প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
উত্তর কোরিয়া অভিযোগ করেছে যে, দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা স্থলমাইন বিস্ফোরণে আহত হওয়ার ঘটনাটি সাজানো। এই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়া পিয়ংইয়ংকে দায়ী করার ফলে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তর কোরিয়া এবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়ে সিউলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ সূত্রে জানা যায়, রোববার জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদে একটি চিঠি পাঠান। চিঠিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ভিত্তিহীনভাবে স্থলমাইন বিস্ফোরণের দায় উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। একই সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন হলে আত্মরক্ষার পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
গত ২১ সেপ্টেম্বর, দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) একটি বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হন। দক্ষিণ কোরিয়া অভিযোগ করেছে যে, এই বিস্ফোরণ উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইন থেকে ঘটেছে। তবে পিয়ংইয়ং এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।
জাতিসংঘে পাঠানো চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার প্রতিনিধি উল্লেখ করেন, দক্ষিণ কোরিয়া স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছে। তার মতে, কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দায় এড়াতে সিউল ‘প্রহসন’ করছে।
চিঠিতে উত্তর কোরিয়ার সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগকে বৈধ বলে দাবি করা হয়েছে। পিয়ংইয়ংয়ের বক্তব্য, তারা জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সংগতিপূর্ণভাবে সার্বভৌম অধিকার প্রয়োগ করছে। একই সঙ্গে ডিএমজেডে উত্তর কোরিয়ার সেনাদের লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ার সমালোচনা করা হয়েছে।
পিয়ংইয়ংয়ের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদের লঙ্ঘন। দক্ষিণ কোরিয়া অবশ্য বলেছে, উত্তর কোরিয়ার সেনারা ডিএমজেডের মধ্য দিয়ে যাওয়া সামরিক সীমারেখা অতিক্রম করে দক্ষিণের দিকে চলে এলে তাদের উত্তর দিকে ফিরে যেতে সতর্ক করতেই গুলি ছোড়া হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উত্তর কোরিয়ার সেনারা ওই সীমারেখার কাছে কৌশলগত সড়ক ও বেড়া নির্মাণ করছেন।
গত সপ্তাহে, দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। এতে স্থলমাইন বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে ১৯৫৩ সালের যুদ্ধবিরতি চুক্তির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ কমান্ডও বলেছে, উত্তর কোরিয়ার স্থলমাইন পুঁতে রাখা যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন। ১৯৫৩ সালে কোরীয় যুদ্ধের সংঘাত বন্ধ করতে ওই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
এদিকে, জাতিসংঘে উত্তর কোরিয়ার চিঠি পাঠানোর কয়েক দিন আগে, দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে সামরিক আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাব দেয়। সীমান্তের সুনির্দিষ্ট অবস্থান দুই পক্ষের মধ্যে যৌথভাবে নিশ্চিত করাই এ আলোচনার লক্ষ্য। এর মাধ্যমে অনিচ্ছাকৃত সংঘর্ষের ঝুঁকি কমাতে চায় সিউল।
এএম
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন