ঢাকা শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ০৬ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২১শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

সাদামাটির স্বর্গভূমি দুর্গাপুর: অতীত, আদিবাসী জীবন ও আগামীর উন্নয়ন ভাবনা


সাদামাটির স্বর্গভূমি দুর্গাপুর: অতীত, আদিবাসী জীবন ও আগামীর উন্নয়ন ভাবনা

 

নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য ও সম্ভাবনায় ঘেরা এক অনন্য জনপদ। উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের গারো পাহাড়, দক্ষিণে বিস্তীর্ণ সমতল ভূমি আর বুক চিরে বয়ে চলা সোমেশ্বরী নদী—সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের রয়েছে স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচয়। বিশেষ করে বিজয়পুরের সাদামাটির পাহাড় ও নীলাভ জলাশয় এ অঞ্চলকে দিয়েছে আলাদা পরিচিতি।

তবে দুর্গাপুরের পরিচয় শুধু পাহাড়, নদী কিংবা সাদামাটির সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ ইতিহাস, খনিজ সম্পদের অর্থনীতি, গারো-হাজংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি এবং মানুষের জীবনসংগ্রাম।

আরও পড়ুন: কুবি ক্যাম্পাসে ভুয়া পুলিশ সন্দেহে ৩ জনকে আটক, মারধরের অভিযোগ

সাদামাটি: প্রাকৃতিক সম্পদ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা

বিজয়পুরের সাদামাটি মূলত চীনামাটি বা কাওলিনজাতীয় খনিজ। সিরামিক, টাইলসসহ বিভিন্ন শিল্পে এর ব্যবহার রয়েছে। ফলে এই সম্পদ শুধু স্থানীয় অর্থনীতি নয়, জাতীয় শিল্পোন্নয়নেরও গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা বহন করে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই সম্পদের প্রকৃত সুফল কতটা পাচ্ছে স্থানীয় মানুষ? খনিজ উত্তোলন, পরিবহন ও পর্যটনের প্রসার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করলেও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা সমান গুরুত্বপূর্ণ।

আদিবাসী জীবন ও পরিবর্তনের বাস্তবতা

আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে অসুস্থ সাংবাদিকদের রোগমুক্তির জন্য দোয়া মাহফিল

দুর্গাপুরের গারো ও হাজংসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও জীবনযাত্রা এ অঞ্চলের অন্যতম সম্পদ। পাহাড়, বন, নদী ও ভূমির সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের।

পর্যটন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে উন্নয়নের কারণে তাঁদের ভূমি, জীবিকা ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। উন্নয়ন পরিকল্পনায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত ও অংশগ্রহণকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।

দুর্গাপুরের উন্নয়নে আমার সাতটি সুপারিশ

দুর্গাপুরের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। এ ক্ষেত্রে আমার সাতটি প্রস্তাব হলো—

আরও পড়ুন: মাইশার মৃত্যুর পর সীতাকুণ্ডে ২০ স্পিডব্রেকার, যানজট বেড়েছে

১. বন সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত বনায়ন: পাহাড়ি বনভূমি রক্ষা, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন বন্ধ এবং দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বনায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

২. সাদামাটি সংরক্ষণ ও খনি ব্যবস্থাপনা: বৈজ্ঞানিক জরিপের মাধ্যমে খনিজ সম্পদের পরিমাণ ও গুণগত মান নির্ধারণ করতে হবে। পরিত্যক্ত খনিগুলো নিরাপদ করে গবেষণা, জলাধার ও পরিবেশবান্ধব পর্যটনের উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

৩. পাহাড় ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা: অবৈধ পাহাড় কাটা, খনিজ উত্তোলন ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ করে ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি ভূমি পুনরুদ্ধার করতে হবে।

৪. বিজয়পুরকে পরিকল্পিত পর্যটন এলাকা ঘোষণা: পর্যটকদের জন্য নিরাপদ সড়ক, তথ্যকেন্দ্র, শৌচাগার, বিশ্রামাগার ও উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। গারো-হাজং সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে যথাযথ মর্যাদায় পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

আরও পড়ুন: নওগাঁ সীমান্তে চোরাচালান ও অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নব-আদাতলা বিওপি উদ্বোধন

৫. দুর্গাপুরে রেলযোগাযোগ স্থাপন: জাতীয় রেল নেটওয়ার্কের সঙ্গে দুর্গাপুরকে যুক্ত করার সম্ভাব্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। এতে পর্যটন, পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটতে পারে।

৬. পরিবেশসম্মত সিরামিক শিল্পকারখানা স্থাপন: স্থানীয় কাওলিনজাতীয় খনিজ ব্যবহার করে সিরামিক শিল্প গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করতে হবে। এতে স্থানীয় কাঁচামালের মূল্য সংযোজন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে।

৭. কর্মসংস্থান ও জীবনমান উন্নয়ন: স্থানীয় তরুণ-তরুণীদের কারিগরি প্রশিক্ষণ, পর্যটন ব্যবস্থাপনা, হস্তশিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা উন্নয়নে উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপদ পানি ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।

উপসংহার: প্রকৃতি বাঁচুক, মানুষ এগিয়ে যাক

আরও পড়ুন: চাঁদপুরে শিশুদের আঁকায় জিয়াউর রহমানের প্রতিকৃতি প্রদর্শিত

দুর্গাপুর শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র নয়; এটি প্রাকৃতিক ঐতিহ্য, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ জনপদ। পরিকল্পিত বনায়ন, খনি সংরক্ষণ, পাহাড় রক্ষা, পর্যটন উন্নয়ন, রেলযোগাযোগ, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্গাপুর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।

আমার প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দুর্গাপুরকে শুধু সাদামাটির খনি হিসেবে নয়, বরং প্রকৃতি, মানুষ, ঐতিহ্য ও অর্থনীতির সমন্বিত জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেবে।

সাদামাটির শুভ্রতা অক্ষুণ্ন থাকুক, পাহাড় বেঁচে থাকুক, সোমেশ্বরী প্রবাহিত হোক আপন গতিতে—আর দুর্গাপুরের মানুষ এগিয়ে যাক সমৃদ্ধি ও সম্ভাবনার পথে।

লেখক: জাকির আহমদ খান কামাল
কলামিস্ট

আরও পড়ুন: স্কুল ফিডিংয়ের পাউরুটির ভেতর পাওয়া গেল ধারালো ব্লেড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসনবিষয়ক সংসদীয় ককাসের নতুন কমিটির চেয়ারম্যান এবিএম মোশাররফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০২ পি.এম


অভিবাসনবিষয়ক সংসদীয় ককাসের নতুন কমিটির চেয়ারম্যান এবিএম মোশাররফ

‘বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ককাস অন মাইগ্রেশন, রাইটস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’-এর নতুন কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা অভিবাসী বাংলাদেশিদের অধিকার সুরক্ষা, নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিতকরণ এবং অভিবাসন খাতে টেকসই উন্নয়নে সংসদীয় ভূমিকা জোরদার করবে। পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন এই ২২ সদস্যের ককাসের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হয়েছেন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ককাসের ঘোষণা করা হয়। এই ককাসে ১০ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি এবং ১২ সদস্যের সাধারণ সদস্য পরিষদ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ককাসের সচিবালয়ের দায়িত্ব পালন করবে ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন।

চারজন ভাইস চেয়ারপারসন হিসেবে কার্যনির্বাহী কমিটিতে নির্বাচিত হয়েছেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মশিউর রহমান খান, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাসান রাজীব প্রধান, সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৯ এর সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৭ এর সংসদ সদস্য বিলকিস ইসলাম।

কমিটির সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৩ এর সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা। ট্রেজারারের দায়িত্ব পালন করবেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসুফ চৌধুরী। কার্যনির্বাহী সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দিনাজপুর-২ আসনের মো. সাদিক রিয়াজ, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩২ এর নাদিয়া পাঠান পাপন।

