প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরিত করার মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।’
তিনি আরো বলেছেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত বর্তমান সরকার দেশের সকল অঞ্চলে ভারসাম্যপূর্ণ উন্নয়ন নিশ্চিতকরণ, টেকসই কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও দক্ষ মানবসম্পদ গঠনের লক্ষ্যে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ ও বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
আজ বুধবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্বে টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালের তারকা চিহ্নিত এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী Employment Exchange Centre (কর্মসংস্থান কেন্দ্র) স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত তথ্য, দক্ষতা উন্নয়ন ও চাকরি প্রাপ্তির সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।’
তিনি তুলে ধরেছেন, ‘কর্মসংস্থান স্থাপিত হলে এর মাধ্যমে সারাদেশে বিদ্যমান অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজার ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর ও প্রাতিষ্ঠানিক করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক পরিবর্তন হবে।’
প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক শ্রমবাজার সুসংহতকরণ, সম্প্রসারণ ও বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বিদ্যমান থাকায় ইতোমধ্যে মালয়েশিয়ার শ্রম বাজার খোলার উদ্যোগসহ থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানে বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত চুক্তির চূড়ান্ত খসড়া থাইল্যান্ড সরকারের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিভিন্ন দেশে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসসমূহকে সেদেশের চাহিদা নিরূপণ করা পরবর্তী জনশক্তি রপ্তানী বৃদ্ধির সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রেরণের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া, ওমান, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে বন্ধ থাকা শ্রমবাজার চালুকরণের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানান, ‘কাতার ও বাংলাদেশের মধ্যে গত ১৮ মে ৭ম জয়েন্ট কমিটির সভা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাতারের শ্রমমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং কর্মসংস্থান সম্প্রসারণ করবে মর্মে আলোচনা হয়েছে। এছাড়াও এশিয়ার অন্যান্য দেশের সাথে আরও চুক্তি স্বাক্ষরের পরিকল্পনা রয়েছে।’
তিনি বললেন, ‘নর্থ মেসোডোনিয়া, সার্বিয়া, মরিশাস, পর্তুগালসহ ইউরোপের যেসব দেশে দক্ষ কর্মী প্রেরণের সুযোগ রয়েছে এবং উক্ত দেশসমূহের ভিসা সেন্টার বাংলাদেশে নেই। সেসব দেশের ভিসা সেন্টার ঢাকায় স্থাপনের লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চলমান রয়েছে। আশা করি এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে বিদেশে অধিক কর্মী প্রেরণ আরো সহজতর হবে।’
প্রধানমন্ত্রী সেসব দেশের শ্রমবাজার পুনরায় খোলাসহ এশিয়ার অন্যান্য দেশে জনশক্তি রপ্তানী বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়ায় মৌসুমি কর্মী প্রেরণের লক্ষ্যে সে দেশের বিভিন্ন স্থানীয় সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর কার্যক্রম চলমান আছে। ইতোমধ্যে বোয়েসেলের (বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিঃ) মাধ্যমে মৌসুমি কর্মী প্রেরণ শুরু হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘জাপানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে সঠিক সমন্বয়ের জন্য প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে জাপান সেল গঠন করা হয়েছে। এ সেলের সঙ্গে জাপানে কর্মী প্রেরণকারী ৯৬টি সেন্ডিং অর্গানাইজেশন, ২০০টির বেশি বেসরকারি জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও ৬০টি টিটিসিকে একক কাঠামোয় আনা হয়েছে।’
এদিকে, বিএমইটি’র আওতায় চাহিদা ভিত্তিক বিভিন্ন ধরনের ভাষা কোর্স চালু ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। বর্তমানে ৬০টি টিটিসিতে জাপানিজ, ইংরেজি, চায়নিজ এবং কোরিয়ান ভাষা কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে ভাষা শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বিকাল তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। দিনের কর্মসূচিতে প্রথম ত্রিশ মিনিট প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব। এই সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চার জন সংসদ সদস্যের তারকা চিহ্নিত প্রশ্ন এবং ৯ জন সংসদ সদস্যের সম্পূরক প্রশ্নের জবাব দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন