প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নরসিংদীর শিবপুরের বান্দারদিয়া গ্রামের লুৎফর রহমান সরকার রিকশাচালক থেকে নার্সারি প্রতিষ্ঠা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তিনি নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখেছেন। তার উদাহরণ দেখিয়ে প্রমাণ করেছেন যে, চেষ্টা থাকলে যেকোনো কাজে সফলতা অর্জন করা সম্ভব। বর্তমানে তাকে আর রিকশা চালাতে হচ্ছে না। এখন তিনি কোটিপতি। তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শ্রমিকরাও খুশি। তিনি বিভিন্ন জাতের গাছ ও ফলফুলের চারা বিক্রি করে ভালো পরিমাণ অর্থ উপার্জন করছেন। জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে মাত্র ৭০০-৮০০ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি এ ব্যবসা শুরু করেন। বর্তমানে লুৎফর সরকার প্রতি মাসে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। তার নার্সারিতে বর্তমানে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার বিভিন্ন জাতের গাছের মজুত রয়েছে। তিনি নার্সারির নাম রেখেছেন মেসার্স পল্লি নার্সারি সেন্টার।
লুৎফর সরকার জানান, ১৯৮৭ সালে শিবপুর পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে লেখাপড়ার সময় তিনি স্কুলের টিফিনের সময় অন্য বন্ধুদের মতো আড্ডা না দিয়ে শিবপুর বন বিভাগে ঘুরে বেড়াতেন। সেই সময় থেকেই তার নার্সারি গড়ার স্বপ্ন জাগে। এতে দেশের উপকার হবে এবং তার অভাব দূর হবে। সংসারের অভাব-অনটন দূর করতে তিনি কখনো রিকশা চালাতেন, কখনো বেতের দরজা বানিয়ে বিক্রি করতেন। ১৯৯৩ সালে এসএসসি পরীক্ষা দেওয়ার পর লেখাপড়ার খরচ চালাতে না পেরে বাবার অগচোরে বাড়ির আঙ্গিনায় ছোট পরিসরে চারা লাগাতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে মানুষের চাহিদা বাড়তে থাকে, ফলে তিনি নার্সারি সম্প্রসারণ করতে থাকেন। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে তিনি আজ একজন সফল নার্সারি ব্যবসায়ী হয়ে উঠেছেন।
শিবপুর ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন স্থানে ১০ বিঘা জমির ওপর তার নার্সারি অবস্থিত। এর মধ্যে পাঁচ বিঘা জমি তিনি ক্রয় করেছেন এবং পাঁচ বিঘা ভাড়া নিয়েছেন। নার্সারি চাষে সফল হওয়ায় তিনি শিবপুর উপজেলায় ১৩ বার, জেলায় সাত বার এবং জাতীয়ভাবে ২০১০ ও ২০২৬ সালে পুরস্কৃত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯৯৮ সালে শিবপুর উপজেলায় প্রথম, জেলায় দ্বিতীয়, ১৯৯৯ সালে উপজেলায় ও জেলায় প্রথম এবং ২০০৯ সালে মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। এবার ২০২৬ সালের ৯ জুলাই থেকে ৯ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত জাতীয় বৃক্ষমেলায় তিনি প্রথম স্থান লাভ করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্টল পরিদর্শন করেছেন এবং লুৎফর রহমানের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। বর্তমানে লুৎফর রহমানের নার্সারিতে ফুল, ফলদ, বনজ ও ঔষধিগাছসহ হাজার হাজার চারাগাছ রয়েছে। সারা বছর যেকোনো ধরনের গাছ তার নার্সারিতে পাওয়া যায়। এর মধ্যে বিদেশি ফল রামবুটান, এবুকাডু, পার্সিমন, ডুরিয়ান, আপেল, থাই লংঘান, বারমাসি ভিয়েতনামের পিংক কাঁঠাল ইত্যাদি। দেশীয় ফল লটকন, নারিকেল, সফেদা, বেল, পেয়ারা, বড়ই, কাঁঠাল, জলপাই, আম ইত্যাদি ওষুধি গাছের চারা হরতকি, আমলকি, দেশীয় নিম, আর্জুন ইত্যাদি। ফুলের মধ্যে বিভিন্ন জাতের রঙ্গন, গোলাপ, জবা, হাসনাহেনা, গন্ধরাজ, কামেনি, বেলি ইত্যাদি, সবজি জাতীয় মরিচ, টমেটো, বেগুন, পেঁপে, শসা, জালি ইত্যাদি। কাঠ জাতীয় মেহগনি, সেগুন, গর্জন ইত্যাদি জাতের চারা গাছও রয়েছে।
লুৎফর রহমান আরও জানান, তার নার্সারিতে ১৭ জন শ্রমিক প্রতিনিয়ত কাজ করছেন।
সব খরচ বাদ দিয়ে তিনি প্রতি মাসে ৪০-৫০ হাজার টাকা আয় করেন। এতে তার পিতামাতাসহ সাত সদস্যের সংসার ভালোভাবে চলছে বলে তিনি জানান।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন