০৭:২৬ পি.এম
বর্তমান সরকার নির্বাচনি ইশতেহারের অনুযায়ী শিক্ষা খাতের মানোন্নয়নকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পর্যায়ক্রমে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ সংক্রান্ত কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী বুধবার (৮ জুলাই) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলুর এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে।
তিনি বলেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার কমিয়ে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার সুযোগ তৈরি হবে। এ লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়
সংসদ সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম ধলু তার প্রশ্নে জানতে চান, শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিতকরণ, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য কি বাজেটে শিক্ষাখাতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা, বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং ঝরে পড়া রোধে অর্থাৎ শিক্ষা খাতের সার্বিক উন্নয়নে। তিনি জানান, সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করে প্রথমবারের মতো জিডিপির ২ (দুই) শতাংশে উন্নীত করেছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে সেকেন্ডারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রামে (এসইডিপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে মোট ৪১৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে ৩৫৯৯ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগে ৬০০ কোটি টাকা বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে। এসইডিপির আওতায় মোট ১০টি স্কিম চলমান রয়েছে, যেখানে একটি স্কিম ন্যাশনাল কারিকুলাম ডিসেমিনেশন এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য নির্ধারিত।
তারেক রহমান বলেন, লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন প্রকল্পের আওতায় শিক্ষক প্রশিক্ষণের জন্য ৮১০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যার মাধ্যমে মোট ৩ লাখ ৪৭ হাজার ২১ জন শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্ট জনবলকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বেসিক ট্রেনিং, বিষয়ভিত্তিক প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট ট্রেনিং, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের লিডারশিপ ট্রেনিং, ভোকেশনাল শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, ব্লেন্ডেড লার্নিং, আইসিটি, লাইব্রেরি ব্যবস্থাপনা, শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং বুলিং প্রতিরোধসহ জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশিক্ষণ।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস ভারতকে 'বাংলাদেশ' বানানোর চক্রান্তে লিপ্ত, নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতা দখল করতে চায়
সংসদ নেতা পরবর্তীতে বলেন, মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামো উন্নয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের পরিচালনা বাজেটে ৩০৪০.৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এতেও মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২১৯৬.৪ কোটি টাকা এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৮৪৪.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে।
তিনি আরও জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম-৫ (পিইডিপি-৫) সহ মোট ৫টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার শূন্যে নামিয়ে আনতে চলতি অর্থবছর থেকে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ, উপবৃত্তি প্রদান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল ফিডিং কর্মসূচি এবং স্কুল ড্রেস বিতরণসহ ক্রীড়া উপকরণ সরবরাহ করা হবে। এসব কর্মসূচির বাস্তবায়নের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার কমে আসবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি বাবদ ৫ হাজার ৫৩৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: মিরপুর-১০-এ উদ্বোধন হলো ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিস স্পীডি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন