ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২ দেশের ৩ নাগরিক মুক্তি পেলেন


পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ২ দেশের ৩ নাগরিক মুক্তি পেলেন

 

মেহেরপুরের ইসাখালী সীমান্তে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ভারত ও বাংলাদেশে আটক উভয় দেশের তিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বিজিবি ও বিএসএফের ক্যাম্প কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা গেছে, মেহেরপুর সদর উপজেলার ইছাখালী সীমান্ত এলাকায় আব্দুল মান্নান (৭০) নামের এক বাংলাদেশি কৃষককে ধরে নিয়ে যায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এ ঘটনার প্রতিবাদে সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় কৃষককে আটক করে স্থানীয় গ্রামবাসী। এরপর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উভয় দেশের আটক তিন নাগরিককে মুক্তি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

স্থানীয়রা জানান, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তসংলগ্ন প্রায় দেড় বিঘা জমিতে কাঁচা মরিচসহ বিভিন্ন ফসল চাষ করে আসছেন।

মঙ্গলবার সকালে নিজের মরিচ খেতে কীটনাশক স্প্রে করতে গেলে বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায় সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত দুই ভারতীয় কৃষককে আটক করে নিয়ে আসে স্থানীয়রা।

 

আব্দুল মান্নান ইছাখালী মসজিদপাড়ার মৃত নূর বক্সের ছেলে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

আর আটকদের মধ্যে দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন—সচিন কর্মকার ও নারায়ণ দেব।

আব্দুল মান্নানের নাতি ইব্রাহিম খলিলুল্লাহ জানান, দাদাকে বিএসএফ ধরে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়। কিন্তু তাকে ছেড়ে না দেওয়ায় স্থানীয়রা দুই ভারতীয় কৃষককে ধরে নিয়ে আসে। পরে বিষয়টি সমাধানে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে আটকদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে উভয় দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী।

পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ইছাখালী বিজিবি বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার সুবেদার আবু হানিফ এবং বিএসএফের পক্ষে নেতৃত্ব দেন নব চন্দ্রপুর কম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর রাজীব কুমার।

আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:২৯ পি.এম


ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : সাবেক অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার মরহুম ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনা করার উদ্দেশ্যে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে জাতীয় সংসদ ভবন মসজিদে।

আজ মঙ্গলবার বাদ জোহর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের উদ্যোগে এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে হয়। পরে দোয়া ও মোনাজাতে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের রুহের মাগফেরাত কামনার পাশাপাশি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আত্মোৎসর্গকারী ব্যক্তিবর্গের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, চিফ হুইপ ও হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং দেশের সার্বিক শান্তি, অগ্রগতি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত হয়। একই সঙ্গে জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের সফলতা এবং মুসলিম উম্মাহর শান্তি, ঐক্য ও সমৃদ্ধি কামনায় মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।

দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ এবং অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশালে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট: চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না, দিন-রাত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪১ পি.এম


বরিশালে বিদ্যুতের ভয়াবহ সংকট: চাহিদার অর্ধেকও মিলছে না, দিন-রাত লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ নগরবাসী

গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত, থমকে যাচ্ছে শিল্প উৎপাদন; দ্রুত লাগাম না টানলে বাড়তে পারে জনঅসন্তোষ।
তীব্র গরমের মধ্যে বরিশাল নগরীতে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে লোডশেডিং। চাহিদার তুলনায় অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় দিন-রাত ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। ৩০টি ওয়ার্ডের লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুধু আবাসিক এলাকাই নয়, বিদ্যুৎ সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়ছে ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদনেও।

বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১, ওজোপাডিকোর চাঁদমারী কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পিক আওয়ারে বরিশাল নগরীর বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ৯৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫০ মেগাওয়াট। অর্থাৎ একসঙ্গে ঘাটতি থাকছে প্রায় ৪৫ মেগাওয়াট—চাহিদার অর্ধেকের সামান্য বেশি বিদ্যুৎ দিয়ে চালাতে হচ্ছে পুরো নগরীর সরবরাহ ব্যবস্থা।

অফপিক সময়েও পরিস্থিতি স্বস্তিদায়ক নয়। প্রায় ৭৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে বাধ্য হয়ে রেশনিং ও রোটেশন পদ্ধতিতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

ওজোপাডিকো সূত্র জানায়, বরিশাল নগরীতে চাঁদমারী-১ ও আমানতগঞ্জ-২ জোনের আওতায় মোট ৩৮টি ফিডারের মাধ্যমে ৩০টি ওয়ার্ডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। কিন্তু সরবরাহের তুলনায় চাহিদার বিশাল ব্যবধান থাকায় একটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখতে গিয়ে অন্য এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। ফলে নগরবাসীর কাছে বিদ্যুৎ এখন নিয়মিত সেবার পরিবর্তে অনিশ্চিত এক ব্যবস্থায় পরিণত হয়েছে।

নগরীর ১১ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যাপটিস্ট মিশন রোড এলাকার বাসিন্দা সোহান, রাহাত ও মামুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আগে তুলনামূলক সহনীয় ছিল। কিন্তু আগস্টের প্রথম সপ্তাহ থেকে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এখন দিন-রাত বারবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে শিশু, বয়স্ক ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

তাঁদের ভাষ্য, সরকারের যেকোনো মেয়াদে বিদ্যুৎ সরবরাহের ধারাবাহিকতা জনগণের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে সরকারের প্রতি বিরূপ মনোভাব তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তাঁরা বলেন,বিদ্যুৎ সংকটকে শুধু ‘ঘাটতি’ বলে ব্যাখ্যা করে দায় এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। জনগণ সমস্যার কারণের পাশাপাশি সমাধানও দেখতে চায়।** দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে না আনতে পারলে জনদুর্ভোগের সঙ্গে জনঅসন্তোষও বাড়তে পারে।


বিদ্যুৎ সংকটের ভয়াবহ প্রভাব পড়েছে বরিশাল বিসিক শিল্পনগরীতেও। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বিসিক শিল্পনগরীর উদ্যোক্তা তাফস জানান, বিদ্যুৎ লোডশেডিং হওয়ার কারণে উৎপাদন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি যন্ত্রপাতি চালু ও বন্ধ করতে অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হচ্ছে। ধারাবাহিকভাবে এমন পরিস্থিতি চলতে থাকলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

ওজোপাডিকো বরিশাল-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বরিশালের চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে ৩৮টি ফিডারে রোটেশন পদ্ধতিতে সরবরাহ দিতে হচ্ছে। এক এলাকায় বিদ্যুৎ চালু রাখলে অন্য এলাকায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি না কমলে স্থানীয়ভাবে পরিস্থিতির বড় ধরনের উন্নতি করা কঠিন।


বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে জাতীয় গ্রিডের ঘাটতির বিষয়টি সামনে আনা হলেও নগরবাসীর প্রশ্ন, তীব্র গরমের মধ্যে দিনের পর দিন এমন দুর্বিষহ পরিস্থিতি আর কতদিন চলবে?

বিদ্যুৎ মানুষের বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক জীবনের মৌলিক প্রয়োজনের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে শুধু বাসাবাড়ির স্বাভাবিক জীবনযাত্রাই নয়—শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প উৎপাদন পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ ঘাটতি দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব শুধু জনজীবনে সীমাবদ্ধ থাকে না; অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই পরিস্থিতিকে স্বাভাবিক ‘লোডশেডিং’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

বরিশাল নগরবাসীর এখন একটাই দাবি—বিদ্যুৎ সংকটের কারণ ব্যাখ্যার পাশাপাশি দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় চলমান জনদুর্ভোগ একপর্যায়ে সরকারের প্রতি সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ও অসন্তোষে রূপ নিতে পারে। এখন প্রশ্ন হলো, সেই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আগেই কি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

তথ্য-উপাত্তে কারসাজি করলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৬ পি.এম


তথ্য-উপাত্তে কারসাজি করলে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সতর্ক করে বলেছেন, তথ্য এবং উপাত্ত সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় যদি কোনো ধরনের কারসাজি, অনিয়ম বা অসঙ্গতি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তিনি বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সঠিক নীতি ও পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য অপরিহার্য। দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন এবং কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণে সঠিক পরিসংখ্যানের কোনো বিকল্প নেই।

তিনি মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নৌযান শুমারি ২০২৬-এর তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রমে উপলক্ষ্যে বিভাগ, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ের শুমারি সমন্বয়কারীদের প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নির্ভুল এবং নির্ভরযোগ্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের ক্ষেত্রে যদি কোনো ধরনের গড়মিল বা অনিয়ম ধরা পড়ে, তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, স্বচ্ছতা এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি যুক্ত করেন, সরকার নৌপথকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। পণ্য পরিবহনে নৌপথের সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে এর গুরুত্ব অনেক বেশি। নৌপথের কার্যকর ব্যবহার ও উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করা সম্ভব।

নৌযান শুমারি সফলভাবে সম্পন্ন করতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) পেশাদারিত্ব এবং সক্ষমতার ওপর আস্থা প্রকাশ করে তিনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগকে স্বাগত জানান।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং কার্যকর নৌপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নৌযান শুমারি ২০২৬ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিবিএসের সহযোগিতায় আগামী ২০ থেকে ২৯ আগস্ট দেশব্যাপী এই শুমারি পরিচালিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব জাকারিয়া, পরিসংখ্যান এবং তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. ফিরোজ সরকার, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমোডর শফিউল বারী এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর মহাপরিচালক।

এ সময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ নৌযান শুমারি কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়েছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৪:৪৯ পি.এম


জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি নিয়েছে সরকার: জ্বালানি মন্ত্রী

ঢাকা, ১১ আগস্ট, ২০২৬ : বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, সরকার জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগবান্ধব নীতি গ্রহণ করেছে।

তিনি বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতির টেকসই উন্নয়নের জন্য কেবল অর্থ উপার্জনের সুযোগ সৃষ্টি করলেই হবে না, প্রয়োজন টেকসই অবকাঠামো গড়ে তোলা।

আজ ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবা) আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতে সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে সেখানে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, এলএনজি অবকাঠামোতে কোনো একটি স্থাপনায় দুর্ঘটনা ঘটলে যাতে সারা দেশের শিল্প-কারখানায় এর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। এলএনজি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থা এবং সময় নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, শিল্প-কারখানাগুলো যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে। শিল্পোদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে জ্বালানি খাতের বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণের পথ খোঁজা হচ্ছে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পরে অল্প সময়ের মধ্যেই শিল্পোদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। জ্বালানি খাতের সংকট এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক প্রয়োজন।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে সতর্কতার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, উন্নত দেশগুলোতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে কিছু রিজার্ভেশন রয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রকল্পে অর্থায়ন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, 'সুতরাং আমাদেরকে খুব সতর্কতার সঙ্গে এই পাওয়ার স্টেশনগুলোর দিকে এগোতে হবে।' সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার এগ্রেসিভ পরিকল্পনা নিয়েছে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মাত্র দুই মাসের মধ্যে একটি নতুন নীতি প্রণয়ন করা হয়েছে। এই নীতিতে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রাখা হয়েছে, যার মধ্যে পাঁচ বছরের কর অবকাশও রয়েছে।

তিনি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগকারীদের হয়রানি বন্ধে সরকার নীতিমালায় উল্লিখিত সুবিধাগুলো বাস্তবায়ন করবে। 'আমাদের ইচ্ছা এবং মনে হয় এটা সম্ভবÑআমাদের যে টার্গেট ১০ হাজার মেগাওয়াট, সেটা আমরা করতে পারব।'

তিনি জানান, সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ করে ওপেক্স মডেলকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঢাকা শহর থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে সারা দেশে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের পরিবর্তে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের দুই প্রশাসনের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এলাকাভিত্তিক জায়গা নির্ধারণ করে বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, কেবল টেলিভিশন বা ওয়াই-ফাই ব্যবসার মতো রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন করেও বিনিয়োগকারীরা গ্রাহকের কাছ থেকে বিল আদায় করতে পারবেন। ফলে সবকিছুর জন্য সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার প্রয়োজন নেই।

জমি দিয়ে বিনিয়োগে অংশীদার হওয়ার পরিকল্পনা বড় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষেত্রে সরকারি জমি ব্যবহারের বিষয়ে একটি অংশীদারিত্বমূলক মডেলের কথাও জানান মন্ত্রী।

জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, সরকার প্রকল্পের জন্য জমি দিতে পারে এবং বিনিয়োগের কাঠামোর মধ্যে ওই জমির মূল্যকে সরকারের শেয়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। আমার মনে হয়, এর চেয়ে ভালো প্রপোজাল আর হয় না।

জ্বালানি তেল আমদানিতে বেসরকারি খাতকে আরও সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে অযথা আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি বলেন, পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও আতঙ্কে পেট্রোল পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়। পরবর্তীতে কালোবাজারি ও অনলাইনভিত্তিক জ্বালানি বিক্রির ঘটনাও দেখা যায়।

এ পরিস্থিতির পর বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানির সুযোগ দেওয়ার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যবস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতকেও সুযোগ দেওয়া হলে বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে এবং সরবরাহ ব্যবস্থাও শক্তিশালী হবে।

তিনি বলেন, 'একটা সরকারি থাকুক, আরেকটা বেসরকারি থাকুক-যেমন ইন্ডিয়াতে আছে।' জ্বালানি আমদানির নীতিমালা কোনো নির্দিষ্ট কোম্পানিকে সুবিধা দেওয়ার জন্য করা হচ্ছে- এমন অভিযোগ নাকচ করে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ আইন বা নীতিমালা হলে তা কোনো একটি কোম্পানির জন্য হবে না, সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।

তিনি বলেন, 'একটা নির্দিষ্ট কোম্পানিকে দেওয়ার জন্য আমরা এটা করছি' এমন ধারণা ঠিক নয়। জ্বালানি খাত নিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো ও সংকট বাড়ানোর চেষ্টা না করার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের স্বার্থে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বেসরকারি খাতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিনিয়োগ প্রস্তাব আকর্ষণীয় ও শিল্পের জন্য সহায়ক হলে দ্রুত অনুমোদনের আশ্বাস দেন মন্ত্রী।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, 'প্রপোজাল যদি অ্যাট্রাক্টিভ হয় এবং আমার ইন্ডাস্ট্রির জন্য হেল্পফুল হয়, অবশ্যই আমরা কোনো সময় নষ্ট করব না।'

মন্ত্রী আরও বলেন, বেসরকারি খাতের প্রস্তাব সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে। প্রস্তাব পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা ও যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে। পারফর্ম একা একা করা যায় না, সবাইকে নিয়ে করতে হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%