ঢাকা বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ০৪ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ১৯ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়নের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত


বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়নের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

অন্যায়-অসত্যের বিরুদ্ধে বিজয়ী হতে দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে — অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলার বায়তুলমাল সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেছেন, অন্যায়, অসত্য ও জুলুমের বিরুদ্ধে সংগ্রামকে বিজয়ী করতে হলে নেতা-কর্মীদের দক্ষ, সৎ, জ্ঞানী, যোগ্য ও আদর্শিক জনশক্তি হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। ঈমানী শক্তিতে বলীয়ান কোনো জনশক্তিকে কোনো অপশক্তি নস্যাৎ করতে পারে না। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সত্য ও ন্যায়ের পথে অবিচল থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মগধরা ইউনিয়ন আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

আরও পড়ুন: গাজীপুরের সিলিন্ডার রি-টেস্টিং সেন্টারে আগুন, তিন শ্রমিক আহত

মগধরা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি ছায়েদুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি আলাউদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর জনশক্তিকে শুধু সাংগঠনিক কর্মী হলে চলবে না। তাদের কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান, তাকওয়া, আমল-আখলাক, নৈতিকতা ও সাংগঠনিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে। একজন রুকনকে নিজের জীবনকে ইসলামী আদর্শের বাস্তব নমুনা হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। ব্যক্তিজীবনে আল্লাহভীতি, সততা, আমানতদারি ও দায়িত্বশীলতা প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি সমাজের মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের প্রথম দায়িত্ব নিজেদের সংশোধন করা। আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। একই সঙ্গে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের মানুষের কাছে ইসলামের কল্যাণকর আদর্শ তুলে ধরতে হবে। মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখাকে আন্দোলনের কর্মসূচির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, প্রতিকূলতা ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য নতুন কিছু নয়। আদর্শের পথে চলতে গিয়ে নানা বাধা ও পরীক্ষা আসতে পারে। এসব পরিস্থিতিতে হতাশ বা বিচলিত না হয়ে ঈমান, ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও সাংগঠনিক ঐক্যকে শক্তিশালী করতে হবে। কোনো ব্যক্তি বা শক্তির ওপর নির্ভরশীল না হয়ে সর্বাবস্থায় আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করতে হবে।

অধ্যাপক আবদুল হামিদ চৌধুরী বলেন, যোগ্য ও নৈতিক জনশক্তি ছাড়া কোনো সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই রুকনদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রশিক্ষণ, আত্মসমালোচনা ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে নিজেদের আরও সমৃদ্ধ করতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়, ইনসাফ, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে মানিকগঞ্জ থেকে সুজন সাহা গ্রেপ্তার

কর্মী সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন সন্দ্বীপ উপজেলা জামায়াতের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক মাওলানা শাহেদ খান, ইকবাল হোসাইন, শরীফ মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, বোরহান উদ্দিন ও কাজী ফখরুল ইসলাম প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার মাদক বিরোধী অভিযানে১৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডল মাদক ট্যাবলেট সহ একজন গ্রেফতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুলবুল আহম্মেদ বুলু নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৩৬ পি.এম


নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা শাখার মাদক বিরোধী অভিযানে১৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডল মাদক ট্যাবলেট সহ একজন গ্রেফতার

 

০৪-১০-২০২৬ তারিখে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এর নির্দেশে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁ এর একটা টীম পত্নিতলা থানা এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম জানতে পারে যে পত্নিতলা থানাধীন উমা মহেশপুর গ্রামের এর বাড়ির সামনে কতিপয় ব্যাক্তি মাদক বিক্রয়ের জন্য অবস্থান করছে।

উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানিক টীম ১৭.০০ ঘটিকায় ঘটনাস্থলে পৌছালে ডিবি পুলিশ আসামি শ্রী বিশ্ন চন্দ্র (২৮) পিতা সুপথ বর্মন গ্রাম আলী দেওনা পুর্ব পাড়া থানা মহাদেপুর জেলা নওগাঁ কে আটক করে উপস্থিত লোকজনের সামনে দেহ তল্লাশী করা হয়। তল্লাশী কালে আসামি শ্রী বিশ্নু চন্দ্রের হেফাজত হতে ১৩ পাতায় ১০ টি করে মোট ১৩০ পিচ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

এ বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি বিশ্নু চন্দ্র সহ অজ্ঞাত দুজন মাদক কারবারীদের বিরুদ্ধে বিরুদ্ধে পত্নিতলা থানায় মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে মানিকগঞ্জের সিএনজি চালকরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে ভোগান্তিতে মানিকগঞ্জের সিএনজি চালকরা

মানিকগঞ্জের সিএনজি স্টেশনগুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। গত দুই দিন ধরে চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাচ্ছেন না। জেলার অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ থাকায়, চালু থাকা স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজি অটোরিকশা ও বাসচালকরা।

সোমবার সকালে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত গুডলাক সিএনজি স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, গ্যাস নেওয়ার জন্য শত শত যানবাহন দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সকাল থেকে সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে থেকেও চালকরা গ্যাস পাওয়ার বিষয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

মানিকগঞ্জ জেলায় প্রায় ১৪টি সিএনজি স্টেশন রয়েছে, যার অধিকাংশই গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ রয়েছে। ফলে চালু থাকা অল্প কয়েকটি স্টেশনে গ্যাস নিতে বিপুলসংখ্যক যানবাহনের চালক একসঙ্গে ভিড় করছেন।

সিএনজি অটোরিকশাচালক শামীম হোসেন বলেন, “সকাল ৯টায় এসে সিরিয়াল ধরেছি। আমার আগে অনেক গাড়ি রয়েছে। এভাবে চললে দুপুরের দিকে গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাও চাহিদামতো গ্যাস পাব কি না, জানি না। অনেক সময় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি গ্যাস দেওয়া হয় না।”

চালকদের অভিযোগ, গ্যাসের জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে গিয়ে তাদের কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি যাত্রী পরিবহনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের মুক্তি দাবি: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পুলিশকে অভিযুক্ত করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


বরগুনায় সাংবাদিক আসাদ সবুজের মুক্তি দাবি: ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম, পুলিশকে অভিযুক্ত করে আন্দোলনে নামার ঘোষণা

দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেফতারের নামে অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।

শনিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এই ঘোষণা দেন।

কথিত চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বৈঠকে। এর প্রেক্ষিতে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক আসাদ সবুজের মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, যে ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলার শিকার হয়েছেন, সেই মূল ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের। আজ রোববার বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:

পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার।

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন।

বিএমএসএফ-এর সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার, রাসেল সিকদার, প্রেস ক্লাব সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।

গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সুরক্ষায় তীব্র প্রতিবাদ বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রের নামে গণমাধ্যম নিধনের মহোৎসব চলছে। নানা পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না।"

তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে একটি দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের পেছনে ঠেলে দিতে চায়। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'সাংবাদিক সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা বাড়ছে উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৫ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০১:৪৪ পি.এম


মিয়ানমার সীমান্তে আরাকান আর্মির তৎপরতা বাড়ছে উদ্বেগ

মিয়ানমারের রাখাইন তথা আরাকান অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘাতের প্রভাব বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জনপদে ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। কক্সবাজার ও বান্দরবানের সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি, বিস্ফোরণ, স্থলমাইন বিস্ফোরণ এবং বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতার কারণে। মাদকপাচারের অভিযোগ যুক্ত হওয়ায় সার্বিক সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সর্বশেষ গত ১ অক্টোবর উখিয়ার পালংখালী সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের অভ্যন্তরে স্থলমাইন বিস্ফোরণে মো. হামিদ হোসেন নামে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হন। বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ২৫০ গজ পশ্চিমে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিস্ফোরণটি ঘটে। আহত হামিদ কুতুপালং নিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের সি-২৭ ব্লকের বাসিন্দা। পরে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করলে বিজিবি ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

তবে সীমান্তে মাইন বিস্ফোরণের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। চলতি বছরের ১০ এপ্রিল উখিয়া সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের ভূখণ্ডে স্থলমাইন বিস্ফোরণে সাদেক নামে এক রোহিঙ্গা যুবকের পা বিচ্ছিন্ন হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এর আগে ১২ জানুয়ারি টেকনাফ সীমান্তেও মাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি যুবক গুরুতর আহত হন।

এ ছাড়া গত ২৪ মে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে তিন বাংলাদেশি নিহত হন। সীমান্তবর্তী কৃষিজমি ও কাঠ সংগ্রহের এলাকায় যাতায়াতের সময় তারা মাইন বিস্ফোরণের শিকার হন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানাগেছে।

সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমারের রাখাইন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণে থাকা সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মির বিভিন্ন ধরনের অপতৎপরতা সীমান্ত পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলছে। সীমান্তের ওপারে তাদের অবস্থান, চৌকি স্থাপন এবং চলাচল নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সীমান্তের কাঁটাতারের ওপারে ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছোট ছোট অনেক চৌকি দেখা যায়; তাদের দাবি, এসব চৌকিতে আরাকান আর্মির সদস্যরা অবস্থান করেন।

তবে এসব চৌকির সুনির্দিষ্ট অবস্থান ও সেখানে কারা অবস্থান করছে—তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিষয়টি স্থানীয়দের বক্তব্য হিসেবেই দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ হলো মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘাত। সাম্প্রতিক সময়েও রাখাইন অঞ্চলে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও আরাকান আর্মির মধ্যে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে বাংলাদেশের সীমান্তের কাছাকাছি কিয়াউকতাও এলাকায় আরাকান আর্মীকে লক্ষকরে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় হতাহতের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এতে আরাকান আর্মী চাপে পড়লেও থামছেনা তাদের তৎপরতা।

সীমান্তবর্তী স্থানীয়দের অভিযোগ, সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচারের তৎপরতা বাড়ছে। তাদের দাবি, সীমান্তের কিছু মাদক কারবারিকে ব্যবহার করে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চক্র মাদক পাচার করছে এবং মাদক বহনের কাজে কিছু রোহিঙ্গা যুবককেও ব্যবহার করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, মাদক বহন করতে গিয়ে কেউ কেউ সীমান্তের স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঝুঁকিতেও পড়ছেন। দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, জঙ্গল ও নাফ নদীর বিভিন্ন অংশ ব্যবহার করে মাদক পাচারের চেষ্টা করা হয় বলেও তাদের দাবি।

সীমান্তে মাদকপাচার প্রতিরোধে বিজিবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। এসব অভিযানে বিভিন্ন সময়ে ইয়াবা, গাঁজা, আইসও অন্যান্য মাদকসহ পাচারকারীদের আটক করার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।

সীমান্তবর্তী মানুষের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে উঠেছে অদৃশ্য স্থলমাইন। সীমান্তের কাছাকাছি কৃষিকাজ, মাছ ধরা, বাঁশ-কাঠ সংগ্রহ কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনে যাতায়াত করতে গিয়ে স্থানীয় ও রোহিঙ্গারা ঝুঁকিতে পড়ছেন এতে।

বিশেষ করে সীমান্তের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কোথায় মাইন পুঁতে রাখা হয়েছে, তার সুনির্দিষ্ট তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে না থাকায় ঝুঁকি আরও বাড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সীমান্তের কাছাকাছি এলাকায় মাইন বিস্ফোরণের একাধিক ঘটনার পর এখন অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া সীমান্তবর্তী এলাকায় যেতে ভয় পাচ্ছেন।

বর্তমানে যে সীমান্ত এলাকা দেখা যায়, তার ঠিক ওপারেই রয়েছে মিয়ানমারের কাঁটাতারের বেড়া। ঘন জঙ্গলের কারণে বেড়াটি পুরোপুরি স্পষ্টভাবে দেখা না গেলেও দূরে এর কিছু অংশ দৃশ্যমান। স্থানীয়দের দাবি, বেড়ার ওপারে থাকা কয়েকটি ছোট চৌকি আরাকান আর্মির অবস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

মাইন বিস্ফোরণ, সীমান্তের ওপারে সংঘাত, আরাকান আর্মির কথিত তৎপরতা এবং মাদকপাচারের অভিযোগ—সব মিলিয়ে সীমান্তবর্তী জনপদে নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, সীমান্তে বিজিবির টহল ও নজরদারি আরও বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করতে হবে।

তাদের মতে, সীমান্তবর্তী কৃষক, জেলে, কাঠ ও বাঁশ সংগ্রহকারী এবং সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে স্থলমাইনের ঝুঁকি সম্পর্কে নিয়মিত সচেতন করা জরুরি। একই সঙ্গে মাদকপাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করে কঠোর নজরদারি এবং সীমান্তের ওপারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতার বিষয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাখাইন অঞ্চলের সংঘাত এখন আর শুধু মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা নয়; এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে। তাই মাইন বিস্ফোরণ প্রতিরোধ, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার, মাদকপাচার বন্ধ এবং সীমান্তবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমন্বিত পদক্ষেপ জরুরি হয়ে উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৩শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪২
মাগরিব ০৫:১৮
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%