প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দৈনিক কালবেলার বরগুনা জেলা প্রতিনিধি আসাদ সবুজের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত মুক্তি এবং গ্রেফতারের নামে অমানবিক নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে মুক্তি দেওয়া না হলে দেশব্যাপী বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সাংবাদিক নেতারা।
শনিবার বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের হলরুমে অনুষ্ঠিত এক বৈঠক শেষে বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এই ঘোষণা দেন।
কথিত চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক আসাদ সবুজকে গ্রেফতারের নামে হেনস্তা ও অমানবিক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয় বৈঠকে। এর প্রেক্ষিতে বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা ৩ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন। কমিটিকে আগামী ৩ থেকে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সুপার জানান, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে তিনি সাংবাদিক আসাদ সবুজের মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। উল্লেখ্য, যে ভূমি সংক্রান্ত ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে আসাদ সবুজ ষড়যন্ত্রমূলক চাঁদাবাজি মামলার শিকার হয়েছেন, সেই মূল ঘটনাটিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করবেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি বরগুনা জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের। আজ রোববার বরগুনা চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসাদ সবুজের জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বৈঠকে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এই জরুরি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন:
পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ: বরগুনার পুলিশ সুপার কুদরত-ই-খুদা, বরগুনা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল হক মাস্টার।
বরগুনা প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাফিজুর রহমান, বিএমএসএফ-এর কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আরিফ রহমান ও আমির হোসেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সুমন তালুকদার, কেন্দ্রীয় নেতা রাহাদ সুমন, জামাল হোসেন খান, দানিসুর রহমান লিমন।
বিএমএসএফ-এর সভাপতি হাসান সিকদার, দুমকি শাখার সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক আরিফুর রহমান মামুন, বরগুনা জেলা শাখার সদস্য আসাদ তালুকদার, রাসেল সিকদার, প্রেস ক্লাব সদস্য কাশেম হাওলাদারসহ অন্যান্যরা।
গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সুরক্ষায় তীব্র প্রতিবাদ বৈঠকে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দেশে গণতন্ত্রের নামে গণমাধ্যম নিধনের মহোৎসব চলছে। নানা পেশার মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর প্রতিনিয়ত নিপীড়ন, নির্যাতন, মিথ্যা মামলা ও হয়রানি চালানো হচ্ছে। মনে রাখতে হবে, গণমাধ্যম না বাঁচলে গণতন্ত্র বাঁচবে না।"
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্র ও গণমাধ্যমকে মুখোমুখি দাঁড় করাতে একটি দুর্নীতিবাজ ও লুটপাটকারী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। তারা নিজেদের অনিয়ম ঢাকতে সাংবাদিকদের পেছনে ঠেলে দিতে চায়। অবিলম্বে এসব বন্ধ করে সাংবাদিকদের নির্বিঘ্নে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ তৈরির জোর দাবি জানান তারা। একই সঙ্গে আগামী ৮ নভেম্বরের মধ্যে বহু প্রতীক্ষিত 'সাংবাদিক সুরক্ষা আইন' প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন