত্তে কারসাজি করলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সতর্ক করে বলেছেন, তথ্য এবং উপাত্ত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো ধরনের কারসাজি, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপলক্ষ্যে বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের গড়মিল বা অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি যুক্ত করেন, সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পণ্য পরিবহনে নৌপথের সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিবিএসের সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী এই শুমারি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক।

এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌযান শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%