সাধারণ সদস্য পরিষদে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন মাদারীপুর-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য সায়েদ উদ্দিন আহমেদ হানজালা, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৩ এর শওকত আরা আক্তার ঊর্মি, বগুড়া-৩ আসনের মো. আব্দুল মহিত তালুকদার, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩৫ এর সালিনা সুলতানা, সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১ এর সানজিদা ইয়াসমিন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আমিরুল ইসলাম খান আলিম, মাদারীপুর-৩ আসনের আনিসুর রহমান খোকন, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. আইনুল হক এবং কুড়িগ্রাম-২ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য ডা. আতিকুর রহমান মুজাহিদ।

এছাড়া সাধারণ সদস্য হিসেবে রয়েছেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১৮ এর ফাহমিদা হক, সংরক্ষিত আসন-৩৫০ এর এনসিপির নুসরাত তাবাসসুম জ্যোতি এবং সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৮ এর মমতাজ আলো।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই ককাস বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের অধিকার সুরক্ষা, রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের কল্যাণ, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট আইন ও নীতি প্রণয়নে সংসদে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এটি বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপির সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণে একটি বহুদলীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন ওয়ারবি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারপারসন সৈয়দ সাইফুল হক।

অনুষ্ঠানে সংহতি প্রকাশ করেন ফরেন সার্ভিস একাডেমির রেক্টর রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন ডিপক এলমার, আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্ডে, আইএলও বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ম্যাক্স তুনোন, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার জেমস গোল্ডম্যান এবং দি এশিয়া ফাউন্ডেশনের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ কাজী ফয়সাল বিন সেরাজ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুদক মহাপরিচালকের কাছে বরিশালের বাকেরগঞ্জের সাবেক কৃষি অফিসার রাসেল সিকদারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৪ পি.এম


দুদক মহাপরিচালকের কাছে বরিশালের বাকেরগঞ্জের সাবেক কৃষি অফিসার রাসেল সিকদারসহ তিন জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

বরিশালের বাকেরগঞ্জের কৃষি অফিসের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ, দুর্নীতি ও নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার ও সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মহাপরিচালক (তদন্ত) বরাবর একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসের সাবেক উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা এবং বর্তমানে বরিশাল সদরের উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রাসেল সিকদার, বাকেরগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মঞ্জুরুল ইসলাম ও উৎপল চন্দ্র দাস বিগত ১০-১১ বছর ধরে বিভিন্ন প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করে আসছেন। প্রদর্শনীর বাস্তবায়ন না করে এবং প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ যথাযথভাবে বিতরণ না করে সম্পূর্ণ অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, এসব দুর্নীতির সাথে কিছু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার যোগসাজশ রয়েছে, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন পত্রিকা ও অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ প্রকাশের পর অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে কৃষক দলের পক্ষ থেকে মানববন্ধন করা হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। উল্টো একটি চক্র এই ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। এ বিষয়ে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি বলে অভিযোগ রয়েছে। আলোচিত এই ঘটনার পর অভিযুক্ত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বাকেরগঞ্জ থেকে পারস্পরিক বদলি হয়ে দ্রুত উপজেলা ত্যাগ করেছেন। এমতাবস্থায়, উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী ও সাধারণ কৃষকরা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষি কর্মকর্তা রাসেল সিকদারসহ তাদের সাথে সাংবাদিকরা কথা বলতে চাইলে তিনি অফিস আসা বন্ধ করে দেন এবং সাংবাদিকদের এড়িয়ে চলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়’কে ‘বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে’ রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য: উপাচার্য তাহ্‌মিনা আখতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাব্বির হাসনাত, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৫ পি.এম


ফ্যাসিস্ট সরকারের ‘বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়’কে ‘বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে’ রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য: উপাচার্য তাহ্‌মিনা আখতার

