সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪৮ এম
বাংলাদেশ চরম হতাশার এক ত্রিদেশীয় সিরিজ সম্পন্ন করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে। একই সফরে আফগানদের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচে জয় হাতছাড়া করার পর বাংলাদেশ হতাশার মধ্যে রয়েছে। তবে, তাদের জন্য খুব বেশি সময় নেই হতাশা হজম করার, কারণ দুদিন পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের সিরিজে মাঠে নামতে হবে। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের দিক থেকে এই সিরিজের গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই টেস্ট অধিনায়ক নাজমুল হোসেনের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। ঘরের মাঠে সিরিজ হওয়ায় প্রেরণার অভাব থাকার কথা নয়।
ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮ অক্টোবর বাংলাদেশে পৌঁছেছে। বৃহস্পতি ও শুক্রবার তারা দুদিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে।
অনুশীলনের শুরুতে পুরো দল উপস্থিত না থাকলেও, সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ফিরে নাজমুল শান্ত ও তাওহিদ হৃদয়রা অনুশীলনে যোগ দিয়েছেন। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালের সমীকরণ মাথায় রেখে এই ঘরের মাঠের সিরিজে দলের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।
বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান সিরাজউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমাদের দল এক-দেড় বছর ধরে লঙ্গার ভার্সনে ভালো ক্রিকেট খেলছে। এখন আমাদের সামনে একটি বড় সুযোগ আছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনাল খেলার, তাই আমরা সেই ধারাবাহিকতাটা চাইব। এ সিরিজ জয়ের যে কোনো বিকল্প নেই, সেটা খেলোয়াড়রাও জানে। সবাই এখানে ভালো খেলার জন্য মুখিয়ে আছে।’
টেস্ট ফরম্যাটে বাংলাদেশ শেষ ১০ ম্যাচের মধ্যে পাঁচটিতে জয়ী হয়েছে; বাকি পাঁচ ম্যাচের মধ্যে দুটিতে হার এবং তিনটিতে ড্র হয়েছে। এই ১০ ম্যাচের মধ্যে চারটি ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ সবগুলোতেই জয় লাভ করেছে। এবারের টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান চারে, অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অবস্থান অষ্টম। এ সিরিজে অতিথিদের হোয়াইটওয়াশ করার পরিকল্পনা নিয়েই কোমর বেঁধেছে বাংলাদেশ।
এ প্রসঙ্গে বিসিবির টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, ‘ওয়েস্ট ইন্ডিজ তো এখন টেস্টে তেমন ভালো দল নয়। আমাদের টেস্ট দলটি যেভাবে খেলছে এবং ঘরের মাঠে সুবিধা তো আছেই। আশা করি বাংলাদেশ ওদের হোয়াইটওয়াশ করবে। দুদেশের শক্তির পার্থক্য তো এমনটাই নির্দেশ করে। তবুও ক্রিকেট খুবই অনিশ্চয়তার খেলা।’
গত দুবছরে বাংলাদেশের পেস ইউনিটের অন্যতম ভরসার নাম নাহিদ রানা। বিশেষ করে লাল বলে তার সময়টা দুর্দান্ত কেটেছে। কিন্তু চোটের কারণে এ সিরিজে নাহিদকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে আলমগীর বিশ্বাস করেন, এটি খুব একটা প্রভাব ফেলবে না। তিনি বলেন, ‘নাহিদ রানা নেই, এটা আমাদের জন্য অনেক বড় ক্ষতি। তবে তাকে ছাড়াও আমাদের পেস আক্রমণ বেশ শক্তিশালী। আমাদের পুরো পেস ইউনিটটাই শক্তিশালী। হাসান, ইবাদত ভালো করছে। নাহিদের ইনজুরিটা গেমেরই অংশ।’
এশিয়ান কন্ডিশনে যেকোনো সিরিজ মানেই উইকেট নিয়ে আলোচনা। সঙ্গত কারণেই উইকেটের সুবিধা থাকে হোম টিমের। বাংলাদেশে সাধারণত স্লো ও স্পিন সহায়ক উইকেট বানানো হয়ে থাকে। তবে সম্প্রতি পেস সহায়ক উইকেটও দেখা যাচ্ছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে কেমন উইকেট হতে পারে, সে বিষয়ে বিসিবি পরিচালক বলেন, ‘এক থেকে দেড় বছর ধরে যেমন স্পোর্টিং উইকেট বানানো হচ্ছে, সেখান থেকে বোর্ড সরবে না। আমরা চাই ভালো উইকেট হোক, ভালো ক্রিকেট খেলুক। হার-জিত থাকবে। ভালো উইকেট হবে এখানে। কোনো ক্রিকেটার নেই বলে যে উইকেটের ধরন পরিবর্তন করে ফেলা হবেÑ সেটি আমার মনে হয় না। আমি চাই আদর্শ উইকেটে খেলা হোক। আমাদের পেস ইউনিট উন্নতি করছে। ভালো উইকেটে খেলে আমরা অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিতেছি। এ ধারা থেকে সরে আসা উচিত হবে না।’
আগামী ২৮ অক্টোবর সিরিজের প্রথম টেস্ট মিরপুরে অনুষ্ঠিত হবে। সিলেটে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হবে ৫ নভেম্বর।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীর শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান সরকার রিকশাচালক থেকে নার্সারি প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন। তার উদাহরণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, চেষ্টা থাকলে যেকোনো কাজে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বর্তমানে তাকে আর রিকশা চালাতে হচ্ছে না। এখন তিনি কোটিপতি। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরাও খুশি। তিনি বিভিন্ন জাতের গাছ ও ফলফুলের চারা বিক্রি করে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে লুৎফর সরকার প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। তার নার্সারিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের গাছের মজুত রয়েছে। তিনি নার্সারির নাম রেখেছেন মেসার্স পল্লি নার্সারি সেন্টার।
লুৎফর সরকার জানান, ১৯৮৭ সালে শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়ার সময় তিনি স্কুলের টিফিনের সময় অন্য বন্ধুদের মতো আড্ডা না দিয়ে শিবপুর বন বিভাগে ঘুরে বেড়াতেন। সেই সময় থেকেই তার নার্সারি গড়ার স্বপ্ন জাগে। এতে দেশের উপকার হবে এবং তার অভাব দূর হবে। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে তিনি কখনো রিকশা চালাতেন, কখনো বেতের দরজা বানিয়ে বিক্রি করতেন। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে বাবার অগচোরে বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট পরিসরে চারা লাগাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে মানুষের চাহিদা বাড়তে থাকে, ফলে তিনি নার্সারি সম্প্রসারণ করতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজ একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন স্থানে ১০ বিঘা জমির ওপর তার নার্সারি অবস্থিত। এর মধ্যে পাঁচ বিঘা জমি তিনি ক্রয় করেছেন এবং পাঁচ বিঘা ভাড়া নিয়েছেন। নার্সারি চাষে সফল হওয়ায় তিনি শিবপুর উপজেলায় ১৩ বার, জেলায় সাত বার এবং জাতীয়ভাবে ২০১০ ও ২০২৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে শিবপুর উপজেলায় প্রথম, জেলায় দ্বিতীয়, ১৯৯৯ সালে উপজেলায় ও জেলায় প্রথম এবং ২০০৯ সালে মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এবার ২০২৬ সালের ৯ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় তিনি প্রথম স্থান লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্টল পরিদর্শন করেছেন এবং লুৎফর রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বর্তমানে লুৎফর রহমানের নার্সারিতে ফুল, ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছসহ হাজার হাজার চারাগাছ রয়েছে। সারা বছর যেকোনো ধরনের গাছ তার নার্সারিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিদেশি ফল রামবুটান, এবুকাডু, পার্সিমন, ডুরিয়ান, আপেল, থাই লংঘান, বারমাসি ভিয়েতনামের পিংক কাঁঠাল ইত্যাদি। দেশীয় ফল লটকন, নারিকেল, সফেদা, বেল, পেয়ারা, বড়ই, কাঁঠাল, জলপাই, আম ইত্যাদি ওষুধি গাছের চারা হরতকি, আমলকি, দেশীয় নিম, আর্জুন ইত্যাদি। ফুলের মধ্যে বিভিন্ন জাতের রঙ্গন, গোলাপ, জবা, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামেনি, বেলি ইত্যাদি, সবজি জাতীয় মরিচ, টমেটো, বেগুন, পেঁপে, শসা, জালি ইত্যাদি। কাঠ জাতীয় মেহগনি, সেগুন, গর্জন ইত্যাদি জাতের চারা গাছও রয়েছে।
লুৎফর রহমান আরও জানান, তার নার্সারিতে ১৭ জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।
সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি প্রতি মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করেন। এতে তার পিতামাতাসহ সাত সদস্যের সংসার ভালোভাবে চলছে বলে তিনি জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাটে ছয়জন ব্যবসায়ীর অফিসে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ ছাত্রদলের বিরুদ্ধে উঠেছে। ভুক্তভোগীদের মতে, হামলাকারীরা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভের অনুসারী। এই হামলার ফলে বালুমহালের একজন ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
শনিবার সন্ধ্যায় সদর উপজেলার মজুচৌধুরীর হাট বালুর ঘাট এলাকায় মোটরসাইকেলে করে ১২ থেকে ১৫ জনের একটি দল হামলা চালায়। ভুক্তভোগীরা জানান, হামলাকারীদের হাতে লাঠিসোটা এবং দেশীয় অস্ত্র ছিল।
হামলাকারীরা পাঁচটি অফিস এবং একটি দোকানে ভাঙচুর করে নগদ টাকা ও বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
সদর উপজেলা পশ্চিম বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জামাল হোসেন জানান, সন্ধ্যায় তার বালুমহালের অফিসে হামলা হয়েছে। দোকানের টাকাপয়সা, সিসিটিভি ক্যামেরাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র লুট করে নিয়ে গেছে। এছাড়া আরো কয়েকটি বালুমহালে হামলা হয়েছে।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবুল বারাকাত সৌরভ বলেন, সকালে মজুচৌধুরীর হাট এলাকায় ছাত্রলীগ একটি মিছিল করেছে। বিকালে মিছিল করার খবর পেয়ে ছাত্রদল সেখানে যায়। তবে তিনি দাবি করেন, ছাত্রদল কোনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা করেনি এবং ছাত্রলীগ এ ঘটনা ঘটিয়ে ছাত্রদলের ওপর দায় চাপিয়ে দিতে পারে।
লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, মজুচৌধুরীর হাটে বালুর গদিতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তিনি বলেন, ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এমই
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাজ্যের গ্রিন পার্টি অব ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসের বিরুদ্ধে ‘বর্ণবাদী’ সংগঠন হিসেবে কাজ করার অভিযোগ তুলেছে ব্রিটিশ ইহুদিদের বৃহত্তম সংগঠন বোর্ড অব ডেপুটিজ অব ব্রিটিশ জিউস। সংগঠনটি দলের ‘জায়নবাদই হলো বর্ণবাদ’ নীতির সমালোচনা করে এই অভিযোগ করেছে।
বোর্ড অব ডেপুটিজের বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিন পার্টির এই ঘোষণা ‘ইহুদিবিদ্বেষী’ এবং এর ফলে দলটি একটি ‘বর্ণবাদী দলে’ পরিণত হয়েছে। তাদের ভাষ্য, এ ধরনের ঘোষণা ইহুদিদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বৈধতা তৈরি করে।
তবে গ্রিন পার্টি এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, জায়নবাদী মতাদর্শে বিশ্বাসী হওয়ার কারণে কাউকে বৈষম্যের শিকার করা বা দল থেকে বাদ দেওয়ার নীতি গ্রিন পার্টির নেই।
মুখপাত্রটি বলেন, ‘আমাদের সম্মেলনে গৃহীত প্রস্তাবে ফিলিস্তিনি জনগণের জাতিগত নিধন ও বাস্তুচ্যুতির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘বোর্ড অব ডেপুটিজের এই প্রস্তাব ও আমাদের দল সম্পর্কে দেওয়া বক্তব্য আমরা প্রত্যাখ্যান করছি। তবে এর ফলে গাজায় গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলা এবং ইসরাইল সরকার ও দেশটির নেতাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের দাবি জানানো থেকে আমরা বিরত হব না।’
সূত্র: আলজাজিরা
আরএ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে যে, দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনাটি সাজানো। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ংকে দায়ী করার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর কোরিয়া এবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়ে সিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ সূত্রে জানা যায়, রোববার জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে স্থলমাইন বিস্ফোরণের দায় উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হলে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর, দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) একটি বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করেছে যে, এই বিস্ফোরণ উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইন থেকে ঘটেছে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তার মতে, কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দায় এড়াতে সিউল ‘প্রহসন’ করছে।
চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগকে বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের বক্তব্য, তারা জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংগতিপূর্ণভাবে সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করছে। একই সঙ্গে ডিএমজেডে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার সমালোচনা করা হয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা ডিএমজেডের মধ্য দিয়ে যাওয়া সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণের দিকে চলে এলে তাদের উত্তর দিকে ফিরে যেতে সতর্ক করতেই গুলি ছোড়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার সেনারা ওই সীমারেখার কাছে কৌশলগত সড়ক ও বেড়া নির্মাণ করছেন।
গত সপ্তাহে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এতে স্থলমাইন বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডও বলেছে, উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন পুঁতে রাখা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সংঘাত বন্ধ করতে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এদিকে, জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার চিঠি পাঠানোর কয়েক দিন আগে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সামরিক আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান দুই পক্ষের মধ্যে যৌথভাবে নিশ্চিত করাই এ আলোচনার লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে চায় সিউল।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