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর সম্প্রসারণ এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার। তিনি বলেছেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের বনসাই বিশ্ববিদ্যালয়কে বটবৃক্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করাই আমার মূল লক্ষ্য।’
বুধবার (৪ নভেম্বর ২০২৬) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন-৩-এর অডিটোরিয়ামে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সভায় অংশ নেন।
উপাচার্য অধ্যাপক তাহ্‌মিনা আখতার বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়ন, অ্যাকাডেমিক পরিসর সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। ইতোমধ্যে এ প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি অনুমোদিত হয়েছে এবং পরিবেশগত ছাড়পত্রের টার্মস অব রেফারেন্স (ToR) অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের অর্থ ছাড়ের বিষয়টি বর্তমানে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে অনুমোদন পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ সম্প্রসারণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে মাত্র পাঁচটি বিভাগ নিয়ে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিসর বাড়াতে বর্তমান প্রশাসনের উদ্যোগে নতুন ৩০টি বিভাগসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্গানোগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছর আটটি বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেছে। বিভাগগুলো হলো—ইংরেজি, সমাজকর্ম, হিসাববিজ্ঞান, আইন, ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং কৃষি ও পশুপালন।
তিনি আরও জানান, ব্যক্তিগত উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান, নবীন শিক্ষার্থীদের হাতে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত অভিধান ও নিজ নিজ বিভাগের কারিকুলাম তুলে দিয়ে নবীনবরণ আয়োজন, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ এবং লাইব্রেরি অটোমেশন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য পৃথক কক্ষ, কম্পিউটার ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচিতি ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আগামী ১০ ও ১১ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি আন্তর্জাতিক সেমিনার আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। এতে দেশি-বিদেশি শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা অংশ নেবেন। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অ্যাকাডেমিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে চীনের দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় বর্তমান সরকারের বিশেষ সহযোগিতা রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমালোচনা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ প্রসঙ্গে উপাচার্য বলেন, দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি ভুলত্রুটির ঊর্ধ্বে নন। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে যেকোনো যৌক্তিক পরামর্শ ও গঠনমূলক সমালোচনা তিনি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করবেন। তবে সমালোচনা হতে হবে তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও শালীন ভাষায়।
তিনি বলেন, যারা অর্থ, ভিউ কিংবা রাজনৈতিক স্বার্থে মিথ্যা তথ্য প্রচার করে সমাজকে বিভ্রান্ত করেছেন, তারা দেশ ও সমাজের শত্রু এবং গুণীজনের খুনি; তাদের কখনো ক্ষমা করা হবে না। এ ছাড়া অনুমোদনহীন বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজ থেকে অরুচিকর এবং বিকৃত তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সম্মিলিত সহযোগিতা কামনা করেন।
সভায় প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মো. আবদুস সোবাহান বলেন, নতুন আটটি বিভাগের শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় স্থান নিশ্চিত করা জরুরি। এ কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখতে ভবন ভাড়া নেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। ভবন নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয়তা ও ব্যবহারিক উপযোগিতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে গঠনমূলক সমালোচনার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবার। এ পরিবারের সবার স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা ও নতুন বিভাগ সম্প্রসারণের কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। নতুন বিভাগগুলোর শ্রেণিকক্ষ ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সাময়িক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সমস্যা বা অসন্তোষ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন না করে যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানানোর আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।
মতবিনিময় সভায় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক অগ্রগতি, নতুন আটটি বিভাগ চালুর প্রস্তুতি, স্থায়ী ক্যাম্পাস বাস্তবায়নের উদ্যোগ এবং গবেষণা ও দক্ষতা উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের প্রশংসা করেন। তাঁরা নতুন বিভাগগুলোর শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনায় ভবন ভাড়া নেওয়াকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেকোনো সমস্যা তথ্য-প্রমাণসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি রক্ষা ও মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে প্রশাসনের সঙ্গে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নওগাঁ জেলা পুলিশের ঝটিকা অভিযান গত সন্ধ্যায় মহাদেবপুরের ০৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, রাতের মধ্যেই ৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার ও ছিনতাইকৃত ০৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​বুলবুল আহমেদ নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি

বুধবার, ৪ই নভেম্বর, ২০২৬ ইং

১০:০৭ পি.এম


নওগাঁ জেলা পুলিশের ঝটিকা অভিযান গত সন্ধ্যায় মহাদেবপুরের ০৯ লক্ষ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাই, রাতের মধ্যেই ৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার ও ছিনতাইকৃত ০৯ লক্ষ ৩ হাজার টাকা উদ্ধার

নওগাঁর মহাদেবপুরে মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের ভাঙারি মাল বিক্রির ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনার ২৪ ঘণ্টার কম সময়ে রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নির্দেশনায় ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এক ঝটিকা অভিযানে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৩ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় ছিনতাই হওয়া মোট টাকার একটি বড় অংশসহ ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— ১. মুন্না (২৪), পিতা: সিরাজুল ইসলাম, গ্রাম: রামচন্দ্রপুর, থানা: মহাদেবপুর, জেলা: নওগাঁ; ২. রবিন (২৫), পিতা: মৃত ইয়াদ আলী, গ্রাম: ঈশ্বর লক্ষ্মীপুর, থানা: মহাদেবপুর, জেলা: নওগাঁ এবং ৩. ভুক্তভোগী সাজানো পিকআপ চালক সোহেল রানা (২৫), পিতা: আমজাদ হোসেন, গ্রাম: ডিম জাওন, থানা: মহাদেবপুর, জেলা: নওগাঁ।

পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, মেসার্স সোহাগ আয়রন স্টোরের মালিক আব্দুল আলিম (৩৪) সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে মহাদেবপুর সরকারি গোডাউনের পাশে থেকে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। গত ৩ নভেম্বর ২০২৬ তারিখে তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পিকআপে করে বগুড়ায় লোহালক্কড় ও ভাঙারি মাল বিক্রি করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা নিয়ে মহাদেবপুরে ফিরছিলেন।

গত ৩ নভেম্বর আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে পিকআপটি মহাদেবপুর উত্তর গ্রাম চৌদ্দ মাইল ব্রিজের পশ্চিম পাশের ফাঁকা রাস্তায় পৌঁছালে আকস্মিকভাবে বিকল হয়ে যায়। এই সুযোগে মোটরসাইকেলযোগে আসা অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা পিকআপের ড্রাইভার সোহেল রানাকে হালকা এবং ম্যানেজার মজনু মিয়াকে ব্যাপক মারধর করে নগদ ৯ লাখ ১৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানার পরপরই তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। তার নির্দেশনায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) জনাব জয় এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক হাসিবের নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম এবং মহাদেবপুর থানা পুলিশ যৌথভাবে অভিযানে নামে।

তথ্যপ্রযুক্তি, সাক্ষ্যপ্রমাণ ও ডাটা বিশ্লেষণ করে ডিবি পুলিশ দ্রুত আসামিদের শনাক্ত করে। এরপর সারারাতব্যাপী চলা সাঁড়াশি অভিযানে প্রথমে রামচন্দ্রপুরের নিজ বাড়ি থেকে মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ঘর থেকে ৫ লাখ ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

পরবর্তীতে মুন্নার দেওয়া তথ্যে মহাদেবপুরের একটি ভাড়া বাসা থেকে রবিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিনের হেফাজত থেকে আরও ৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকা এবং ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

অভিযানের শেষ পর্যায়ে এই দুই আসামির দেওয়া তথ্য ও অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদে থলের বেড়াল বেরিয়ে আসে। জানা যায়, পুরো ছিনতাই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন পিকআপের ড্রাইভার সোহেল রানা ও মুন্না এবং প্রধান ভূমিকায় ছিলেন রবিন। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা এই ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিল। পুলিশ নাটকীয়ভাবে নওগাঁ সদর হাসপাতাল থেকে ড্রাইভার সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, “নওগাঁ জেলা পুলিশ সড়কে যেকোনো ধরনের অপরাধ, বিশেষ করে ছিনতাই এবং ডাকাতির মতো অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। আইন অনুযায়ী কঠোর হস্তে এসব অপরাধ দমন করা হবে।”

ঘটনার দ্রুত রহস্য উদঘাটন ও টাকা উদ্ধারে জেলা পুলিশের এই পেশাদারিত্বকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৫শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৭ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%